Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বীভৎস দুর্যোগের সাক্ষী এলাকা, আর্তনাদে ভরেছে আকাশ নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে

বীভৎস দুর্যোগের সাক্ষী হয়ে রইল গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে। চারদিকে শুধু আতঙ্ক, চিৎকার আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। আকাশ যেন ভারী হয়ে উঠেছে কান্নার শব্দে। কোথাও ভেঙে পড়া বাড়ি, কোথাও আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপ, আবার কোথাও জল ও কাদার নিচে চাপা পড়ে রয়েছে মানুষের স্বপ্ন আর জীবন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা। দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে বহু মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কারও বাবা, কারও মা, কারও সন্তান সবার চোখে একই প্রশ্ন, সে কি বেঁচে আছে? উদ্ধারকাজ চললেও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি চলছে হাতেকলমে অনুসন্ধান। প্রতি মুহূর্তেই উদ্ধারকর্মীদের কানে ভেসে আসছে চাপা কান্না বা সাহায্যের আর্তি যা নতুন করে আশা জাগালেও একই সঙ্গে বুকের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যদিও চিকিৎসা পরিকাঠামোর ওপরও প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।

বীভৎস দুর্যোগের সাক্ষী এলাকা, আর্তনাদে ভরেছে আকাশ নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে
জাতীয় সংবাদ

বীভৎস দুর্যোগের সাক্ষী হয়ে রইল গোটা এলাকা। এক মুহূর্তে যেন সবকিছু থমকে গেল, আর পরের মুহূর্তেই শুরু হল বিভীষিকার এক দীর্ঘ অধ্যায়। যে এলাকায় প্রতিদিনের মতোই চলছিল স্বাভাবিক জীবনযাপন, সেখানে আচমকা নেমে এল এমন এক বিপর্যয়, যার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। চারদিকে শুধু চিৎকার, কান্না আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। আকাশ যেন সেই শব্দে ভারী হয়ে উঠেছে। ধোঁয়া, ধুলো, আগুন কিংবা জল যে ধরনের দুর্যোগই হোক না কেন, তার অভিঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল গোটা দৃশ্যপট। মানুষ ছুটছে, কেউ কাউকে ডাকছে, আবার কেউ ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

ঘটনার পরপরই বোঝা যায়, এই দুর্যোগ শুধু ভৌত ক্ষয়ক্ষতিই নয়, মানুষের জীবনে গভীর মানসিক আঘাতও হেনেছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যদের খোঁজে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আত্মীয়স্বজনেরা। কারও ছেলে সকালে কাজে বেরিয়ে আর ফেরেনি, কারও মা বা বাবা বাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা। প্রত্যেকের মুখে একই উৎকণ্ঠা, একই প্রশ্ন সে কি বেঁচে আছে? প্রতিটি মুহূর্ত যেন অসহ্য দীর্ঘ মনে হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজের সংখ্যাও তত বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কোথাও শুধু ভাঙা দেওয়াল, কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আসবাব, আবার কোথাও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে কাদায় বা ধুলোয় মাখামাখি হয়ে। যে ঘর একসময় হাসি আড্ডায় ভরে থাকত, আজ সেখানে শুধু শূন্যতা। কেউ কেউ সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতির ভারে ভেঙে পড়ছেন। অনেকের চোখে জল, আবার অনেকের চোখ শুকিয়ে গেছে হয়তো অতিরিক্ত কান্নার কারণেই।

উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে, কিন্তু কাজ সহজ নয়। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল কর্মী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি একসঙ্গে কাজ করছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় সাবধানে হাতে করেই খোঁজ চালানো হচ্ছে, কারণ সামান্য অসতর্কতায় আরও বিপদ ঘটতে পারে। উদ্ধারকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন, কাজের মাঝে মাঝেই ভেসে আসছে কারও ক্ষীণ আওয়াজ, সাহায্যের আর্তি কিংবা কান্না। সেই শব্দ কখনও নতুন করে আশার আলো দেখায়, আবার কখনও বুকের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আহতের সংখ্যা এতটাই বেশি যে হাসপাতালগুলির ওপর চাপ বেড়েছে বহুগুণ। চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অনেকেই টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশ্রাম ছাড়াই চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। রক্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে এগিয়ে এসেছেন। এই ভয়াবহতার মাঝেও মানবিকতার ছবি ফুটে উঠছে অচেনা মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, খাবার, জল, ওষুধ ভাগ করে নিচ্ছেন।                                                                                                                                     

এলাকার বহু মানুষ রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। ভয়, শোক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে তাঁরা বুঝতে পারছেন না আগামী দিন কী অপেক্ষা করছে। বিদ্যুৎ, জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক জায়গাতেই বিপর্যস্ত। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছে, কেউ আবার নিঃশব্দে তাকিয়ে রয়েছে ধ্বংসের দিকে।

এই বীভৎস দুর্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের সামনে মানুষ কতটা অসহায়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, পরিকাঠামোর মান এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। কান্না আর আর্তনাদে ভরা এই আকাশের নীচে মানুষ আজ শুধু একটাই প্রার্থনা করছে আর যেন কোনও প্রাণ না ঝরে যায়।

দুর্যোগের পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ, জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করছে না, ফলে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। রাতে অন্ধকারে আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে। বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছে। শিশুদের কান্না থামছে না, বৃদ্ধরা ক্লান্ত শরীর নিয়ে কোনওভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। শীত, বৃষ্টি কিংবা ধোঁয়ার মধ্যে দিন কাটানো যেন এক অসম্ভব লড়াই হয়ে উঠেছে।                                                                                                                                                                     

এই দুর্যোগ এলাকাটির চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট সবকিছু যেন একই সঙ্গে আহত হয়েছে। কোথাও ভেঙে পড়া কাঠামো, কোথাও ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, কোথাও আবার ধুলো আর কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে মানুষের স্মৃতি। যে জিনিসগুলো একসময় ছিল অতি সাধারণ, আজ সেগুলিই হয়ে উঠেছে হারিয়ে যাওয়া জীবনের নিদর্শন। অনেকেই সেই ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়ে নির্বাক হয়ে আছেন, চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে, মুখে কোনও শব্দ নেই। শোক যেন শব্দের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনে গভীর ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন বা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, তাদের মানসিক আঘাত সহজে সেরে উঠবে না। শিশুদের মনে এই স্মৃতি দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। অনেকেই ঘুমোতে পারছেন না, চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলির ছবি। মনোবিদরা বলছেন, ভবিষ্যতে মানসিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়বে।

news image
আরও খবর

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে সবকিছু স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল কি না। আগাম সতর্কতা বা পরিকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। কেউ বলছেন, এমন শব্দ আর চিৎকার জীবনে শোনেননি। কেউ আবার জানাচ্ছেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই কয়েক সেকেন্ডই বদলে দিয়েছে বহু মানুষের ভবিষ্যৎ। একসময় যে এলাকায় উৎসব, আনন্দ আর স্বাভাবিক জীবন ছিল, আজ সেখানে শুধু শোক আর অনিশ্চয়তা।

তবু এই অন্ধকারের মধ্যেও কিছু আলো দেখা যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, স্বেচ্ছাসেবীদের নিঃস্বার্থ সাহায্য এবং সাধারণ মানুষের সহানুভূতি প্রমাণ করছে যে বিপর্যয়ের মুখেও মানবতা হারিয়ে যায় না। কেউ নিজের ক্ষতি ভুলে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন, কেউ আবার নিখোঁজদের খোঁজে দিনরাত এক করে দিচ্ছেন। এই ঐক্যই হয়তো ভবিষ্যতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে।

নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি উদ্ধার মানেই নতুন করে আশার সঞ্চার। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থ অনুসন্ধানও বাস্তবতার কঠিন আঘাত এনে দিচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যতক্ষণ না শেষ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে, উদ্ধারকাজ চলবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আপডেট দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

এই বীভৎস দুর্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিল, মানুষ প্রকৃতির সামনে কতটা অসহায়। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এক মুহূর্তের বিপর্যয় সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আরও সচেতনতা, আরও প্রস্তুতি এবং আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হল প্রাণ বাঁচানো, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর্তনাদে ভরা এই আকাশের নীচে আজ একটাই প্রার্থনা এই ভয়াবহতার যেন দ্রুত অবসান হয়, আর মানুষ যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

 

 

 

 

 

Preview image