Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চলন্ত অ্যাপ ক্যাবে মিলল দেহ! কলকাতায় চাঞ্চল্য

**সকাল ৬টা সবে পেরিয়েছে। পামার বাজার সংলগ্ন ডি.সি. দে রোডে তখনও ঘুমঘুম পরিবেশ। আচমকাই নজরে আসে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি অ্যাপ ক্যাব।**  

 

 

কলকাতায় ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পামার বাজার সংলগ্ন ডি.সি. দে রোডে রাস্তার পাশে দাঁড় করানো একটি অ্যাপ ক্যাবের ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির মৃতদেহ। বুধবার ভোরে ঘটনাটি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ক্যাবটির ভিতর এক ব্যক্তিকে অস্বাভাবিক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এন্টালি থানার পুলিশ।

 

গাড়িটির দরজা লক করা থাকায় প্রথমে ভিতরে ঢুকতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় এক মেকানিককে ডেকে গাড়ির লক খোলা হয়। এরপর ক্যাবের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই ব্যক্তির দেহ। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, মৃতের পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মুখেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গোটা ঘটনায় খুনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

 

ইতিমধ্যেই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে এন্টালি থানার পুলিশ। তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগও। মৃত ব্যক্তির নাম ভগবান প্রসাদ গুপ্তা। তিনি বটতলা এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

## সকালেই রাস্তার পাশে নজরে আসে অ্যাপ ক্যাব

 

সকাল ৬টা সবে পেরিয়েছে। পামার বাজার সংলগ্ন ডি.সি. দে রোডে তখনও দিনের ব্যস্ততা শুরু হয়নি। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে রাস্তার পাশে একটি অ্যাপ ক্যাব দাঁড়িয়ে রয়েছে।

 

প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কারও বিশেষ সন্দেহ হয়নি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ গাড়িটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গাড়ির ভিতরেও একজনকে অস্বাভাবিক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা প্রথমে তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনও সাড়া না মেলায় তাঁদের সন্দেহ হয়।

 

এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এন্টালি থানার পুলিশ।

 

## লক করা ছিল ক্যাবের দরজা

 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখে, অ্যাপ ক্যাবটির দরজা লক করা রয়েছে। ফলে গাড়ির ভিতরে থাকা ব্যক্তিকে বাইরে থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছিল না।

 

পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় এক মেকানিককে ডেকে পাঠানো হয়। মেকানিকের সাহায্যে গাড়ির লক খোলা হয়। দরজা খুলতেই সামনে আসে ভয়াবহ দৃশ্য। ক্যাবের ভিতরে এক ব্যক্তি নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।

 

পুলিশ দ্রুত তাঁকে পরীক্ষা করে দেখে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

 

## মৃতের পা দড়ি দিয়ে বাঁধা!

 

ক্যাবের ভিতর থেকে দেহ উদ্ধারের পরই তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল।

 

শুধু তাই নয়, তাঁর মুখেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মুখে ঘুষির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

 

ফলে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বা কোনও দুর্ঘটনা নয় বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। দেহ যেভাবে উদ্ধার হয়েছে, তাতে খুনের সম্ভাবনাই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

## মৃত ব্যক্তি ভগবান প্রসাদ গুপ্তা

 

পুলিশি তদন্তে মৃতের পরিচয়ও ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে। তাঁর নাম **ভগবান প্রসাদ গুপ্তা**। তিনি বটতলা এলাকার বাসিন্দা।

 

তাঁর পরিচয় জানার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি কী ভাবে ওই ক্যাবের ভিতরে পৌঁছলেন, শেষবার তাঁর সঙ্গে কার যোগাযোগ হয়েছিল, মঙ্গলবার রাতে তিনি কোথায় ছিলেন—এই সমস্ত বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায়।

 

পুলিশ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিচিতজন এবং সাম্প্রতিক গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে।

 

## কোথায় ঘটল ঘটনা, তা নিয়েও তদন্ত

 

পুলিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভগবান প্রসাদ গুপ্তাকে কোথায় এবং কী ভাবে খুন করা হল?

 

যদি তাঁকে অন্য কোনও জায়গায় খুন করা হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর দেহ অ্যাপ ক্যাবের ভিতরে কে নিয়ে এল? আবার যদি ক্যাবের ভিতরেই তাঁকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঘটনা কখন ঘটল এবং সেই সময় গাড়িটি কোথায় ছিল?

 

দেহ উদ্ধারের সময় গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো অবস্থায় ছিল। তাই ক্যাবটি কখন সেখানে এসে দাঁড়ায়, কে সেটি চালিয়ে নিয়ে এসেছিল এবং তার আগে গাড়িটি কোথায় ছিল—এই তথ্যগুলি তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

## তদন্তে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ

 

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ। এন্টালি থানার পুলিশও তদন্ত চালাচ্ছে।

 

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গাড়ির ভিতর থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মৃতের শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন, দড়ি দিয়ে পা বাঁধার বিষয় এবং গাড়ির ভিতরের পরিস্থিতি—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

 

## ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে নজর

 

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

 

বিশেষ করে শরীরে কী ধরনের আঘাত রয়েছে, সেই আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না এবং মৃত্যুর আনুমানিক সময় কখন—ময়নাতদন্তে সেই সব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টও এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

 

## ঘটনাস্থলের সিসিটিভি নিয়ে প্রশ্ন

 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। যে এলাকায় অ্যাপ ক্যাবটি দাঁড়িয়ে ছিল, তার আশপাশে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

 

সাধারণত এমন কোনও ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। ক্যাবটি কখন সেখানে এসে দাঁড়াল, তার আগে-পরে সেখানে কারা ছিল, কোনও ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমেছেন বা উঠেছেন কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে ক্যামেরার ফুটেজ থেকে।

 

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে রয়েছে।

 

## বারবার জানিয়েও ক্যামেরা সারানো হয়নি, অভিযোগ স্থানীয়দের

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি কাজ করছে না—এই বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তারপরও ক্যামেরাগুলি মেরামত করা হয়নি।

 

এই পরিস্থিতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

 

তদন্তকারীরা আশপাশের অন্য কোনও ক্যামেরায় ঘটনার কোনও অংশ ধরা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারেন। রাস্তার অন্য প্রান্ত, কাছাকাছি দোকান, বাড়ি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে থাকা ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হতে পারে।

 

## খুনের মামলা রুজু

 

ঘটনার পর এন্টালি থানার পুলিশ খুনের মামলা রুজু করেছে। অর্থাৎ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

 

মৃতের পা বাঁধা অবস্থায় দেহ উদ্ধার এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন—এই বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

news image
আরও খবর

তদন্তকারীরা এখন খুঁজে দেখছেন, ভগবান প্রসাদ গুপ্তার সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনও বিবাদ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জটিলতা বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

## শেষবার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন মৃত?

 

তদন্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে মৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোন। তাঁর শেষ কয়েকটি ফোনকল, মেসেজ, যোগাযোগের তালিকা এবং গতিবিধি খতিয়ে দেখা হতে পারে।

 

মঙ্গলবার রাতে তাঁর সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল, কোথায় গিয়েছিলেন এবং কখন থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না—এই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

 

যদি তাঁর মোবাইল ফোন থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত দ্রুত এগোতে পারে।

 

## ক্যাবটির গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

 

অ্যাপ ক্যাবটি কোথা থেকে এসেছিল, কখন বুক করা হয়েছিল এবং শেষ ট্রিপটি কোথায় হয়েছিল—এই তথ্যও তদন্তকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

অ্যাপ ক্যাব সংস্থার কাছ থেকে গাড়ির ট্রিপ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। ক্যাবটি শেষবার কোন যাত্রীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, বুকিং কার নামে হয়েছিল এবং শেষ যাত্রার গন্তব্য কোথায় ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

 

এছাড়াও ক্যাবের জিপিএস বা ট্রিপ হিস্ট্রি থেকে গাড়িটির গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

 

## গাড়ির ভিতরেই কি খুন?

 

তদন্তকারীদের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে—গাড়ির ভিতরেই কি ভগবান প্রসাদ গুপ্তাকে খুন করা হয়েছিল?

 

যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে গাড়ির ভিতরে রক্তের দাগ, আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনও ফরেনসিক নমুনা পাওয়া যেতে পারে। সেই কারণে ক্যাবটি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আবার অন্য কোথাও খুনের পর যদি দেহটি ক্যাবের ভিতরে এনে রাখা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ক্যাবটি কে ব্যবহার করেছিল এবং কোথা থেকে দেহটি আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে পুলিশকে।

 

## রাত থেকে সকাল—কী ঘটেছিল?

 

ভগবান প্রসাদ গুপ্তার মৃত্যুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রহস্য তাঁর মৃত্যুর সময় ও স্থান। রাতের কোনও সময়ে তাঁর উপর হামলা হয়েছিল কি না, নাকি ভোরের আগে কোনও সময়ে তাঁকে ক্যাবে তুলে আনা হয়েছিল—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

পুলিশের তদন্তে যদি মৃত্যুর আনুমানিক সময় নির্ধারণ করা যায়, তাহলে তাঁর শেষ গতিবিধির সঙ্গে সেই সময় মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।

 

এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। রাতের দিকে এলাকায় কোনও অস্বাভাবিক শব্দ, গাড়ির যাতায়াত বা সন্দেহজনক কাউকে দেখা গিয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

## স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

 

সকালবেলায় জনবহুল এলাকার কাছে একটি অ্যাপ ক্যাবের ভিতর থেকে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

 

বিশেষ করে যে এলাকায় নিয়মিত মানুষের যাতায়াত রয়েছে, সেখানে এমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল থাকার অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিরাপত্তার জন্য এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

## ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 

এই মামলায় এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আঘাতের প্রকৃতি থেকে বোঝা যেতে পারে কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে।

 

মুখে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তা মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। দড়ি দিয়ে পা বাঁধার বিষয়টিও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এলে তদন্তের গতিপথ আরও পরিষ্কার হতে পারে।

 

## তদন্তের কেন্দ্রে একাধিক প্রশ্ন

 

ভগবান প্রসাদ গুপ্তার মৃত্যুকে ঘিরে আপাতত বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ—

 

* তাঁকে কোথায় খুন করা হয়েছিল?

* ক্যাবটি কখন ডি.সি. দে রোডে এসে দাঁড়ায়?

* ক্যাবটি কে চালিয়ে সেখানে নিয়ে এসেছিল?

* মৃতের পা দড়ি দিয়ে কে বেঁধেছিল?

* মুখে আঘাতের চিহ্ন কী ভাবে তৈরি হল?

* মৃত্যুর আগে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন?

* ক্যাবটির শেষ ট্রিপ কোথা থেকে কোথায় ছিল?

* আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি কেন কাজ করছিল না?

* ঘটনার সঙ্গে পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তি জড়িত কি না?

 

এই প্রশ্নগুলির উত্তরই তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করবে।

 

## পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা

 

মৃতের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। পরিবারের কাছ থেকেও তাঁর সাম্প্রতিক গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

 

কোনও ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিবাদ ছিল কি না, সম্প্রতি তিনি কোনও হুমকি পেয়েছিলেন কি না কিংবা তাঁর কাছে কোনও অস্বাভাবিক ফোন বা মেসেজ এসেছিল কি না—পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা করা হতে পারে।

 

## আপাতত রহস্যের কেন্দ্রে অ্যাপ ক্যাব

 

সকালবেলায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাপ ক্যাব থেকেই গোটা ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয়দের নজরে না এলে হয়তো আরও কিছু সময় গাড়ির ভিতরেই পড়ে থাকত দেহ।

 

এখন সেই ক্যাবই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। গাড়িটির ভিতরের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও রক্তের দাগ, আঙুলের ছাপ, চুল, পোশাকের অংশ বা অন্য কোনও নমুনা পাওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষা করা হতে পারে।

 

## তদন্ত কোন দিকে এগোয়, নজর সবার

 

পামার বাজার সংলগ্ন ডি.সি. দে রোডে অ্যাপ ক্যাবের ভিতর থেকে ভগবান প্রসাদ গুপ্তার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আপাতত রহস্য ঘনীভূত। পা বাঁধা অবস্থায় দেহ উদ্ধার এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন থাকায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

 

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষা, ক্যাবের গতিবিধি, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ—এই সবকিছুর উপরই এখন নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী দিক।

 

কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। মৃতের শেষ কয়ে

ক ঘণ্টার গতিবিধি এবং তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। রহস্যের জট খুলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর কলকাতার।

Preview image