বাংলা সিনেমা ইতিহাসের এক কিংবদন্তি নাম ধর্মেন্দ্র। শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, তার কবিতা ও লেখার মধ্যেও তিনি তার গভীর অনুভূতি ও মাটির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি, ধর্মেন্দ্র তার শেষ ছবি Ikkis এর প্রোমো হিসেবে একটি কবিতা প্রকাশ করেছেন, যা সমস্ত শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করেছে। কবিতার শিরোনাম ছিল Aj bhi ji karda hai, pind apne nu jaanwa, যার মানে হলো আজও আমার গ্রাম আমার হৃদয়ে জাগ্রত থাকে।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যেসব ব্যক্তিত্বের নাম অমর হয়ে থাকবে, তাদের মধ্যে ধর্মেন্দ্র অন্যতম। তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তার প্রতিটি অভিনয়ে, তার জীবনে, এবং তার কবিতায় বিশেষ কিছু অনুভূতি, গভীরতা এবং মাটির প্রতি শ্রদ্ধা ফুটে ওঠে। সম্প্রতি, ধর্মেন্দ্র তার শেষ ছবির প্রোমো হিসেবে একটি কবিতা শেয়ার করেছেন, যা অনেকেই হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। তার এই কবিতা প্রকাশের পর, এতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন বহু তারকা, বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চনের নাতনী নাভ্যা নাভেলি নন্দা, যিনি নিজের সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কবিতার প্রতি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র, যে অভিনেতার নাম বললেই মনে আসে তার রোমান্স, তার শক্তিশালী উপস্থিতি, এবং তার এক অমোঘ মহিমা — এই কবিতাটি তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের এক নতুন দিক তুলে ধরেছে। তিনি তার অভিনয় জীবনে যেমন ঐতিহাসিক চরিত্রে, রোমান্টিক কাহিনিতে, এবং সংগ্রামী জীবনের গল্পে অসাধারণ প্রতিভা দেখিয়েছেন, তেমনি তার কবিতাতেও দর্শকরা দেখতে পান তার সেই গভীরতা, চিন্তা এবং অনুভূতির অমরিত প্রকাশ।
কবিতাটির নাম “Aj bhi ji karda hai, pind apne nu jaanwa”, যার বাংলা মানে হতে পারে "আজও আমার গ্রাম আমার হৃদয়ে জাগ্রত থাকে।" কবিতার মাধ্যমে তিনি তার মাটির প্রতি, গ্রামের প্রতি, সেই পুরনো জীবনের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন। তার গ্রাম এবং মাটি আজও তাকে তার সত্ত্বার গভীরে ছুঁয়ে যায়, যা তিনি কবিতায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, গ্রামটির প্রতি তার অনুভূতি কখনোই ম্লান হয়নি, বরং দিন যত যাচ্ছে, তত তার মনে তার গ্রাম ও গ্রামের মানুষদের প্রতি আরও ভালোবাসা বেড়েছে।
ধর্মেন্দ্র তার কবিতার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, যদিও তার জীবন এখন শহরে, বড় শহরের আলো ঝলমলে, তার মন কিন্তু এখনও গ্রামের ছোট্ট জীবনে আটকে আছে। তার মাটির প্রতি ভালোবাসা, গ্রামের সরল জীবনযাপন এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা বার বার কবিতায় ফিরে এসেছে। এটি একটি প্রতিফলন, যেন গ্রাম কোনো দিন তার হৃদয় থেকে মুছে যায় না, সেগুলোর স্মৃতিতে প্রতিটি মুহূর্তে তিনি আচ্ছন্ন। এক প্রকারের মনের শান্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবনের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে এখানে, যা শহরের ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যায়।
ধর্মেন্দ্র নিজের মাটি, গ্রামের প্রতি যে বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা অনেকের কাছেই এক চিরস্থায়ী অনুভূতি হিসেবে বিবেচিত। কবিতায় তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, তার জীবনের বেশিরভাগ সুখী মুহূর্তগুলো তার পৈতৃক গ্রামে কেটেছে, যেখানে তিনি প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হয়েছেন। শহুরে জীবন যতই আধুনিক ও আরামপ্রদ হোক, গ্রাম এবং মাটি তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ ও শান্তি দেয়, যা তার কবিতায় অনুভব করা যায়।
কবিতার ভিডিও শেয়ারের পর, নাভ্যা নাভেলি নন্দা, অমিতাভ বচ্চনের নাতনী, যিনি বর্তমানে সমাজকর্মে বেশ সক্রিয়, সোশ্যাল মিডিয়াতে ধর্মেন্দ্রর কবিতার প্রতি তার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি কবিতাটি শেয়ার করে লিখেছেন:
"Aj bhi ji karda hai, pind apne nu jaanwa. Dharam Ji was a true son of the soil, and his words carry the essence of that soil. This poem by him is a yearning; a tribute from one legend to another. Thank you for gifting us this timeless verse."
এতে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে, নাভ্যা নিজের দাদা অমিতাভ বচ্চনের মতো একজন শিল্পী এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধর্মেন্দ্রর কবিতায় যে গভীরতা ও আবেগ পেয়েছেন, সেটি সত্যিই হৃদয়গ্রাহী। কবিতার মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র তার ব্যক্তিগত অনুভূতির বাইরে বৃহত্তর সমাজের অনুভূতি এবং তাদের টানাপোড়েনও প্রকাশ করেছেন। নাভ্যাও ধর্মেন্দ্রর এই কবিতার মধ্যে তার অন্তরের গভীরতা অনুভব করেছেন এবং তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
নাভ্যার এই মন্তব্যে শুধু পরিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং তিনি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন, যা ধর্মেন্দ্র তার কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এই কবিতার মাধ্যমে, ধর্মেন্দ্র তার জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের অবদানকে সম্মানিত করেছেন। নাভ্যাও তার পরিবারের এই ধরণের এক বৃহৎ উত্তরাধিকারকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে কবিতার প্রতি তার আবেগ এবং শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন সিনেমা “Ikkis”-এর একটি অংশ হিসেবে। এটি তার ক্যারিয়ারের শেষ ছবি হতে চলেছে, যেখানে তিনি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমার প্রোমো হিসেবে তার এই কবিতার প্রকাশ, দর্শকদের তার চরিত্র ও মনের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করবে। সিনেমাটির কাহিনি এবং ধর্মেন্দ্রর অভিনয় দর্শকদের কাছে চিরকালীন একটি স্মৃতি হিসেবে থাকবে।
"Ikkis" সিনেমার থিম, যা মুক্তি পাবে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, তার মতো একজন কিংবদন্তির শেষ কাজের চিহ্ন হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকবে। কবিতার মাধ্যমে, ধর্মেন্দ্র নিজের অন্তর্নিহিত অনুভূতি, তার জীবনযাত্রার দর্শন, এবং জীবনের প্রতি তার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যা সিনেমার গভীরতাও সমর্থন করবে। সিনেমার প্রেক্ষাপটে তার চরিত্র হয়তো একাধিক আবেগের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু তার কবিতায় যে অনুভূতির গভীরতা রয়েছে তা সিনেমার দর্শকদের আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে।
এই কবিতার মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি প্রকাশ করেছেন—গ্রামের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং মাটির প্রতি শ্রদ্ধা। তিনি একান্তভাবে বলেছিলেন, তার জীবনের সবচেয়ে সুখী মুহূর্তগুলি ছিল তার পৈতৃক গ্রামে, যেখানে তিনি প্রকৃতির মাঝে বেড়ে উঠেছিলেন। তার এই কবিতা শুধুমাত্র এক ব্যক্তি বা অভিনেতার অনুভূতি নয়, এটি একটি জাতীয় অনুভূতি, যা গ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মাটির সঙ্গে মানুষের অটুট সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলে।
নাভ্যার মন্তব্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে, তিনি ধর্মেন্দ্র-এর কবিতায় সেই মাটির সান্নিধ্য ও গ্রামের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা অনুভব করেছেন। নাভ্যা, যিনি এখন একটি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই কবিতার মধ্যে তার হৃদয়ের গভীরতা ও অনুভূতির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া দেখায় যে, নতুন প্রজন্মও গ্রাম, মাটি এবং পুরনো দিনের মূল্যবোধে যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, তা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মেন্দ্রর কবিতাটি তার "Ikkis" সিনেমার প্রোমো হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই সিনেমাটি হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা, যেখানে তিনি এক ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমার প্লট এবং তার অভিনয় সম্পর্কিত গভীরতা দর্শকদের এই কবিতার মাধ্যমে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি হবে। কবিতার মাধ্যমে, ধর্মেন্দ্র তার আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা তার সিনেমার চরিত্রে আরও ভালোভাবে ফুটে উঠবে।
ধর্মেন্দ্র তার কবিতায় যা বলেছেন, তা তার সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে। "Ikkis" সিনেমার কাহিনি এবং ধর্মেন্দ্রর অভিনয় খুবই আবেগময়, যেখানে তিনি এই কবিতার মতোই মাটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এই কবিতার মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র নিজের জীবন, তার প্রিয় গ্রাম এবং সেই পুরনো দিনের স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর কবিতাটি শুধুমাত্র একটি আধুনিক চলচ্চিত্রের প্রোমো নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির গভীর এক প্রতিফলন। গ্রাম ও মাটির প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং সেইসব দিনগুলোর স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা আজও তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করছে। তার এই কবিতা এক ধরনের শৈশবের স্মৃতিচারণ, যা সময়ের সাথে সাথে তার হৃদয়ে এক স্থায়ী চিহ্ন রেখে গেছে। এই কবিতার মাধ্যমে তিনি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে সুখী মুহূর্তগুলি কখনোই ভুলে যাওয়া যায় না, এবং আমাদের মাটি ও গ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা কখনোই কমে না।
ধর্মেন্দ্র তার কবিতার মাধ্যমে যা উপস্থাপন করেছেন, তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি একটি জাতীয় অনুভূতি এবং ভারতীয় সংস্কৃতির এক অমূল্য ধন। তার এই কবিতা, নাভ্যা নাভেলি নন্দার মতো তরুণ প্রজন্মের কাছে যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছে, তা ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
ধর্মেন্দ্র—যিনি বলিউডের এক কিংবদন্তি—তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে কবিতার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, গ্রাম, মাটি এবং পুরনো দিনের স্মৃতি কখনোই আমাদের হৃদয় থেকে মুছে যায় না, বরং তারা চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকে।