Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা: ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি কুমার শানুর

রোম্যান্টিক গানের কিংবদন্তি কুমার শানু প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নিয়ে মুম্বই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

রোম্যান্টিক গানের কিংবদন্তি থেকে আইনি লড়াই: প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় কুমার শানু

এক সময় বলিউডের রোম্যান্টিক গানের মানেই ছিল তাঁর কণ্ঠ। প্রেম, বিচ্ছেদ, আশা আর হাহাকারের আবেগ—সবই যেন একসূত্রে বেঁধে দিতেন কুমার শানু। নব্বইয়ের দশকে যাঁর গান ছাড়া হিন্দি সিনেমা কল্পনাই করা যেত না, সেই শিল্পী আজ খবরের শিরোনামে একেবারে ভিন্ন কারণে। সংগীত নয়, বরং আইনি লড়াই তাঁকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন কুমার শানু। মুম্বই হাইকোর্টে দায়ের করা এই মামলায় গায়কের দাবি—৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে তাঁর বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় না করা হয়, সে বিষয়েও আদালতের কড়া নির্দেশ চেয়েছেন তিনি।

কী নিয়ে এই মামলা?

কুমার শানুর আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রীতা ভট্টাচার্য একাধিক সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে গায়ক ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং মানহানিকর। ওই মন্তব্যগুলি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়েই যায়নি, বরং একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সামাজিক সম্মান, পেশাগত ভাবমূর্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মন্তব্যগুলির ফলে কুমার শানু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একজন জনপ্রিয় পাবলিক ফিগার হওয়ার কারণে এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাঁর ভাবমূর্তিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে—এমনটাই দাবি মামলায়।

২০০১ সালের বিচ্ছেদ ও পারস্পরিক চুক্তি

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ২০০১ সালের বিবাহবিচ্ছেদের সময় আদালতে গৃহীত একটি পারস্পরিক সম্মতির শর্ত। বান্দ্রার পারিবারিক আদালতে সেই সময় কুমার শানু ও রীতা ভট্টাচার্য আইনিভাবে আলাদা হন। সেই বিচ্ছেদের সময় দু’পক্ষই আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও অভিযোগ বা মন্তব্য করবেন না।

কুমার শানুর পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, এই চুক্তি ছিল বাধ্যতামূলক এবং আইনগতভাবে বৈধ। অথচ সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে সেই চুক্তি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, প্রায় ২৪ বছর ধরে এই শর্ত মেনে চলার পর হঠাৎ করে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলা শুধু চুক্তিভঙ্গই নয়, আইনের চোখেও গুরুতর অপরাধ।

২০২৫ সালের সাক্ষাৎকার ও বিতর্কের সূত্রপাত

আইনি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। ওই সাক্ষাৎকারে রীতা ভট্টাচার্য তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং পরবর্তী সময়ের ঘটনা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

কুমার শানুর দাবি, ওই সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত অভিযোগগুলির কোনও প্রমাণ নেই এবং সেগুলি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। শুধু অতীতের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, তাঁর বর্তমান পরিবারকেও টেনে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে তাঁর সন্তান, স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ও আধুনিক মানহানি

এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। আইনজীবীদের মতে, আজকের দিনে একটি মন্তব্য বা পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে কোনও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।

কুমার শানুর আইনজীবীরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম) সহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে বিতর্কিত পোস্ট, ভিডিও এবং সাক্ষাৎকারগুলি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের কনটেন্ট প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করারও আবেদন জানানো হয়েছে।

৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ— কেন এত বড় অঙ্ক?

এই মামলায় সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হলো ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি। অনেকের কাছেই প্রশ্ন উঠছে— কেন এত বড় অঙ্ক?

আইনজীবীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে—

  • কুমার শানুর দীর্ঘ সংগীতজীবন ও অর্জিত সুনাম

  • তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনমানসে অবস্থান

  • অভিযোগগুলির ব্যাপক প্রচার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

  • মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক হেনস্থা

আইনি নথিতে বলা হয়েছে, এটি শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়; বরং একজন শিল্পীর সম্মান ও মর্যাদার প্রতীকী মূল্য হিসেবেও এই অঙ্ক দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি কুমার শানু আদালতের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও চেয়েছেন। মামলায় বলা হয়েছে, একই সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে যেখানে অভিযোগগুলি প্রকাশিত হয়েছে, সেখানেই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানহানির মামলায় এই ধরনের দাবি অস্বাভাবিক নয়। কারণ এতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের মানসিক শান্তি নয়, জনসমক্ষে তাঁর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করার সুযোগও তৈরি হয়।

বলিউডে প্রতিক্রিয়া ও চর্চা

এই ঘটনার পর থেকেই বলিউডে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নব্বইয়ের দশকের একাধিক শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন এমনিতেই কৌতূহলের বিষয়। তার উপর দীর্ঘ ২৪ বছর পর পুরনো সম্পর্ক ঘিরে আইনি লড়াই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির বহু শিল্পী প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি, তবে আড়ালে অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মনে করছেন। কারও মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়ানো দুর্ভাগ্যজনক; আবার কেউ কেউ বলছেন, সম্মান রক্ষার প্রশ্নে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।

news image
আরও খবর

রীতা ভট্টাচার্যের অবস্থান

এই মামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রীতা ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। আইনি মহলের ধারণা, আদালতে তিনি তাঁর বক্তব্য ও যুক্তি পেশ করবেন। সম্ভবত সাক্ষাৎকারগুলির প্রেক্ষাপট, বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরা হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম আদালত-স্বীকৃত চুক্তি—এই দুইয়ের সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে মামলার গুরুত্ব

এই মামলা শুধুমাত্র দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। এটি ভবিষ্যতে সেলিব্রিটি বিবাহবিচ্ছেদ, নন-ডিসক্লোজার চুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় নজির স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
 

মামলার সূত্রপাত কোথায়?

কুমার শানুর আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রীতা ভট্টাচার্য একাধিক সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে গায়ক সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। ওই বক্তব্যগুলির মাধ্যমে কুমার শানুকে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আইনি নথিতে বলা হয়েছে, এই মন্তব্যগুলি কেবল ব্যক্তিগত আক্ষেপ বা মতামত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ফলে সেগুলি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং গায়কের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত ভাবমূর্তি ও মানসিক শান্তিতে গুরুতর প্রভাব ফেলে।


বিচ্ছেদ হলেও বন্ধ হয়নি আইনি দায়িত্ব?

২০০১ সালে বান্দ্রার পারিবারিক আদালতে আইনিভাবে বিচ্ছেদ হয় কুমার শানু ও রীতা ভট্টাচার্যের। সেই সময় উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মত হয়েছিলেন— ভবিষ্যতে কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও অভিযোগ করবেন না।

এই শর্তটিই এখন মামলার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়। কুমার শানুর দাবি, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তিনি এই চুক্তি মেনে চলেছেন। অথচ সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলির মাধ্যমে রীতা ভট্টাচার্য আদালতে গৃহীত সেই শর্ত ভেঙেছেন।

আইনজীবীদের মতে, আদালতে গৃহীত এই ধরনের চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। তাই এটি লঙ্ঘন করা মানে শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসভঙ্গ নয়, বরং আইনের লঙ্ঘনও।


২০২৫ সালের সেই সাক্ষাৎকার

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। ওই সাক্ষাৎকারে রীতা ভট্টাচার্য তাঁদের দাম্পত্য জীবন, বিচ্ছেদ এবং অতীতের কিছু ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন।

এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসার পর তা দ্রুত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা। কুমার শানুর অভিযোগ, ওই বক্তব্যে একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।


পরিবারকে টেনে আনার অভিযোগ

মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো— এই মন্তব্যগুলির ফলে কুমার শানুর বর্তমান পরিবারও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনি নথিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ্যে এনে তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অযাচিত বিতর্কের মুখে ফেলা হয়েছে।

একজন পাবলিক ফিগারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে আলাদা রাখা অত্যন্ত কঠিন। এই কারণেই মানহানির প্রভাব সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হয়— এমনটাই যুক্তি গায়কের পক্ষের আইনজীবীদের।


সোশ্যাল মিডিয়া: আধুনিক সময়ের আদালত?

এই মামলায় সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আজকের দিনে একটি পোস্ট বা মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ প্রায় থাকে না।

কুমার শানুর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), ইউটিউব সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও পোস্ট বা সাক্ষাৎকার প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে—

  • বিচ্ছেদের সময় করা পারস্পরিক চুক্তি কতটা বাধ্যতামূলক?

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ব্যক্তিগত মন্তব্য মানহানির আওতায় পড়বে কি না?

  • ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে আদালত কোন মানদণ্ড গ্রহণ করবে?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর আদালতের রায়েই স্পষ্ট হবে।

সংগীতের মানুষ, কিন্তু সম্মানের প্রশ্নে আপসহীন

কুমার শানু বরাবরই আলোচনার বাইরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন রাখার চেষ্টা করেছেন। সংগীতই ছিল তাঁর পরিচয়। কিন্তু এই মামলার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন— সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে তিনি কোনও আপস করতে রাজি নন।

এক সময় যাঁর কণ্ঠে প্রেমের গান শুনে কোটি মানুষ আবেগে ভেসেছেন, আজ সেই শিল্পী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিজের সম্মান রক্ষার লড়াই লড়ছেন। এটি যেমন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম, তেমনই আধুনিক সময়ে খ্যাতি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আইনের জটিল সম্পর্কের প্রতিফলনও।

সামনে কী হতে পারে?

এখন সব নজর মুম্বই হাইকোর্টের দিকে। আদালত প্রাথমিকভাবে মামলাটি গ্রহণ করার পর কোন নির্দেশ দেয়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি হয় কি না, বিতর্কিত কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ আসে কি না—সেসবের উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপথ।

২৪ বছর আগে আইনি বিচ্ছেদ হলেও, এই মামলা প্রমাণ করে— কিছু অধ্যায় সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হলেও পুরোপুরি শেষ হয় না। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই ঠিক করবে, এই দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিণতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Preview image