Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ বুলিমিয়ায় আক্রান্ত জানুন এই রোগ এবং এর উপসর্গ সম্পর্কে

অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি বুলিমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের প্রধান উপসর্গ হিসেবে মানসিক চাপ, অতিরিক্ত খাওয়া এবং পরে উল্টানো, শারীরিক দুর্বলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত ওজন কমানোর চেষ্টা দেখা যায়। ফাতিমা জানান, তাঁর শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে তিনি প্রথমে অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস এবং শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করেছিলেন, যা পরে বুলিমিয়ার লক্ষণ হিসেবে প্রমাণিত হয়।

বুলিমিয়া: অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের অভিজ্ঞতা ও সচেতনতা প্রয়োজন

অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ, যিনি ‘দঙ্গল’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি লাভ করেছিলেন, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শেয়ার করেছেন তার ভয়ানক মানসিক সমস্যার কথা। ফাতিমা জানিয়েছেন যে, তিনি বুলিমিয়া নামক একটি ইটিং ডিজ়অর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগটি সাধারণত অত্যধিক খাদ্য গ্রহণের পর এক ধরনের অপরাধবোধ এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি বের করার চেষ্টা করার ফলে তৈরি হয়। ফাতিমার অভিজ্ঞতা, যা তিনি খোলামেলা আলোচনা করেছেন, আমাদের জানিয়ে দেয় যে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা একটি পরিপূরক প্রক্রিয়া, যেখানে সচেতনতা ও যথাযথ চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

ফাতিমার অভিজ্ঞতা: শুরু হয়েছিল ‘দঙ্গল’ থেকে

ফাতিমা সানা শেখ ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন। ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে ওজন বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়েছিল। দিনে ২৫০০-৩০০০ ক্যালোরি খাবার খাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার শরীরে ওজন বৃদ্ধি হয়। কিন্তু, এই অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ পরে তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফাতিমা বলেছেন, ‘‘ছবি শেষের পরেও আমি খাবার খেতেই থাকতাম। খাবার খাওয়া যেন আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শুধুই খেতেই থাকতাম।’’ এভাবেই তার খাদ্যাভ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত খাওয়ার পর এক ধরনের অপরাধবোধ তাকে কষ্ট দিত, এবং তাই খাবার বের করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করতেন।

বুলিমিয়া কী?

বুলিমিয়া এক ধরনের ইটিং ডিজ়অর্ডার (খাদ্য ব্যাধি) যা খাবারের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ এবং তার পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীর থেকে বের করার প্রবণতায় সৃষ্টি হয়। সাধারণত এই রোগের শিকার ব্যক্তিরা একসঙ্গে অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন এবং পরে তা শরীর থেকে বের করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যেমন বমি করা, উপোস করা, বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করা। এটি “কমপেনসেটরি বিহেভিয়র” হিসেবে পরিচিত। একবার বেশি খাবার খেয়ে ফেললে, রোগী অপরাধবোধের শিকার হয়ে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি বের করার চেষ্টা করেন, যেহেতু তারা মনে করেন যে, অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে তাদের শরীরের আকার বাড়বে বা শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হবে।

এছাড়া, বুলিমিয়ার শিকার ব্যক্তি কখনও কখনও একদিনে একাধিক বার এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করেন। তাদের মধ্যে ‘মাইল্ড’, ‘মডারেট’ এবং ‘সিভিয়ার’ (এক্সট্রিম) পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়।

বুলিমিয়া বনাম অ্যানোরেক্সিয়া

বুলিমিয়া এবং অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা—এই দুটি রোগ একই ধরনের খাদ্য ব্যাধির মধ্যে পড়ে, তবে তাদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অ্যানোরেক্সিয়ায় ব্যক্তির শরীরের ওজন ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং এটি সহজেই ধরা পড়ে। অন্যদিকে, বুলিমিয়ার রোগীদের ওজন একেবারে কমে না, বরং তারা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর নিজেকে অপরাধী মনে করেন এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি বের করার জন্য তারা নানা উপায় অবলম্বন করেন, কিন্তু তাদের শারীরিক পরিবর্তন অন্যরকম হয়। বুলিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের শারীরিক পরিবর্তনগুলি লুকানোর চেষ্টা করেন, এবং তাই রোগটি ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়।

ফাতিমার জন্য চিকিৎসা: সচেতনতা ও সহানুভূতি

ফাতিমা সানা শেখ যখন বুঝতে পারলেন যে, তার খাদ্যাভ্যাস আসলে একটি মানসিক রোগের কারণে হয়ে গেছে, তখন তিনি চিকিৎসকের সাহায্য নেন। বুলিমিয়া রোগের মূল থেরাপি হলো কগনিটিভ বিহেভিয়র থেরাপি (CBT), যেখানে রোগীর চিন্তা এবং আচরণকে পরিবর্তন করা হয়। এই থেরাপি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রোগী তার খাবারের প্রতি মনোভাব এবং শারীরিক সমস্যাগুলোর সাথে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে শিখেন।

এছাড়া, বুলিমিয়ার চিকিৎসায় অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ঔষধও ব্যবহার করা হয়। এই ঔষধগুলি রোগীকে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে, যাতে তাদের আচরণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং রোগের প্রভাব কমে।

ফাতিমা জানিয়েছেন যে, তার জন্য এই পথটি খুব কঠিন ছিল, কারণ দীর্ঘ দিন তিনি নিজের সমস্যাটি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। ফাতিমার মতো অনেকেই এই ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন, কিন্তু তারা এটিকে লুকিয়ে রাখেন। রোগটি ধরা পড়তে দেরি হয়ে গেলে চিকিৎসার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে, তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং প্রথম থেকেই যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুলিমিয়া: সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিবর্তন

আজকের সমাজে শারীরিক সৌন্দর্য এবং নিখুঁত দেহের প্রতি একধরনের চাপ রয়েছে। সেলিব্রেটি বা তারকাদের জন্য এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হয়, কারণ তারা জনসম্মুখে থাকেন এবং তাঁদের শারীরিক চেহারা নিয়ে সর্বদা আলোচনা হয়। ফাতিমা সানা শেখের মতো অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতা আমাদের জানিয়ে দেয় যে, এই ধরনের মানসিক চাপ শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, তারকা বা সেলিব্রেটিদেরও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ফাতিমা সানা শেখের বুলিমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার কাহিনী আমাদের সচেতন করে তোলে যে, মানসিক চাপের ফলে যে কোনো ব্যক্তি, বিশেষত মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা, কীভাবে মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

news image
আরও খবর

ফাতিমা সানা শেখ, যিনি ‘দঙ্গল’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি জানান যে, তিনি বুলিমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগটি বিশেষত খাদ্য খাওয়ার নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিণতি হিসেবে ঘটে এবং খাবার খাওয়ার পর পরবর্তীতে অপরাধবোধ অনুভব করা এবং সেই অতিরিক্ত খাবার শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করার মধ্যে দিয়ে তার উৎপত্তি হয়। ফাতিমা বলেন, "ছবি শেষ হওয়ার পরেও অতিরিক্ত খাবার খেতে থাকতাম। এটা যেন আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে।"

বুলিমিয়া মূলত একটি ইটিং ডিজঅর্ডার, যেখানে একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত খাবার খেয়ে তারপর শরীর থেকে তা বের করার চেষ্টা করে, যেমন আঙুল দিয়ে বমি করা বা অত্যাধিক শরীরচর্চা করা। কিন্তু ফাতিমার মতো সেলিব্রেটিরাও যখন এই ধরনের মানসিক সমস্যা মোকাবিলা করেন, তখন এটি আমাদের জানিয়ে দেয় যে, শারীরিক সৌন্দর্য এবং পরিপূর্ণ শরীরের প্রতি আকর্ষণ এবং চাপ কখনও কখনও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

আজকের সমাজে, যেখানে শারীরিক সৌন্দর্য এবং নিখুঁত দেহের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেখানে এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে শারীরিক সৌন্দর্য এবং মানসিক সুস্থতা একে অপরের পরিপূরক। শারীরিকভাবে সুন্দর এবং পরিপূর্ণ হওয়া যে কাউকে সমাজে সম্মানিত করবে, তা সত্ত্বেও মানসিক শান্তি এবং সুস্থতা থাকতে হবে। ফাতিমা সানা শেখের অভিজ্ঞতা আমাদের জানায় যে, তারকাদেরও মানসিক চাপ এবং শারীরিক চাপের কারণে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, যা একেবারে মানবিক এবং সাধারণ বিষয়।

এমন পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত, এই ধরনের মানসিক রোগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা এবং রোগীদের পাশে দাঁড়ানো। এই রোগের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করা জরুরি, যাতে কেউ আক্রান্ত হলে লজ্জা না পেয়ে রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং সহায়তা পায়। ফাতিমা সানার মতো সেলিব্রেটিরা যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তবে এটি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে এবং আমাদের চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বুলিমিয়া বা অন্য কোনো ইটিং ডিজঅর্ডার মানসিক রোগ হওয়ায় এর চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। যত দ্রুত রোগ নির্ধারণ করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া যায়, তত দ্রুত রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তাই, আমাদের সকলের উচিত মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা। ফাতিমা সানা শেখের মতো তারকাদের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা একে অপরের পরিপূরক এবং তাদের মধ্যে কোনোভাবেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

মোটকথা, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক সুস্থতার মধ্যে সমতা বজায় রেখে জীবনযাপন করা উচিত। শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য নয়, আমাদের মানসিক শান্তি এবং সুস্থতাও এক equally গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

 

Preview image