Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পেলের কসমসের স্মৃতি ফিরিয়ে আজ নামছেন ভিনিসিয়াসরা যুবভারতীতে অঘটন ঘটাবে ভারত

পেলের কসমসের স্মৃতি উসকে যুবভারতীতে নামছেন ভিনিসিয়াসরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারত কি অঘটন ঘটাতে পারবে সেই প্রত্যাশা নিয়েই ফুটবলপ্রেমীদের নজর আজকের লড়াইয়ে

কলকাতার ফুটবল আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পেলে এবং তাঁর নিউ ইয়র্ক কসমসের সফরের স্মৃতি। সেই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে এবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নামছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের ব্রাজিল। আজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ভারত। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতীয় ফুটবলাররা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে তাঁরা কি অঘটন ঘটাতে পারবেন ম্যাচের আগে সেই প্রশ্নই বাড়াচ্ছে উত্তেজনা। কলকাতার ফুটবল ইতিহাসে ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর একটি স্মরণীয় দিন। সেবার পেলে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন ইডেন গার্ডেন্সে। তারকাখচিত কসমসকে ২–২ গোলে আটকে দিয়েছিল মোহনবাগান। বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের বিরুদ্ধে স্থানীয় দলের সেই লড়াই আজও শহরের ফুটবল আলোচনায় ফিরে আসে। এবারের ভারত–ব্রাজিল ম্যাচও তাই পুরনো স্মৃতি এবং নতুন প্রত্যাশাকে একসঙ্গে সামনে আনছে। তবে দুই ম্যাচের প্রেক্ষাপট আলাদা। সেবার ছিল মোহনবাগান ও নিউ ইয়র্ক কসমসের ক্লাব স্তরের প্রদর্শনী ম্যাচ। এবার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ব্রাজিলের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দল। ভেন্যুও বদলেছে ইডেন গার্ডেন্সের পরিবর্তে আজকের লড়াই বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। পুরনো ম্যাচের স্মৃতি ভারতীয় সমর্থকদের অনুপ্রেরণা দিতে পারে কিন্তু বর্তমান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠের পারফরম্যান্সই ফল নির্ধারণ করবে। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ব্রাজিলের আক্রমণে তাঁর উপস্থিতি ভারতীয় রক্ষণের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। ব্রাজিলের দলে এন্ড্রিক, এস্তেভাও এবং অভিজ্ঞ মারকুইনোসদের মতো ফুটবলারও রয়েছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে একাধিক বিকল্প থাকায় প্রীতি ম্যাচে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রথম একাদশ ঘোষণার আগে কে শুরু থেকে খেলবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

কলকাতায় ব্রাজিল দলকে ঘিরে উৎসাহের অভাব নেই। বহু দশক ধরে এই শহরের ফুটবলপ্রেমীদের একটি বড় অংশ ব্রাজিলের সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় পাড়ায় পাড়ায় হলুদ-সবুজ পতাকা এবং ব্রাজিলের ফুটবলারদের ছবি সেই ভালোবাসার পরিচয় দেয়। এবার সেই প্রিয় দলই ভারতের প্রতিপক্ষ। ফলে ব্রাজিলের খেলা দেখার আনন্দের সঙ্গে দেশের দলের ভালো ফলের প্রত্যাশাও মিশে থাকছে দর্শকদের মনে। আনচেলত্তি জানিয়েছেন ভারতীয় সমর্থকদের সামনে আনন্দের সঙ্গে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলতে চান তাঁরা। ব্রাজিল অধিনায়ক মারকুইনোসও এই সফরকে ভারতীয় সমর্থকদের দীর্ঘ দিনের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এই বক্তব্য ম্যাচটির আবেগকে আরও বাড়িয়েছে। মাঠে ব্রাজিলের লক্ষ্য ভালো খেলে জয় পাওয়া হলেও সফরটির সঙ্গে সমর্থকদের সম্পর্কের দিকটিও জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের জন্য ম্যাচটি নিঃসন্দেহে কঠিন। প্রকাশিত ম্যাচ-পূর্ব তথ্য অনুযায়ী, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮তম স্থানে রয়েছে। এই ব্যবধান প্রতিপক্ষের শক্তির ধারণা দেয়। তবে ভারতের লক্ষ্য হতে পারে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লড়াই করা, অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং সুযোগ তৈরি হলে তা কাজে লাগানো। ব্রাজিলকে হারানো বা আটকে দেওয়ার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কৌশলগতভাবে ভারতের জন্য রক্ষণে সংগঠিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রাজিলের আক্রমণের বিরুদ্ধে শুধু একজন ফুটবলারকে আটকানোর দিকে নজর দিলে অন্যরা জায়গা পেয়ে যেতে পারেন। তাই রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যে দূরত্ব কম রাখা, বল হারানোর পরে দ্রুত অবস্থানে ফেরা এবং পাল্টা আক্রমণে সঠিক পাস দেওয়ার মতো বিষয় কাজে আসতে পারে। এগুলি সম্ভাব্য ম্যাচ বিশ্লেষণ ভারতের ঘোষিত কৌশল হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও। আন্তর্জাতিক মানের গতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, চাপের মধ্যে বল ধরে রাখা এবং শক্তিশালী আক্রমণের বিরুদ্ধে দলগতভাবে লড়াই করার পরীক্ষা হবে তাঁদের। ফলাফলের পাশাপাশি ভারত কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেটিও সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুবভারতীতে আজ তাই একসঙ্গে থাকছে বিশ্বমানের ফুটবল দেখার আকর্ষণ এবং ভারতের সাহসী লড়াইয়ের প্রত্যাশা। পেলের কসমসের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের স্মরণীয় পারফরম্যান্স অতীতের অনুপ্রেরণা। ভিনিসিয়াসদের বিরুদ্ধে ভারত নতুন কোনও স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করতে পারবে কি না তার উত্তর মিলবে মাঠেই।

ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে দলগত সংগঠন বড় ভূমিকা নিতে পারে। ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি রক্ষণ মাঝমাঠ এবং আক্রমণের মধ্যে সমন্বয় কতটা বজায় থাকছে, তার উপর নির্ভর করতে পারে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা। এমন ম্যাচে শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোই যথেষ্ট নয়। বল পাওয়ার পরে সেটি কাজে লাগানো এবং চাপের মধ্যেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিচের আলোচনা সম্ভাব্য কৌশলগত বিশ্লেষণ ভারতের ঘোষিত পরিকল্পনা হিসেবে একে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ভারতের জন্য রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কার্যকর হতে পারে। প্রতিপক্ষের কোনও একজন তারকাকে আটকাতে গিয়ে একাধিক ফুটবলার একই দিকে এগিয়ে গেলে মাঠের অন্য অংশে জায়গা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্য আক্রমণকারী বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারেন। তাই বলের অবস্থানের সঙ্গে প্রতিপক্ষের অন্য ফুটবলারদের চলাচলও নজরে রাখা প্রয়োজন। একজন সতীর্থ সামনে এগিয়ে গেলে তাঁর পিছনের জায়গা কে সামলাবেন, সেই বোঝাপড়া রক্ষণকে আরও সংগঠিত রাখতে পারে।

news image
আরও খবর

রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যে দূরত্ব কম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই দুই বিভাগের মাঝে বেশি ফাঁকা জায়গা থাকলে প্রতিপক্ষ সেখানে বল গ্রহণ করে আক্রমণ সাজানোর সময় পেয়ে যায়। ভারত যদি দলগতভাবে সেই জায়গা সীমিত রাখতে পারে, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ তৈরির পথ কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে সবাই রক্ষণের কাছাকাছি নেমে গেলে বল পাওয়ার পরে সামনে এগোনোর বিকল্পও কমে যেতে পারে। তাই রক্ষণ সামলানো এবং আক্রমণে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা দরকার। বল হারানোর পরের কয়েকটি মুহূর্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণে ওঠার সময়ে দলের অবস্থান ছড়িয়ে থাকে। সেই অবস্থায় বল প্রতিপক্ষের দখলে চলে গেলে দ্রুত নিজেদের জায়গায় ফিরতে না পারলে রক্ষণে চাপ বাড়তে পারে। ভারতের ফুটবলারদের তাই বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। কেউ প্রতিপক্ষের অগ্রগতি ধীর করার চেষ্টা করতে পারেন, আবার অন্যরা পিছনে ফিরে বিপজ্জনক জায়গাগুলি সামলাতে পারেন। এই কাজের জন্য সতীর্থদের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ প্রয়োজন। একইভাবে, বল ফিরে পাওয়ার পরেও তাড়াহুড়ো করে পাস দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চাপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় ভুল পাস হলে আবারও প্রতিপক্ষ আক্রমণের সুযোগ পাবে। ভারতের জন্য প্রথম পাসটি সঠিকভাবে দেওয়া এবং বলধারী ফুটবলারকে সাহায্য করার জন্য কাছাকাছি বিকল্প তৈরি করা কাজে আসতে পারে। সব পরিস্থিতিতে লম্বা পাস দেওয়ার বদলে কখন ছোট পাসে বল ধরে রাখতে হবে এবং কখন দ্রুত সামনে পাঠাতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিতে হবে।

পাল্টা আক্রমণ ভারতের জন্য সুযোগ তৈরির একটি সম্ভাব্য পথ। প্রতিপক্ষ বেশি ফুটবলার নিয়ে আক্রমণে উঠলে পিছনে কিছু জায়গা তৈরি হতে পারে। ভারত বল দখল করার পরে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সেই জায়গায় পৌঁছতে পারলে বিপক্ষ রক্ষণকে পরীক্ষা করা সম্ভব। তবে শুধু গতি থাকলেই পাল্টা আক্রমণ সফল হয় না। পাসের সময়, সতীর্থের দৌড় এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুযোগ তৈরি হলে তা কাজে লাগানোর জন্য আক্রমণে ওঠা ফুটবলারদের পরস্পরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। মাঠের কোথায় প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়া হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সব সময় সামনে গিয়ে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দলের পিছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে পারে। আবার পুরোপুরি পিছিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষ দীর্ঘ সময় বল নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেতে পারে। সম্ভাব্য একটি উপায় হতে পারে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দলগতভাবে চাপ দেওয়া। একজন ফুটবলার চাপ দিতে এগিয়ে গেলে বাকিদেরও সেই অনুযায়ী অবস্থান বদলাতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে চাপ দেওয়ার চেয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা বেশি কার্যকর হতে পারে। এমন ম্যাচে মনোসংযোগ ধরে রাখার পরীক্ষাও থাকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় রক্ষণ সামলাতে হলে ছোট ভুলের প্রভাব বড় হতে পারে। তাই একটি আক্রমণ ঠেকানোর পরে পরের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও পরিকল্পনা ও দলগত শৃঙ্খলা ধরে রাখার চেষ্টা ভারতের লড়াইকে সাহায্য করতে পারে। আবেগের বশে সবাই আক্রমণে উঠে গেলে ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও। উচ্চ গতির ফুটবলে বল গ্রহণের আগেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত ভাবতে হয়। চাপের মধ্যে শরীরের অবস্থান ঠিক রাখা, সতীর্থকে খুঁজে নেওয়া এবং অল্প সময়ে পাস দেওয়ার মতো বিষয় এই ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ম্যাচের অভিজ্ঞতা ফুটবলারদের নিজেদের শক্তি ও উন্নতির প্রয়োজনীয় জায়গাগুলি বুঝতে সাহায্য করতে পারে। ফলাফলের পাশাপাশি ভারত কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেটিও সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দল কতটা সংগঠিত থাকছে, বল পাওয়ার পরে কতটা আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে এবং সুযোগ তৈরি করতে পারছে কি না এই বিষয়গুলিও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অংশ। সাহসী লড়াই মানে শুধু আক্রমণে উঠে যাওয়া নয় কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে খেলা এবং পরিকল্পনা ধরে রাখাও তার মধ্যে পড়ে। যুবভারতীর এই লড়াইকে ঘিরে বিশ্বমানের ফুটবল দেখার আকর্ষণের সঙ্গে ভারতের ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা মিশে রয়েছে। পেলের কসমসের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের স্মরণীয় লড়াই অতীতের অনুপ্রেরণা হিসেবে ফিরে আসে। তবে সেই স্মৃতিকে নতুন সাফল্যে রূপ দিতে হলে বর্তমান ভারতীয় দলকে মাঠে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে হবে। ভিনিসিয়াসদের বিরুদ্ধে কোনও স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে ম্যাচের প্রতিটি পরিস্থিতিতে ভারতের সিদ্ধান্ত সমন্বয় এবং সুযোগ কাজে লাগানোর উপর।

Preview image