Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গর্বের মুহূর্ত! প্রথমবার স্কোয়াশ বিশ্বকাপ ট্রফি তুলল ভারত

ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল স্কোয়াশে। প্রথমবারের মতো স্কোয়াশ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল ভারত, যা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছিলেন ভারতীয় স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা, আর সেই ধারাবাহিক পরিশ্রমেরই ফল মিলল এই বিশ্বজয়ে।বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক ম্যাচে আত্মবিশ্বাস, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন খেলোয়াড়রা। ফাইনাল ম্যাচে চাপের মুহূর্তেও দারুণ সংযম ও আক্রমণাত্মক খেলায় প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ইতিহাস গড়ে ভারত। এই জয় শুধু একটি ট্রফি জেতা নয়, বরং ভারতীয় স্কোয়াশের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে খেলোয়াড়দের কঠোর অনুশীলন, কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা এবং ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। স্কোয়াশ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করল, ক্রিকেটের বাইরেও বিশ্বমঞ্চে দেশের ক্রীড়াশক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই ঐতিহাসিক জয় আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং ভারতে স্কোয়াশ খেলাটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।

ইতিহাস গড়ল ভারত: প্রথমবার স্কোয়াশ বিশ্বকাপ জয় - এক নতুন ক্রীড়া দিগন্তের সূচনা

ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে রচিত হলো এক নতুন, স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। বহু বছরের নিরন্তর চেষ্টা, অধ্যবসায় এবং একনিষ্ঠ সাধনার ফলস্বরূপ, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার স্কোয়াশ বিশ্বকাপের (Squash World Cup) শিরোপা জয় করল ভারত। এটি নিছকই একটি ট্রফি জয় নয়, বরং এটি ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি বিরাট মাইলফলক এবং স্কোয়াশের মতো খেলায় এক নতুন পরাশক্তির উত্থানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন বা কুস্তির মতো ঐতিহ্যবাহী খেলায় সাফল্যের পর, স্কোয়াশের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ভারত তার বহুমুখী ক্রীড়া প্রতিভার পরিচয় দিল। এই বিজয় কোটি কোটি ভারতীয়র বহুদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছে।

বহুদিনের স্বপ্নপূরণ ও পটভূমি বিশ্লেষণ (The Dream Realized and Background Analysis)

ভারতে স্কোয়াশ খেলাটির আনুষ্ঠানিক ইতিহাস তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ না হলেও, গত এক থেকে দেড় দশকে এর পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে এক উল্লখযোগ্য বিপ্লব এসেছে। একসময় স্কোয়াশকে উচ্চবিত্তের খেলা হিসেবে গণ্য করা হলেও, ফেডারেশনের সদিচ্ছা এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় তা ক্রমশ সাধারণের কাছে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসছেন। দীপিকা পল্লিকাল, জোশনা চিনাপ্পা, এবং সৌরভ ঘোষালের মতো তারকারা এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং বিভিন্ন PSA ওয়ার্ল্ড ট্যুর টুর্নামেন্টে পদক জয় করে প্রমাণ করেছিলেন যে, বিশ্বসেরার তকমা আর খুব দূরে নেই। এই সাফল্য ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফল। জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে আন্তর্জাতিক মানের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের সংযোজন, অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক এক্সপোজার—এই সবই সম্মিলিতভাবে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল। অবশেষে, কঠোর পরিশ্রমের সেই চারাগাছটি মহীরুহে পরিণত হলো, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মাধ্যমে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা (India's Invincible Journey in the World Cup)

চলতি স্কোয়াশ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের যাত্রা ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণামূলক। শুরু থেকেই দলের প্রতিটি সদস্যের চোখে-মুখে ছিল আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রতিপক্ষের কৌশলকে ভেস্তে দেওয়ার সুপরিকল্পিত কৌশল। গ্রুপ পর্ব থেকেই ভারতীয় দল একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নেয়। স্কোয়াশ হল এমন একটি খেলা যেখানে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক স্থৈর্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে ভারতীয় খেলোয়াড়দের নিখুঁত 'ড্রপ শট', ক্ষিপ্র গতির 'কিল শট', এবং ধৈর্যশীল 'র‍্যালি'।

দলের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল চাপের মুখেও ভেঙে না পড়ে, বরং সেই চাপকে প্রতিপক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া। যখনই কোনো খেলোয়াড় সেটে পিছিয়ে পড়েছেন, তখনই বাকিরা দলগতভাবে তাকে সমর্থন যুগিয়েছেন এবং ম্যাচে ফিরে আসার প্রেরণা জুগিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এটি শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জয় নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ একটি দলের জয়

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির গল্প: কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত (The Saga of Crucial Matches: India Passes the Tough Test)

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব—কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল—ছিল ভারতীয় দলের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। এই পর্যায়গুলিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু স্কোয়াশ শক্তির মুখোমুখি হতে হয় ভারতকে, যাদের অতীত রেকর্ড ছিল ঈর্ষণীয়।

  • কোয়ার্টার ফাইনাল: এই ম্যাচে এক কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারত ৩-২ সেটে জয়লাভ করে। বিশেষ করে, দ্বিতীয় একক ম্যাচে দলের তরুণ সদস্যের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। সেটের পর সেট ধরে চলা দীর্ঘ র‍্যালিগুলিতে তার অদম্য স্ট্যামিনা ও ফিটনেস প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেয়। এই ম্যাচটি ভারতের মানসিক শক্তির গভীরতা প্রমাণ করে।

  • সেমিফাইনাল: সেমিফাইনালে জয় আসে তুলনামূলকভাবে সহজে, কিন্তু ম্যাচের কৌশল ছিল জটিল। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিচার করে কোচিং স্টাফ যে 'ম্যাচ-আপ' কৌশল তৈরি করেছিলেন, তা শতভাগ সফল হয়। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তাদের প্রজ্ঞা ব্যবহার করে দ্রুত পয়েন্ট আদায় করে নেন, যা ফাইনালের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই ম্যাচগুলিতে ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছেন, তারা শুধু প্রতিভাবান নন, বরং অভিজ্ঞ, পরিণত এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

ফাইনাল: চাপের পরীক্ষা ও ইতিহাসের সৃষ্টি (The Final: Test of Pressure and Creation of History)

ফাইনাল ম্যাচটি ছিল স্নায়ুর চূড়ান্ত লড়াই। প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি—এই চরম মানসিক চাপ সামলানো ছিল যেকোনো দলের জন্যই একটি পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ভারতীয় দল সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছিল প্রস্তুত। মাঠে নামার আগে থেকেই তাদের চোখে ছিল জয়ের আগুন।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় দল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে নামে। তারা প্রতিপক্ষের প্রথম সার্ভিসেই চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। স্কোয়াশের কোর্ট অত্যন্ত ছোট হওয়ায় সামান্য ভুলও বড় ক্ষতি করতে পারে। ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের প্রতিটি সামান্য ভুলকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন। নিখুঁত 'কোর্ট কভারিং' এবং কার্যকর 'ভলি' শটগুলির মাধ্যমে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।

পুরো ম্যাচ জুড়ে গ্যালারিতে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কোচিং বক্স থেকে আসা নির্দেশাবলী এবং খেলোয়াড়দের একে অপরের প্রতি সমর্থন—সব মিলিয়ে এক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কঠিন সেটে যখন পয়েন্ট প্রায় সমান, তখন ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত শান্ত ও ফোকাসড ছিলেন। তারা প্রতিটি পয়েন্টকে আলাদা করে বিবেচনা করেছেন, যা তাদের লক্ষ্য স্থির রাখতে সাহায্য করেছে।

শেষ পর্যন্ত, যখন নির্ধারিত সেটে জয় নিশ্চিত হলো এবং রেফারির শেষ বাঁশি বাজলো, তখন সৃষ্টি হলো এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্কোয়াশ কোর্টে শুরু হলো উচ্ছ্বাস, আনন্দাশ্রু আর বিজয়োল্লাসের এক বাঁধভাঙা ঢেউ। ট্রফি হাতে নিয়ে খেলোয়াড়দের সেই মুহূর্তটি শুধু একটি জয় ছিল না, তা ছিল বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতিদান, যা গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের স্কোয়াশ সম্ভাবনার বার্তা পৌঁছে দিল।

খেলোয়াড়দের অবদান ও দলগত সমন্বয় (Players' Contribution and Team Cohesion)

এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে একক কোনো খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব নেই, এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে দলগত প্রচেষ্টার সাফল্য। প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকায় ছিলেন উজ্জ্বল।

  • অভিজ্ঞ তারকারা: দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের স্নায়ু শীতল রেখে দলকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। তাদের দীর্ঘ র‍্যালি খেলার ক্ষমতা প্রতিপক্ষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করেছে।

  • তরুণ প্রতিভা: দলের তরুণ সদস্যরা তাদের ক্ষিপ্রতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব দিয়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তাদের অপ্রত্যাশিত শট নির্বাচন অনেক সময়ই প্রতিপক্ষকে হতচকিত করে দিয়েছে।

  • সাপোর্ট প্লেয়াররা: যারা হয়তো কোর্টে নামার সুযোগ পাননি, কিন্তু অনুশীলনে নিজেদের সেরাটা দিয়ে মূল খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করেছেন, তাদের অবদানও কোনো অংশে কম নয়।

দলগত সমন্বয়ই ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্কোয়াশ একটি ব্যক্তিগত খেলা হলেও, দলগত টুর্নামেন্টে প্রত্যেকে একে অপরের জন্য লড়েছেন। একজন খেলোয়াড়ের ভুলকে অন্যজন দ্রুত পুষিয়ে দিয়েছেন। ডাবলস ইভেন্টগুলিতে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল নিখুঁত, যা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কোচিং স্টাফ ও পরিকল্পনার সাফল্য (Success of Coaching Staff and Strategy)

খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সুপরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি

news image
আরও খবর

১. প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ (Opposition Analysis): কোচিং টিম প্রতিটি প্রতিপক্ষের খেলার ধরন, দুর্বলতা ও শক্তি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ম্যাচভিত্তিক কৌশল তৈরি করেছিলেন। ২. মানসিক প্রস্তুতি (Mental Conditioning): স্কোয়াশ খেলায় মানসিক চাপ সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞ ক্রীড়া মনোবিদদের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল, যা ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফল দিয়েছে। ৩. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (Long-term Planning): ভারতীয় স্কোয়াশ দল বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক এক্সপোজার পেয়েছে। নিয়মিতভাবে বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের চাপযুক্ত পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। ৪. ফিটনেস প্রোগ্রাম (Fitness Program): স্কোয়াশ খেলার জন্য উচ্চমানের স্ট্যামিনা প্রয়োজন। অত্যাধুনিক ফিটনেস ট্রেনিং এবং নিউট্রিশন প্রোগ্রাম খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাকে বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করেছে।

কোচিং স্টাফের এই প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব এবং দূরদর্শী পরিকল্পনা ভারতীয় স্কোয়াশকে এই শিরোপা জয়ের চূড়ায় নিয়ে গেছে।

ফেডারেশনের ভূমিকা ও অবকাঠামো উন্নয়ন (Role of the Federation and Infrastructure Development)

ভারতীয় স্কোয়াশ ফেডারেশন (Squash Federation of India - SFI) গত এক দশকে নিজেদের ভূমিকায় এক বিরাট পরিবর্তন এনেছে। ঐতিহ্যগতভাবে দুর্বল অবকাঠামোকে তারা আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।

  • অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্কোয়াশ কোর্ট তৈরি করা, যা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তৈরি হয়েছে।

  • ট্যালেন্ট শনাক্তকরণ (Talent Identification): দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য নিয়মিতভাবে জাতীয় ক্যাম্প এবং টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

  • বিদেশি প্রশিক্ষণ (Foreign Training): প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের নিয়মিতভাবে ইউরোপ ও অন্যান্য স্কোয়াশ-প্রধান দেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের খেলার পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে।

  • স্পনসরশিপ ও সমর্থন: কর্পোরেট স্পনসরশিপ নিশ্চিত করা এবং সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা আদায় করা—এ সবই খেলোয়াড়দের চিন্তা মুক্ত হয়ে খেলায় মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছে।

বিশ্বকাপ জয় সেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনারই চূড়ান্ত ফল, যা ভারতের স্কোয়াশকে এক শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।

দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রভাব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা (Impact on National Sports and Future Prospects)

স্কোয়াশ বিশ্বকাপ জয়ের এই সাফল্য ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

১. ক্রিকেট-নির্ভরতা হ্রাস: এই জয় আবারও প্রমাণ করে দিল যে, ক্রিকেট-নির্ভরতার বাইরেও অন্যান্য খেলায় ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটি অন্যান্য খেলার ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। ২. জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: এই ঐতিহাসিক জয় দেশে স্কোয়াশ খেলাটির জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আগে যেখানে এই খেলাটি মূলত কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এখন সারা দেশের তরুণ প্রজন্ম এই খেলার দিকে আকৃষ্ট হবে। স্কুল ও কলেজ স্তরে স্কোয়াশের প্রতি আগ্রহ বাড়বে, যা নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উত্থানে সাহায্য করবে। ৩. তরুণদের অনুপ্রেরণা: এই বিশ্বকাপ জয় নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এটি দেখিয়ে দিল যে, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক সমর্থন থাকলে বিশ্বের যেকোনো খেলায় ভারতীয়রা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে।

সরকার এবং ক্রীড়ামন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য দলকে বিপুল পরিমাণ পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকার কিছু দেশের আধিপত্য থাকা এই খেলায় ভারতের উত্থান নতুন শক্তির আবির্ভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামনে আরও বড় লক্ষ্য (Bigger Goals Ahead)

বিশ্বকাপ জয় নিঃসন্দেহে এক বিশাল অর্জন, তবে ভারতীয় স্কোয়াশ দল এখন এখানেই থেমে থাকতে চায় না। তাদের সামনে রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য:

  • অলিম্পিক যোগ্যতা: স্কোয়াশ খেলাটি ভবিষ্যতের অলিম্পিক গেমসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ভারতীয় দলের এখন লক্ষ্য থাকবে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করে পদক জেতা।

  • বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান: দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত এবং দলগত বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে ওঠার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

  • আরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জয়: বিভিন্ন PSA ওয়ার্ল্ড ট্যুর ইভেন্ট এবং অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতার মাধ্যমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের এই লক্ষ্যগুলি অর্জনে সাহায্য করবে।

উপসংহার (Conclusion)

স্কোয়াশ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ভারত শুধু একটি ট্রফিই জেতেনি, জিতেছে জাতীয় আত্মবিশ্বাস, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের অফুরন্ত সম্ভাবনা। এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দলগত ঐক্য থাকলে ভারত যে কোনও খেলাতেই বিশ্বসেরা হতে পারে। এই ঐতিহাসিক জয় আগামী দিনে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা নিঃসন্দেহে দেশের যুব সমাজকে আরও খেলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। স্কোয়াশের এই জয় ক্রীড়াজগতে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তিমত্তার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

Preview image