চাঞ্চল্যকর এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে দেখা যায়—এক মা মোবাইলে ব্যস্ত থাকাকালীন তার ছোট সন্তানের হাত লিফটের দরজায় আটকে যায়। মায়ের অসাবধানতায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন—“মোবাইল নয়, সন্তানই হোক অগ্রাধিকার।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে এক ভিডিও, যা দেখে শিউরে উঠেছেন অসংখ্য মানুষ। ভিডিওটিতে দেখা যায়—এক মা নিজের মোবাইলে ব্যস্ত, আর সেই সময় তাঁর ছোট্ট সন্তানের হাত লিফটের দরজায় আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় এক বিপজ্জনক দুর্ঘটনা। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় বয়ে যায়।
ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও ভিডিওটি শেয়ার করেছেন “জার্নালিস্ট ফাতিমা” নামে এক এক্স (পূর্বতন টুইটার) ব্যবহারকারী। ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণী মা তার ছোট্ট শিশুকে নিয়ে লিফটে ওঠেন। মা তখন মোবাইল ফোনে কিছু দেখছিলেন বা বার্তা টাইপ করছিলেন। সন্তান পাশে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে চলে যায়। হঠাৎই লিফটের দরজা বন্ধ হতে শুরু করে, আর শিশুটির ছোট হাতটি সেই দরজার ফাঁকে আটকে যায়।
শিশুটি ব্যথায় কেঁদে ওঠে। মা তখন ছুটে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন, লিফটের বোতাম টিপে, দরজা ঠেলে সবরকম চেষ্টা করেন সন্তানের হাত মুক্ত করতে। কিন্তু প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য কিছুই কাজ করে না। ওই মুহূর্তে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ভিডিওতে স্পষ্ট বোঝা যায়।
শেষমেশ লিফটের দরজা খুলে গেলে শিশুর হাত মুক্ত হয়। সে কাঁদতে থাকে, আর মা আতঙ্কিত হয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নেন। ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের হলেও, তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী—নেটিজেনরা বলছেন, এটি কেবল এক দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের আধুনিক জীবনের এক নির্মম বাস্তব চিত্র।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মন্তব্য করেছেন—“মোবাইল আমাদের এতটাই গ্রাস করেছে যে, সন্তানকেও আমরা নজরে রাখতে ভুলে যাচ্ছি।” কেউ লিখেছেন, “মোবাইলের আসক্তি কখন যে ভালোবাসাকে হারিয়ে দেয়, বুঝতেই পারি না।” অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “একজন মা যদি নিজের সন্তানের প্রতি এতটা অসচেতন হন, তবে সমাজ কোথায় যাচ্ছে?”
কিছুজন অবশ্য মায়ের পক্ষে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। ভিডিও দেখে বিচার করা ঠিক নয়।” তবে অধিকাংশই এটিকে এক গুরুতর অবহেলার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এই ভিডিও আবারও আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে ‘ডিজিটাল ডিসট্রাকশন’-এর বাস্তব বিপদ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের চারপাশের বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে। এর ফলে দুর্ঘটনা, পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব এবং মানসিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় মোবাইলে ব্যস্ত থাকা অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, “শিশুরা খুব সংবেদনশীল। তারা সবসময় চায় অভিভাবকের মনোযোগ ও সুরক্ষা। যখন তারা দেখে মা বা বাবা মোবাইলে ব্যস্ত, তখন তাদের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হয়।”
এই ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার —
শিশুদের সঙ্গে থাকলে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
লিফট, রাস্তা, বা যেকোনো যান্ত্রিক স্থানে তাদের একা দাঁড়াতে দেবেন না।
জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সাহায্য চাইতে হয়, তা শিশুদেরও শেখান।
ভিডিওটি হয়তো এক মুহূর্তের ঘটনা, কিন্তু তা গোটা সমাজের সামনে এক গভীর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে — আমরা কি ডিজিটাল জগতে এতটাই ডুবে গেছি যে, বাস্তব জীবনের সবচেয়ে প্রিয়জনের প্রতিও আমাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি?
শেষ পর্যন্ত, শিশুটি নিরাপদ আছে বলেই স্বস্তি। কিন্তু এই ঘটনার শিক্ষা যেন কেউ না ভোলে। এক মুহূর্তের অবহেলা কখন যে বড় বিপদ ডেকে আনে, তা এই ভিডিও আবারও মনে করিয়ে দিল। তাই বার্তা একটাই — “মোবাইল নয়, সন্তানই হোক জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।