Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শিশুর চিপ্‌স নেশা কাটাতে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর সব্জির রকমারি চিপ্‌স

আলুর চিপ্‌স খাওয়ার অভ্যাসে বাধা আসছে শিশুর, তবে চিন্তা করবেন না। আলুর বদলে নানা রকম সব্জি দিয়ে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর চিপ্‌স। এখানে রইল কিছু সহজ রেসিপি, যা আপনার শিশুকে আনন্দিত করবে এবং তার খাবারের অভ্যাস উন্নত করবে।

আজকাল শিশুদের খাবার তালিকায় অন্যতম প্রিয় হয়ে উঠেছে আলুর চিপ্‌স। দোকান থেকে কিনে বা বাড়িতে বানিয়ে, ছোটরা প্রায় প্রতিদিনই চিপ্‌স খেতে চায়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন যে আলুর চিপ্‌স বিশেষত ভাজা আলু বেশি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে উচ্চ ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে, যা শরীরের জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। তাই যদি আপনার শিশু আলুর চিপ্‌স খেতে পছন্দ করে, তবে আলুর বদলে আরও পুষ্টিকর সব্জি দিয়ে সুস্বাদু চিপ্‌স বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে, তাদের খাদ্যাভ্যাসও পরিবর্তিত হবে এবং স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।

এখানে রইল কিছু স্বাস্থ্যকর সব্জির চিপ্‌স তৈরির রেসিপি, যা আপনি সহজেই বাড়িতে তৈরি করতে পারবেন:

১. গাজরের চিপ্‌স:

গাজরের চিপ্‌স তৈরি করতে খুব সহজ একটি রেসিপি রয়েছে। গাজর খোসা ছাড়িয়ে পাতলা গোল গোল করে কেটে নিন। তারপর, কিছু সময় রেখে এতে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো, চিলি ফ্লেক্স, এবং অরিগ্যানো মাখিয়ে দিন। এরপর, অভেনে ২১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় প্রি-হিট করে ৮-১০ মিনিট বেক করুন। গাজরের চিপ্‌স মুচমুচে হয়ে উঠবে এবং এটি খেতে বেশ মজাদার। আপনি চাইলে কড়ায় সামান্য তেল দিয়ে বা শুকনো তাওয়ায় কম আঁচে ভেজেও তৈরি করতে পারেন।

২. আপেলের চিপ্‌স:

গাজরের মতো, আপেলের চিপ্‌সও একটি মিষ্টি স্বাদের চিপ্‌স হিসেবে জনপ্রিয়। আপেল খোসা ছাড়িয়ে পাতলা গোল গোল করে কেটে নিন। তারপর, এতে সামান্য নুন এবং দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে রেখে দিন। অভেনকে ১০০-১২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে প্রি-হিট করে আপেলের টুকরোগুলি বেক করুন। এই চিপ্‌স মিষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর, এবং ডায়াবিটিসের রোগীও এটি খেতে পারেন। এটি আলুর চিপ্‌সের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

৩. পালং শাকের চিপ্‌স:

পালং শাক দিয়ে চিপ্‌স বানানোর পদ্ধতি বেশ সহজ এবং এটি পুষ্টিতে ভরপুর। পালং শাকের পাতাগুলি ধুয়ে শুকিয়ে নিন এবং তাতে অলিভ অয়েল, নুন এবং গোলমরিচের গুঁড়ো মাখিয়ে দিন। আপনি চাইলে রসুনের পাউডারও যোগ করতে পারেন। এরপর, অভেনে ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে প্রি-হিট করে প্রায় ১ ঘণ্টা বেক করুন। যদি আপনি চান, তাহলে কড়ায় সামান্য তেল দিয়ে ভেজেও চিপ্‌স তৈরি করতে পারেন। পালং শাকের চিপ্‌স আয়রন ও ক্যালশিয়ামে পূর্ণ, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৪. বিটের চিপ্‌স:

বিটের চিপ্‌স তৈরি করতে বিটকে গোল গোল করে কেটে নিন। এরপর এতে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো, লেবুর রস এবং সামান্য তিল ছড়িয়ে দিন। বিটের টুকরোগুলি প্রায় ২০ মিনিট বেক করুন, বা চাইলে তাওয়াতে ভেজে নিন যতক্ষণ না এটি মুচমুচে হয়ে ওঠে। বিটে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শিশুদের স্বাস্থ্যকে আরো শক্তিশালী করবে।

এছাড়া, কলার চিপ্‌সও বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়েটিং করার সময় কলা দিয়ে তৈরি চিপ্‌স স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী হতে পারে, কারণ এতে কম ক্যালোরি এবং প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে।

এভাবে বাড়িতে তৈরি করা সব্জির চিপ্‌স শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে এবং একই সঙ্গে তাদের পছন্দের খাবারের তালিকায় পরিবর্তন এনে তাদের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখবে। এই সব্জি চিপ্‌স কেবল শিশুর জন্যই নয়, বড়দের জন্যও উপকারী এবং মজাদার। সুতরাং, আপনি চাইলে এই চিপ্‌সগুলো সবার জন্য বানিয়ে পরিবারের সবাইকে উপহার দিতে পারেন।

বিটের চিপ্‌স এবং কলার চিপ্‌স: স্বাস্থ্যকর বিকল্পের সন্ধানে

বর্তমান জীবনে চিপ্‌স শিশুদের অন্যতম প্রিয় খাবার। আলুর চিপ্‌স প্রায় সব বাড়িতেই জনপ্রিয়, তবে দীর্ঘকাল ধরে খাওয়ার ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, ভাজা আলু বা সাধারণ দোকানের চিপ্‌সে যে পরিমাণ তেল এবং ফ্যাট থাকে, তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই অবস্থায়, বাবা-মায়েরা যদি চিপ্‌স খাওয়ার অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে চান, তবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে চিপ্‌স তৈরি করা এক দারুণ সমাধান হতে পারে।

news image
আরও খবর

বিট এবং কলা দিয়ে চিপ্‌স বানানো এখন একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। এই চিপ্‌সগুলো শুধু পুষ্টিকর, বরং স্বাদে মজাদারও। তাই শিশুরা সহজেই এগুলো পছন্দ করবে এবং তাদের খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনতে পারবে। এখানে বিট এবং কলা দিয়ে চিপ্‌স বানানোর সহজ পদ্ধতি দেওয়া হলো।

১. বিটের চিপ্‌স তৈরি:

বিটে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শিশুর শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিটের চিপ্‌স তৈরি করতে, প্রথমে বিটকে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর এটি গোল গোল করে কেটে নিন। বিটের টুকরোগুলিতে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো, লেবুর রস এবং সামান্য তিল ছড়িয়ে দিন। এরপর, অভেনে ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে প্রি-হিট করে বিটের টুকরোগুলি ২০ মিনিট বেক করুন। চিপ্‌সগুলো মুচমুচে হলে, সেগুলো বের করে নিতে হবে। আপনি চাইলে তাওয়াতে একটু তেল দিয়ে বিটের টুকরোগুলি ভেজেও চিপ্‌স বানাতে পারেন যতক্ষণ না এটি মুচমুচে হয়ে ওঠে।

বিটের চিপ্‌স শুধু স্বাদে মজাদার নয়, এটি পুষ্টিকরও। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা রক্তের শ্বেত কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, বিটের মধ্যে থাকা ফাইবার পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতি শরীরের বিভিন্ন অংশকে টক্সিন মুক্ত করে। এটি শিশুদের শরীরকে শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখে। বিটের চিপ্‌স একটি সেরা বিকল্প যা আপনার শিশুর জন্য উপকারী।

২. কলার চিপ্‌স:

বিটের চিপ্‌সের মতো, কলার চিপ্‌সও একটি জনপ্রিয় বিকল্প যা বিশেষত ডায়েটিং করা মানুষদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। কলার চিপ্‌স তৈরি করতে প্রথমে কলাকে স্লাইস করে কেটে নিন। তারপর কলার টুকরোগুলির উপর সামান্য নুন এবং গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। চাইলে আপনি একটু চিনি বা মধু দিয়েও মিষ্টি স্বাদ দিতে পারেন। এরপর, কলার টুকরোগুলিকে একটি বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে ১৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে ১৫ মিনিট বেক করুন। যদি আপনি বেশি ক্রিস্পি চান, তবে আরও কিছু সময় বেক করতে পারেন।

কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, যা শিশুদের শক্তি প্রদান করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে। এটি কোষের পানি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখে। কলার চিপ্‌স স্বাদের জন্য তো ভাল, পাশাপাশি এটি ডায়েটের জন্যও উপকারী। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপাকতন্ত্রের কাজ সহজ করে এবং হজমে সাহায্য করে।

৩. অন্যান্য সব্জি দিয়ে তৈরি চিপ্‌স:

বিট এবং কলার চিপ্‌সের পাশাপাশি, গাজর, পালং শাক, কাঁচকলা এবং অন্যান্য সব্জি দিয়ে চিপ্‌স বানানোও একটি ভালো বিকল্প। গাজরের চিপ্‌স তৈরি করার সময়, গাজর খোসা ছড়িয়ে পাতলা স্লাইস করে কাটুন এবং তাতে প্রিয় মশলা মিশিয়ে বেক করুন। কাঁচকলার চিপ্‌স তৈরি করতে কাঁচকলাকে স্লাইস করে, তাতে তেল ও মশলা মাখিয়ে ভেজে নিতে পারেন। পালং শাকের চিপ্‌স তৈরি করতে পালং শাকের পাতা ধুয়ে, এতে তেল এবং মশলা মাখিয়ে বেক করুন। এইসব চিপ্‌সগুলিও পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর, যা শিশুরা সহজেই গ্রহণ করতে পারবে।

৪. উপকারিতা:

এই ধরনের সব্জির চিপ্‌সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি শিশুর শরীরের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। বাজারের চিপ্‌সের তুলনায় এগুলি কম ক্যালোরি এবং বেশি পুষ্টিকর। শিশুদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফ্যাট এবং তেল যুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেক সময় বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এইসব সব্জির চিপ্‌স তাদের খাদ্যাভ্যাসে নতুন পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

এছাড়া, এই চিপ্‌সগুলি কেবল ছোটদের জন্যই নয়, বড়দের জন্যও উপকারী। যারা ডায়েট করছে, তারা এই ধরনের চিপ্‌স খেয়ে তাদের ডায়েটের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই চিপ্‌সগুলোতে সুগার কম, ফ্যাট কম এবং পুষ্টি অনেক বেশি, যা সবার জন্য একটি উপকারী বিকল্প হতে পারে।

এছাড়া, বাড়িতে তৈরি চিপ্‌স খাওয়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো আপনি জানেন যে আপনি কী উপাদান ব্যবহার করছেন এবং এতে কোনো অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল বা অজানা উপাদান নেই। সব্জির চিপ্‌সের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে শিশুরা যা খাচ্ছে তা স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ।

উপসংহার:

আজকাল, যখন খাবারের জন্য শিশুরা বিশেষভাবে আলুর চিপ্‌সের প্রতি আকৃষ্ট, তখন তাকে সুস্থ এবং স্বাস্থ্যকর বিকল্প দিয়ে চিপ্‌স খাওয়ানোর চেষ্টাই শ্রেয়। গাজর, পালং শাক, বিট এবং কলার মতো সব্জির চিপ্‌স বানিয়ে আপনি আপনার শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে পারেন। এগুলি সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই আজই শুরু করুন, এবং পরিবারের সবাইকে উপহার দিন সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর সব্জির চিপ্‌স!

Preview image