Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বুকে স্টেন্ট বসানোর পর সুস্থ নচিকেতা, হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে জানালেন ‘অবশেষে খাঁচা ভেঙে…

জনপ্রিয় গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়ায় তাঁর বুকে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়। চিকিৎসার পর দ্রুত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তিনি এবং খুব শিগগিরই আবার মঞ্চে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহের শনিবার রাতটি আচমকাই বদলে গিয়েছিল জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকার নচিকেতা চক্রবর্তীর জীবনে। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক দিন কাটানোর পর হঠাৎ করেই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি বলে মনে হলেও দ্রুত ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক মুহূর্ত দেরি না করে পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা তাঁকে শহরের বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে পৌঁছনোর পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই চিকিৎসকদের সন্দেহ হয় হৃদ্‌যন্ত্রজনিত সমস্যার। সঙ্গে সঙ্গে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করার এবং নচিকেতার বুকে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলা সঙ্গীত জগতসহ গোটা শিল্পীমহলে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। নচিকেতা চক্রবর্তী মানেই প্রতিবাদী গান, সামাজিক বার্তা, স্পষ্টভাষী মনোভাব এবং নির্ভীক শিল্পীসত্তা। সেই মানুষটির অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনুরাগীরা। সমাজমাধ্যমে একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা, প্রার্থনা এবং দ্রুত আরোগ্য কামনায় ভরে ওঠে ফেসবুক, এক্স (প্রাক্তন টুইটার) ও ইনস্টাগ্রাম।

স্টেন্ট বসানোর পর নচিকেতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হতে থাকে। কয়েকদিন তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছনোর কারণেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনও জটিলতা দেখা দেয়নি।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে কয়েকদিন থাকার পর অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছুটি পান নচিকেতা চক্রবর্তী। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বাড়ি ফেরার পরই নিজের সুস্থতার খবর সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন এই জনপ্রিয় গায়ক। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে নচিকেতা লেখেন, “অবশেষে খাঁচা ভেঙে…।” এই একটি লাইনেই যেন তাঁর চিরচেনা প্রতিবাদী সত্তা ও জীবনবোধের প্রতিফলন ঘটে।

নচিকেতার এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার অনুরাগী কমেন্ট করে তাঁর দ্রুত আরোগ্যে আনন্দ প্রকাশ করেন। কেউ লেখেন, “আপনি সুস্থ থাকলেই গানগুলো আরও শক্তিশালী হবে,” কেউ আবার বলেন, “ফিরে আসুন আগের মতো, আমরা অপেক্ষায় আছি।” বহু তরুণ শিল্পী ও সহকর্মীও তাঁর সুস্থতার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

নচিকেতা অসুস্থ থাকাকালীন তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী গায়কের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেন নচিকেতার চিকিৎসা পদ্ধতি ও বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন নচিকেতার পরিবার ও অনুরাগীরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নচিকেতা চক্রবর্তী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রায়শই মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গান গাইতে দেখা যায় তাঁকে। কিছুদিন আগেই এক মঞ্চে দু’জনের দেখা হলে স্নেহের বশে মুখ্যমন্ত্রী নচিকেতাকে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া ও নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন সেই কথাকে নিছক স্নেহপূর্ণ মন্তব্য হিসেবেই দেখা হলেও, আজ তা যেন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

নচিকেতার অসুস্থতার খবর পেয়ে সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গীতশিল্পী ও কবি ইমন চক্রবর্তী, অঞ্জন দত্ত, রূপঙ্কর বাগচীসহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কেউ কেউ স্মরণ করিয়ে দেন, বছরের পর বছর ধরে টানা শো, ভ্রমণ এবং মানসিক চাপ শিল্পীদের স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, পরপর শো, অনিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং মানসিক চাপই নচিকেতার এই অসুস্থতার অন্যতম কারণ হতে পারে। যদিও পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের কাজে ডুবে ছিলেন এবং শরীরের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেননি। এই ঘটনাই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, যত বড় শিল্পীই হোন না কেন, নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
 

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা এক মুহূর্ত দেরি না করে তাঁকে শহরের বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। ইসিজি, রক্তপরীক্ষা এবং অন্যান্য কার্ডিয়াক পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফল হাতে আসতেই চিকিৎসকদের স্পষ্ট হয়ে যায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।

news image
আরও খবর

চিকিৎসকদের দল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করার। সেই অনুযায়ী ক্যাথল্যাবে নিয়ে গিয়ে নচিকেতার হৃদ্‌যন্ত্রে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রে জমে থাকা ব্লক পরিষ্কার করে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়। কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

নচিকেতার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলা সঙ্গীত জগতে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। নব্বইয়ের দশক থেকে যিনি প্রতিবাদী গানের এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর, যাঁর গানে উঠে এসেছে সমাজ, রাজনীতি, প্রেম, যন্ত্রণা ও মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন—সেই মানুষটির হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা হওয়ার খবর মেনে নিতে পারছিলেন না অনুরাগীরা। সমাজমাধ্যমে একের পর এক পোস্টে ভরে ওঠে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনার বার্তা।

স্টেন্ট বসানোর পর নচিকেতাকে কয়েকদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন এবং অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। ধীরে ধীরে তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এই কয়েকদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই তিনি উপলব্ধি করেন, জীবনের গতি হয়তো একটু থামিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

হাসপাতালে থাকার সময় নচিকেতার সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গায়কের পাশে বসে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, চিকিৎসকদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেন নচিকেতার চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ নচিকেতা ও তাঁর পরিবারের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নচিকেতা চক্রবর্তীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও সামাজিক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গান গাইতে দেখা যায় নচিকেতাকে। কিছুদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে দু’জনের দেখা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্নেহের সুরে নচিকেতাকে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা বলেছিলেন। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন কি না, বিশ্রাম নিচ্ছেন কি না—এই সব নিয়েই তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই মুহূর্তটি এখন যেন আরও গভীর অর্থ বহন করে।

নচিকেতা অসুস্থ থাকাকালীন সমাজমাধ্যমে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, রূপঙ্কর বাগচী, ইমন চক্রবর্তীসহ বহু শিল্পী, লেখক ও সংস্কৃতিজগতের মানুষ। সাধারণ অনুরাগীরাও তাঁদের আবেগ উজাড় করে দেন। কেউ লেখেন, “আপনার গান আমাদের লড়াই করতে শিখিয়েছে, আপনি নিজেও লড়াই করুন।” কেউ আবার বলেন, “নচিকেতা মানেই হার না মানা।”

তবে সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বর্তমানে নচিকেতা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং নিয়মিত ওষুধ, ডায়েট ও হালকা শরীরচর্চার নির্দেশ দিয়েছেন। আপাতত কোনও শো বা দীর্ঘ সফরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যদিও খুব শিগগিরই তিনি আবার মঞ্চে ফিরবেন বলে জানানো হয়েছে।

পরিবার ও অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে নচিকেতা জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের দিকে নতুনভাবে তাকাতে শিখিয়েছে। তিনি বলেছেন, “জীবন আবার একটা সুযোগ দিয়েছে। এবার আরও সচেতনভাবে, আরও দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে চাই।” তাঁর এই বক্তব্যে অনুরাগীরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

বাংলা আধুনিক গানের জগতে নচিকেতা চক্রবর্তী এক অনন্য নাম। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তাঁর গান সমাজের নানা অসঙ্গতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রেম, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রণাকে স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছে। “রাজশ্রী,” “এই বেশ ভালো আছি,” “অন্তবিহীন পথচলা,” “নীলাঞ্জনা”—এমন অসংখ্য গান আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুখে মুখে ফেরে।

তাঁর অসুস্থতার খবর তাই শুধু একজন শিল্পীর অসুস্থতা নয়, বহু মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অগণিত অনুরাগী।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বড় বিপদ কেটে গিয়েছে। ফাইটার নচিকেতা আবারও লড়াই জিতে ফিরেছেন। এবার হয়তো একটু ধীরে, একটু সচেতনভাবে, কিন্তু আগের মতোই দৃঢ় কণ্ঠে, স্পষ্ট ভাষায় গান গাইবেন তিনি—এমনটাই আশা করছেন তাঁর অনুরাগীরা। বাংলা সঙ্গীত জগত আবারও অপেক্ষায়, নচিকেতার প্রত্যাবর্তনের।

Preview image