Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হৃদ্‌রোগের রোগীদের জন্য হাঁসের ডিম খাওয়া যাবে না জানুন বিশেষ সতর্কতা

হাঁসের ডিমে মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলেস্টেরল ও নুন থাকে, যা হৃদ্‌রোগের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে, সঠিক পরিমাণে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া যেতে পারে, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের পুষ্টি উপাদান নিয়ে মানুষকে নানা ধরনের দ্বিধা-বিভক্তি দেখা যায়। অনেকেই হাঁসের ডিম পছন্দ করেন, আবার কিছু মানুষ হাঁসের ডিমের আঁশটে গন্ধের কারণে সেটি খেতে রাজি হন না। তবে, হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও, কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। একদিকে হাঁসের ডিমে উচ্চ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, তবে অন্যদিকে এটি হার্টের রোগীদের জন্য কতটা উপকারী, তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে।

হাঁসের ডিম ও মুরগির ডিমের পুষ্টি তুলনা

১. ক্যালরি:

১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ১৮৫ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি। মুরগির ডিমে এই শক্তি পাওয়া যায় ১৪৯ কিলোক্যালরি। অর্থাৎ, হাঁসের ডিমে প্রায় ৩৬ কিলোক্যালরি বেশি শক্তি রয়েছে। এই অতিরিক্ত ক্যালরি হাঁসের ডিমের আকারের কারণে বেশি হতে পারে।

২. প্রোটিন:

প্রোটিনের ক্ষেত্রে হাঁসের ডিমে সামান্য বেশি পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে। উভয়ের ডিমেই প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় সমান, তবে হাঁসের ডিমে আরও বেশি হতে পারে। ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যেখানে মুরগির ডিমে প্রায় ১২ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

৩. ভিটামিন ও মিনারেল:

হাঁসের ডিমে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, জিঙ্ক, কপার, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন পাওয়া যায়। সব ভিটামিনের পরিমাণ হাঁসের ডিমে মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি। হাঁসের ডিমে থিয়ামিন, নিয়াসিন, রাইবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২ এবং রেটিনল থাকে, যেখানে মুরগির ডিমেও এই সমস্ত ভিটামিন থাকে, তবে হাঁসের ডিমে এর পরিমাণ অনেক বেশি।

৪. ফ্যাট:

হাঁসের ডিমে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি। এর পাশাপাশি হাঁসের ডিমে কোলেস্টেরল এবং নুনের পরিমাণও বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল হার্টের রোগীদের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হতে পারে। হাঁসের ডিমে সাধারণত ১২.৮ গ্রাম ফ্যাট থাকে, যেখানে মুরগির ডিমে থাকে প্রায় ১০ গ্রাম।

হার্টের রোগীদের জন্য হাঁসের ডিমের নিরাপত্তা

ডায়াবেটিস এবং হার্টের রোগীরা নিজেদের ডায়েট নিয়ে অনেক সতর্ক থাকেন। তাঁদের জন্য কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "হার্টের রোগীদের ডায়েটে এক দম ডিম রাখা যাবে না, এমনটা নয়। যারা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য মুরগির ডিম খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু, হাঁসের ডিম তার তুলনায় একটু বেশি কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট থাকায়, তাদের জন্য সপ্তাহে এক-দু'টি হাঁসের ডিমই যথেষ্ট।"

একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, হার্টের রোগীরা কি কোনও ডিমই খেতে পারেন? উত্তর হলো, হাঁসের ডিম হার্টের রোগীদের জন্য পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে, তবে তারা মুরগির ডিম বেশি খেতে পারেন। এক্ষেত্রে হাঁসের ডিমের পরিমাণ কন্ট্রোল করা উচিত, বিশেষ করে সপ্তাহে এক-দু'টি ডিম খাওয়া উচিত। আবার, ডিমের সাদা অংশে কোলেস্টেরল কম থাকে, তাই সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিম খাওয়ার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের কোনও শারীরিক সমস্যা বা ক্রনিক অসুখ নেই, তাদের জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁসের ডিম খাওয়াও নিরাপদ। তবে, রোজ হাঁসের ডিম খাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনের উপর। আর মুরগির ডিম রোজ খাওয়া কোনও ক্ষতি করেনা, বরং এটি শরীরের জন্য উপকারী।

এছাড়া, হাঁসের ডিমে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে, হাঁসের ডিম খাওয়ার আগে এটির আঁশটে গন্ধ সম্পর্কে একবার চিন্তা করা উচিত। যদি কেউ এই গন্ধে অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে তাকে মুরগির ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিভিন্ন ধরনের ডিম খাওয়ার পদ্ধতিতে মানুষের মধ্যে নানা মতামত এবং দ্বিধা দেখা যায়। হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিম দুটি পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয় হলেও, এই দুটি ডিমের পুষ্টি উপাদান, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং বিপদ সম্পর্কে আলোচনা চলতে থাকে। যেহেতু খাবারের ব্যাপারে মানুষের শারীরিক অবস্থা, জীবনযাত্রা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুধু ডিমের পুষ্টি উপাদান জানা যথেষ্ট নয়, বরং একজন ব্যক্তি কতটুকু সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমন তা বোঝাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

হাঁসের ডিম বনাম মুরগির ডিম

প্রথমত, হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হাঁসের ডিমে ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। যেমন, ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ১৮৫ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা মুরগির ডিমের থেকে প্রায় ৩৬ কিলোক্যালরি বেশি। হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ সামান্য বেশি হলেও, এতে ফ্যাট, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়ামের পরিমাণও বেশি থাকে, যা হার্টের রোগীদের জন্য সতর্কতার বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে, মুরগির ডিমে ক্যালোরির পরিমাণ কম এবং প্রোটিনের পরিমাণও একটু কম থাকে। তবে, মুরগির ডিমে কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, যার ফলে এটি সাধারণত হৃদ্‌রোগের রোগীদের জন্য বেশি উপকারী।

যারা স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য হাঁসের ডিমের পুষ্টি উপকারিতা অনেক। এতে থাকা উচ্চ মানের প্রোটিন শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং শরীরের শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কিন্তু, যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য হাঁসের ডিম খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। হাঁসের ডিমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে, বিশেষত যারা হাইপারটেনশন বা উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভুগছেন।

হার্টের রোগীদের জন্য সঠিক নির্দেশিকা

হার্টের রোগী এবং ডায়াবেটিকদের জন্য ডিম খাওয়ার বিষয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও হার্ট অ্যাটাক বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়ে গিয়েছে এমন রোগীদের জন্য একদম ডিম খাওয়া যাবে না এমন কোনো কথা নেই, তবে তাদের ডায়েটে ডিমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। চিকিৎসকরা সাধারণত পরামর্শ দেন যে, হার্টের রোগীরা প্রতি সপ্তাহে ৩টি মুরগির ডিম খেতে পারেন এবং হাঁসের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হাঁসের ডিমের সাদা অংশে কোলেস্টেরল কম থাকে, তাই মুরগির ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তবে, হাঁসের ডিমের পুরো অংশে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকায়, এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

news image
আরও খবর

অন্যদিকে, যাদের কোনো শারীরিক সমস্যা নেই এবং সুস্থ আছেন, তারা হাঁসের ডিম খেতে পারেন। তবে, তারা যেন হাঁসের ডিমের পরিমাণ দিনে ১টি বা ২টির বেশি না করে, এমনটা উচিত। কোনো ক্রনিক অসুখ না থাকলে, সপ্তাহে পাঁচদিন হাঁসের ডিম খাওয়াও নিরাপদ হতে পারে। তবে, এটি প্রতিদিন খাওয়ার পূর্বে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক পরিমাণে ডিম খাওয়ার গুরুত্ব

ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে, যেহেতু ডিমে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলও থাকে, তাই এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। যদি একজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তাকে ডিমের পরিমাণ এবং ধরণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা উচিত। যদি কেউ নিয়মিত হাঁসের ডিম খেতে চান, তবে তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একে সঠিক পরিমাণে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে খাওয়া।

এছাড়া, যারা শারীরিকভাবে সুস্থ নন, তাদের জন্য ডিমের খাওয়ার পরিমাণ কমানো উচিত। যেমন, যারা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য মুরগির ডিমের সাদা অংশই যথেষ্ট। আবার, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হাঁসের ডিম খাওয়ার পরিমাণ কন্ট্রোল করা উচিত।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ

এটা স্পষ্ট যে, ডিম খাওয়ার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন পুষ্টিবিদের বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ, ডিমের পুষ্টি উপাদান শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। যারা উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, বা ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য বিশেষভাবে ডিমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসক তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, যা তাদের স্বাস্থ্যকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

উপসংহার:

বিভিন্ন ধরনের ডিম খাওয়ার পদ্ধতিতে মানুষের মধ্যে নানা মতামত এবং দ্বিধা দেখা যায়। হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিম দুটি পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয় হলেও, এই দুটি ডিমের পুষ্টি উপাদান, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং বিপদ সম্পর্কে আলোচনা চলতে থাকে। যেহেতু খাবারের ব্যাপারে মানুষের শারীরিক অবস্থা, জীবনযাত্রা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুধু ডিমের পুষ্টি উপাদান জানা যথেষ্ট নয়, বরং একজন ব্যক্তি কতটুকু সুস্থ আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমন তা বোঝাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

হাঁসের ডিম বনাম মুরগির ডিম

প্রথমত, হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিমের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হাঁসের ডিমে ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। যেমন, ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ১৮৫ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা মুরগির ডিমের থেকে প্রায় ৩৬ কিলোক্যালরি বেশি। হাঁসের ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ সামান্য বেশি হলেও, এতে ফ্যাট, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়ামের পরিমাণও বেশি থাকে, যা হার্টের রোগীদের জন্য সতর্কতার বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে, মুরগির ডিমে ক্যালোরির পরিমাণ কম এবং প্রোটিনের পরিমাণও একটু কম থাকে। তবে, মুরগির ডিমে কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, যার ফলে এটি সাধারণত হৃদ্‌রোগের রোগীদের জন্য বেশি উপকারী।

যারা স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য হাঁসের ডিমের পুষ্টি উপকারিতা অনেক। এতে থাকা উচ্চ মানের প্রোটিন শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং শরীরের শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কিন্তু, যাদের ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য হাঁসের ডিম খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। হাঁসের ডিমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে, বিশেষত যারা হাইপারটেনশন বা উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভুগছেন।

হার্টের রোগীদের জন্য সঠিক নির্দেশিকা

হার্টের রোগী এবং ডায়াবেটিকদের জন্য ডিম খাওয়ার বিষয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও হার্ট অ্যাটাক বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়ে গিয়েছে এমন রোগীদের জন্য একদম ডিম খাওয়া যাবে না এমন কোনো কথা নেই, তবে তাদের ডায়েটে ডিমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। চিকিৎসকরা সাধারণত পরামর্শ দেন যে, হার্টের রোগীরা প্রতি সপ্তাহে ৩টি মুরগির ডিম খেতে পারেন এবং হাঁসের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হাঁসের ডিমের সাদা অংশে কোলেস্টেরল কম থাকে, তাই মুরগির ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তবে, হাঁসের ডিমের পুরো অংশে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকায়, এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

অন্যদিকে, যাদের কোনো শারীরিক সমস্যা নেই এবং সুস্থ আছেন, তারা হাঁসের ডিম খেতে পারেন। তবে, তারা যেন হাঁসের ডিমের পরিমাণ দিনে ১টি বা ২টির বেশি না করে, এমনটা উচিত। কোনো ক্রনিক অসুখ না থাকলে, সপ্তাহে পাঁচদিন হাঁসের ডিম খাওয়াও নিরাপদ হতে পারে। তবে, এটি প্রতিদিন খাওয়ার পূর্বে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক পরিমাণে ডিম খাওয়ার গুরুত্ব

ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে, যেহেতু ডিমে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলও থাকে, তাই এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। যদি একজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তাকে ডিমের পরিমাণ এবং ধরণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা উচিত। যদি কেউ নিয়মিত হাঁসের ডিম খেতে চান, তবে তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একে সঠিক পরিমাণে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে খাওয়া।

এছাড়া, যারা শারীরিকভাবে সুস্থ নন, তাদের জন্য ডিমের খাওয়ার পরিমাণ কমানো উচিত। যেমন, যারা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য মুরগির ডিমের সাদা অংশই যথেষ্ট। আবার, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হাঁসের ডিম খাওয়ার পরিমাণ কন্ট্রোল করা উচিত।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ

এটা স্পষ্ট যে, ডিম খাওয়ার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন পুষ্টিবিদের বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ, ডিমের পুষ্টি উপাদান শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। যারা উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, বা ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য বিশেষভাবে ডিমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসক তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, যা তাদের স্বাস্থ্যকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

Preview image