Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হেরিটেজ বিজনেস স্কুলে টেকসই উন্নয়ন: একটি আন্তর্জালীন প্ল্যাটফর্মের গল্প

হেরিটেজ বিজনেস স্কুলে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কলকাতা: হেরিটেজ বিজনেস স্কুল (HBS) সম্প্রতি “Sustainable Development: Views from Different Perspectives 2.0” শীর্ষক দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে, যা ৭ ও ৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণা ও নীতি নির্মাণে শিক্ষার্থী, একাডেমিক, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।  হেরিটেজ বিজনেস স্কুল পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা উচ্চমানের ব্যবসায়িক শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য পরিচিত। স্কুলটির ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সৃজনশীল ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনার জন্য একটি আদর্শ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।  সম্মেলনের আয়োজক চেয়ারপার্সন ছিলেন প্রফেসর অনুপ কুমার সিনহা, যিনি শিক্ষাবিদ ও ব্যান্ডান ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। তাঁর নেতৃত্বে এই আয়োজন কেবল আলোচনা বা প্রেজেন্টেশনের মঞ্চ নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।  সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট একাডেমিক এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, যারা টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায্যতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পুনরুজীবন কৃষি মডেল নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু দায়বদ্ধতা, SDG বাস্তবায়ন এবং কর্পোরেট দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা শুধুমাত্র ধারণা বিনিময় করেনি, বরং নীতি প্রস্তাবনা, গবেষণা ফলাফল এবং কর্পোরেট বাস্তবায়নের কৌশল উপস্থাপন করেছেন। এটি টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে HBS এমন সম্মেলনকে নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করতে পারে, যা গবেষণা ও নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। সম্মেলন শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব‑জ্ঞান ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য কার্যকর পরিবর্তনের ধারণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। সংক্ষেপে, হেরিটেজ বিজনেস স্কুলের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন চর্চার সাথে ভারতীয় একাডেমিক ও শিল্প সম্প্রদায়ের সংযোগ ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

হেরিটেজ বিজনেস স্কুলে টেকসই উন্নয়ন: একটি আন্তর্জালীন প্ল্যাটফর্মের গল্প

কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন (sustainable development) কেবল একটি নীতিমালা বা আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটি একটি জরুরি বাস্তবতা হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে, হেরিটেজ বিজনেস স্কুল (HBS), কলকাতা তার শিক্ষা ও গবেষণার মিশনকে আরও একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে একটি শক্তিশালী উদ্যোগ নিয়েছে — “Sustainable Development: Views from Different Perspectives 2.0” নামে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনটি ৭ ও ৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে হেরিটেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। 

এই আয়োজন শুধু শিক্ষাব্যবস্থা বা ব্যবসায়িক স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি এক অভিজাত প্ল্যাটফর্ম যেখানে একাডেমিক, গবেষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকরা একসাথে বসেছিলেন টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়ে মানসম্মত ও গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য। 


হেরিটেজ বিজনেস স্কুল: প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

হেরিটেজ বিজনেস স্কুল পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার অংশ Heritage Group of Institutions-এর।  এটি একটি MBA‑প্রোগ্রাম পরিচালনা করে, এবং তার ভিজন হিসেবে রয়েছে শুধু ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়াই নয়, বরং সামাজিক দায়বোধ, গুণগত শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ গঠন করা। 

স্কুলটির ক্যাম্পাসটি সবুজ, প্রশান্তিপূর্ণ এবং একাগ্রতা বাড়ানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে — যা শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক গ্রোথের জন্য নয়, মানসিকভাবে ভাবতে এবং নতুন ধারণা গড়ার জন্য আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, HBS ইতিমধ্যেই গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে “Sustainable Development: Views from Different Perspectives” নামে একটি ভার্চুয়াল দুই-দিবসের সম্মেলন করেছিলেন তারা, যেখানে যুক্ত ছিল একটি ইউকে‑ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়।  এই ইতিহাস এবং অভিজ্ঞতা তাদের দক্ষতা এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রমাণ করে — শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যার প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম এক সক্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে।


সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও থিম

“Sustainable Development: Views from Different Perspectives 2.0” নামক এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে একটি বহুমাত্রিক আলোকে পুনর্বিচার করা। সাধারণভাবে, টেকসই উন্নয়নকে আমরা পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু এই সম্মেলনে পরিকল্পিত ছিল যে বিষয়টি তার বিস্তৃত অর্থে তুলে ধরা হবে — অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ন্যায্যতা, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং দায়বদ্ধ শাসনব্যবস্থার মতো দৃষ্টিকোণও মান্য হবে। 

প্রযুক্তিগত বিপ্লব, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা — এই সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেই, হেরিটেজ বিজনেস স্কুল এই সম্মেলনকে একটি আন্তঃশৃঙ্খল গ্যালারি হিসেবে গড়ে তুলেছে, যেখানে একাডেমিয়া, শিল্প এবং নীতি-গঠনকারী এক সঙ্গে মিলিত হয়ে এক নতুন টেকসই উন্নয়ন বাস্তবতা গড়ার চিত্র অঙ্কন করতে পারে।


আয়োজক ও নেতৃত্ব

এই সম্মেলনের আয়োজক চেয়ারপার্সন হিসাবে ছিলেন প্রফেসর অনুপ কুমার সিনহা, যিনি HBS-এর চিফ মেন্টর এবং ব্যান্ডান ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকও।  তাঁর নেতৃত্বে, এই আয়োজন শুধু পুঙ্খানুপুঙ্খ academic আলোচনা নয়, বরং গভীর দর্শনীয় অনুভূতি এবং কাজ‑যোগ্য ফলাফল তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করেছিল।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, “টেকসই উন্নয়ন আজ শুধুমাত্র একটি নীতিগত এজেন্ডা নয়; এটি সমাজ কিভাবে কাজ করে এবং অর্থনীতি কিভাবে বৃদ্ধি পায় তা পুনরায় চিন্তার বিষয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, HBS শুধু বিষয়ভিত্তিক আলোচনার জন্য এটি আয়োজন করেছে না — বরং তাদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তৈরি করা, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা এবং নীতি একসাথে কাজ করবে।

প্রদীপ আগরওয়াল, Heritage Group of Institutions-এর CEO, এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব শুধুমাত্র ভবিষ্যতের নেতাদের তৈরি করা নয়, বরং এমন চর্চার জায়গা তৈরি করা যেখানে গবেষক, শিক্ষার্থী, এবং শিল্প-নীতিনির্ধারকরা একসাথে চিন্তা করতে পারে এবং বাস্তব পরিবর্তন ঘটাতে পারে। 


বক্তারা ও অংশগ্রহণকারীরা: বৈচিত্র্যময় এক সংমিশ্রণ

এই দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন একাধিক বিশিষ্ট বক্তা এবং অংশগ্রহণকারী। পৃথক প্রযুক্তিগত সেশন এবং প্যানেল আলোচনায় যুক্ত ছিলেন উচ্চস্তরের একাডেমিক, গবেষক ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষভাবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন:

  • প্রফেসর অভিমান দাস (IIM আহমেদাবাদ)

  • প্রফেসর রমনMurthy (হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়)

  • প্রফেসর সুরজিৎ মজুমদার এবং প্রফেসর রোহিত আজাদ (JNU)

  • প্রফেসর অনির্বাণ দাশগুপ্ত (IIIT হায়দ্রাবাদ)

  • প্রফেসর সৌম্যাচরিত্র স্ম ভ্যাটভর্তি (বিশ্বভারতী)

  • প্রফেসর কৌশটভ ব্যানার্জী (অম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি)

  • প্রফেসর রোহিত নেইগি (IIM কলকাতা)

  • প্রফেসর জেনিয়া মুখার্জী (IIT খড়গপুর)

  • Ms. কাভ্যা সেকর (BCG‑কনসালট্যান্ট)

  • প্রফেসর নিলোশ্রী ভট্টাচার্য এবং প্রফেসর সুরঞ্জনা বানার্জী (প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা)

  • Mr. স্বর্ণভ রায় (ডেটা সায়েন্টিস্ট, Elusions Inc., USA)

এই বৈচিত্র্যময় বক্তা তালিকা প্রমাণ করে যে সম্মেলনটি শুধুমাত্র ভারতের সীমাবদ্ধ ছিল না — আন্তর্জাতিক ও আন্তঃশ্ৰেণীভিত্তিক দৃষ্টিকোণকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছিল। 


সম্মেলনের মূল বিষয় ও আলোচনাপ্রবাহ

সম্মেলনের বিভিন্ন সেশন এবং প্যানেল আলোচনায় বেশ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক থিম ছিল, যা টেকসই উন্নয়নের বহুমাত্রিকতা প্রতিফলিত করে। APN News-এর প্রতিবেদনে দেখা যায় যে এই থিমগুলির মধ্যে ছিল:

  1. খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তা: পরিবর্তনশীল বিশ্বে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। গবেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন কিভাবে উত্পাদন পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক আগ্রগতি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গঠন করতে পারে।

  2. বিকল্প এবং পুনরুজীবন কৃষি মডেল: কার্বন-নিরপেক্ষকরণের বাইরেও, পুনরুজীবন (regenerative) কৃষি পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পন্থাগুলি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং মাটি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রাখে।

  3. জলবায়ু দায়বদ্ধতা ও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ: শুধুমাত্র কার্বন নির্গমন কমানোই যথেষ্ট নয় — এটি মানব, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করতে হবে। পরিবেশগত দায়বদ্ধতার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায্যতা (social equity) এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতাও আলোচনা হয়েছে।

  4. SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পূরণে নতুন পরিপ্রেক্ষিত: কিভাবে সম্পূর্ণ SDG ফ্রেমওয়ার্ককে একটি কার্যকর কাঠামোর অংশ হিসেবে গঠন করা যায়, বিশেষ করে দেশগুলোর ভিন্ন চাহিদা ও প্রেক্ষাপট বুঝে।

  5. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: টেকসই মডেল তৈরি করতে অর্থনীতির নিম্ন ও মধ্যস্তরের অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে কীভাবে নীতি এবং কর্পোরেট প্র্যাকটিস কাজ করতে পারে, সে পথে যদি আলোচনা করা হয়, তা খুব গুরুত্ব বহন করে।

এসব আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা শুধু ধারণা বিনিময় করেনি — তারা নতুন গবেষণা উপস্থাপন করেছেন, নীতিমালা গঠনের জন্য প্রস্তাবনা করেছেন এবং এমন কাঠামো তৈরি করার দৃষ্টিভঙ্গা সামনে রেখেছেন যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সমাধানে প্রযোজ্য হতে পারে।


প্রত্যাশা, ফলাফল ও ভবিষ্যত প্রভাব

সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল — শিক্ষা, নীতি এবং শিল্প খাতের মধ্যে আন্তঃশ্রেণীয় সহযোগিতা গড়ে তোলা। এটি শুধু আলোচনা না, বরং ক্রিয়া‑নির্ভর সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব আচার-ব্যবহার (actionable frameworks) তৈরি করতে চেয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা আলোচনার ফল থেকে একাধিক সম্ভাব্য ফলাফল এবং কর্মদিশা তুলে ধরেছেন:

news image
আরও খবর
  • নীতি গঠনে নতুন নির্দেশিকা বা প্রস্তাব: টেকসই নীতিমালা গঠন করার ক্ষেত্রে সরকারের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এবং কর্পোরেট দুনিয়ার জন্য স্পষ্ট প্রস্তাবাবলী তৈরি।

  • একাডেমিক ও গবেষণা অংশীদারি বৃদ্ধি: বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া এবং গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনা। এটি তরুণ গবেষকদের জন্য একটি চালিকা শক্তি হতে পারে যাতে তারা টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে।

  • শিল্প এবং কর্পোরেট বাস্তবতা সঙ্গে একত্রীকরণ: কর্পোরেট সংস্থাগুলোর নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে এমন মডেল প্রস্তাব করা যা মুনাফার পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বোধও বিবেচনায় রাখে।

  • শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থী, শিক্ষিকা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গঠনমূলক অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান।

  • দীর্ঘমেয়াদী ফলস্বরূপ, এই ধরনের বার্ষিক বা নিয়মিত সম্মেলন গড়িয়া ওঠা যেতে পারে যা ভবিষ্যতে গ্লোবালি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম — গবেষণা, নীতি ও কর্পোরেট চর্চার একটি সম্প্রদায় হিসেবে কাজ করবে।

প্রফেসর অনুপ কুমার সিনহা একবার মন্তব্য করেছিলেন, “যখন শিক্ষাবিদরা, নীতিনির্ধারকরা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞরা একত্রে আসে, তখন আমরা কেবল আলোচনা করি না, আমরা কার্যকর পরিবর্তনের চিত্র আঁকে। এই স্লোগানটি সম্মেলনের মূল চাহিদা ও মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।


চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

যদিও এই ধরণের সম্মেলন অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্ররোচনামূলক, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতাও রয়েছে যেগুলো বিবেচনায় রাখা দরকার:

  1. ব্যবহারিক বাস্তবায়ন: বাস্তব জীবনে প্রস্তাবিত কাঠামো এবং নীতিমালা কার্যকর করা সব সময় সহজ হয় না। অনেক সময় সরকারি বাধা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা কর্পোরেট স্বার্থ এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে তোলে।

  2. সম্পৃক্ততা বজায় রাখা: একবার সম্মেলন শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রকল্প চালু রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী পার্টনারশিপ গড়তে হলে নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন।

  3. সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও তহবিল: টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত উচ্চগুণমান গবেষণা চালিয়ে যেতে তহবিল এবং উৎস পাবলিক ও প্রাইভেট উভয় ক্ষেত্রেই জরুরি। যদি গবেষণা কম অর্থায়ন পায়, তবে প্রস্তাবিত ধারণাগুলি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

  4. মুখ্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ: টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা অত্যন্ত বিস্তৃত — সব থিমে সমান গুরুত্ব দেওয়া কঠিন। কোন থিমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এবং সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়া হবে, এটি একটি নীতি‑গত চ্যালেঞ্জ।

  5. পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্ব: জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা প্রযুক্তিগত বিপ্লব দ্রুত পরিবর্তন করছে। এই ক্ষেত্রে, আজ প্রস্তাব করা ধারণা বা মডেল আগামী বছরগুলিতে প্রাসঙ্গিক না হতে পারে; তাই গঠনমূলক এবং অভিযোজ্য কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য।


প্রসঙ্গ প্রদান: অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত উদ্যোগ

হেরিটেজ বিজনেস স্কুল একা নয় এই ধরনের উদ্যোগে। ভারতে এবং বিশ্বব্যাপী অন্যান্য B‑স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই টেকসই উন্নয়ন ও ESG (পরিবেশ, সামাজিক ও শাসন) চ্যালেঞ্জ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ:

  • ASBM University তাঁর IMCon’25 সম্মেলনে “সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি” বিষয়ে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিল। 

  • IIM Bodh Gaya তার ICSG 2.0 সম্মেলনে “Sustainability Imperative: Challenges and Implications to Businesses, Government, and Society” থিম নিয়েছিল। 

  • এছাড়া, বৈশ্বিক মঞ্চে যেমন World Sustainable Development Summit (WSDS) রয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, পলিসি দৃষ্টিকোণ ও বৈশ্বিক সমাধান নিয়ে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখে। 

এই তুলনামূলক প্রেক্ষাপট দেখায় যে, HBS‑এর নীতি এবং আয়োজন একটি বৃহত্তর গ্লোবাল প্রবণতার অংশ, এবং একই সঙ্গে এটি স্থানীয় প্রভাব গড়ে তুলতে সক্ষম।


শিক্ষা, গবেষণা ও কর্পোরেট দৃষ্টিকোণ থেকে প্রভাব

এই সম্মেলন শুধু বক্তব্য ও আলোচনার মঞ্চই ছিল না, বরং একটি ইনোভেটিভ ও সমন্বিত শিক্ষা এবং গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করেছে:

  • শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: HBS‑এর ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকেরা এই সম্মেলন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র সেশন শোনা নয়; তারা আলোচনায় একইভাবে যুক্ত ছিল, প্রশ্ন তুলছিল এবং ভবিষ্যতের পন্থা প্রস্তাব করছিল। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক বাস্তব‑জ্ঞান ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ।

  • গবেষণার বিকাশ: একাডেমিক অংশীদার এবং গবেষকরা এই সম্মেলনে নতুন গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। এমন গবেষণা যা শুধুমাত্র তাত্ত্বিক নয়, বাস্তব বিশ্বের সমস্যা — খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি মডেল, শাসন কাঠামো — এই সব দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তাব করেছে।

  • কর্পোরেট অংশীদারিত্ব: শিল্প বিশেষজ্ঞরা তাদের দৃষ্টিতে কাজ করছে টেকসই মডেল গড়তে। কর্পোরেট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বুঝতে পারেন কিভাবে টেকসই উন্নয়ন তাদের ব্যবসায়িক মডেলে সংহত করা যেতে পারে এবং নতুন দায়বদ্ধ ব্যবসায়িক কৌশল গঠন করা যায়।

  • নীতি প্রভাব: সভার ফলাফল ও প্রস্তাবনাগুলি নীতিনির্ধারকদের সামনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের সম্মেলন নীতিমালা গঠনে প্রবৃদ্ধি এবং পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে, বিশেষত স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে।


ভবিষ্যতের সুযোগ ও সুপারিশ

এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে পাওয়া ফলাফল ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর প্রভাব সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রাখে। নিচে কিছু সুপারিশ দেওয়া হলো, যা পরবর্তী প্রয়াসকে আরও কার্যকর এবং প্রভাবশালী করতে পারে:

  1. বার্ষিক/দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন: যদি HBS এই "Perspectives" সম্মেলনটি নিয়মিত আয়োজন করতে পারে, তাহলে এটি একটি বৈশ্বিক চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, যা গবেষণা ও নীতি পরিবর্তনের জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।

  2. ফলো-আপ ও পলিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন: সম্মেলনে উঠে আসা প্রস্তাবনাগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে, HBS একটি কাজকারী গ্রুপ বা ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করতে পারে, যেভাবে তারা অংশীদারদের — একাডেমিক, কর্পোরেট ও নীতিনির্ধারক — সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে প্রভাব তৈরি করবে।

  3. стুডেন্ট রিসার্চ গ্রান্ট ও ফেলোশিপ: বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই উন্নয়নে গবেষণা চালাতে গ্রান্ট ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে, যা শুধু কাগজে নয়, মাঠে কাজ করার সুযোগ দেবে।

  4. শিল্প–শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশীদারি: কর্পোরেট সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক অংশীদারি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে টেকসই উদ্যোগগুলিকে শুধু গবেষণা স্তরে রাখার না, বরং পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি প্রদর্শন করবে যে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ব একসাথে কাজ করতে পারে।

  5. সচেতনতা ও সম্প্রচার বৃদ্ধি: সম্মেলনের সেশন, মতামত ও সিদ্ধান্তগুলি একটি ওপেন-অ্যাক্সেস ডিজিটাল আর্কাইভে করা যেতে পারে। এতে গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ জনগণ এই তথ্য সহজে অ্যাক্সেস করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিশ্লেষণ ও অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।

  6. গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গঠন: HBS অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) করতে পারে যাতে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্লোবাল সংযোগ আরও বাড়ে। এটি শুধু গবেষণা নয়, পলিসি ও শিক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত্তি গড়বে।


উপসংহার

হেরিটেজ বিজনেস স্কুলের “Sustainable Development: Views from Different Perspectives 2.0” সম্মেলন একটি গুরুত্বপুর্ণ মাইলফলক — এটি দেখায় যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পড়াশোনা বা ব্যবসায়িক দক্ষতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং একটি গভীর দায়বদ্ধতা-বিভোর কেন্দ্রও হতে পারে, যেখানে গবেষণা, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গা একত্রে কাজ করে ভবিষ্যতের পরিবর্তন আনে।

এই সম্মেলন কেবল আলোচনার মঞ্চ ছিল না; এটি একটি প্রেরণা, একটি উদ্ভাবন কেন্দ্র এবং একটি কল—শিক্ষাবিদ, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য—একসাথে কাজ করার। যেভাবে বক্তারা এবং অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে টেকসই উন্নয়ন ভাষায় আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে উন্নয়ন শুধুমাত্র একটি লক্ষ্য নয়, এটি একটি ক্রিয়া এবং প্রতিশ্রুতি

ভবিষ্যতে, যদি HBS এই ধরনের উদ্যোগকে নিয়মিত করে এবং তার প্রভাবটি স্থায়ী ও কার্যকর গুণে বৃদ্ধি করতে পারে, তাহলে এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবর্তনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই ভবিষ্যতের নোড হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

Preview image