Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভোরের অন্ধকারে হেস্টিংসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত যুবক

ভোরের অন্ধকারে কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, যা এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে। পণ্যবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাটি ঘটে খুব ভোরে, যখন রাস্তায় যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। আচমকাই বিকট শব্দে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তার পরিস্থিতি বদলে যায়। জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন ওই যুবক। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহত যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত যুবককে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, যুবকের আঘাত গুরুতর হলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি ও ট্রাক রাস্তার উপরেই পড়ে থাকায় সৃষ্টি হয় যানজট। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে যানবাহন সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরের সময় অনেক ভারী পণ্যবাহী ট্রাক দ্রুতগতিতে চলাচল করে, যার ফলে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। বিশেষ করে আলো কম থাকায় এবং চালকদের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে মনে করছেন অনেকেই।

ভোরের আলো ফোটার আগেই কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা আবারও শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গভীর রাত আর ভোরের মাঝামাঝি সময়ে, যখন চারপাশে নীরবতা আর রাস্তার আলোয় ঝাপসা দৃশ্য, সেই সময়েই পণ্যবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের অভিঘাতে গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গাড়ির ভিতরে থাকা এক যুবক গুরুতরভাবে আহত হন। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, দুর্ঘটনার সময় রাস্তা তুলনামূলকভাবে ফাঁকাই ছিল। ভোরের দিকে হেস্টিংসের এই রাস্তায় সাধারণত ভারী পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল শুরু হয়ে যায়। অনেক চালকই এই সময় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান, কারণ যানজট কম থাকে। তবে আলো কম থাকার কারণে দূরত্ব ঠিকমতো বোঝা যায় না এবং সামান্য অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই দিনও তেমনই এক মুহূর্তের ভুল বা অসতর্কতা থেকে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সংঘর্ষের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বাড়ির মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি ঠিক কী ঘটেছে। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখতে পান, একটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং তার সামনের অংশ ট্রাকের সঙ্গে আটকে রয়েছে। গাড়ির ভিতরে আটকে পড়া যুবকের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আর দেরি না করে ছুটে আসেন সাহায্যের জন্য। কেউ পুলিশে খবর দেন, কেউ অ্যাম্বুল্যান্স ডাকেন, আবার কেউ গাড়ির দরজা খুলে আহত যুবককে বের করার চেষ্টা করেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানার পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অনেক কষ্টে গাড়ির ভাঙা অংশ কেটে আহত যুবককে বাইরে বের করা হয়। ততক্ষণে তিনি গুরুতরভাবে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে, তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তাঁর প্রাণ সংশয় কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই দুর্ঘটনার জেরে হেস্টিংস এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। রাস্তার উপর দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাক ও গাড়ি পড়ে থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। যদিও তখন ভোরের সময় হওয়ায় যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল, তবুও ধীরে ধীরে অফিসযাত্রী ও অন্যান্য যান চলাচল শুরু হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ক্রেন ডেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন সরানোর ব্যবস্থা করে এবং প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দুটোই প্রকাশ পায়। তাঁদের অভিযোগ, হেস্টিংস এলাকার এই রাস্তায় ভারী পণ্যবাহী ট্রাক প্রায়ই দ্রুতগতিতে চলে। ভোর বা গভীর রাতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি না থাকায় চালকেরা অনেক সময় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আলো কম থাকা সত্ত্বেও গতি নিয়ন্ত্রণ না করার প্রবণতা থেকেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মত তাঁদের। অনেকেই দাবি তুলেছেন, এই এলাকায় ভোরের সময় ভারী যান চলাচলের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হোক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাকচালক ও গাড়িচালকের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি কত ছিল, কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, চালকেরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার মুহূর্তের চিত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি আবারও কলকাতার রাস্তায় পথ নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন শহরে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে, যার অনেকগুলির কারণ দ্রুতগতি, নিয়ম না মানা এবং অসতর্কতা। বিশেষ করে ভোর বা গভীর রাতে যখন রাস্তা ফাঁকা থাকে, তখন অনেক চালক গতি বাড়িয়ে দেন। কিন্তু একটি মুহূর্তের ভুলই যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, হেস্টিংসের এই দুর্ঘটনা তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ।

আহত যুবকের পরিবার এই ঘটনার খবর পেয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। একদিকে সন্তানের জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে এই দুর্ঘটনার আকস্মিকতা সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুবককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

এই দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, শুধুমাত্র নিয়ম কড়া করলেই হবে না, চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। আবার কেউ মনে করছেন, রাস্তায় আলো পর্যাপ্ত না থাকাও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। বিশেষ করে হেস্টিংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও উন্নত আলো ও সিগন্যাল ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে মত অনেকের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাতে হলে একাধিক স্তরে কাজ করতে হবে। শুধু পুলিশি নজরদারি নয়, বরং রাস্তার অবস্থা, আলো, সিগন্যাল, চালকদের প্রশিক্ষণ সব কিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লেন নির্ধারণ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি, নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও জরুরি।                                                                                                                                                                                                                                                                                          

news image
আরও খবর

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাক ও গাড়ির চালকের গতি, রাস্তার পরিস্থিতি এবং কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ট্রাকচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এই ঘটনার পর আবারও শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোর ও গভীর রাতে ভারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন বলে মত অনেকের। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, নিয়মিত পুলিশি টহল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

 হেস্টিংসের এই ভোরের দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল শহরের রাস্তায় সতর্কতা ও দায়িত্বশীল চালনার গুরুত্ব। আহত যুবকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এলাকাবাসী, পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও উঠছে।

হেস্টিংসের এই ভোরের দুর্ঘটনা তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি শহরের সামগ্রিক পথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। একটি যুবকের গুরুতর আহত হওয়া, একটি পরিবারের আতঙ্ক, এলাকাবাসীর উদ্বেগ সব মিলিয়ে এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে রাস্তায় এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় মূল্য চুকাতে বাধ্য করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ভোরের অন্ধকারে হেস্টিংসের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সতর্ক ও দায়িত্বশীল চালনার গুরুত্ব। আহত যুবকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন সকলে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসন, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও উদ্যোগ যে কতটা প্রয়োজন, এই ঘটনাই তা স্পষ্ট করে দিল।

 

 

 

 

 

 

Preview image