Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেডেল আছে, মর্যাদা নেই—ভারতীয় অ্যাথলেটদের অজানা বাস্তবতার নির্মম চিত্র

ভারতীয় ক্রীড়াজগতের এক কঠিন ও বেদনাদায়ক বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে। একদিকে মহারাষ্ট্র সরকার স্মৃতি মান্ধানা, জেমাইমা রড্রিগেজ ও রাধা যাদবকে ২.৫ কোটি টাকা করে এবং হিমাচল প্রদেশ সরকার রেনুকা সিংকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সম্মান দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জয় করেও পুষ্পা মিনাজ ও তরুণ শর্মার মতো বহু প্রতিভাবান অ্যাথলেট আজ জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই বৈষম্য শুধু ক্রীড়াবিদদের নয়, গোটা দেশের সম্মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যারা দেশের জন্য লড়াই করেন, তাদের অবহেলা নয়—প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও স্থায়ী সহায়তা দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

ভারতীয় অ্যাথলেটদের অজানা বাস্তবতা: গৌরব ও অবহেলার দুই মুখ

ভূমিকা: দুটি পৃথক বাস্তবতা :

২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল যখন প্রথমবারের মতো আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ জিতল, পুরো দেশ উৎসবে মেতে উঠেছিল। মহারাষ্ট্র সরকার তাদের তিন তারকা খেলোয়াড় স্মৃতি মন্ধানা, জেমাইমা রড্রিগেজ এবং রাধা যাদবকে ২.২৫ কোটি টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। হিমাচল প্রদেশ সরকার তাদের কন্যা রেনুকা সিং ঠাকুরকে ১ কোটি টাকা দিয়ে সম্মানিত করেছে। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে এই জয় নতুন স্বপ্নের সঞ্চার করেছে।

কিন্তু এই উৎসবের আলোর ঠিক পাশেই লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার। এমন অনেক ক্রীড়াবিদ আছেন যারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের জন্য স্বর্ণপদক জিতেছেন, অথচ আজও তাদের বেঁচে থাকার জন্য সবজি বিক্রি করতে হয়, রাস্তায় জুতা পালিশ করে প্রতিবাদ করতে হয়। এই হল ভারতীয় ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য - একই মাটিতে দাঁড়িয়ে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বাস্তবতা।

বিস্মৃত বীরদের কাহিনী :

তরুণ শর্মা: পারা-কারাতে চ্যাম্পিয়নের সংগ্রাম

তরুণ শর্মা পাঞ্জাবের একজন পারা-কারাতে অ্যাথলেট, যিনি ভারতের প্রথম ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পারা-কারাতে প্রতিযোগী। মাত্র ছয় মাস বয়সে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের বাম দিক সঠিকভাবে কাজ করে না এবং কথা বলতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি।

তরুণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১২টিরও বেশি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিত I Karate Global World Cup-এ স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক, ২০২০ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক, এবং আরও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক। বর্তমানে তিনি বিশ্বে পঞ্চম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং ভারতে প্রথম স্থানে রয়েছেন।

তরুণের বাবা একজন সবজি বিক্রেতা এবং তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তিনি নিজেও খুবই কম মজুরিতে পার্ট-টাইম কাজ করেছেন। তার কথায়, "আমি একটি খুব গরীব পরিবার থেকে এসেছি, কিন্তু তারপরও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পের শেষ বছরে পড়াশোনা করছি।" আজও তিনি পাঞ্জাবের খান্নায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ শর্মা লুধিয়ানায় ডেপুটি কমিশনারের অফিসের বাইরে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি জুতা পালিশ করে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং রাজ্য সরকারের কাছে চাকরির দাবি জানিয়েছিলেন। একজন আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক বিজয়ী ক্রীড়াবিদকে এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হয় - এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে?

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান :

তরুণ শর্মার গল্প একা তার নয়। তিনি তার বাড়িতে একটি ছোট একাডেমি চালান যেখানে তিনি অভাবী খেলোয়াড়দের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেন। নিজের দুর্দশার মধ্যেও তিনি অন্যদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন যে পর পর রাজ্য সরকারগুলি তাকে চাকরি দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু কেউই সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি।

তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে যদি ১০ দিনের মধ্যে চাকরির দাবি পূরণ না হয়, তাহলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বাসভবনের বাইরে প্রতিবাদ করবেন। একজন জাতীয় গর্ব, যিনি ভারতের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছেন, তাকে এভাবে অপমানিত হতে হচ্ছে।

কেন এই বৈষম্য?

জনপ্রিয়তা বনাম অবদান :

ক্রিকেট ভারতে শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি ধর্ম। লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্রিকেট দেখেন, ক্রিকেটাররা কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন করেন, তারা জাতীয় তারকা হয়ে ওঠেন। কিন্তু কারাতে, কাবাডি, কুস্তি, বক্সিং বা অন্যান্য খেলাগুলো সেই একই মনোযোগ পায় না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে এই খেলাগুলির সম্প্রচার হয় না, স্পনসররা আগ্রহী হন না, এবং ফলস্বরূপ এই ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা অনেক কম থাকে।

সরকারি নীতির সীমাবদ্ধতা :

যদিও বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করার জন্য নীতি তৈরি করেছে, কিন্তু সেগুলির প্রয়োগে রয়েছে বিশাল ফাঁক। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ বা এশিয়ান গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতার পুরস্কার ভালো, কিন্তু অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ীদের প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়।

পারা-অ্যাথলেটদের অবস্থা আরও খারাপ। তরুণ শর্মা তার প্রতিবাদে বলেছিলেন যে সাধারণ ক্রীড়াবিদদের মতো সমান সুযোগ এবং চাকরি পাওয়ার অধিকার পারা-অ্যাথলেটদেরও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের অবদান প্রায়ই স্বীকৃতি পায় না।

আর্থিক সহায়তার অভাব :

তরুণ শর্মার মতো অনেক ক্রীড়াবিদের তহবিল ও সম্পদের অভাবের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সংগ্রাম করতে হয়। তার পরিবারের সমর্থন ও প্রচেষ্টার কারণেই তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ শুধুমাত্র অর্থের অভাবে তাদের স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রশিক্ষণ সুবিধা, সরঞ্জাম, কোচিং, পুষ্টি, এবং চিকিৎসা সহায়তা - এসবের জন্য অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু কম জনপ্রিয় খেলাগুলিতে এই সুবিধাগুলি খুবই সীমিত। অনেক সময় ক্রীড়াবিদদের নিজেদের খরচেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যেতে হয়।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন :

সমস্ত খেলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া :

ক্রিকেট ভারতের প্রিয় খেলা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্যান্য খেলাগুলিকেও সমান প্রচার, সমর্থন এবং স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। টেলিভিশন চ্যানেলগুলিকে বিভিন্ন খেলার সম্প্রচার করা উচিত। কর্পোরেট স্পনসররা যেন শুধুমাত্র ক্রিকেটেই নয়, অন্যান্য খেলাতেও বিনিয়োগ করেন।

স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন খেলার প্রচার করা উচিত। শিশুরা যেন শুধুমাত্র ক্রিকেটার নয়, বক্সার, কুস্তিগীর, কাবাডি খেলোয়াড়, কারাতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

পারা-অ্যাথলেটদের সমান সম্মান :

পারা-অ্যাথলেটরা অসাধারণ মানসিক ও শারীরিক শক্তির পরিচয় দেন। তাদের অর্জন সাধারণ ক্রীড়াবিদদের থেকে কম নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি। তাদেরকে সমান সম্মান, সমান পুরস্কার এবং সমান সুযোগ দেওয়া উচিত।

সরকারি চাকরিতে পারা-অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ থাকা উচিত। তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতার জন্য পৃথক তহবিল বরাদ্দ করা উচিত। তাদের গল্পগুলি মিডিয়ায় আরও বেশি প্রচার করা উচিত যাতে সমাজ তাদের অবদান বুঝতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ব্যবস্থা :

একটি পদক জেতার পরে একবারের পুরস্কার যথেষ্ট নয়। ক্রীড়াবিদদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। অবসরের পরে তাদের জীবিকার জন্য চাকরি, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

news image
আরও খবর

সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি মিলে একটি স্পোর্টস ওয়েলফেয়ার ফান্ড তৈরি করা উচিত। এই তহবিল থেকে অবসরপ্রাপ্ত এবং আর্থিকভাবে সংকটে থাকা ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করা যেতে পারে।

সফলতার গল্পগুলি :

যদিও এই নিবন্ধটি মূলত চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যাগুলির উপর ফোকাস করেছে, কিছু সফল গল্পও রয়েছে যেগুলি আশার আলো দেখায়।

অভিনব বিন্দ্রা: প্রথম ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক বিজয়ী :

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অভিনব বিন্দ্রা ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। তার সাফল্যের পরে শুটিং স্পোর্টস ভারতে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়েছে এবং আরও অনেক তরুণ এই ক্ষেত্রে আসতে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

নীরজ চোপড়া: অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগ

নীরজ চোপড়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভলিন থ্রোতে স্বর্ণপদক জিতে ভারতের অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগের সূচনা করেছেন। তার সাফল্যের পরে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টগুলিতে আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাক্ষী মালিক এবং পি ভি সিন্ধু: মহিলা ক্রীড়াবিদদের উত্থান

সাক্ষী মালিক, পি ভি সিন্ধু, মীরাবাই চানু এবং আরও অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ প্রমাণ করেছেন যে ভারতীয় নারীরা বিশ্ব মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। তারা লক্ষ লক্ষ তরুণীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।

সরকারি উদ্যোগ এবং তাদের প্রভাব :

খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি:

২০১৮ সালে চালু হওয়া খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা চিহ্নিত করার এবং লালন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই কর্মসূচির অধীনে তরুণ ক্রীড়াবিদদের বৃত্তি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক এক্সপোজার প্রদান করা হয়।

টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS) :

TOPS কর্মসূচি সেই ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করে যাদের অলিম্পিকে পদক জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক সহায়তা, বিশ্বমানের কোচিং, উন্নত সরঞ্জাম এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ।

রাজ্য সরকারের পুরস্কার নীতি :

বিভিন্ন রাজ্য সরকার তাদের নিজস্ব পুরস্কার নীতি তৈরি করেছে। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং অন্যান্য রাজ্যগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ীদের আর্থিক পুরস্কার এবং চাকরি প্রদান করে।

তবে, এই উদ্যোগগুলির প্রয়োগে এখনও অনেক ফাঁক রয়েছে। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এই সুবিধাগুলি পাচ্ছেন না, বিশেষ করে কম জনপ্রিয় খেলাগুলির ক্রীড়াবিদরা এবং পারা-অ্যাথলেটরা।

আমাদের করণীয় :

জনসাধারণ হিসাবে আমাদের ভূমিকা :

আমরা সবাই ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করতে পারি। শুধুমাত্র ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলাগুলিও দেখুন। স্থানীয় প্রতিযোগিতাগুলিতে যান। ক্রীড়াবিদদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন এবং তাদের অর্জন শেয়ার করুন।

যদি আপনার আশেপাশে কোনো প্রতিভাবান যুবক বা যুবতী ক্রীড়াবিদ থাকে, তাদের উৎসাহিত করুন। তাদের পরিবারকে সহায়তা করুন। সম্ভব হলে ছোট ছোট আর্থিক সহায়তা প্রদান করুন।

রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি:

সর্বোপরি, রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। সরকারকে শুধুমাত্র নীতি তৈরি করলেই হবে না, সেগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক পদক বিজয়ীকে চাকরি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

পারা-অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ প্রকল্প তৈরি করতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, সরঞ্জাম এবং আর্থিক সহায়তা নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত হওয়া উচিত।

আশার আলো :

তরুণ শর্মার গল্প আমাদের লজ্জিত করে, কিন্তু একই সাথে অনুপ্রাণিত করে। একজন ব্যক্তি যিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পতাকা উঁচুতে তুলেছেন, তিনি আমাদের দেশের সত্যিকারের নায়ক। তার মতো আরও অনেক নাম না জানা, অ-স্বীকৃত বীরেরা রয়েছেন যারা আমাদের সম্মিলিত সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের জয় একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং স্মৃতি মন্ধানা, জেমাইমা রড্রিগেজ এবং রাধা যাদব সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাদের পুরস্কার ন্যায্য এবং প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সমস্ত ক্রীড়াবিদ - তারা যে খেলাই খেলুন না কেন, তারা যত জনপ্রিয় বা অপরিচিত হোক না কেন, তারা সবাই সম্মান, স্বীকৃতি এবং যথাযথ সহায়তা পান।

একটি সত্যিকারের ক্রীড়া শক্তি হতে গেলে আমাদের শুধুমাত্র বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক পদকই নয়, প্রতিটি ক্রীড়াবিদের কল্যাণ এবং মর্যাদাও নিশ্চিত করতে হবে। যেদিন তরুণ শর্মার মতো ক্রীড়াবিদদের আর সবজি বিক্রি করে বাঁচতে হবে না, যেদিন প্রতিটি পদক বিজয়ী একটি সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন, সেদিনই আমরা বলতে পারব যে ভারত সত্যিই একটি ক্রীড়া মহাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

যারা দেশের জন্য লড়াই করেন, তারা যেন আর অবহেলিত না হন - এটি শুধু একটি দাবি নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন আমরা সবাই মিলে এই পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করি। ক্রীড়াবিদরা আমাদের গর্ব, এবং তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের কর্তব্য।

Preview image