Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বরফ, গোলাপ আর টেডি মুজ়ে মোড়া প্রেম—বিদেশে কেমন কাটছে তনুশ্রীর ভালোবাসার মাস?

প্রেম দিবস এ বিদেশে থাকলেও পরিবারকে ভুলে যাননি অভিনেত্রী। বাড়িতে ভিডিয়ো কল করে উপহারের সারপ্রাইজ দেখাতেই একরত্তি বোনঝির চোখ নাকি কপালে গোলাপ, টেডি মুজ় আর বরফমাখা আবহে জমে উঠল ভালোবাসার দিন।

বরফ, গোলাপ আর টেডি মুজ়ে মোড়া প্রেম—বিদেশে কেমন কাটছে তনুশ্রীর ভালোবাসার মাস?
বিনোদন

রবিবাসরীয় সন্ধ্যা। ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৫০। অন্য প্রান্তে, আমেরিকার Atlanta-য় তখন সকাল। ঘুমচোখে ফোন ধরেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী। কয়েক মাস আগেই তাঁর জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। গত নভেম্বরে আইটি সেক্টরে কর্মরত সুজিত বসুর সঙ্গে বিয়ে, আর তারপর থেকেই নতুন ঠিকানা আমেরিকা। নিজের শহর, নিজের কাজের জগৎ, পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে প্রবাসে নতুন সংসার—সব মিলিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়।

এই প্রথম বিয়ের পর বিদেশে প্রেমের সপ্তাহ। প্রশ্ন উঠতেই কণ্ঠে মিশে যায় ঘুম আর ভাললাগার সুর—“খুব ভাল কেটেছে।” সহজ উত্তর, কিন্তু তার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক নতুন জীবনের আনন্দ, খুঁটিনাটি যত্ন আর ছোট ছোট চমকের গল্প।


গোলাপের গুচ্ছ আর ঘর সাজানোর ভালবাসা

তনুশ্রী নিজেই বললেন, তিনি খুব ফুল ভালবাসেন। আর সেই ভালবাসার কথা জানেন তাঁর স্বামী সুজিত। প্রেমের সপ্তাহে তাই গোলাপি আর লাল গোলাপের গুচ্ছে ভরে উঠেছিল তাঁদের ঘর। বিদেশে নাকি অকারণেও ফুল উপহার দেওয়ার রীতি আছে—সেই সংস্কৃতির সঙ্গেই তাল মিলিয়ে সুজিতের এই ছোট্ট উদ্যোগ।

শুধু ফুল দেওয়া নয়, সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজানোও ছিল দু’জনের মিলিত আয়োজন। প্রবাসের ঘরে যেন একটু একটু করে তৈরি হয়েছে নিজের মতো করে সাজানো ভালবাসার পরিসর। তনুশ্রীর কথায়, “এখানে ফুল যেন ভালবাসা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ ভাষা।”


টেডি ডে-র মিষ্টি চমক

প্রেমের সপ্তাহ মানেই আলাদা আলাদা দিন—রোজ ডে, টেডি ডে, চকলেট ডে, কিস ডে। সুজিত নাকি ‘টেডি ডে’-তে সকালের জলখাবারেই চমকে দিয়েছেন স্ত্রীকে। যত্ন করে বানানো চকোলেটের টেডি মুজ়! সেই মিষ্টি চমকে আপ্লুত হয়ে তনুশ্রী সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিয়ো কল করেন বাড়িতে।

ফোনের ও পারে একরত্তি বোনঝির উচ্ছ্বাস—লাফিয়ে ওঠা, আবদার, “আমাকেও চাই!” প্রবাসে থেকেও পরিবারের সঙ্গে এই সংযোগই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উপহারের আনন্দ যেমন, তার চেয়েও বড় ছিল সেই মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুখ।


ব্যক্তিগত ভালবাসা, ব্যক্তিগত থাক

টেডি, গোলাপ, গ্রিটিংস কার্ড—সবই বললেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্ত ব্যক্তিগতই রাখতে চান তনুশ্রী। হেসে, একটু কপট রাগ মিশিয়ে জানালেন, সব কথা প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে এটুকু শেয়ার করলেন—সুজিত নিজের হাতে লেখা একটি গ্রিটিংস কার্ড দিয়েছেন। সেখানে ভালবাসার কথা লিখে জানিয়েছেন স্ত্রীকে। এছাড়া ছিল একটি ‘ভ্যালেনটাইন্স ট্রি’—ছোট্ট সাজানো গাছ, ভালবাসার প্রতীক।

ছোট ছোট এই আয়োজনই বুঝিয়ে দেয়, সম্পর্কের গভীরতা সবসময় জাঁকজমকে মাপা যায় না; বরং যত্ন আর সময়ের বিনিয়োগেই তা স্পষ্ট হয়।


বিদেশে প্রেমের আবহ: কেমন আলাদা?

প্রশ্ন উঠেছিল—বিদেশে কি প্রেমের মাস আরও জমজমাট? পথে পথে যুগল, দোকানে উপচে পড়া ভিড়? তনুশ্রী জানালেন, এখানে উদ্‌যাপন হয় সুন্দরভাবে, পরিমিত উচ্ছ্বাসে। দোকানে ভিড় থাকে, ফুল বিক্রি হয় দেদার, মানুষ বাইরে বেরোন, কিন্তু ভারতের মতো উচ্চকিত আবেগ নয়।

তাঁর মতে, দুই দেশের উদ্‌যাপনের ধরনটাই আলাদা। ভারতে যেমন রঙিন, উৎসবমুখর আবহ, তেমন বিদেশে একটু বেশি ব্যক্তিগত, একটু বেশি সংযত।


বরফকুচি হাওয়া আর উষ্ণ সংসার

আটলান্টার হালকা ঠান্ডা, বাতাসে বরফকুচির ছোঁয়া—তার মাঝেই জমেছে প্রেমের মরশুম। সন্ধ্যায় কাজের পর বিশেষ দিনগুলোয় সুজিত তাঁকে নিয়ে গিয়েছেন রেস্তরাঁয় নৈশভোজে। তনুশ্রীও নানা পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছেন—কখনও লাল, কখনও প্যাস্টেল, কখনও আবার নরম উলের আবরণে।

এই নতুন শহরে, নতুন জীবনে, প্রতিটি ছোট আয়োজন যেন নতুন করে সম্পর্ককে চিনে নেওয়ার সুযোগ।


আগে প্রেম, না বিয়ের পরে প্রেম?

এই প্রশ্নে খানিক ভেবেছিলেন তনুশ্রী। তাঁর উত্তর—“এখন মনে হচ্ছে, বিয়ের পরে প্রেমটাই বেশি উপভোগ্য।” যদিও সুজিতকে বিয়ের আগে থেকেই চিনতেন, কোর্টশিপও হয়েছে। তবু সংসারের পরের প্রেমে আছে আলাদা দায়িত্ব, আলাদা গভীরতা।

প্রেম যখন দায়িত্বের সঙ্গে মেশে, তখন তা হয় আরও স্থায়ী, আরও বাস্তব। বিয়ের পরের প্রেমে আছে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।


প্রবাসে মনকেমন

দেশ, কলকাতা—সবই মনে পড়ে। কিন্তু সংসার মানেই দায়িত্ব। “হুট” করে ফেরা যায় না। তাই আপাতত আটলান্টাতেই নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। প্রবাসে থেকেও পরিবারের দায়িত্ব পালন করছেন তনুশ্রী। ফোন, ভিডিয়ো কল, অনলাইন যোগাযোগ—সবই এখন দূরত্ব কমিয়ে দেয়।


নতুন জীবনের রূপান্তর

টলিউডের ব্যস্ততা থেকে একেবারে অন্য জীবনে পা রাখা সহজ নয়। কিন্তু তনুশ্রীর কথায় বোঝা যায়, তিনি এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক ভাবেই গ্রহণ করেছেন। সময় পেলেই নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিচ্ছেন, আবার নিজের শিকড়ের সঙ্গেও সংযোগ রাখছেন।

news image
আরও খবর

এই প্রেমের মাস যেন তাঁর কাছে শুধুই রোম্যান্টিক উদ্‌যাপন নয়, বরং নতুন জীবনের সঙ্গে তাল মেলানোর এক নরম অধ্যায়।


সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে

আজকের দিনে প্রেম মানে শুধু প্রকাশ্য উদ্‌যাপন নয়; বরং একসঙ্গে সময় কাটানো, একে অপরকে বোঝা, ছোট ছোট মুহূর্তকে মূল্য দেওয়া। তনুশ্রীর গল্পে সেই দিকটাই স্পষ্ট।

গোলাপ, টেডি মুজ়, গ্রিটিংস কার্ড—সবই আছে। কিন্তু তার থেকেও বড় হল, সকালে ঘুম থেকে উঠে হাসিমুখে পাশে কাউকে পাওয়া। প্রবাসে একসঙ্গে সংসার গড়া, নতুন শহরে নতুন স্মৃতি তৈরি করা—এই সবকিছুর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রেমের প্রকৃত রূপ।

প্রবাসে মানিয়ে নেওয়ার গল্প

নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা—সবই আলাদা। তবু তনুশ্রী ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। বাজার করা, রান্না, ঘর গোছানো, নতুন বন্ধু তৈরি—সবই এখন তাঁর প্রতিদিনের অংশ।

একসময় শ্যুটিং ফ্লোরে ব্যস্ত থাকা অভিনেত্রী এখন সংসারের ছন্দে অভ্যস্ত হচ্ছেন। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে নন। স্ক্রিপ্ট পড়েন, কাজের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন, ভবিষ্যতে আবার বড় পর্দায় ফেরার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রবাসের জীবন তাই তাঁর কাছে বিরতি নয়, বরং নতুন প্রস্তুতির সময়।


পরিবার থেকে দূরে, তবু কাছে

কলকাতার বাড়ি, পরিবারের আড্ডা, উৎসবের কোলাহল—সবই মিস করেন তনুশ্রী। বিশেষ করে উৎসবের সময় মনকেমন বাড়ে। কিন্তু প্রযুক্তি দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। ভিডিয়ো কল, গ্রুপ চ্যাট, অনলাইন উদ্‌যাপন—সবই এখন জীবনের অংশ।

বোনঝির সঙ্গে কথোপকথন, মায়ের রান্নার রেসিপি, বন্ধুর নতুন খবর—সবই পৌঁছে যায় আটলান্টার ঘরে। ফলে দূরত্ব থাকলেও সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট।


বিয়ের পরের প্রেম: অন্যরকম অনুভূতি

তনুশ্রীর মতে, বিয়ের পরের প্রেমে রয়েছে অন্যরকম স্থিতি। আগে প্রেম মানে ছিল দেখা করা, কথা বলা, একসঙ্গে সময় কাটানো। এখন প্রেম মানে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা, একে অপরের ভাল-মন্দের পাশে থাকা।

সুজিতের সঙ্গে কোর্টশিপের সময় থেকেই বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। সেই বন্ধুত্বই এখন সংসারের ভিত্তি। প্রেম আর বন্ধুত্বের মিশ্রণই তাঁদের সম্পর্ককে গভীর করেছে।


ছোট মুহূর্তের বড় মানে

একসঙ্গে সকালের কফি, বাজার থেকে ফেরার পথে আইসক্রিম খাওয়া, কিংবা সন্ধ্যায় সিনেমা দেখা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই এখন সবচেয়ে মূল্যবান। প্রেমের সপ্তাহ হয়তো বিশেষ উপলক্ষ, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আসল ভালবাসা।

তনুশ্রী বললেন, “প্রেম মানে শুধু একদিনের উদ্‌যাপন নয়। প্রতিদিনের যত্নটাই আসল।” এই উপলব্ধিই হয়তো তাঁকে প্রবাসে থেকেও এতটা স্বচ্ছন্দ রেখেছে।


ভবিষ্যতের স্বপ্ন

প্রবাসে স্থায়ী হওয়া, নাকি কিছুদিন পর দেশে ফেরা—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনই নেই। তবে দু’জনেই চান দুই দেশের মধ্যেই সময় কাটাতে। কাজের সূত্রে হয়তো আবার কলকাতায় ফিরবেন, আবার আমেরিকাতেও থাকবেন।

এই যাওয়া-আসার মধ্যেই গড়ে উঠবে তাঁদের ভবিষ্যৎ। প্রেমের মাস তাই শুধু বর্তমানের উদ্‌যাপন নয়, ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনার সময়ও।

বাতাসে বরফকুচি, ঘরে গোলাপের গন্ধ, টেবিলে চকোলেট টেডি, ফোনের ও পারে উচ্ছ্বসিত বোনঝি—সব মিলিয়ে তনুশ্রী চক্রবর্তীর বিদেশে প্রথম প্রেমের মাস যেন সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু তার ভিতরে আছে বাস্তবের কোমলতা, দায়িত্ব আর ভালবাসার গভীরতা।

নিজের শহর থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও, ভালবাসার ভাষা একই থাকে। শুধু আবহাওয়া বদলায়, ঠিকানা বদলায়—প্রেমের অনুভূতি নয়। আটলান্টার ঠান্ডা সকালে তাই তনুশ্রীর কণ্ঠে যে উষ্ণতা ধরা পড়ে, সেটাই হয়তো এই গল্পের আসল সারাংশ। প্রেম, আসলে, জায়গা বদলায় না—মানুষের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ঠিকানায় গিয়েও সে নিজের আলো ছড়িয়ে দেয়।

বাতাসে বরফকুচি, ঘরে গোলাপের গন্ধ, টেবিলে চকোলেট টেডি, ফোনের ও পারে উচ্ছ্বসিত বোনঝি—সব মিলিয়ে তনুশ্রী চক্রবর্তীর বিদেশে প্রথম প্রেমের মাস যেন সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু তার ভিতরে আছে বাস্তবের কোমলতা, দায়িত্ব আর ভালবাসার গভীরতা।

নিজের শহর থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও, ভালবাসার ভাষা একই থাকে। শুধু আবহাওয়া বদলায়, ঠিকানা বদলায়—প্রেমের অনুভূতি নয়। আটলান্টার ঠান্ডা সকালে তাই তনুশ্রীর কণ্ঠে যে উষ্ণতা ধরা পড়ে, সেটাই হয়তো এই গল্পের আসল সারাংশ।

Preview image