দুর্গাপুরের তরুণ উদ্ভাবক সায়েদ মোশারফ হোসেন “Smart Shoe for Women’s Safety” তৈরি করে ভারতের প্রযুক্তি দুনিয়ায় নজর কেড়েছেন। তাঁর উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব আজ তরুণ সমাজের প্রেরণা।ছোট শহরের ছেলেটি, বড় স্বপ্নের উদ্ভাবক — সায়েদ মোশারফ হোসেন। নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট জুতো উদ্ভাবন করে পেয়েছেন India ও Asia Book of Records-এর সম্মান।
“ছোট শহরের তরুণ, বড় স্বপ্নের উদ্ভাবক” — সায়েদ মোশারফ হোসেনের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা
দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ:
বাংলার মাটির সন্তান সায়েদ মোশারফ হোসেন আজ প্রযুক্তি ও মানবিকতার মেলবন্ধনে এক উজ্জ্বল নাম। ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও তাঁর স্বপ্ন ও অধ্যবসায় আজ দেশের তরুণ সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণা।
ছোটবেলা থেকে প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসা
তিলাবনির বাসিন্দা সায়েদ মোশারফ ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক্স নিয়ে ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। নিজের হাতে মোবাইল মেরামত করতেন, সার্কিট নিয়ে পরীক্ষা করতেন। পরে তিনি ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ও এম.টেক সম্পন্ন করেন। আজ তিনি প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের এক মিশ্র প্রতীক।
নারীদের সুরক্ষায় “স্মার্ট জুতো”
ভারতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যখন একের পর এক বিতর্ক চলছে, তখন মোশারফ ভিন্ন পথে হাঁটলেন। তিনি উদ্ভাবন করলেন “Smart Shoe for Women’s Safety” — এক এমন জুতো, যা বিপদের মুহূর্তে নারীদের সুরক্ষা দিতে পারে।
এই স্মার্ট জুতোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
GPS ও GSM যুক্ত সিস্টেম যা বিপদের সময় লোকেশন পাঠায়
SOS বার্তা ও অ্যালার্ম সিস্টেম
আত্মরক্ষার জন্য ইলেকট্রিক শক মডিউল
সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি, যা সাধারণ মানুষের নাগালে
এই উদ্ভাবনের জন্য তিনি পান India Book of Records এবং Asia Book of Records-এর “Grand Master” উপাধি।
শিক্ষার জগতে দৃষ্টান্ত
বর্তমানে তিনি পুরবাসথলী–II গভর্নমেন্ট আইটিআই কলেজের প্রিন্সিপাল।
তাঁর উদ্যোগে কলেজে শুরু হয়েছে—
ডিজিটাল ক্লাসরুম
মেটাভার্স ভিত্তিক শিক্ষা
দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প
তাঁর নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্রছাত্রী আজ হাতে–কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
“Innovative Women Safety Shoe Device” – India Book of Records, 2022
“Grand Master” – Asia Book of Records, 2022
“Best Invention Award” – Government of West Bengal, 2023
অনুপ্রেরণার বার্তা
“বড় কিছু করতে হলে শহরে জন্ম নিতে হয় না, লাগে শুধু বড় মন আর অক্লান্ত চেষ্টা।”
সায়েদ মোশারফ হোসেন প্রমাণ করেছেন — প্রতিভা ও মানবিকতা একসাথে থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর মতো তরুণেরা আজ বাংলাকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন যুগে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
মোশারফের লক্ষ্য, তাঁর স্মার্ট জুতোর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা এবং আরও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী প্রযুক্তি তৈরি করা। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নতুন উদ্ভাবনী প্রকল্প গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার।
উপসংহার
দুর্গাপুরের এই তরুণ প্রমাণ করেছেন —
“সফল মানুষ নয়, প্রেরণাদায়ক মানুষ হওই আসল জীবনের উদ্দেশ্য।”
বাংলার ভবিষ্যৎ এই তরুণ উদ্ভাবকদের হাতেই আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।