Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শপথ মঞ্চে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, উপস্থিত বুদ্ধিতে সামাল দিলেন অভিনেত্রী তৃষা!

মা উমা কৃষ্ণনকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী তৃষা। বিজয়ের পরিবার ও আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের পাশেই বসেছিলেন তাঁরা, যা ঘিরে অনুষ্ঠানে বাড়ে বিশেষ আকর্ষণ।

তলপতি বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়ে বিপাকে তৃষা! অনুরাগীদের ভিড়ে কী ভাবে সামাল দিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী?

দক্ষিণী বিনোদনজগতে গত কয়েক মাস ধরে সবচেয়ে বেশি চর্চিত নামগুলির মধ্যে অন্যতম তলপতি বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণন। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা, গুঞ্জন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্তহীন আলোচনা চলছিলই। এর মধ্যেই ১০ মে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তলপতি বিজয়। রাজনৈতিক জীবনের এই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের বহু পরিচিত মুখ। আর সেই তালিকায় বিশেষভাবে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন।

মা উমা কৃষ্ণনকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সকালই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পৌঁছে যান তৃষা। অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় আলাদা উন্মাদনা। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরেই বিজয় ও তৃষার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ঘুরে বেড়াচ্ছে বিনোদনমহলে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তবু তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ইঙ্গিত ঘিরে আলোচনার শেষ নেই।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নজর কাড়লেন তৃষা

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। দর্শকাসনের একটি বিশেষ অংশে বসানো হয়েছিল বিজয়ের পরিবার এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের। সেখানেই মা উমা কৃষ্ণনের সঙ্গে বসেছিলেন তৃষা কৃষ্ণন।

তৃষার উপস্থিতি নজর এড়ায়নি কারও। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করার মুহূর্ত থেকেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন তাঁর দিকেই ঘুরে যায়। নীল রঙের সিল্কের শাড়িতে অভিনেত্রীকে দেখাচ্ছিল অনবদ্য। শাড়ির সঙ্গে তিনি পরেছিলেন বেইজ রঙা সূক্ষ্ম সুতোর কাজ করা ব্লাউজ়। গলায় হিরে ও চুনির নেকলেস, হাতে সোনার গয়না এবং খোঁপায় জুঁই ফুলের মালা— সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণী সাজে মুগ্ধ করেন উপস্থিত সকলকে।

হালকা মেকআপ এবং স্বাভাবিক হাসিতেই যেন আলাদা সৌন্দর্য ফুটে উঠেছিল অভিনেত্রীর মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর অনুষ্ঠানে পৌঁছনোর ছবি ও ভিডিও।

আচমকাই বিপাকে অভিনেত্রী

তবে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা মিটতেই অনুষ্ঠানস্থলে শুরু হয় মানুষের ঢল। বহু অনুরাগী তৃষাকে সামনে থেকে দেখার জন্য ভিড় করেন। কেউ তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চান, কেউ আবার ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এক সময় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে, মানুষের ভিড়ের মাঝেই আটকে পড়েন তৃষা। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উৎসাহী অনুরাগীদের ভিড় ক্রমশ বাড়তেই থাকে।

তবে এই পরিস্থিতিতেও একবারের জন্যও মেজাজ হারাতে দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। বরং হাসিমুখেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। ভিড়ের মধ্যে থেকেও অনুরাগীদের দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যায় তাঁকে। কোনও রকম বিরক্তি প্রকাশ না করেই শান্তভাবে নিরাপদ জায়গার দিকে এগিয়ে যান তৃষা।

এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই অভিনেত্রীর ধৈর্য এবং ভদ্র ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন। কেউ লিখেছেন, “এটাই আসল স্টারডম।” আবার কেউ বলেছেন, “তৃষা সব সময়ই অত্যন্ত মার্জিত।”

সম্পর্কের গুঞ্জন আরও উসকে দিল উপস্থিতি

গত কয়েক মাস ধরে তৃষা ও বিজয়কে নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ব্যক্তিগত পার্টি কিংবা বিদেশ সফরের কিছু ছবি ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছিল জল্পনা। যদিও এই বিষয়ে কোনও দিনই সরাসরি মুখ খোলেননি তাঁরা।

তবে বিজয়ের রাজনৈতিক জীবনের এত বড় দিনে তৃষার উপস্থিতি অনেকের কাছেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। কারণ, শুধুমাত্র সাধারণ অতিথি হিসেবেই নয়, তাঁকে বসানো হয়েছিল বিজয়ের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের কাছাকাছি অংশে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কেউ মনে করছেন, এই উপস্থিতি নিছক বন্ধুত্বের নিদর্শন। আবার অনেকে বলছেন, তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এই ঘটনাই যেন তা আরও জোরালো করল।

যদিও তৃষা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম কিংবা ছবিশিকারিদের প্রশ্নেরও কোনও সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

সকাল থেকেই তৃষার বাড়ির সামনে ভিড়

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে থেকেই তৃষার বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ও ছবিশিকারিরা। অভিনেত্রী কখন বেরোবেন, কী পরবেন, তাঁর সঙ্গে কে থাকবেন— সব কিছু নিয়েই ছিল কৌতূহল।

বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকেরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে খুব সংক্ষিপ্তভাবেই উত্তর দেন তৃষা। তিনি বলেন, “উদগ্রীব হয়ে আছি।”

এই একটুকু মন্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে করা প্রশ্ন সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান অভিনেত্রী।

নিন্দা, কটাক্ষ এবং নীরবতা

বিজয়ের সঙ্গে নাম জড়ানোর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তৃষাকে। অনেকেই কটাক্ষ করেছেন তাঁকে। কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ করেছেন।

তবে এত কিছুর পরেও প্রকাশ্যে কখনও বিতর্কে জড়াতে দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। বরাবরের মতোই নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা বজায় রেখেই চলেছেন তিনি।

রবিবারের অনুষ্ঠানেও একই ছবি দেখা গেল। এত মানুষের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ— সব কিছুর মাঝেও নিজেকে সংযত রেখেছেন তৃষা। তাঁর এই আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন অনুরাগীরা।

ফ্যাশন স্টেটমেন্টে আবারও বাজিমাত

তৃষা কৃষ্ণনের স্টাইল সেন্স নিয়ে বরাবরই আলোচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণী সাজ হোক কিংবা আধুনিক পোশাক— সবেতেই সাবলীল অভিনেত্রী।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর সাজও ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নীল সিল্কের শাড়ির সঙ্গে অত্যন্ত সূক্ষ্ম গয়না এবং জুঁই ফুলের মালা তাঁকে এনে দেয় এক অনন্য আভিজাত্য।

ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চাকচিক্য এড়িয়ে অত্যন্ত পরিমিত ও মার্জিত সাজ বেছে নিয়েছিলেন তৃষা। আর সেই কারণেই তাঁর উপস্থিতি আরও বেশি নজর কেড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই তাঁর লুক নিয়ে একাধিক ফ্যানপেজে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর শাড়ির ডিজাইন এবং গয়নার খোঁজ করছেন।

দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতে কাজ করছেন তৃষা কৃষ্ণন। তামিল, তেলুগু-সহ একাধিক ভাষার ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম সফল অভিনেত্রী হিসেবে।

অ্যাকশন, রোম্যান্স, পারিবারিক গল্প— সব ধরনের চরিত্রেই দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত তাঁর জনপ্রিয়তায় কোনও ভাটা পড়েনি।

তাই রাজনৈতিক মঞ্চেও তাঁর উপস্থিতি যে এতটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, তা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।

বিজয়ের রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন সূচনা

অন্যদিকে, তলপতি বিজয়ের জন্যও দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জল্পনার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।

চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয়তা থেকে রাজনীতির ময়দান— বিজয়ের এই যাত্রাপথ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে মানুষের উন্মাদনাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তৃষার উপস্থিতি যেন আলাদা মাত্রা যোগ করেছে গোটা ঘটনাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও

news image
আরও খবর

অনুষ্ঠান শেষে তৃষাকে ঘিরে অনুরাগীদের ভিড়ের ভিডিও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ সেই ভিডিও দেখে ফেলেছেন।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারদিক থেকে মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরেছেন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার হাত নাড়িয়ে ডাকছেন অভিনেত্রীকে। কিন্তু এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও শান্তভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন তৃষা।

অনেকেই এই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “স্টার হওয়া সহজ নয়।” আবার কেউ লিখেছেন, “তৃষার ধৈর্যের প্রশংসা করতেই হয়।”

এখনও নীরব অভিনেত্রী

সবশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট— বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে এখনও পর্যন্ত একেবারেই নীরব তৃষা কৃষ্ণন। রবিবারের অনুষ্ঠানের পরও তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে তাঁর উপস্থিতি, বিজয়ের পরিবারের কাছে বসা, এবং পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে তাঁর উপস্থিতি যে নতুন করে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই যায়।

আগামী দিনে এই সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা মুখ খুলবেন কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত এবং অনুরাগীদের ভিড়ে আটকে পড়া তৃষার ভিডিও নিয়েই সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদনদুনিয়া।

অনুরাগীদের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি

দক্ষিণী তারকাদের প্রতি মানুষের আবেগ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে তৃষা কৃষ্ণনের মতো দীর্ঘ দিনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেলে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনও সেই ছবিই দেখা গেল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বহু মানুষ তাঁর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। কেউ শুধুমাত্র এক ঝলক দেখতে চেয়েছেন, কেউ আবার মোবাইলে মুহূর্তটা বন্দি করে রাখতে চেয়েছেন।

যদিও এই ধরনের পরিস্থিতি অনেক সময় তারকাদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তবু তৃষার আচরণ নজর কেড়েছে সকলের। চারপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও তাঁকে একবারের জন্যও বিরক্ত বা রেগে যেতে দেখা যায়নি। বরং তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন। উপস্থিত অনেকেই পরে জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যেও তৃষা কয়েক জন অনুরাগীর দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে হাত নাড়েন। এই ছোট ছোট আচরণই তাঁকে অনুরাগীদের আরও কাছের মানুষ করে তুলেছে।

তৃষার জনপ্রিয়তার নেপথ্যে কী?

দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সহজ নয়। কিন্তু তৃষা কৃষ্ণন সেই কাজটাই করে দেখিয়েছেন। এক সময় দক্ষিণী ছবির রোম্যান্টিক নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলেছেন তিনি। এখন তিনি শুধুমাত্র গ্ল্যামারাস চরিত্রেই সীমাবদ্ধ নন, বরং শক্তিশালী ও গল্পনির্ভর চরিত্রেও অভিনয় করছেন।

তাঁর অভিনীত বহু ছবি দক্ষিণী সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। দর্শকেরা তাঁকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন স্টাইল আইকন হিসেবেও দেখেন। সেই কারণেই যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনও তাঁর পোশাক, গয়না, মেকআপ— সব কিছু নিয়েই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। ফ্যাশন ব্লগারদের একাংশ বলছেন, বর্তমানে দক্ষিণী তারকাদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সাজকে এত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন খুব কম অভিনেত্রীই, আর তৃষা তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

বিজয়-তৃষা জুটিকে ঘিরে অনুরাগীদের উন্মাদনা

দক্ষিণী সিনেমাপ্রেমীদের কাছে বিজয় ও তৃষার জুটি বহু দিনের প্রিয়। একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। পর্দায় তাঁদের রসায়ন বরাবরই দর্শকদের মন জয় করেছে। সেই কারণেই বাস্তব জীবনেও তাঁদের নিয়ে গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর অনেক অনুরাগী যেন আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই তাঁদের পুরনো ছবির দৃশ্য ভাইরাল হয়। বিভিন্ন ফ্যানপেজে তাঁদের নিয়ে তৈরি হয় ভিডিও, পোস্টার এবং এডিট। অনেকে তো আবার প্রকাশ্যেই চান, এই জুটি বাস্তব জীবনেও একসঙ্গে থাকুক।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃষার উপস্থিতির পর সেই উন্মাদনা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠানের ছবি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় নানা ধরনের মন্তব্য ভেসে উঠতে শুরু করে। কেউ লিখেছেন, “সব বড় মুহূর্তেই তৃষা আছেন।” আবার কেউ বলেছেন, “এই সম্পর্কের কথা আর লুকিয়ে কী হবে!”

যদিও এই সব মন্তব্যের কোনও জবাব দেননি অভিনেত্রী কিংবা বিজয়। বরাবরের মতোই তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।

রাজনৈতিক মঞ্চে সিনেমার তারকারা

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাব বহু পুরনো। এম জি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও বহু অভিনেতা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাই ছিল তারকাখচিত পরিবেশ। একদিকে রাজনৈতিক নেতারা, অন্যদিকে চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ— সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি যেন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগতের এক বিরল মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে তৃষার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি করে নজর কেড়েছে। কারণ, তিনি শুধুমাত্র জনপ্রিয় অভিনেত্রীই নন, বরং বিজয়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো নিয়েও মানুষের কৌতূহল রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং তৃষা

অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ড করতে শুরু করে তৃষার নাম। বিশেষ করে তাঁর নীল শাড়ির লুক এবং অনুরাগীদের ভিড়ের ভিডিও সবচেয়ে বেশি শেয়ার হতে থাকে।

অনেকেই তাঁর শান্ত স্বভাবের প্রশংসা করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, “এত ভিড়ের মধ্যেও যেভাবে নিজেকে সামলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।” অন্য একজন মন্তব্য করেন, “স্টারডম সামলাতে গেলে এমন ধৈর্য দরকার।”

এছাড়াও অনেক ফ্যাশনপ্রেমী তাঁর সাজ নিয়ে আলাদা পোস্ট করতে শুরু করেছেন। কোন ডিজাইনারের শাড়ি তিনি পরেছিলেন, কী ধরনের গয়না ব্যবহার করেছিলেন— তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

সংবাদমাধ্যমের নজরের কেন্দ্রবিন্দু

শুধু অনুরাগীরাই নন, সংবাদমাধ্যমের নজরও ছিল তৃষার উপর। অনুষ্ঠানের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত ক্যামেরা যেন তাঁর দিকেই ঘুরছিল। তিনি কোথায় বসছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন, কী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন— সব কিছুই ছিল সংবাদ শিরোনামে।

বিশেষ করে বিজয়ের পরিবারের কাছাকাছি অংশে তাঁকে বসতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই নতুন করে শুরু হয় জল্পনা। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবু নেটমাধ্যমে তা নিয়েই আলোচনা থামছে না।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব থাকার কারণ?

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ সব সময়ই থাকে। কিন্তু অনেক তারকাই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনতে চান না। তৃষাও সম্ভবত সেই পথই বেছে নিয়েছেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কম কথা বলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও ব্যক্তিগত প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর মতে, একজন অভিনেত্রীর কাজ নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়া উচিত।

এই কারণেই হয়তো বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। বরং নিজের কাজ, জনসমক্ষে আচরণ এবং পেশাদারিত্ব দিয়েই তিনি বারবার মানুষের মন জয় করে চলেছেন।

ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে?

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে অনুরাগীদের মনে— ভবিষ্যতে কি এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলবেন বিজয় ও তৃষা? যদিও আপাতত তার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

তবে এই অনুষ্ঠানের পর তাঁদের নিয়ে আলোচনা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। রাজনৈতিক মঞ্চে বিজয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, অন্যদিকে তৃষাও নিজের ক্যারিয়ারে ব্যস্ত। কিন্তু এই দুই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল কমার কোনও লক্ষণ নেই।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ভিডিও, তৃষার মার্জিত আচরণ এবং তাঁর উপস্থিতিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দক্ষিণী বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে আবারও তিনি প্রমাণ করলেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে কী ভাবে মর্যাদা এবং ধৈর্য বজায় রাখতে হয়।

Preview image