হার্ডিক পাণ্ড্যা গত বেশ কিছু সময় ধরেই মাঠের বাইরে। কোয়াড্রিসেপ্‌স ইনজুরি–র কারণে তিনি শেষ সময়গুলো খেলতে পারেননি, বিশেষ করে Asia Cup 2025-এর ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলায় অনুপস্থিত ছিলেন। এর পর একাধিক সিরিজ থেকে তিনি বাদ পড়েছিলেন, যা ভারতীয় দল এবং ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য হেড অ্যাচ হিসেবে পরিণত হয়েছিল। এখন আবার ফিরে আসার মুখ দেখছিলেন তিনি—কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন একটু পিছিয়ে দেওয়া হলো। করোনা বা অন্য বড় কারণ ছিল না; বরং তাঁর শরীরকে ধীরে ধীরে তৈরি করতে চাইছে বোর্ড এবং কোচিং স্টাফ—যেমনটা দীর্ঘ সময় বিরতির পর হয়। যোগ দেওয়া হতে পারে ছিল Syed Mushtaq Ali Trophy-র প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর রাজ্য দল Baroda cricket team-র হয়ে। কিন্তু সেটাও নিয়মানুযায়ী হয়নি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এল বলেই মনে করা যেতে পারে— ভারতের তারকা অলরাউন্ডার হার্ডিক পান্ড্যা দীর্ঘ কিছুদিন বাদে মাঠে ফিরে আসার কথা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তন এখন সরে গেছে। সময়মতো ফিট না হওয়ায়, তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে পারছেন না তিনি
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা, হার্ডিক পাণ্ড্যা, তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য খ্যাত। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশের পর, খুব দ্রুতই তিনি ভারতের ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। তার অনবদ্য ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং দক্ষতা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারটি একেবারে চমকপ্রদ এবং তা প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে এক বিশাল প্রেরণা।
হার্ডিক পাণ্ড্যার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ছোটখাটো পর্যায়ে। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থান খুব একটা ভালো ছিল না, তবে তিনি ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এবং আগ্রহ থেকেই এই খেলায় পা রাখেন। মুম্বাইয়ের ক্রিকেটের স্ট্রগলিং লেভেল থেকে উঠে আসা পাণ্ড্যা, মুম্বাই ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস এবং পরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ক্রিকেট একাডেমির অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। তার খেলার দক্ষতা, বিশেষত, ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের মিশ্রণ খুব দ্রুতই নজর কাড়ে।
২০১৫ সালে, হার্ডিক পাণ্ড্যাকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তিনি খুব শিগগিরই নিজের জায়গা পাকা করে নেন। তার প্রভাবশালী ব্যাটিং, ইনিংস শেষ করার ক্ষমতা এবং বোলিং দক্ষতা, তাকে মুম্বাইয়ের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নিতে সাহায্য করেছিল। ২০১৫ আইপিএলে তার পারফরম্যান্স দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছিল, এবং সেই সময় থেকেই তার প্রতিভা ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।
২০১৬ সালে, হার্ডিক পাণ্ড্যা ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, যেখানে তিনি শালীন বোলিং এবং ব্যাটিং দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এরপর থেকে তাকে ভারতের একাধিক ওয়ানডে এবং টি২০ দলে দেখতে শুরু করি।
তার সেরা দক্ষতা হল অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের খেলা। বিশেষ করে, ম্যাচের শেষ দিকে ব্যাট হাতে ম্যাচ বদলে দিতে তার যে সক্ষমতা, তা অনেক সময় ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি, তার বোলিং ক্ষমতা, বিশেষ করে পাওয়ার প্লে এবং মধ্যভাগে বোলিং করে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে আক্রমণ করার দক্ষতা তাকে অনন্য করে তোলে।
হার্ডিক পাণ্ড্যারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তার শক্তিশালী অলরাউন্ডার পরিচয় তুলে ধরেছে। ২০১৮ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার বোলিং পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ২০১৮ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে, তিনি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেখান, যা তার নামকে ভারতীয় ক্রিকেটে আরো উচ্চে নিয়ে যায়। ভারতীয় দলের হয়ে তাঁর প্রথম শতকও আসে ২০১৭ সালে, এবং এরপর থেকে একাধিক দুর্দান্ত ইনিংস প্রদর্শন করেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে, পাণ্ড্যাকে একজন ফিনিশার হিসেবে বড় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অনেক ম্যাচে, যেখানে ভারতীয় দল সংকটে পড়েছিল, সেখানে হার্ডিক তার শ্বাসরুদ্ধকর ব্যাটিংয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছে। একইভাবে, টি২০ ক্রিকেটে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। তার ঝড়ো ব্যাটিং এবং টার্গেট শট খেলার ক্ষমতা বিশেষভাবে উপভোগ্য।
তবে, তার ক্যারিয়ার খুব একটা সহজ ছিল না। হার্ডিক পাণ্ড্যাকে বিভিন্ন সময় ইনজুরির সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় তার পিঠের ইনজুরি তাকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখে। এরপর, ২০১৯ সালের শেষে, তার হাঁটুর ইনজুরি তাকে কিছুটা বিরতি দিতে বাধ্য করে। এই সমস্ত ইনজুরি ছাড়াও, কিছু মানসিক চাপও ছিল, কারণ তিনি এমন এক পজিশনে খেলতেন যেখানে তার ওপর চাপ ছিল বেশি।
তবে, হার্ডিক তার ফিটনেস এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজে কিছু শারীরিক অবস্থা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন, যা তাকে মাঠে সুস্থ এবং কার্যকরী রাখতে সহায়ক ছিল।
আইপিএলে তার ভূমিকা, বিশেষ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনি প্রথমে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন, এবং তারপর তিনি দলটির অন্যতম অলরাউন্ডার হয়ে ওঠেন। ২০১৭ এবং ২০১৯ আইপিএল ফাইনালে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স মুম্বাইকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে সাহায্য করেছে। তার ইনিংসের গতির জন্য তিনি এক নতুন পরিচিতি পেয়ে যান এবং বিশেষ করে শেষের দিকে তার সন্ত্রাসী ব্যাটিং সমর্থকদের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছে।
হার্ডিক পাণ্ড্যার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই উজ্জ্বল। তার ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিনটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা তাকে এক সেরা অলরাউন্ডার বানিয়েছে। পরবর্তী বছরগুলিতে, তিনি ভারতের হয়ে আরো বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবেন, বিশেষ করে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা দলকে সাহায্য করবে।
হার্ডিকের প্রত্যাবর্তন সম্ভবত তাকে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে পারে, কারণ তার সঠিক শারীরিক প্রস্তুতি এবং মনোভাব তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সফল হতে সাহায্য করবে। ক্রিকেটের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম হতে চলেছেন।
পরিস্থতি ও পটভূমি
হার্ডিক পাণ্ড্যা গত বেশ কিছু সময় ধরেই মাঠের বাইরে। কোয়াড্রিসেপ্স ইনজুরি–র কারণে তিনি শেষ সময়গুলো খেলতে পারেননি, বিশেষ করে Asia Cup 2025-এর ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলায় অনুপস্থিত ছিলেন।
এর পর একাধিক সিরিজ থেকে তিনি বাদ পড়েছিলেন, যা ভারতীয় দল এবং ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য হেড অ্যাচ হিসেবে পরিণত হয়েছিল। এখন আবার ফিরে আসার মুখ দেখছিলেন তিনি—কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন একটু পিছিয়ে দেওয়া হলো।
করোনা বা অন্য বড় কারণ ছিল না; বরং তাঁর শরীরকে ধীরে ধীরে তৈরি করতে চাইছে বোর্ড এবং কোচিং স্টাফ—যেমনটা দীর্ঘ সময় বিরতির পর হয়। যোগ দেওয়া হতে পারে ছিল Syed Mushtaq Ali Trophy-র প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর রাজ্য দল Baroda cricket team-র হয়ে। কিন্তু সেটাও নিয়মানুযায়ী হয়নি।
প্রাথমিক পরিকল্পনায়, হার্ডিক আগামী সিরিজের আগে রাজ্য পর্যায়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলবেন—তারপরে ফিটনেস যাচাই হয়েই জাতীয় দলে ফিরে আসবেন। কিন্তু বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা (Board of Control for Cricket in India-এর কোচিং/মেডিক্যাল ইউনিট) মনে করেছে, এখনও তাঁকে সঠিক করে ফিরিয়ে আনা দরকার—and তাই সিরিজের একাদশে নাও নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষভাবে বলা হয়েছে:
এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়—কারণ হার্ডিক একজন গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার, তার দর্শকপ্রিয়তা ও দক্ষতা দুইই রয়েছে। তাই হয়তো অনেকেই ভাববেন, “কেন না এখনই দিয়েছেন সুযোগ?”। কিন্তু দীর্ঘ ব্যবধানের পর খেলোয়াড়ের শরীরকে দম দিয়ে দমিয়ে ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে ভালো কৌশল বলে বোর্ড মনে করেছে।
(ক) ভারতীয় দলের জন্য
(গ) ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য
কিছু কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
হার্ডিক যদি রাজ্য পর্যায়ে কয়েকটি ভালো ম্যাচ খেলে ফিরে আসে, তাহলে তিনি জাতীয় দলে দ্রুত জায়গা ফিরে পেতে পারেন। তার জন্য দরকার:
আরও একটা বিষয় হলো, ক্রিকেটে সময় বদলায়—নতুন প্রতিভাগুলি সামনে আসে। হার্ডিকের মতো কিংবদন্তি যদি দ্রুত ফিরতে পারেন, তাহলে দল ও নিজে দুই-ই উপকৃত হবে।
এই সিদ্ধান্ত হয়তো সাময়িকভাবে হতাশাজনক—ভক্তদের জন্য, হার্ডিক নিজেও হয়তো খেলতে উৎসুক ছিলেন। তবে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এটি একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়, ক্রিকেটারকে সঠিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।