Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডুরান্ডের বদল শিল্ড জিতে জেলকোভিচের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারাল মোহনবাগান

জেলকোভিচের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে শিল্ড জিতল মোহনবাগান ডুরান্ডের হারের পর এই ডার্বি জয় সবুজ মেরুনের কাছে বদলা নেওয়ার আনন্দ এনে দিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতলেন মোহনবাগান সমর্থকেরা ম্যাচের ফল নির্ধারণে entscheidক হয়ে উঠল জেলকোভিচের গোল

ডুরান্ড কাপের হারের পরে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ঘুরে দাঁড়াল মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গলকে ১–০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতল সবুজ-মেরুন। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সমীর জেলকোভিচ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাওয়া সেই গোলের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেনি লাল-হলুদ। এই জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সাম্প্রতিক ডুরান্ড ফাইনালের স্মৃতি। সেখানে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪–১ ব্যবধানে হেরেছিল মোহনবাগান। শিল্ডের ফাইনালে একই প্রতিপক্ষকে হারানোর ফলে সেই পরাজয়ের পরে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল সবুজ-মেরুন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয় এবং ট্রফি অর্জন দুই প্রাপ্তি একসঙ্গে এই ম্যাচকে বিশেষ করে তুলেছে। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ষষ্ঠ মিনিটে এডমুন্ডের শট আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। শুরুর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু বিশালের সেভে গোলশূন্য অবস্থায় থাকে খেলা। এরপর মোহনবাগানও আক্রমণে উঠতে শুরু করে। পনেরো মিনিটে লি এরউইনের শট সহজে ধরে নেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা। প্রথমার্ধ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সবুজ-মেরুনের আক্রমণ বাড়ে। ছাংতে ও সাহালের শট সামলে দলকে ম্যাচে রাখেন লাচেনপা। দুই গোলরক্ষকের কার্যকর ভূমিকার কারণে গোলের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। তবে বিরতির ঠিক আগে মোহনবাগান সেই বাধা ভাঙতে সক্ষম হয়। ৪৫ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন জেলকোভিচ। তাঁর ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। বিরতিতে তাই এক গোলের সুবিধা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন। ফাইনালের মতো ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষে গোল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষকে সমতা ফেরানোর দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়। এই গোলের কৌশলগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মোহনবাগানের সামনে তখন ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে আক্রমণ করার পথ খুলে যায়। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলকে গোলের সন্ধানে এগোতে হয়। এক গোলের ব্যবধান কোনও দলের জন্যই নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ দেয় না। ফলে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ বজায় রাখা এবং ভুল কমানো ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণে পরিবর্তন আনতে পিভি বিষ্ণু ও আকে লোবাকে মাঠে নামান কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস। তবে পরিবর্তনের পরও গোল পায়নি লাল-হলুদ। ৬৭ মিনিটে জিওলিনস্কির হেড আটকে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন বিশাল কাইথ। সেই মুহূর্তে মোহনবাগানের এক গোলের ব্যবধান অক্ষুণ্ণ থাকে।

ফলাফলের বিচারে জেলকোভিচের গোলের পাশাপাশি বিশালের সেভগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। গোল করা যেমন জয়ের প্রয়োজনীয় ধাপ, তেমনই প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়া সেই জয় নিশ্চিত করার অংশ। এই ম্যাচে মোহনবাগান দুই কাজই করতে পেরেছে। ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সুযোগকে গোলে পরিণত করতে না পারার বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। শিল্ড ফাইনালের এই ফল আরও একবার দেখাল, আগের ম্যাচের সাফল্য পরের লড়াইয়ের ফল নিশ্চিত করে না। ডুরান্ডে বড় ব্যবধানে জিতলেও এবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল পায়নি ইস্টবেঙ্গল। প্রতিটি ম্যাচে নতুন করে সুযোগ কাজে লাগানো এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানো প্রয়োজন। ফাইনালে সেই কাজে কার্যকর হয়েছে সবুজ-মেরুন। এই জয়ের মাধ্যমে ২২তম বার আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান। টানা দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নও হল তারা। একই মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগ ও আইএফএ শিল্ড জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল সবুজ-মেরুন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী শেষবার ১৯৭৬ সালে এমন সাফল্য পেয়েছিল ক্লাব। মোহনবাগানের জন্য এই ট্রফি জয় তাই একাধিক কারণে স্মরণীয়। ডুরান্ডের পরাজয়ের পরে ঘুরে দাঁড়ানো, ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানো এবং শিল্ড ধরে রাখা সব মিলিয়ে সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধ্যা পেল সবুজ-মেরুন। জেলকোভিচের নির্ণায়ক গোল ও দলের ব্যবধান রক্ষার প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শিল্ড উঠল মোহনবাগানের হাতে। জেলকোভিচের নির্ণায়ক গোল এবং বিশাল কাইথের গুরুত্বপূর্ণ সেভে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে সাফল্য পেল মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে এই জয়কে শুধু একটি গোলের ফল হিসেবে দেখলে দলের সামগ্রিক অবদান পুরোপুরি বোঝা যাবে না। গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজেদের গোলমুখ সুরক্ষিত রাখাও ছিল জয়ের প্রয়োজনীয় অংশ। সবুজ-মেরুন সেই দুই দায়িত্বই পালন করতে পেরেছে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল সুযোগ তৈরি করলেও তা গোলে পরিণত করতে পারেনি।

news image
আরও খবর

এক গোলের ব্যবধানের ম্যাচে প্রতিটি আক্রমণ এবং প্রতিটি রক্ষণাত্মক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এগিয়ে থাকা দলকে শেষ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়, কারণ একটি ভুলেই প্রতিপক্ষ সমতা ফেরাতে পারে। মোহনবাগানের ক্ষেত্রে জেলকোভিচের গোল সুবিধা এনে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুবিধাকে ট্রফি জয়ে পরিণত করতে প্রয়োজন ছিল বাকি সময় প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা। বিশালের সেভ এবং দলের রক্ষণাত্মক প্রচেষ্টা সেই কাজে কার্যকর হয়েছে। জেলকোভিচের গোলের গুরুত্ব এখানেই যে, সেটি দুই দলের মধ্যে চূড়ান্ত ব্যবধান তৈরি করেছে। ফাইনালে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো বিশেষ মূল্যবান। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের জন্য কখনও একাধিক গোল প্রয়োজন হয় আবার কখনও একটি গোলই যথেষ্ট হয়ে ওঠে। তবে সেই একটি গোল যথেষ্ট হওয়ার পিছনে গোলরক্ষক ও রক্ষণের অবদানও থাকে। মোহনবাগানের শিল্ড জয় সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার উদাহরণ। বিশাল কাইথের ভূমিকা আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। গোলরক্ষকের একটি সেভ শুধু স্কোরলাইন অপরিবর্তিত রাখে না দলকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও দেয়। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় গোলরক্ষকের নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণকারী ফুটবলারের গোল যেমন চোখে পড়ে তেমনই প্রতিপক্ষের গোলের চেষ্টা আটকে দেওয়াও ফল নির্ধারণে সমান কার্যকর হতে পারে। এই ম্যাচের ফল বিশ্লেষণ করলে ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টিও সামনে আসে। আক্রমণ তৈরি করা এবং সেটিকে গোলে পরিণত করা দুটি পৃথক ধাপ। প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত পৌঁছেও শেষ শট কার্যকর না হলে সেই আক্রমণ স্কোরলাইনে কোনও পরিবর্তন আনে না। আবার ভালো শটও গোলরক্ষকের দক্ষতায় আটকে যেতে পারে। তাই গোল না পাওয়ার মূল্যায়নে আক্রমণের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হয়। মোহনবাগানের জন্য এই জয় ডুরান্ডের পরাজয়ের পরে ঘুরে দাঁড়ানোর সাফল্য। আগের লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে হারলেও পরবর্তী ফাইনালে সেই ফলের পুনরাবৃত্তি হয়নি। সবুজ-মেরুন এবার ইস্টবেঙ্গলকে গোল করতে দেয়নি এবং নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে। একটি কঠিন পরাজয়ের পরে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সফল হওয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ফল মনে করিয়ে দিল যে আগের ম্যাচের জয় পরের ম্যাচের নিশ্চয়তা নয়। ডুরান্ডে সাফল্য পেলেও শিল্ডের ফাইনালে নতুন করে লড়াই করতে হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে পরিস্থিতি, সুযোগ এবং প্রতিপক্ষের কার্যকারিতা আলাদা হতে পারে। তাই অতীতের ফল আত্মবিশ্বাস দিতে পারলেও মাঠে বর্তমান ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলতে হয়। ডার্বির সঙ্গে ট্রফি জয়ের লড়াই যুক্ত হলে ম্যাচের গুরুত্ব আরও বাড়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর আনন্দের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রাপ্তিও থাকে। মোহনবাগানের এই সাফল্যে সেই দুই দিক একসঙ্গে এসেছে। ডুরান্ডের হারের পরে শিল্ড জয়ের ফলে সবুজ-মেরুনের কাছে ম্যাচটি ঘুরে দাঁড়ানোর স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল। এই জয়ের মাধ্যমে ২২তম বার আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলেছে মোহনবাগান। টানা দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়াও সাফল্যের ধারাবাহিকতার পরিচয়। একটি ট্রফি জয়ের পরে পরেরবার সেটি ধরে রাখা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এবার সেই চ্যালেঞ্জের শেষ ধাপে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে সফল হয়েছে সবুজ-মেরুন। একই মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগ ও আইএফএ শিল্ড জয়ের বিষয়টিও এই অর্জনকে বিশেষ করে তুলেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষবার ১৯৭৬ সালে এমন কৃতিত্ব অর্জন করেছিল মোহনবাগান। দীর্ঘ ব্যবধানের পরে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ক্লাবের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। একটি প্রতিযোগিতার শিরোপার সঙ্গে আরেকটি ট্রফি যুক্ত হওয়ায় মরশুমের প্রাপ্তি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। তবে এই জয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট শিক্ষা রয়েছে আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্যে। শুধু গোলের সুযোগ তৈরি করলেই জয় আসে না সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। আবার এগিয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ হয় না প্রতিপক্ষকে ফেরার সুযোগ দেওয়া ঠেকাতে হয়। মোহনবাগান ফাইনালে এই দুই প্রয়োজন পূরণ করতে পেরেছে বলেই জেলকোভিচের গোল শেষ পর্যন্ত জয়সূচক হয়ে থেকেছে। শিল্ডের এই জয় তাই ব্যক্তিগত দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার সম্মিলিত ফল। জেলকোভিচ গোল করেছেন, বিশাল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করেছেন এবং সবুজ-মেরুন ব্যবধান বজায় রেখেছে। ডুরান্ডের পরাজয়ের পরে ডার্বি জয়, টানা দ্বিতীয়বার শিল্ড অর্জন এবং একই মরশুমে দুটি প্রতিযোগিতায় সাফল্য সব মিলিয়ে মোহনবাগানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ট্রফি জয়।

Preview image