Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাহুলের জন্য বড় সিদ্ধান্ত! রিঙ্কু-নারাইনকে ছাড়তে হতে পারে কেকেআরকে, দিল্লির সঙ্গে দরাদরিতে জট — ২৩ কোটির তারকাকে ছেড়ে দিচ্ছে হায়দরাবাদ!

আইপিএলের মিনি নিলাম সামনে রেখে সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন ব্যস্ত নিজেদের দল সাজাতে। কোথাও চলছে তারকা ক্রিকেটারদের অদলবদলের আলোচনা, আবার কোথাও নজর দেওয়া হচ্ছে বেতনসীমা সামলে হাতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার কৌশলে। কেউ চায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলে টানতে, কেউ বা আগামি মরসুমে নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত। দল গঠনের এই ব্যস্ত সময়েই শুরু হয়েছে দরাদরি, সম্ভাব্য ট্রেড ও কৌশল নির্ধারণের পর্ব।

আইপিএলের আগামী মরসুমের আগে আয়োজন করা হবে ছোট নিলাম, আর তার আগে ১৫ নভেম্বরই ক্রিকেটার ধরে রাখার শেষ দিন। ঠিক সেই কারণেই এখন সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যস্ত নিজেদের দল গুছিয়ে নিতে—কেউ চাইছে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে ধরে রাখতে, কেউ আবার নতুন তারকা দলে টানার চেষ্টায়। কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের দরাদরি, কোথাও বা টাকাপয়সার হিসেব কষে নতুন কৌশল সাজানো হচ্ছে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গতবার অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর, এবার দল নেতৃত্বে বদল আনতে চাইছে। খবর, কেকেআরের নজর এখন লোকেশ রাহুলের দিকে। রাহুল দলে এলে একসঙ্গে অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক—দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সমস্যা মিটবে বলে মনে করছে তারা। ইতিমধ্যেই রাহুলের সঙ্গে কেকেআরের কর্তাদের কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে, তবে এখনও জট কাটেনি।

দিল্লি ক্যাপিটালস রাহুলকে ছাড়তে কড়া শর্ত দিয়েছে। তারা কেকেআরকে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে—প্রথমটি, রাহুলের বদলে সুনীল নারাইন; দ্বিতীয়টি, রিঙ্কু সিংহ ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী; আর তৃতীয়টি, হর্ষিত রানা ও রঘুবংশীকে দিতে হবে। কিন্তু এই তিন প্রস্তাবের কোনওটিতেই রাজি হয়নি কেকেআর। তারা খেলোয়াড় নয়, অর্থের বিনিময়ে রাহুলকে নিতে চায়। অন্যদিকে, দিল্লির দাবি—রাহুলের মতো মূল ক্রিকেটারের বদলে সমমানের কাউকে দিতে হবে। ফলে রাহুলকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

news image
আরও খবর

এদিকে, নতুন এক চমক দেখা দিয়েছে ট্রান্সফার মার্কেটে—দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যোগ দিতে চলেছেন সঞ্জু স্যামসন। তার বদলে ট্রিস্টান স্টাবস যাচ্ছেন রাজস্থান রয়্যালসে। যদি রাহুল শেষ পর্যন্ত দিল্লিতেই থেকে যান এবং সঞ্জুও যোগ দেন, তবে টপ অর্ডারে দু’জন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার পাবে দিল্লি, যা তাদের ব্যাটিং শক্তি আরও বাড়াবে।

এদিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকেও এসেছে বড় খবর। জানা গেছে, তারা হয়তো হেনরিখ ক্লাসেনকে ছেড়ে দিতে চলেছে। গতবার ক্লাসেনকে ধরে রাখতে ২৩ কোটি টাকা খরচ করেছিল হায়দরাবাদ, যা তাকে দলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারে পরিণত করেছিল। তিনি ১৩ ইনিংসে ১৭২ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তবুও, এবার ক্লাসেনকে ছাড়ার কথা ভাবছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। কারণ, এতে হায়দরাবাদ আরও বেশি অর্থ নিয়ে নিলামে অংশ নিতে পারবে, মিডল অর্ডার ও বোলিং শক্তি মজবুত করতে পারবে। পরিকল্পনা এমনও হতে পারে—নিলামে নামিয়ে কম দামে আবার ক্লাসেনকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া, যাতে বাজেটও বাঁচে এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কেও ধরে রাখা যায়। তবে ক্লাসেন যদি নিলামে যান, তাঁকে ঘিরে এক দারুণ বিডিং ওয়ার হবে বলেই ধরে নেওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, লখনউ সুপার জায়ান্টসেও বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে। গ্লোবাল ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাহির খান, তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন টম মুডি। টম একসময় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন—২০১৬ সালে তাঁর কোচিংয়েই দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে ২০২১ সালে তিনি ফের হায়দরাবাদে যোগ দেন, যদিও ২০২২ সালের পর দায়িত্ব ছাড়েন। এ বার মুডি নতুন করে আইপিএলে ফিরছেন লখনউয়ের হয়ে। তিনি কাজ করবেন প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও পরামর্শদাতা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে, আর তাঁদের নেতৃত্বেই সঞ্জীব গোয়েঙ্কার তিনটি দলের মধ্যে (লখনউ সুপার জায়ান্টস, ডারবান সুপার জায়ান্টস, এবং ম্যাঞ্চেস্টারের দল) আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলা হবে।

Preview image