Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেসির স্বপ্নভঙ্গের দিনে বাঙালির ক্ষোভ ও যন্ত্রণার মাঝেও সরকারের দায়িত্বে ফিরল বিশ্বাস

কলকাতায় মেসির ইভেন্ট চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে। বেসরকারি আয়োজক শতুদ্রু দত্তের দায়িত্বহীনতায় হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী বাঙালির স্বপ্ন ভেঙে গেছে। টিকিট কেটে যারা পরিবার নিয়ে এসেছিলেন, তারা দেখলেন স্টেডিয়ামে ভাঙচুর ও চরম অরাজকতা। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। আয়োজক শতুদ্রু দত্তকে আটক করা হয়েছে, দর্শকদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। যদিও এটি সরকারি আয়োজন ছিল না, তবুও সরকার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। হতাশার মধ্যেও বিশ্বাস রয়ে গেছে যে দায়ীদের শাস্তি হবে এবং ভবিষ্যত আরও ভালো হবে।

মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলা: হতাশার মধ্যে সরকারি দায়বদ্ধতার এক গল্প
একটি স্বপ্ন যেভাবে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো
বাঙালির ফুটবলপ্রেম পৃথিবীবিখ্যাত। কলকাতার মাটিতে যখন লিওনেল মেসির মতো বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির পদার্পণের খবর এসেছিল, তখন সেই আনন্দের উচ্ছ্বাস ছিল অবর্ণনীয়। ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় ফিরছেন মেসি—এই খবরটাই যথেষ্ট ছিল প্রতিটি ফুটবলপ্রেমী বাঙালির হৃদয়ে নতুন স্পন্দন জাগাতে। হাজার হাজার দর্শক, যাদের অনেকেই মাসের পর মাস সঞ্চয় করে, কেউ কেউ পুরো মাইনের টাকা খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন, স্বপ্ন দেখছিলেন সেই মহান তারকাকে নিজের চোখে দেখবেন, তার পায়ের জাদু প্রত্যক্ষ করবেন।

কিন্তু যা হওয়ার কথা ছিল একটি স্মরণীয় উৎসব, তা পরিণত হলো এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ে। শনিবার সকালে কলকাতার বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন যখন রণক্ষেত্রে পরিণত হলো, তখন শুধু একটি আয়োজনই ব্যর্থ হয়নি—ভেঙে পড়েছিল লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন। চড়া দামে টিকিট কেটে, পরিবার-পরিজন নিয়ে, বহু দূর থেকে আসা সেই মানুষগুলো ফিরে গেলেন চরম হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়ে।

অব্যবস্থাপনার এক জ্বলন্ত উদাহরণ
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছান মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল। কিন্তু স্টেডিয়ামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই যে দৃশ্যটি উন্মোচিত হলো, তা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং লজ্জাজনক। মেসিকে ঘিরে ফেললেন প্রায় ৭০-৮০ জন মানুষ—মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সংস্থার কর্তা এবং ভিআইপিরা। সবাই মোবাইল এবং ক্যামেরা নিয়ে সেলফি তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠলেন। নিরাপত্তারক্ষীরাও তাদের সরানোর কোনো উদ্যোগ নিলেন না, বরং মেসিকে ঘিরেই রাখলেন।

এদিকে গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ দর্শকরা, যারা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন, তারা কার্যত মেসিকে দেখার সুযোগই পাচ্ছিলেন না। ভিআইপিদের ভিড়ে আড়াল হয়ে গিয়েছিলেন তারা। গ্যালারি থেকে মাঠের ভিউ প্রায় সম্পূর্ণ আটকে ছিল। তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল দর্শকদের, কিন্তু সেগুলোও পর্যাপ্ত ছিল না।

চুক্তি অনুযায়ী মেসি ৪৫ মিনিট স্টেডিয়ামে থাকার কথা ছিল। তিনি পুরো স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করবেন, দর্শকদের অভিবাদন জানাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই মেসিকে দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১১.৫২ মিনিটে আচমকাই তিনি বেরিয়ে যান। কারণ হিসেবে বলা হয় নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা।

যখন ফেটে পড়ল দর্শকদের ক্ষোভ
মেসি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বাঁধ ভেঙে গেল। মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে যারা এসেছিলেন, তাদের একটাই কথা—"এটা কোনো আয়োজন নয়, এটা প্রতারণা।" ক্ষোভে, হতাশায় দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে আসতে শুরু করলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে শত শত মানুষ মাঠে ঢুকে পড়লেন।

এরপর যা ঘটল, তা ছিল চরম বিশৃঙ্খলার এক নিদর্শন। গ্যালারির চেয়ার উপড়ে ফেলা হলো, বোতল ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হলো। কেউ কেউ স্টেডিয়ামের তাঁবু জ্বালিয়ে দিলেন, কার্পেট তুলে নিলেন। এমনকি একজন দর্শক টিকিটের চড়া দামের ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্টেডিয়ামের কার্পেট কাঁধে করে বাড়ি নিয়ে গেলেন বলে জানা যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। কেউ কেউ বলেছেন, ৫ হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পারেননি। কেউ ১০ হাজার টাকা খরচ করেছেন, কিন্তু দেখা হয়েছে শুধু ভিআইপিদের ভিড়। একজন দর্শক ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, "মেসিকে দেখতে এসে অরূপ বিশ্বাসকে দেখলাম।" এই মন্তব্যটিই বোঝায় দর্শকদের হতাশার গভীরতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়ার পর মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, "সল্টলেক স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখা গিয়েছে। আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিস্মিত। প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী ও সমর্থকের সঙ্গে আমিও স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য লিওনেল মেসি-সহ সকল ক্রীড়াপ্রেমী ও তাঁর অনুরাগীদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"

মমতা শুধু ক্ষমা চাননি, সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠনেরও ঘোষণা করেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়, যেখানে সদস্য হিসেবে থাকেন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। কমিটির দায়িত্ব হবে—ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা, দায়িত্ব নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশ করা।

পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
কলকাতা পুলিশ এই ঘটনাকে হালকাভাবে নেয়নি। স্বপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি হায়দরাবাদে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে বিধাননগর আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক রাজীব কুমার সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আয়োজকদের দিক থেকে কোনো অব্যবস্থাপনার কারণে স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শতদ্রুকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।" তিনি আরও বলেন, "টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোক্তারা যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে ভিড়ের অনুমান, টিকিট বিক্রি এবং স্টেডিয়ামের সক্ষমতার মধ্যে বড় ফারাক ছিল। আয়োজক শতদ্রু দত্তকে জেরা করে পুলিশ আরও কয়েকজনের নাম জানতে পারে। এরপর শুভ্রপ্রতিম দে ও সৌরভ বসু নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

news image
আরও খবর

শতদ্রু দত্তের টিকিট ফেরতের প্রতিশ্রুতি
গ্রেফতারের পর শতদ্রু দত্ত দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা যায়। তিনি প্রকাশ্যে কলকাতার কাছে ক্ষমা চেয়ে বড় ঘোষণা করেন। যদিও এই ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা এখনও আসেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই বিষয়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

শতদ্রু দত্ত একজন পরিচিত নাম ভারতীয় ফুটবলের দুনিয়ায়। ফুটবল কিংবদন্তিদের ভারতে আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পেলে এবং দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ভারতে আনার পেছনেও তার অবদান ছিল। তিনি ইনস্টাগ্রামে একসময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ভারতে আনার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন। এমন অভিজ্ঞ একজন আয়োজকের কাছ থেকে এমন অব্যবস্থাপনা সত্যিই অপ্রত্যাশিত এবং হতাশাজনক।

হাইকোর্টে পৌঁছল বিষয়টি
এই ঘটনার রেশ কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেন—সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবী মৈনাক ঘোষালের আর্জিতে বলা হয়েছে, আদালতের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হোক। সেই সঙ্গে দর্শকদের কাছ থেকে নেওয়া টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হোক। সম্ভাব্য আর্থিক দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ইডি এবং সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুবভারতীতে ভাঙচুরের পরিকাঠামো সংস্কারের সম্পূর্ণ ব্যয় আয়োজকদের বহন করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের গড়া কমিটির তদন্ত করার ক্ষমতাই নেই। সঠিক তদন্তের জন্য পৃথক কমিটি প্রয়োজন। আদালত জানতে চায়, আদতে টিকিট মূল্য কত ধার্য করা হয়েছিল। কেন এক এক রকমের টিকিট। বেশ কিছু সংখ্যক অনুরাগী মেসির সঙ্গে কলকাতার নামী হোটেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সেটাও কেন হল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

দুই মন্ত্রীর দ্বন্দ্ব—একটি বিতর্কিত অধ্যায়
কয়েকটি সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট করেছে যে মেসিকে 'দখলে' নিতে চেয়ে দুই মন্ত্রীর লড়াই থেকেই ঘটনার শুরু। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের লড়াইয়েই শনিবারের এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, "তদন্ত চলা অবধি মন্তব্য করব না।" তবে দর্শকদের একাংশ অরূপ বিশ্বাসকেই দোষী মনে করছেন এই বিশৃঙ্খলার জন্য। তাদের অভিযোগ, ভিআইপিদের ভিড়ের জন্য মূলত দায়ী ছিলেন তিনিই।

বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও মুখ খুলেছেন এই ঘটনায়। তিনি বলেছেন, "আয়োজককে এখনই গ্রেফতার করতে হবে। যারা কষ্টের উপার্জন দিয়ে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন তাঁদের টাকাও ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের যে ক্ষতি হল, সেটির ক্ষতিপূরণও দিতে হবে আয়োজক সংস্থাকে।"

ফুটবলপ্রেমীদের হতাশা ও ক্ষোভ
এই ঘটনার পর কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। সাবেক ভারতীয় ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া বলেছেন, "ভিআইপিদের ভিড়েই ঢেকে গেলেন মেসি।" তার এই মন্তব্যটি অনেকের হৃদয়ের কথাই বলে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, "কলকাতা এই ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের জন্য পরিচিত, কিন্তু এই ধরনের অব্যবস্থাপনা কখনো দেখিনি।"

অনেক দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। একজন লিখেছেন, "১০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলাম, মেসিকে দেখতে পারিনি, কিন্তু মন্ত্রীদের অনেক ভালো দেখলাম।" আরেকজন বলেছেন, "এই লজ্জাজনক ঘটনা বিশ্বের কাছে কলকাতার যে ছবি তুলে ধরেছে, তা মুছে ফেলতে অনেক সময় লাগবে।"

২০১১ সালেও মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। সেবার আয়োজন ছিল সুন্দর এবং দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখেছিলেন। কিন্তু এবারের ছবিটা একেবারেই আলাদা—এবং চরম হতাশাজনক। একজন দর্শক বলেছেন, "১৪ বছর পর আবার মেসি এসেছিলেন, আমরা ভেবেছিলাম এবার আরও ভালো অভিজ্ঞতা হবে। কিন্তু যা হলো, তা কারো কাম্য ছিল না।"

সরকারের দায়িত্ববোধ—একটি ইতিবাচক দিক
এই ঘটনায় যা সবচেয়ে লক্ষণীয়, তা হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তাৎক্ষণিক এবং দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া। এটা সত্য যে এই আয়োজন সরকারি ছিল না, এটি ছিল বেসরকারি উদ্যোগ। 'A Satadru Dutta Initiative' হিসেবেই এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সরকার এই বিষয়ে পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, পুলিশ মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করেছে এবং টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেখায় যে সরকার মানুষের কষ্ট এবং হতাশাকে অবহেলা করেনি।

Preview image