কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর নির্যাতন! হাসপাতালের পোশাক পরে এক যুবক ডাক্তার সেজে কিশোরীকে শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে নিপীড়নের অভিযোগ। কিশোরী কেঁদে বলেছে— “আমি ওকে ভাল মানুষ ভেবেছিলাম।” ঘটনায় পকসো আইনে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে। নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে তীব্র প্রশ্ন।
কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এক নির্যাতনের ঘটনা। হাসপাতালের পোশাক পরে ডাক্তার সেজে এক যুবক কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে পুরুষদের শৌচালয়ে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘটে নিপীড়নের ঘটনা। এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় কিশোরীর কান্নাজড়িত স্বীকারোক্তি — “আমি ওকে ভাল মানুষ ভেবেছিলাম” — এখন গোটা রাজ্যে আলোড়ন তুলেছে।
বুধবার দুপুরে মানসিক চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছিলেন এক কিশোরী, সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা ও দাদু। সেই সময় হাসপাতালের পোশাক পরিহিত এক যুবক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে তাঁদের কাছে আসে। সে কিশোরীকে একান্তে কথা বলার অজুহাতে নিয়ে যায় শৌচালয়ের দিকে এবং দরজা বন্ধ করে সেখানে নির্যাতন চালায়।
মেয়ে ফিরে না আসায় মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে দেখে সবকিছু প্রকাশ্যে আসে।
মা-র জিজ্ঞাসায় কিশোরী কেঁদে বলেছে — “আমি ভেবেছিলাম উনি ভাল মানুষ। উনি বলেছিলেন আমি অসুস্থ, আমাকে পরীক্ষা করতে হবে।”
এই কথাতেই প্রকাশ পেয়েছে তার বিশ্বাসভঙ্গের কষ্ট ও ভয়। হাসপাতালের মতো নিরাপদ জায়গায় এই ধরনের প্রতারণা ও নির্যাতন যেন অকল্পনীয়।
ঘটনার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই যুবক কিশোরীকে নিয়ে শৌচালয়ের দিকে যাচ্ছে। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইন (POCSO Act) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালত তাকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এছাড়াও, ডিএনএ পরীক্ষা ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে কীভাবে ওই ব্যক্তি হাসপাতালের পোশাক পেয়ে ঢুকতে পারল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে গেল।
এই ঘটনার পর এসএসকেএম হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে। তারা হাসপাতাল চত্বরে কড়া নজরদারি, আইডি কার্ড যাচাই এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের এক গভীর অসচেতনতার প্রতিফলন। হাসপাতাল যেমন রোগীর চিকিৎসার স্থান, তেমনই সেটি সুরক্ষার স্থানও হওয়া উচিত। সেই জায়গায় এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতাকে সামনে এনেছে।
মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ওই কিশোরীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংও অত্যন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসএসকেএমের এই ভয়াবহ ঘটনা শহরবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। “আমি ওকে ভাল মানুষ ভেবেছিলাম”— কিশোরীর এই বাক্যটি আজ মানবতার এক করুণ প্রতীক। হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা ও অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি উঠছে সর্বত্র।
এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, বিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর প্রতারণা, তাই সতর্কতাই এখন একমাত্র প্রতিরোধ।