Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২৮ বছরের লালকাঠের যাত্রা ক্লিন্টন যুগে শুরু ট্রাম্প আমলে সাফল্য

১৯৯৮ সাল থেকে আমেরিকা উপগ্রহের মাধ্যমে লালকাঠের জঙ্গল ম্যাপ করার চেষ্টা শুরু করলেও, প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ নেয় ২০১০ সালে। তবুও, তারা তখনো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাননি।

লালকাঠের যাত্রা: ২৮ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং একটি বাঙালি তরুণের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক সাফল্য

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কলোরাডো এবং অরেগন পর্যন্ত বিস্তৃত লালকাঠের জঙ্গল, যা পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়, বহু বছর ধরেই বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এই বনাঞ্চলের পোশাকি নাম হলো ‘কোস্ট রেডউড’। লালকাঠের এই বন শুধুমাত্র পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে পুরনো বৃক্ষগুলোর আবাসস্থল নয়, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রশাসন ১৯৯৮ সাল থেকে লালকাঠের জঙ্গল সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে জঙ্গলের সঠিক ম্যাপিং করা, যাতে লালকাঠের অবৈধ কাটাছেঁড়া রোধ করা যায় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তবে সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতে অনেক বাধা ও দেরি হয়েছে। প্রথমবার এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ২০১০ সালে। কিন্তু তখনও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালের পরিকল্পনাও নানা কারণে ব্যর্থ হয়।

এই দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতিশ্রুতিমূলক যাত্রার অবশেষে সফলতার দেখা মেলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। এই সাফল্যের পেছনে নেতৃত্ব দেন একজন বাঙালি তরুণ, শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির চণ্ডীতলা এলাকার বাকসা গ্রামে জন্ম নেওয়া শুভমের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল ১৭ মাস ধরে এই জঙ্গল নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালায়।

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবনও অনন্য। মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা তিনি বাকসা বিএন বিদ্যালয় থেকে নেন। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন জনাই ট্রেনিং হাই স্কুল থেকে। এরপর উত্তরপাড়া রাজা প্যারিমোহন কলেজে প্রাণিবিদ্যায় অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে এমএসসি সম্পন্ন করেন। তার পর পদার্পণ হয় ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইআইএসইআর)-এ, যেখানে তিনি পিএইচডি করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল তরাই তৃণভূমির গাণিতিক মডেল তৈরি, যা ভারতীয় উপমহাদেশের বনাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শুভমের নেতৃত্বাধীন দলটি ২০২৪ সাল থেকে লালকাঠের জঙ্গলে ক্ষেত্রসমীক্ষা শুরু করে। এই সময়ে তারা ১২টি জঙ্গলে নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রত্যেক জঙ্গলের গাছপালার ধরন, বয়স, উচ্চতা এবং বিস্তৃতির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। এই তথ্যের মধ্যে কয়েকটি গাছের বয়স প্রায় ২০০০ বছর বা তারও বেশি। এই মহার্ঘ বৃক্ষগুলি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের রক্ষাকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত দলটি আরও খুঁটিনাটি তথ্য সংযোজন করে। এই গবেষণাপত্র সম্প্রতি ব্রিটেনের এক খ্যাতনামা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শুভমের মতে, “সার্বিক ধারণা পাওয়ার জন্য যা প্রয়োজন, তা গবেষণাপত্রে রয়েছে। তবে আমেরিকার প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য—লালকাঠের অবৈধ ছেঁড়া রোধ করা—তার জন্য বিশেষ কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।”

লালকাঠের বাণিজ্যিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে মেক্সিকো ও অন্যান্য দেশে অবৈধভাবে এই কাঠ রপ্তানি হয়। তাই মার্কিন প্রশাসনের জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শুভম জানান, "ওখানেও বীরপ্পনরা রয়েছে যারা অবৈধভাবে লালকাঠ পাচার করে। সঠিক তথ্য না থাকলে প্রশাসনের পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে।"

গবেষণার সময় শুভমের সহযোগী ছিলেন দুই মার্কিন তরুণ, এমিলি ফ্রান্সিস এবং কলিন। তারা একসাথে বিভিন্ন জঙ্গলে পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ, নমুনা বিশ্লেষণ এবং স্যাটেলাইট ডেটার সাথে ক্ষেত্রসমীক্ষার তুলনা করে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা অবশেষে ২৮ বছরের প্রায়শ্চিত্ত সফল করে।

শুভম বলেন, ভারতেও এই ধরনের গবেষণার সুযোগ রয়েছে। শাল, সেগুন, মেহগনির মতো কাঠের ম্যাপিং হয়তো সামান্য আছে, কিন্তু সার্বিকভাবে এখনও তা করা হয়নি। সিঙ্গালিলা, নেওড়াভ্যালি সহ অন্যান্য বনাঞ্চলে রডডেনড্রনের ক্ষেত্রেও স্যাটেলাইট ও গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে মানচিত্র প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শুভমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো উচ্চাভিলাষী। বর্তমানে তিনি হুগলির বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে শীঘ্রই ফের প্রয়াস করবেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে। মার্কিন প্রশাসন এইবার কুয়াশার ম্যাপিং করাতে চায়, যা লালকাঠ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত খুলবে। ফেব্রুয়ারির শেষে শুভমের দল ফের আমেরিকায় যাবে এই কাজের জন্য।

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাফল্য কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, তা একটি আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক এবং নীতি-নির্ধারণমূলক দিকও নির্দেশ করে। ২৮ বছর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশেষে কার্যকর হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পেছনে ধৈর্য, বৈজ্ঞানিক কৌশল, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিহিত। একটি বাঙালি তরুণের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিশ্রুতি, অধ্যবসায় এবং দক্ষ নেতৃত্ব কোন সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকে না।

গবেষণার এই গল্প থেকে আমরা শিখতে পারি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সঠিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিলিত হলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। শুভমের অবদান কেবল লালকাঠ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ, বনাঞ্চল ও মানবিক দায়িত্বের প্রতি এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

শুভমের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর শিক্ষাগত ভ্রমণ। আইআইএসইআর-এ পিএইচডি করার সময়, তিনি তরাই তৃণভূমির বনাঞ্চলে পরিবর্তন, কৃষি এবং মানবসৃষ্ট প্রভাব বিশ্লেষণে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। এই জ্ঞানই পরে লালকাঠ সংরক্ষণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি গাণিতিক মডেল, স্যাটেলাইট ডেটা, এবং বাস্তব ক্ষেত্রসমীক্ষার সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র তৈরি করেন।

শুভমের নেতৃত্বের মূল শক্তি হলো তাঁর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়। এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী গবেষকরা বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপট থেকে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে সমন্বয়, তথ্যের নির্ভুলতা এবং গবেষণার নৈতিকতা বজায় রাখা ছিল শুভমের প্রধান দায়িত্ব। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ এবং মডেলিংয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক মান বজায় রাখা হয়েছে।

news image
আরও খবর

গবেষণার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল ছিল। এখানে শুধুমাত্র স্যাটেলাইট ম্যাপিং নয়, বরং স্থানীয় বনাঞ্চলে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা হলো গবেষণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

শুভম বলেন, “ভারতেও এই ধরনের গবেষণার সুযোগ রয়েছে। শাল, সেগুন, মেহগনি এবং রডডেনড্রনসহ বনাঞ্চলের ম্যাপিং করা সম্ভব। তবে যথেষ্ট উদ্যোগ নেই।” এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, স্থানীয় প্রতিভা আন্তর্জাতিক গবেষণার সাথে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোপনীয়তা। শুধুমাত্র স্যাটেলাইট বা জঙ্গল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর পেছনে আছে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ। লালকাঠের উচ্চমূল্য এবং অবৈধ কাঠ পাচারের ঝুঁকি গবেষণার সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।

শুভমের এই সফলতা কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, সামাজিক ও নীতি নির্ধারণমূলক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখায় যে স্থানীয় প্রতিভা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। এছাড়া, এটি বাঙালি তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে চায়।

এই দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির পেছনে নেতৃত্ব দেন এক বাঙালি তরুণ, শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির চণ্ডীতলা থানার বাকসা এলাকায় জন্ম নেওয়া শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি তাঁর নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা তিনি বাকসা বিএন বিদ্যালয় থেকে নেন। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন জনাই ট্রেনিং হাই স্কুল থেকে। এরপর উত্তরপাড়া রাজা প্যারিমোহন কলেজে প্রাণিবিদ্যায় অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইআইএসইআর-এ পিএইচডি অর্জন করেন, যেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল তরাই তৃণভূমির গাণিতিক মডেল তৈরি। এই মডেল ভারতের বনাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুভমের নেতৃত্বাধীন দলটি ২০২৪ সাল থেকে লালকাঠের জঙ্গলে ক্ষেত্রসমীক্ষা শুরু করে। তারা ১২টি প্রধান জঙ্গলে গাছপালার ধরন, বয়স, উচ্চতা, ঘনত্ব এবং বিস্তারের তথ্য সংগ্রহ করেন। এই তথ্যের সঙ্গে স্যাটেলাইট ডেটা মিলিয়ে জঙ্গলের সঠিক ম্যাপ তৈরি করা হয়। গবেষণায় বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয় ২০০০ বছরের বেশি বয়সী গাছগুলোর উপর। এগুলো কেবল পরিবেশের জীবন্ত ইতিহাস নয়, বরং বনাঞ্চলের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার প্রক্রিয়ায় শুভমের সহকর্মী ছিলেন দুই মার্কিন তরুণ, এমিলি ফ্রান্সিস এবং কলিন। তারা একসাথে নমুনা সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্যাটেলাইট ডেটার সঙ্গে ক্ষেত্রসমীক্ষার তুলনা করে গবেষণার মান নিশ্চিত করেন। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের কাছে উপস্থাপিত হয়।

শুভমের গবেষণা শুধুমাত্র লালকাঠ সংরক্ষণে সাহায্য করছে না, এটি বিশ্বব্যাপী বনাঞ্চল সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ নীতি প্রণয়নে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তার কাজ প্রমাণ করে স্থানীয় প্রতিভা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রশাসনে অসামান্য অবদান রাখতে পারে।

এই সফলতা বাঙালি তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, যারা কঠিন সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং নীতি-নির্ধারণে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দিতে চায়। শুভমের গবেষণা বিশ্বকে দেখায় যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সঠিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিলিত হলে যে কোনো প্রাকৃতিক বা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা সম্ভব।

শুভমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও উচ্চাভিলাষী। তিনি হুগলিতে অবস্থান করছেন, তবে ফেব্রুয়ারির শেষে ফের আমেরিকায় কুয়াশা ম্যাপিং প্রকল্পে অংশ নেবেন, যা লালকাঠ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত খুলবে। এছাড়াও, তিনি ভারতীয় বনাঞ্চলে ম্যাপিং, রডডেনড্রন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও কাজ করতে চান।

শুভমের এই গবেষণা আন্তর্জাতিক মানের। এটি প্রমাণ করে স্থানীয় প্রতিভা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অবদান রাখতে পারে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা—এসব ক্ষেত্রেও এই কাজ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

গবেষণার এই গল্প আমাদের শেখায়, ধৈর্য, পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সহযোগিতা মিলিত হলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। শুভমের অবদান কেবল লালকাঠ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ, বনাঞ্চল এবং মানবিক দায়িত্বের প্রতি এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ প্রমাণ করে যে স্থানীয় প্রতিভা আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার সাফল্য বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখায়। এই গবেষণা শুধু লালকাঠ সংরক্ষণ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা, বনাঞ্চল রক্ষা, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Preview image