Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডেভিডের হ্যাটট্রিকে ঝড়! ৭-২ গোলে জিতে IFA শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, সামনে মোহনবাগান

ডেভিডের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে ৭-২ গোলে জয় ইস্টবেঙ্গলের। এই জয়ের সুবাদে IFA শিল্ডের ফাইনালে মোহনবাগানের মুখোমুখি লাল-হলুদ। ডুরান্ড কাপের পর ফের এক ফাইনালে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

IFA Shield Final-এ আরও একবার কলকাতা ডার্বির উত্তেজনা। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইস্টবেঙ্গল। সোমবার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে ৭-২ গোলে জয় পেয়েছে লাল-হলুদ শিবির। ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে হ্যাটট্রিক করেছেন ডেভিড। ফলে ডুরান্ড কাপ ফাইনালের পর এবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালেও কলকাতা ডার্বি দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে আগেই জায়গা করে নিয়েছিল মোহনবাগান। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। ফলে বহু প্রতীক্ষিত East Bengal vs Mohun Bagan লড়াই এখন আইএফএ শিল্ডের ট্রফি নির্ধারণ করবে। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তেজনা। একদিকে মোহনবাগানের ফাইনালে ওঠার আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সাত গোলের দুরন্ত জয়—সব মিলিয়ে ফাইনাল ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে।

সোমবার ইস্টবেঙ্গলের সামনে ছিল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য অস্বস্তিতে পড়ে যায় লাল-হলুদ দল। ম্যাচ শুরুর মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগে ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। নিজেদের বক্সে বল রিসিভ করতে গিয়ে ভুল করেন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার জিভুলিচ। সেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নর্থ ইস্টের স্ট্রাইকার আলাদিন আজারেই গোল করেন। গোলকিপার পূর্বা লাচেনপাকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

প্রথম কয়েক মিনিটেই পিছিয়ে পড়ায় অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের জন্য ম্যাচটি কঠিন হতে চলেছে। কিন্তু গোল হজম করার পর যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ দল। পিছিয়ে পড়ে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো নর্থ ইস্টের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণের পর আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১০ মিনিটেই আসে সমতা ফেরানোর গোল।

ডানদিক থেকে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান ক্রিস ইকোনোমিডিস। নর্থ ইস্টের বক্সের মধ্যে বলের অপেক্ষায় ছিলেন ডেভিড। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ডেভিড। ১-১ হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল।

এরপর লাল-হলুদ আক্রমণের সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের রক্ষণ। ম্যাচের ২২ মিনিটে বাঁদিক থেকে আক্রমণ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। দানি বক্সের দিকে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান। ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে যান রোহিত। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এর ফলে ম্যাচে প্রথমবারের জন্য এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের। একের পর এক আক্রমণে নর্থ ইস্টের রক্ষণকে চাপে রাখতে থাকে হাবাসের দল। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ ও রক্ষণ সেই প্রচেষ্টা আটকে দেয়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ পুরোপুরি লাল-হলুদ শিবিরের হাতে চলে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকেও ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৫ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে ইস্টবেঙ্গল। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ বাহিনী। প্রথম দেড় মিনিটে পিছিয়ে পড়া দলটি মাত্র একার্ধের মধ্যেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়।

এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন ডেভিড। শুরু থেকেই আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের রক্ষণে ক্রমাগত চাপ তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্স ইস্টবেঙ্গলের সাত গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছেও এই জয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক ফুটবলার না থাকায় দল সাজাতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম একাদশে মহম্মদ রশিদকে রাখেননি হাবাস। রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন দুই নতুন বিদেশি ফুটবলার একে লোবা ও লুকাস। সীমিত বিকল্প নিয়েও যে দল দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে, নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে সেটাই প্রমাণ করেছে ইস্টবেঙ্গল।

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৭-২ গোলের জয় শুধু ফাইনালে ওঠার জয় নয়, বরং ফাইনালের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ। বিশেষ করে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ইস্টবেঙ্গলকে আশাবাদী করবে। শুরুতে গোল হজম করেও যেভাবে ম্যাচে ফিরে এসে একের পর এক গোল করেছে দল, তা লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।

এখন ইস্টবেঙ্গলের সামনে আরও বড় পরীক্ষা। কারণ ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ মোহনবাগান। কলকাতা ফুটবলে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান দ্বৈরথের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। আইএফএ শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার ফাইনালে যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন সেই লড়াইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।

এই ম্যাচের আর একটি বড় দিক হল, ডুরান্ড কাপ ফাইনালের পর আবারও একটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি নিছক একটি ফাইনাল নয়। এটি কলকাতা ফুটবলের আবেগ, ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আর একটি নতুন অধ্যায় হতে চলেছে।

news image
আরও খবর

East Bengal vs Mohun Bagan ম্যাচ মানেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা। লাল-হলুদ সমর্থকেরা যেমন তাদের দলের কাছ থেকে ট্রফি প্রত্যাশা করছেন, তেমনই সবুজ-মেরুন সমর্থকেরাও আইএফএ শিল্ড নিজেদের ঘরে তুলতে মরিয়া। ফলে ফাইনালে দুই দলের কৌশল, দল নির্বাচন এবং তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে।

ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর থাকবে ডেভিডের দিকে। নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে তিনি ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বড় ম্যাচে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন। ফাইনালে মোহনবাগানের শক্তিশালী রক্ষণের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

অন্যদিকে, হাবাসের কৌশলও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। শুরুতেই গোল হজম করার পর দলকে দ্রুত ম্যাচে ফিরিয়ে আনা এবং এরপর প্রতিপক্ষের উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা সফল হয়েছে। ফাইনালে অবশ্য প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ। তাই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আইএফএ শিল্ডের ইতিহাসে দুই কলকাতা জায়ান্টের লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিটি ডার্বির মতোই এবারের ফাইনালেও নতুন গল্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রফির লড়াইয়ে একদিকে থাকবে ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে থাকবে মোহনবাগানের ফাইনালে ওঠার অভিজ্ঞতা। দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিতে চাইবে।

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক শক্তিরও বড় প্রমাণ। ৭-২ গোলের জয় দেখিয়েছে যে দলটি সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি তা কাজে লাগাতেও সক্ষম। তবে ফাইনালে এমন সুযোগ নিয়মিত পাওয়া যাবে না। মোহনবাগানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছোট ভুলও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

তাই ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলকে রক্ষণভাগের ভুলগুলিও শুধরে নিতে হবে। নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই যে ভুল থেকে গোল হজম করতে হয়েছিল, মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সেই ধরনের ভুল করলে তার ফল আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে। হাবাস নিশ্চয়ই সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই দলকে প্রস্তুত করবেন।

সব মিলিয়ে IFA Shield Final 2026 এখন কলকাতা ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির একটি। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল—দুই দলই ট্রফির দাবিদার। একদিকে সবুজ-মেরুন, অন্যদিকে লাল-হলুদ। মাঠে নামবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেই লড়াইয়ের মধ্যেই নির্ধারিত হবে আইএফএ শিল্ডের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৭-২ গোলে জয়ের পর ইস্টবেঙ্গল এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ডেভিডের হ্যাটট্রিক, রোহিতের গোল এবং দলের সামগ্রিক আক্রমণাত্মক ফুটবল ফাইনালের আগে লাল-হলুদ সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। তবে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ফাইনালের শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

আইএফএ শিল্ড ফাইনালে এবার ডার্বি। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল—ট্রফির জন্য দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মহারণ। কলকাতা ফুটবলের আবেগ, ইতিহাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসঙ্গে মিশে যাওয়ার অপেক্ষায়।

Preview image