ছত্তিসগড়ে মাওবাদী সংঘর্ষে শহিদ ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশজুড়ে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই বীর অফিসারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। কান্নাভেজা চোখ, বুকে অপার বেদনা আর হৃদয়ে অগাধ শ্রদ্ধা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সহকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, স্থানীয় বাসিন্দা সবাই একত্রিত হয় তাঁর শেষ যাত্রায় অংশ নিতে। জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার ভেঙে পড়ে পরিবার। অশ্রুসজল চোখে তাঁরা ধরে রাখার চেষ্টা করেন সেই স্মৃতিগুলো, যেগুলো এখন তাদের কাছে শোকের মাঝেও একমাত্র শক্তির উৎস। ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার ত্যাগের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সহকর্মীরা বলেন, তিনি সবসময় দায়িত্ব, সততা ও সাহসের এক উজ্জ্বল উদাহরণ ছিলেন। যে কোনও বিপদ বা চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়াতে তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি। মাওবাদী সংঘর্ষের সেই ভয়াবহ অভিযানে সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। তাঁর এই অতুলনীয় ত্যাগ শুধু পরিবারের নয়, গোটা দেশের বুক ভেঙে দিয়েছে। তবুও তাঁর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আজ দেশের তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে গ্রামের পথজুড়ে শোকমিছিল এগিয়ে যায় ধীরপায়ে। সবার হাতে জাতীয় পতাকা, চোখে জল, আর হৃদয়ে বীর সন্তানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। যখন গানসালুট দিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়, তখন মুহূর্তটি আরও ভারী হয়ে ওঠে। বাতাসে বাজতে থাকে ভারত মাতা কি জয় ও শহিদেরা অমর রহে তবুও সবার কণ্ঠের ভিতর লুকিয়ে থাকে অশেষ বেদনার সুর। পরিবারের সদস্যরা অকথ্য যন্ত্রণার মাঝে বলেন, আশিস দেশের জন্য জীবন দিলেন এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় গর্ব। তবে এর মাঝেও তাঁরা হারালেন একজন আদর্শ ছেলে, স্নেহময় স্বামী, দায়িত্বশীল পিতা ও দয়ালু মানুষকে। তাঁর ছোট সন্তান বুঝতেও পারছে না, কেন সবাই কাঁদছে; বুঝতে পারছে না, কেন তার বাবা আর ঘরে ফিরবে না। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে আরো ভেঙে দেয়। প্রশাসনের তরফেও তাঁর সাহসিকতাকে সম্মান জানিয়ে জানানো হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এমন ত্যাগ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাওবাদী সন্ত্রাস দমনে তাঁর অবদান ইতিহাসে লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। তাঁর মৃত্যু যেমন শোক এনে দিয়েছে, তেমনি নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে দেশের প্রতিটি নিরাপত্তাকর্মী কতটা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আমাদের রক্ষা করেন। শেষ যাত্রা শেষে যখন কবরস্থান বা শ্মশানের আগুন ধীরে ধীরে নিভে আসে, তখনও মানুষের ভিড় কমে না। যেন কেউই চলে যেতে চাইছে না। সবাই চাইছে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে, বীরের প্রতি শেষ সম্মান জানাতে। সময় থমকে দাঁড়িয়ে গেছে, আর চারপাশে শুধু প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই অনুভূতি দেশের তরে যে এমনভাবে জীবন দিতে পারে, সে সত্যিই অমর। ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার এই বলিদান শুধু দুঃখ নয়, দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন বেঁচে থাকবে। তাঁর আত্মা শান্তি পাক আর দেশ যেন তাঁর মতো বীর সন্তানকে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
ছত্তিসগড়ের গভীর অরণ্য অঞ্চলে বহুদিন ধরেই সংঘাত আর রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে আছে। বহু বছর ধরে মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলে আসা নিরাপত্তা অভিযান এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, প্রতিটি অভিযানই যেন একেকটি অনিশ্চয়তায় ভরা যুদ্ধে পরিণত হয়। এমনই এক অভিযানে প্রাণ হারালেন ইনস্পেক্টর আশিস শর্মা একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সাহসী যোদ্ধা এবং দেশের প্রতি অটল নিষ্ঠায় ভরা এক অসাধারণ মানুষ। তাঁর শহিদ হওয়ার খবরে শুধু তাঁর পরিবার নয়, গোটা দেশই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মানুষ তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এগিয়ে এসেছে। এই মৃত্যুর সংবাদ যেন সবাইকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে দেশকে রক্ষা করতে প্রতিদিন কত শত অফিসার নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকেন।
ইনস্পেক্টর আশিস শর্মা বয়সে খুব বেশি বড় ছিলেন না। তরুণ বয়সেই পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। প্রশিক্ষণের সময় থেকেই তাঁর সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং নিষ্ঠাবান। তাঁর চোখে ছিল দেশের জন্য কিছু করার অদম্য আগ্রহ। অনেকেই তাঁকে বলতেন পরিবারের দায়িত্ব সামলে এত ঝুঁকির কাজে নিজেকে জড়ানো কঠিন; কিন্তু আশিস শর্মা এসবের তোয়াক্কা না করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, দেশের জন্য যদি কেউ ঝুঁকি না নেয়, তাহলে দেশকে এগিয়ে রাখবে কে? তাঁর এই কথাগুলো তখন অভিযোগ বা চ্যালেঞ্জের উত্তরে বলা হয়েছিল, কিন্তু আজ তাঁর চলে যাওয়ার পর এই কথাগুলোই যেন তাঁর জীবনের মহাকাব্যিক সমাপ্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাওবাদী সংঘর্ষের সেই দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর এসেছিল যে জঙ্গলের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বোমা তৈরির কাজ চলছে এবং সেখানেই লুকিয়ে আছে একটি বিপজ্জনক মাওবাদী দল। অপারেশনের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল ইনস্পেক্টর আশিস শর্মাকে। তিনি জানতেন, এ অভিযান সহজ হবে না। বহুবার তিনি এমন অভিযান পরিচালনা করেছেন, কিন্তু প্রতিবারই বিপদের ধরন ছিল আলাদা। তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। ভোর রাতেই দলটি জঙ্গলের দিকে রওনা দেয়। চারদিকে শুধু অন্ধকার, মাঝে মাঝে জঙ্গলের ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে আসে। দলটি খুব সাবধানের সঙ্গে এগোচ্ছিল। আশিস শর্মা সবার আগে হাঁটছিলেন। তাঁর চোখ, তাঁর কান সবই ছিল সম্পূর্ণ সতর্ক।
কিন্তু বিধির বিধান সম্ভবত অন্য কিছুই চেয়েছিল। জঙ্গলের মধ্যাংশে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। চারদিক থেকে মাওবাদীরা দলে দলে আক্রমণ করে। গুলির শব্দে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় জঙ্গলের পরিবেশ। আশিস শর্মা তাঁর দলকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেন এবং নিজে সামনে এগিয়ে গিয়ে আক্রমণ প্রতিহত করতে চেষ্টা করেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল তাঁর দলের কাউকে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। নিজের জীবনকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও নিরাপদ স্থানে রেখে যাননি। এমনকি যখন জানতে পারলেন যে এক সহকর্মী আহত হয়ে পড়ে আছে, তিনি ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেননি দৌড়ে গিয়ে তাঁকে টেনে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন।
কিন্তু সেই বীরত্বের পথেই অপেক্ষা করছিল মৃত্যুর ফাঁদ। মাওবাদীরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল এলাকা এবং একটি বিস্ফোরক আগেই পুঁতে রেখেছিল। বিস্ফোরণটি এত শক্তিশালী ছিল যে আশিস শর্মা মারাত্মকভাবে আহত হন। সহকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষরণ এবং গুরুতর আঘাতে তিনি শহিদ হন। তাঁর মৃত্যু যেন এক মুহূর্তে পুরো অপারেশন ইউনিটের হৃদয় ছিন্নভিন্ন করে দেয়। সহকর্মীরা তাঁকে বাঁচাতে পারেন না, কিন্তু তাঁরা এতটুকু ভুলতেও দেননি যে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল দেশের সেবা, কর্তব্যের প্রতি অটুট নিষ্ঠা।
খবরটি পৌঁছায় প্রথমে জেলা সদর দপ্তরে, তারপর তাঁর পরিবারে। তাঁর স্ত্রী, তাঁর মা, তাঁর ছোট সন্তান সবাই যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে যে মানুষটি সকালে হাসিমুখে দায়িত্বে গেছে, সে আর কোনোদিন ফিরবে না। স্ত্রী ভেঙে পড়লেও তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, এত গর্ব আর কিসে হতে পারে?” কিন্তু গর্বের সেই গভীরতম স্তরজুড়ে যে অসীম বেদনা লুকিয়ে থাকে, তা তাঁর অশ্রুসিক্ত চোখেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার নিথর দেহ যখন জাতীয় পতাকায় মোড়া অবস্থায় তাঁর গ্রামে পৌঁছায়, তখন গ্রামবাসী থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের মানুষ ছুটে আসেন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। কোথাও কোনো উচ্চবাচ্য নেই, তবুও প্রতিটি মানুষের চোখের নিঃশব্দ কান্না বলে দিচ্ছিল তাঁদের বেদনার গভীরতা। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই যেন উপলব্ধি করছিল, এই মানুষটির ত্যাগ গোটা জাতির ত্যাগ। তাঁর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে কেউই চোখের জল থামাতে পারেনি। কেউ কেউ এগিয়ে এসে বলছিলেন, আপনি না থাকলে হয়তো আরও অনেক পরিবার আজ শোকের ছায়ায় ঢেকে যেত। এই কথাগুলোই যেন প্রমাণ করে দেয় একজন সত্যিকারের অফিসারের কাজ কখনও কেবল দায়িত্ব নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর এক কঠিন প্রতিশ্রুতি।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজন করা হয়েছিল তাঁর শেষকৃত্য। গানসালুট দেওয়ার সময় বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় ভাঙা কণ্ঠের “শহিদ অমর রহে” স্লোগান। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের চোখ থেকে একসঙ্গে ঝরে পড়ে অশ্রু। সেই মুহূর্তটি যেন স্থির হয়ে যায়, যেন সময় থেমে থেকে সবাইকে বলছে এমন মানুষরা কখনও মরে না, তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের আত্মত্যাগে, তাঁদের ত্যাগের গল্পে। দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা মানুষেরা কখনও হারিয়ে যান না; তারা শত সহস্র মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকেন চিরকাল।
পরিবারের শোকের মাঝেও আশিস শর্মার মা বলেন, আমি আমার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছি সত্যের পথে চলতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আজ সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে একজন মায়ের আর কীই বা চাওয়ার থাকতে পারে? কিন্তু তাঁর কণ্ঠের প্রতিটি শব্দে কাঁপন ছিল, আর চোখে ছিল অশ্রুর অঝোর ধারা। ছোট সন্তানের অবুঝ চোখ কিছুই বুঝতে পারে না, সে শুধু জানতে চায় তার বাবা কখন ফিরবে। এমন প্রশ্নে উপস্থিত সব মানুষ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে কঠিন সত্যটি তখন আরও নির্মম হয়ে দাঁড়ায় দেশের জন্য জীবন দেওয়া মানুষদের পরিবারকে প্রতিদিন ত্যাগ করতে হয় তাঁদের সবচেয়ে প্রিয়জনকে।
অনেকেই মনে করেন শহিদ হওয়া মানে শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়। এটি এক পরিবারের স্বপ্ন, এক শিশুর ভবিষ্যৎ, এক স্ত্রীর হাত ধরার আশ্বাস, এক মায়ের বুকজুড়ে থাকা স্নেহ সবকিছুর বদলে দেশকে রক্ষা করার শপথ পালন করা। ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার জীবনও তেমনই একটি অধ্যায়। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সব চিন্তা, সব নিরাপত্তা সবকিছুকে পিছনে ফেলে রেখেছিলেন দেশের জন্য। তাঁর এই অদম্য সাহস এবং কর্তব্যবোধ আজ দেশের কোটি মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
তাঁর সহকর্মীরাও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়েন। অনেকে বলেন, তিনি শুধু একজন অফিসার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বন্ধু, একজন নেতা, একজন পথপ্রদর্শক। তিনি কখনও দলের কাউকে বিপদের সামনে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দিতেন না। তাঁর নেতৃত্বে সবাই আত্মবিশ্বাসী থাকত। এমন মানুষরা সত্যিই বিরল। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু একটা খবর নয় এটি একটি শূন্যতা, যা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, সেখানে আশিস শর্মার মতো হাজার হাজার সাহসী মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাঁদের ত্যাগের কারণেই সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমোতে পারে। কিন্তু সমাজ অনেক সময় এই ত্যাগকে স্বীকৃতি দিতে ভুলে যায়। ইনস্পেক্টর আশিস শর্মার মৃত্যু তাই সবাইকে নতুন করে ভাবিয়েছে আমরা কি সত্যিই যথেষ্ট মূল্য দিই সেই মানুষদের, যারা আমাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে?
শেষকৃত্যের পর তাঁর গ্রাম, তাঁর বাড়ি সবকিছুই যেন এক ধরনের নীরবতায় ঢেকে যায়। কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেই তাঁর ত্যাগের বর্ণনা, তাঁর সাহসের গল্প প্রতিধ্বনিত হতে থাকে বারবার। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর কর্মজীবনের নানা দৃষ্টান্ত। অনেকে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত নরম মন মানুষ, আবার কর্তব্যের সময় ছিলেন কঠোর ও দৃঢ়। এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
আজ তাঁর পরিবার তাঁকে হারিয়েছে, কিন্তু দেশ পেয়েছে এক অমর বীরকে। তাঁর মৃত্যুই নয়, তাঁর জীবনই শেখায় দেশের প্রতি ভালোবাসা শুধু কথায় হয় না; তা প্রমাণ করতে হয় কর্মে, ত্যাগে, সাহসে। তাঁর মতো মানুষরা দেশের প্রকৃত সম্পদ। তাঁর মতো মানুষরা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায় আত্মমর্যাদা ও গৌরবের পথে। তাঁর মতো মানুষরা ইতিহাসে বেঁচে থাকেন চিরদিন।