Mount Sinai Health System-এর বিজ্ঞানীরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন। তারা দেখিয়েছে যে একটি প্রাকৃতিক জিন CCNA2 Cyclin A2 যা সাধারণত জন্মের পর মানবদেহে বন্ধ হয়ে যায়, তা পুনরায় সক্রিয় করলে বয়োবৃদ্ধ হৃৎপেশিতে নতুন প্রাণ ঢেলে দিতে পারে।
Mount Sinai Health System
+2
Medical Xpress
+2
এই জিনটিকে সক্রিয় করার মাধ্যমে, হার্ট অ্যাটাক বা হৃৎফল-ব্যাধিতে (heart failure) ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রের পেশি কোষ নতুন করে গঠন করতে পারে — যা এখন পর্যন্ত সম্ভব বলে ধরা ছিল না।
Medical Xpress
+1
বৈজ্ঞানিক বিবরণ
CCNA2 হলো এমন এক জিন যা গর্ভাবস্থায় হৃৎপেশির কোষকে বিভাজন (cell division) করাতে সহায়তা করে। জন্মের পর এই জিন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বয়োবৃদ্ধ মানুষদের হৃদপেশি নিজে থেকে পুনরায় গঠন করতে পারে না।
Wikipedia
+1
Mount Sinai-র গবেষণায় দেখা গেছে — এই জিনকে ভাইরাস ভেক্টর বা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে কোষে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হলে, ৪১-৫৫ বছরের বয়স্ক সুস্থ দাতা হৃৎপেশিতেও কোষ বিভাজন শুরু হয়েছে ও নতুন কার্যকর পেশিকোষ গঠন করেছে।
Mount Sinai Health System
+1
নতুন কোষগুলোর গঠন ও কার্যক্ষমতা (Contractility, calcium signalling) ঠিক রয়েছে — অর্থাৎ শুধু কোষ গঠন নয়, তার কার্যক্ষমতাও নিশ্চিত হয়েছে।
Medical Xpress
+1
সম্ভাবনা ও গুরুত্ব
ভবিষ্যতে, হার্ট অ্যাটাক বা দীর্ঘস্থায়ী হৃৎফলের রোগীদের জন্য পুরোপুরি পুনরুদ্ধার (regeneration) সম্ভব হতে পারে — শুধুই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের বদলে, কার্যকর হৃৎপেশি নতুন করে গঠন করা যাবে।
টানটান সময়ের মধ্যে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বা যন্ত্র (ventricular assist devices)-এর বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতি আসতে পারে।
ভারতসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর হার কমাতে বড় উপায় হতে পারে — কারণ অনেক ক্ষেত্রে হৃদপেশি একবার নষ্ট হলে পুনরুদ্ধার অসম্ভব মনে করা হত।
সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জ
এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে — ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও ডেলিভারি পদ্ধতির পরীক্ষা করতে হবে।
Mount Sinai Health System
জিন সক্রিয় করার পদ্ধতি বা ভাইরাস ভেক্টর প্রবেশ পদ্ধতির খরচ, বাজেট এবং নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
হৃদযন্ত্র এমন একটি অঙ্গ যেখানে ভুল কোষ বিভাজন বা অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি হঠাৎ বিপজ্জনক ফল দিতে পারে — তাই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ও আমাদের প্রেক্ষাপটে
ভারতে হৃদরোগ একটি বড় সমস্যা। এই ধরনের গবেষণা সফল হলে:
শহর-গ্রাম যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্র কম রয়েছে, সেখানে নতুন পুরনো হার্ট মেরামতের প্রযুক্তি বড় বদল আনবে।
দীর্ঘ অন্তর-চিকিৎসার lifelong treatment বদলে একবারে কার্যকর পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে যা সময়, অর্থ ও রোগীর মানসিক চাপ কমাবে।
স্থান-নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও জিন থেরাপি-এর উন্নয়ন ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক নতুন গবেষণা ক্ষেত্র খুলে দেবে।
সারাংশ
একবার হার্টের পেশি নষ্ট হলে ফিরে আসে না এই ধারণাটি আস্তে আস্তে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। CCNA2-এর মতো জিন আমাদের জানাচ্ছে
“আপনার হৃদয়ও নিজে থেকে লড়াই করতে পারে, যদি সঠিক সিগন্যাল ফিরে আসে।”
এই আবিষ্কার শুধু মেডিসিনের দৃষ্টিকোণ থেকে নয় জীবনের জনিত দ্বিতীয় সুযোগের প্রতীক।
ভবিষ্যতে, হার্ট অ্যাটাকের পর ভয় নয় নতুন আশা হবে।