Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রেড রোডে ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রজাতন্ত্র দিবসের মহড়ায় ঢুকে পড়ল বেপরোয়া গাড়ি ফিরল সেনাকর্তার মৃত্যুর ভয়াবহ স্মৃতি

শনিবার সকালে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলাকালীন রেড রোডে নিরাপত্তার মাঝেই দ্রুতগতির একটি বিলাসবহুল গাড়ি ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। পুলিশ গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

রেড রোডে ফের আতঙ্ক: প্রজাতন্ত্র দিবসের মহড়ায় বেপরোয়া গাড়ির তাণ্ডব, ফিরল ২০১৬ সালের ভয়াবহ স্মৃতি

কলকাতার হৃদয়ে আবার রেড রোড। আবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া। আবার নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মাঝে আচমকা বেপরোয়া গাড়ির হানা। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সতর্কতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

শনিবার সকাল। রেড রোডে চলছিল প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া। সেনা, পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী—সব মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল গোটা এলাকায়। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত, যান চলাচল সীমিত। কিন্তু সেই নিরাপত্তার বলয় ভেঙেই হঠাৎ ঢুকে পড়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দ্রুত গতিতে গাড়িটি রেড রোডের দিক থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেয়। কিন্তু চালক থামার বদলে উল্টো গতিবেগ বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের গার্ডরেলে সজোরে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষের জেরে গাড়িটির বাঁ দিকের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শহর।


? দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের তৎপরতা

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ময়দান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গাড়িটির বিমা এবং দূষণ সংক্রান্ত শংসাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

অর্থাৎ বৈধ নথিপত্র ছাড়া গাড়িটি চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত এই কারণেই চালক পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শুধু নথিপত্রের সমস্যা নাকি অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চালকের অতীত রেকর্ড, গাড়ির মালিকানা এবং সম্ভাব্য অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্রও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।


⚠️ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন

এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—
এত কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও কীভাবে একটি গাড়ি কুচকাওয়াজের মহড়ার এলাকায় ঢুকে পড়ল?

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের প্রস্তুতি চলাকালীন রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা। সেখানে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কীভাবে ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ল—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে শুধু ব্যারিকেড বা পুলিশ মোতায়েন করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। প্রযুক্তিগত নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।


?️ ২০১৬ সালের ভয়াবহ স্মৃতি

শনিবারের এই ঘটনা ফিরিয়ে এনেছে ২০১৬ সালের এক ভয়াবহ স্মৃতি।

২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি। ঠিক একইভাবে রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলছিল। সেই সময়ও একটি বেপরোয়া গাড়ি ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার অভিমন্যু গৌড়ের।

সেই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন আরজেডি বিধায়ক মহম্মদ সোহরাবের পুত্র আম্বিয়া এবং সাম্বিয়া সোহরাবের বিরুদ্ধে।

সেই দুর্ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ছিল না, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার উপর এক ভয়াবহ আঘাত হিসেবে দেখা হয়েছিল।

দশ বছর পেরিয়েও আবার একই জায়গায় প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটায়, স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে ভয় এবং ক্ষোভ নতুন করে দানা বাঁধছে।


? একই জায়গায় একই ধরনের ঘটনা: কাকতালীয় না অবহেলা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই জায়গায় একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার অর্থ একটাই—
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও বড় ফাঁক রয়েছে।

রেড রোড শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি কলকাতার প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু এই এলাকা।

সেখানে বারবার নিরাপত্তা ভেঙে পড়া মানে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সম্ভাব্য বড় বিপদের ইঙ্গিত।


?️ শহরের সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—

অনেক নাগরিক মনে করছেন, এটি একটি সতর্ক সংকেত। যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।


?️ প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

এই ঘটনা প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের আগে এমন ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। এখন দেখার বিষয়—

  • নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনা হয়

  • দায়ীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়

  • ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়


? উপসংহার

রেড রোডে শনিবারের দুর্ঘটনা শুধু একটি গাড়ি দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা।
এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ দিনকে।
এটি প্রশ্ন তোলে—আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের আগে এই ঘটনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—
নিরাপত্তা কি শুধু আনুষ্ঠানিকতা, না কি সত্যিকারের প্রস্তুতি?

সময়ের উত্তরই দেবে।

রেড রোডে শনিবারের দুর্ঘটনা শুধু একটি গাড়ি দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা।
এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ দিনকে।
এটি প্রশ্ন তোলে—আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের আগে এই ঘটনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—
নিরাপত্তা কি শুধু আনুষ্ঠানিকতা, না কি সত্যিকারের প্রস্তুতি?

সময়ের উত্তরই দেবে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে আরও গভীরভাবে। যদি এই দুর্ঘটনায় গাড়িটি কয়েক সেকেন্ড আগে বা পরে ঢুকে পড়ত, যদি সেখানে সেনা জওয়ানদের সারি, পুলিশ বাহিনীর দল বা কুচকাওয়াজের মূল মহড়া চলত—তাহলে কী হত? একটি মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত, তা কল্পনা করলেই শিউরে উঠছে শহরবাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু ট্রাফিক আইন ভাঙার বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুতর সংকেত। কারণ প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামান্য ফাঁকও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। একটি বেপরোয়া গাড়ি আজ শুধু গার্ডরেল ভেঙেছে, কিন্তু কাল যদি তার নেপথ্যে আরও ভয়ংকর উদ্দেশ্য থাকে—তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের। এখানে সেনা, আধাসামরিক বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। কিন্তু শনিবারের ঘটনা দেখিয়ে দিল, কোথাও না কোথাও সেই সমন্বয়ে ফাঁক রয়ে গেছে।

সাধারণ মানুষের মনেও তাই এখন একটাই প্রশ্ন—
আমরা কি শুধু উৎসবের আলোয় মেতে থাকব, নাকি নিরাপত্তার বাস্তবতা নিয়ে সত্যিই ভাবব?

কলকাতা একটি ঐতিহাসিক শহর। এই শহর শুধু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। তাই এই শহরের নিরাপত্তা মানেই শুধু কলকাতার নিরাপত্তা নয়, বরং দেশের সম্মানের বিষয়ও।

২০১৬ সালের দুর্ঘটনার পর অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু দশ বছর পেরিয়েও যদি একই জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে, তবে সেই প্রতিশ্রুতির মূল্য কতটা—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

এই ঘটনার পর প্রশাসনের উচিত শুধু তদন্ত নয়, বরং আত্মসমালোচনা। কোথায় ভুল হয়েছে, কোথায় গাফিলতি ছিল, কোন স্তরে নিরাপত্তা দুর্বল ছিল—সবকিছুর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। কারণ নিরাপত্তা কোনও বিলাসিতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

রেড রোডের শনিবারের দুর্ঘটনা হয়তো বড় কোনও প্রাণহানির কারণ হয়নি। কিন্তু এটি আমাদের সামনে একটি আয়না তুলে ধরেছে—যেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলো।

আজ যদি আমরা এই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করি, তবে আগামী দিনে তার মূল্য হয়তো আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখনই সময়, নিরাপত্তাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি থেকে বের করে এনে বাস্তব প্রস্তুতিতে রূপান্তর করার।

কারণ ইতিহাস বারবার সুযোগ দেয় না।
আর ভুলের মূল্য অনেক সময় হয় অমূল্য প্রাণ।

Preview image