পুজোর মাসেই রাজ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। অক্টোবরের প্রথম ২৩ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ উৎসবের আবহে সংক্রমণের এই পরিসংখ্যান মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে
উৎসবের মরসুমে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গির সংক্রমণ। ২৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এবিপি লাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম ২৩ দিনে রাজ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩,১৭২। অর্থাৎ অক্টোবর মাস শেষ হওয়ার আগেই আগের মাসের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে বারো হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৯৯ জন। আক্রান্তের নিরিখে প্রথম চার স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা। এই পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সংক্রমণ নজরদারি ও প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে। পুজোর আয়োজন ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও বাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশে নজর রাখা জরুরি। ডেঙ্গি প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারের জায়গা কমানো প্রয়োজন। শুধু নিজের ঘর পরিষ্কার রাখলেই কাজ শেষ হয় না; ছাদ, বারান্দা, খোলা পাত্র এবং আশপাশের অব্যবহৃত সামগ্রীতেও জল জমে রয়েছে কি না দেখতে হবে। অল্প জমা জলেও নজর দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফুলদানি, টবের নিচের পাত্র, জল রাখার ড্রাম, পরিত্যক্ত বোতল ও পুরনো টায়ারের মতো জায়গা মশার প্রজননস্থল হতে পারে। প্রয়োজনীয় জলধারক পাত্র ঢেকে রাখা এবং অন্তত সপ্তাহে একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করা দরকার। শুধু জল ফেলে দেওয়ার সঙ্গে পাত্রের গায়ে লেগে থাকা ডিম সরানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাস নিয়মিত বজায় রাখা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা দায়িত্ব ভাগ করে বাড়ির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করতে পারেন। পাড়ার কোনও জায়গায় দীর্ঘদিন জল জমে থাকলে বা আবর্জনায় জল আটকে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আনা যেতে পারে। দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন ডেঙ্গিবাহী এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। তাই সুরক্ষার ব্যবস্থা শুধু রাতে ঘুমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শরীর ঢাকা পোশাক, নির্দেশনা মেনে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং দরজা-জানালায় জালি মশার সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করে। দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার উপকারী।
জ্বর হলে অবহেলা করবেন না ডেঙ্গির ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমিভাব বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিজে থেকে ডেঙ্গি নিশ্চিত করা যায় না। জ্বর বা সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ তিনি নির্ধারণ করবেন। জ্বর কমলেও সতর্ক থাকুন জ্বর নেমে যাওয়া সব সময় বিপদ কেটে যাওয়ার লক্ষণ নয়। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা মলে রক্ত এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। গুরুতর ডেঙ্গির সতর্কসংকেত জ্বর কমার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টাতেও দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গি সন্দেহ হলে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাবেন না এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা, বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি অনুসরণ করুন। রাজ্যের সংক্রমণের পরিসংখ্যান সামনে আসায় নিয়মিত প্রতিরোধমূলক কাজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জমা জল সরানো, মশার কামড় এড়ানো এবং অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার অভ্যাস পরিবার ও পাড়া দুই স্তরেই বজায় রাখা প্রয়োজন। ডেঙ্গির ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা এবং রোগীর অবস্থার দিকে নিয়মিত নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমিভাব কিংবা ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ অন্য অসুখেও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ডেঙ্গি হয়েছে ধরে নেওয়া অথবা সাধারণ জ্বর ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগ নির্ণয়ের পথে এগোতে হবে।
অসুস্থতার সময় কবে থেকে জ্বর শুরু হয়েছে, কী কী উপসর্গ রয়েছে এবং অবস্থার কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় এই তথ্যগুলো জানালে রোগের গতিপ্রকৃতি বুঝতে সুবিধা হয়। আগে থেকে কোনও ওষুধ খেয়ে থাকলে তার নামও জানান। পরীক্ষার রিপোর্টের পাশাপাশি রোগী কেমন আছেন, সেই বিবরণও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয়। জ্বর কমে যাওয়াকে পুরোপুরি সুস্থতার প্রমাণ ভাববেন না ডেঙ্গি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জ্বর কমার সময়েও রোগীর অবস্থার অবনতি হতে পারে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, গুরুতর ডেঙ্গির সতর্কসংকেত সাধারণত জ্বর চলে যাওয়ার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টায় দেখা দিতে পারে। তাই শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেই চিকিৎসকের নির্দেশিত পর্যবেক্ষণ বন্ধ করা উচিত নয়। এই সময়ে পরিবারের সদস্যদের রোগীর সামগ্রিক অবস্থার দিকে নজর রাখতে হবে। কোনও নতুন সমস্যা দেখা দিলে আগের তুলনায় জ্বর কমেছে বলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। চিকিৎসক পুনরায় দেখাতে বা পরীক্ষা করতে বললে সেই নির্দেশ অনুসরণ করুন। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অপেক্ষা করবেন না তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি কিংবা মলে রক্ত এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এগুলো গুরুতর ডেঙ্গির সতর্কসংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিকটবর্তী হাসপাতাল বা জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের কারও অসুস্থতা চললে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন এবং ব্যবহৃত ওষুধের তালিকা এক জায়গায় রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যাবে, সেটিও আগে থেকে জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খাবেন না ডেঙ্গি সন্দেহ হলে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়। এই ওষুধগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর ও ব্যথার জন্য কোন ওষুধ প্রয়োজন এবং কীভাবে তা খেতে হবে, চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। অন্যের প্রেসক্রিপশন দেখে বা আগের অসুখের ওষুধ ব্যবহার করে চিকিৎসা শুরু করবেন না।
পরিচর্যায় বিশ্রাম ও তরল গ্রহণের দিকে নজর দিন ডেঙ্গির পরিচর্যায় বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি ও প্রয়োজনীয় তরল গ্রহণ করুন এবং রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন। বাড়িতে পরিচর্যা করা সম্ভব কি না, সেটিও চিকিৎসকের মূল্যায়নের উপর নির্ভর করবে। সতর্কসংকেত দেখা দিলে শুধু বাড়ির পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তিকেও মশার কামড় থেকে রক্ষা করুন ডেঙ্গি আক্রান্ত ব্যক্তির মশার কামড় এড়ানোও জরুরি। অসুস্থতার প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর মাধ্যমে মশা ভাইরাস বহন করতে পারে। তাই রোগীর বিশ্রামের জায়গায় মশার কামড় প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখুন। বাড়ির বাইরেও প্রতিরোধের কাজ নিয়মিত চালাতে হবে। জল রাখার পাত্র ঢেকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় পাত্র সরিয়ে ফেলা এবং অন্তত সপ্তাহে একবার প্রয়োজনীয় পাত্র খালি করে ঘষে পরিষ্কার করা মশার প্রজননস্থল কমাতে সাহায্য করে। দিনের বেলাতেও শরীর ঢাকা পোশাক ও উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার প্রয়োজন। ডেঙ্গি মোকাবিলায় পরিবারের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। কেউ বাড়ির জমা জল পরীক্ষা করতে পারেন, কেউ অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসার নির্দেশ ও পরবর্তী দেখানোর সময় মনে রাখতে সাহায্য করতে পারেন। নিয়মিত প্রতিরোধ এবং অসুস্থতার সময় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসই যত্নের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ।তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিজে থেকে ডেঙ্গি নিশ্চিত করা যায় না। জ্বর বা সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ তিনি নির্ধারণ করবেন। জ্বর কমলেও সতর্ক থাকুন জ্বর নেমে যাওয়া সব সময় বিপদ কেটে যাওয়ার লক্ষণ নয়। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা মলে রক্ত এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। গুরুতর ডেঙ্গির সতর্কসংকেত জ্বর কমার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টাতেও দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গি সন্দেহ হলে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাবেন না এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা, বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি অনুসরণ করুন। রাজ্যের সংক্রমণের পরিসংখ্যান সামনে আসায় নিয়মিত প্রতিরোধমূলক কাজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জমা জল সরানো, মশার কামড় এড়ানো এবং অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার অভ্যাস পরিবার ও পাড়া দুই স্তরেই বজায় রাখা প্রয়োজন। ডেঙ্গির ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা এবং রোগীর অবস্থার দিকে নিয়মিত নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমিভাব কিংবা ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ অন্য অসুখেও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ডেঙ্গি হয়েছে ধরে নেওয়া অথবা সাধারণ জ্বর ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগ নির্ণয়ের পথে এগোতে হবে।