খবর, এত বিতর্ক ও হুমকির পরও গায়ক যেন সম্পূর্ণ নির্বিকার। অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নীরব রয়েছেন, নিজের অবস্থান বা মতামত স্পষ্ট করেননি এখনও। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলেও তিনি আপাতত নিজের কাজ ও সংগীত নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান।
ফের শিরোনামে উঠে এসেছে অমিতাভ বচ্চন ও দিলজিৎ দোসাঞ্জকে ঘিরে বিতর্ক। গায়কের অনুরাগীরা ভেবেছিলেন, ঝড় থেমে গিয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সেই বিতর্কের রেশ এখনো শেষ হয়নি। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৭’-এর মঞ্চে গিয়ে অমিতাভের পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছিল বিতর্কের ঝড়। অনেকেই আশা করেছিলেন, বিস্তর জলঘোলার পর ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। কারণ, ১ নভেম্বর থেকে গায়কের আমেরিকা সফর নির্বিঘ্নে শুরু হয়, এবং অনুষ্ঠানও স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল।
কিন্তু রবিবার পার্থে গানের অনুষ্ঠান চলাকালীন ফের দেখা গেল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। খবর, অনুষ্ঠানের মাঝেই একদল খালিস্তানি সমর্থক গায়কের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়—অকল্যান্ডে তাঁর পরবর্তী কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেয় তারা। ফলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে দিলজিতের ভক্তদের মধ্যে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক দিকে এগোচ্ছে, যা গায়কের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেও গায়ক নিজে অদ্ভুতভাবে শান্ত। এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রকাশ্যে মুখ না খুলে নিজের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দিলজিৎ আপাতত বিতর্কের জবাব না দিয়ে সংগীতেই মনোযোগ রাখতে চান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৭’-এ তাঁর অংশগ্রহণ ঘিরে। সেখানে অমিতাভ বচ্চনের পা ছোঁয়ার ঘটনায় খালিস্তানি সংগঠনগুলির অভিযোগ, গায়ক নাকি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের অসম্মান করেছেন। সংগঠনের প্রধানের দাবি, অমিতাভের তৎকালীন মন্তব্য — “রক্তের বদলে রক্ত”— ছিল দাঙ্গার প্ররোচনাস্বরূপ, যার ফলে হাজার হাজার শিখ প্রাণ হারান। তাঁদের মতে, দিলজিতের ওই আচরণ সেই সব নিহত মানুষ, বিধবা এবং অনাথদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছে।
এই অভিযোগের জেরে খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলি আমেরিকায় তাঁর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও, দিলজিতের নীরবতা ও স্থিরতা নিয়ে নানা মহলে চলছে জল্পনা—তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব, নাকি নিরাপত্তার স্বার্থেই মুখ খুলছেন না?