বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী Alejandro Betancourt López সম্প্রতি ২০২৬ সালে ভোক্তা বাজারে পরিবর্তন আনতে চলা ৫টি বড় ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে, গ্রাহকদের অভ্যস্ততা এবং পছন্দ আগামী পাঁচ বছরে পুরোপুরি পরিবর্তিত হবে। প্রথম ট্রেন্ড হল হাইপার-পার্সোনালাইজেশন, যেখানে কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের অভ্যাস এবং আগের ক্রয় বিশ্লেষণ করে তাদের জন্য কাস্টমাইজড সেবা প্রদান করবে। অফলাইন স্টোরের পুনরুত্থানও আগামী দিনে বড় ভূমিকা পালন করবে, যেখানে ভোক্তারা ফিজিক্যাল ট্রায়াল এবং প্রোডাক্ট টেস্টিং সুবিধা পাবেন।
২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী গ্রাহক বাজারে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। Alejandro Betancourt López, একজন বিখ্যাত উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী, সম্প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেছেন, যেগুলি ভোক্তা বাজার এবং তার সাথে সম্পর্কিত গ্রাহক আচরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে এগিয়ে যাবে তা চিহ্নিত করেছে। তিনি তার বিশ্লেষণে ৫টি কনজিউমার ট্রেন্ড তুলে ধরেছেন, যা আগামী কয়েক বছরে ব্যবসায়িক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এই বিশ্লেষণ শুধু ব্যবসায়ী বা রিটেইল মার্কেটের জন্য নয়, বরং গ্রাহকদেরও সহায়ক হবে, যারা নিজেদের চাহিদা এবং পছন্দ বুঝে সামনের বাজারে শীর্ষস্থানীয় সিদ্ধান্ত নিতে চান।
আজকের দিনে, গ্রাহকরা চায় তাদের জন্য সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড পণ্য বা সেবা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি শপিং ওয়েবসাইটে যান, আপনি সাইটে যা খুঁজেছেন, তার উপর ভিত্তি করে সেই সাইট আপনাকে এমন পণ্য প্রস্তাব করবে যা আপনি আগেই দেখেছেন বা আপনার আগের ক্রয়–অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত।
এটি হাইপার পার্সোনালাইজেশন। Alejandro Betancourt López এর মতে, ভবিষ্যতের ব্যবসাগুলোর জন্য এটি হবে একটি প্রধান প্রবণতা। প্রযুক্তি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর মাধ্যমে গ্রাহক আচরণ বিশ্লেষণ করে তাদের অভ্যস্ততা, পছন্দ, এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হবে।
এটা একমাত্র পণ্য নয়, বরং গ্রাহক অভিজ্ঞতা কাস্টমাইজড হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, কোনো স্টোর বা ওয়েবসাইট তাদের গ্রাহকের আগের ক্রয় ইতিহাস দেখে এমন পণ্য সাজিয়ে রাখবে, যা তাদের পছন্দ অনুযায়ী হতে পারে।
এটি শুধু গ্রাহককে আকৃষ্ট করবে না, বরং তাদের বিশ্বাস এবং সম্পর্ক গড়ে তুলবে, যেটি ব্যবসায়িক দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
গ্রাহক অভিজ্ঞতা কাস্টমাইজ করার জন্য ডেটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এই বিশ্লেষণ অনেক বড় পরিসরে প্রযোজ্য—নির্দিষ্ট অঞ্চল, বয়স, পছন্দ এবং অন্যান্য প্যারামিটার বিশ্লেষণ করে হাইপার পার্সোনালাইজড প্রোডাক্ট প্রস্তাব করা সম্ভব। Alejandro Betancourt López বলছেন, “এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের আত্মবিশ্বাস এবং তাদের রিলেশনশিপ তৈরি করা যেতে পারে।”
যুব প্রজন্ম বিশেষ করে — তাদের কাছে শুধু ফ্যাশন বা সুবিধা নয়, পণ্যের “টাইমটু‑ইমপ্যাক্ট” (impact on environment/ society) জরুরি। Betancourt López বলছেন, ৬৪ % গ্রাহক ইতিমধ্যেই দাবি করছেন — পরিবেশবান্ধব পণ্যের জন্য একটু বেশি খরচ করতে পারেন।
Hawkers যেমন সমুদ্র থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক ব্যবহার করে সানগ্লাস তৈরি করে, তেমনভাবেই অন্য ব্র্যান্ডগুলোর জন্য টেকসই উপকরণ, ethical manufacturing, recyclable প্যাকেজিং — এগুলো হবে আগামী দিনের নতুন মান।
যেমন personalization বাড়ছে, তেমনি গ্রাহকরা আরও সচেতন—“আমার ডেটা কেমন হবে?” এই প্রশ্ন করছে। তাদের কাছে ডেটা‑প্রাইভেসি, স্বচ্ছতা, এবং কন্ট্রোল জরুরি। Betancourt López মনে করেন, যারা ডেটা ব্যবস্থাপনাকে শুধু compliance না করে—ভুলচুকর মুক্ত, সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ রাখবে, তারা ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী হবে।
এতে ব্র্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে — নিরাপদ ডেটা স্টোরেজ, স্পষ্ট কনসেন্ট মেকানিজম, ক্লিয়ার প্রাইভেসি পলিসি, এবং গ্রাহকের কন্ট্রোল।
এক‑ই মাপের সব পণ্য বা সেবা এখন দুশ্চিন্তার কারণ। বর্তমানে গ্রাহকরা চান, প্রতিটি রেকমেন্ডেশন, অফার বা প্রোডাক্ট তাঁদের পছন্দ, ব্রাউজিং ও ক্রয় ইতিহাস অনুযায়ী সাজানো হোক। Betancourt López বলেন, “Generic marketing আর ব্যাচ ধরনের অফার হয়ে যাবে অতীত।”
AI ও ডেটা‑অ্যানালিটিক্সের সঙ্গে গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ করে — ওয়েবসাইট‑অভিজ্ঞতা, মার্চেন্ট‑অফার, ইনভেন্টরি, স্টোর ম্যাপিং — সবই কাস্টমাইজড হবে। ফলে গ্রাহকরা পাবেন নিজস্ব স্বাদের সেবা; আর ব্যবসায়ীরা পাবেন উচ্চ রূপান্তর ও গ্রাহক প্রবৃত্তি।
অনেক ব্র্যান্ড প্রথমে অনুমান করেছিল, অনলাইন–ই হবে ভবিষ্যৎ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, একটি চেক-আউট ও কাস্টমাইজড ট্রায়ালের সুযোগ গ্রাহকদের ভারি ইতস্তত–রম বিনিময় করতে উদ্বুদ্ধ করে। Betancourt López নিজেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন — অনেক দেশেই তাঁর ব্র্যান্ড Hawkers‑এর ৬০-এর বেশি অফлайн স্টোর খুলেছেন।
স্টোর শুধু বিক্রয় নয় — গ্রাহকের রিয়েল‑টাইম আচরণ, পছন্দ, ট্রায়াল তথ্য সংগ্রহ হয়। সেই তথ্য অনলাইনে প্রোডাক্ট সাজানো, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট আর পরবর্তী ডিজাইন সিদ্ধান্তে কাজে আসে।
দামে ভর করে বিজ্ঞাপনের যুগ শেষ। এখন আসছে — কাস্টমার কমিউনিটি, user‑generated content, রেফারাল মডেল, micro‑influencers। Betancourt López জানালেন, Hawkers এর শুরুর দিনগুলোতে কলেজ‑ছাত্রদের দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করেছিলেন — ফলাফল মিলেছিল সামাজিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, দামের তুলনায় বেশি কার্যকর।
সতর্ক গ্রাহকরা এখন প্রমোশন দেখলে না, চলতি গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা‑মাধ্যমে কনফিডেন্স চান। যেসব ব্র্যান্ড community‑building করার চেষ্টায়, তাদের জন্য ভবিষ্যতে সুযোগ রয়েছে।
অনলাইনে শপিং বৃদ্ধির পরেও, অফলাইন স্টোর কখনোই হারিয়ে যায়নি। তবে, ২০২৬-এ এই পরিবর্তন আরো দৃশ্যমান হতে চলেছে। Alejandro Betancourt López জানাচ্ছেন, বেশ কিছু ব্র্যান্ড অফলাইন স্টোরে ফের নতুন জীবন আনতে শুরু করেছে, যা একে গ্রাহক অভিজ্ঞতার সাথে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।
ফিজিক্যাল স্টোর গুলি আর শুধু পণ্য বিক্রি না করে, গ্রাহকের অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, যেখানে তারা পণ্য ট্রাই করতে পারবেন, বা ফিরে আসার পরিপূর্ণ প্রক্রিয়া জানতে পারবেন।
আজকাল, স্টোরের মাধ্যমে গ্রাহকরা শুধুমাত্র পণ্য কেনেন না, বরং পণ্যটির ব্যবহার সম্পর্কে সরাসরি মুখোমুখি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাদের কিনতে আরও অনুপ্রাণিত করে।
অফলাইন স্টোর শুধুমাত্র পণ্য বিক্রি করার জায়গা নয়, এটি মালিকানার অভিজ্ঞতা এবং ফিজিক্যাল ট্রায়াল চাহিদার যোগান দেবে।
গ্রাহকরা দোকানে এসে প্রোডাক্ট টেস্টিং, ডেলিভারি টাইমস এবং এমপ্লয়ি সাহায্য নিয়ে আরো কার্যকরী অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া শুধুমাত্র মার্কেটিং টুল নয়, বরং একটি কমিউনিটি বিল্ডিং প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। Micro‑influencers, User‑Generated Content (UGC), এবং Referral Programs–এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো বিশ্বাসের মাধ্যমে বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।
Alejandro Betancourt López বলেছেন, গ্রাহকরা ব্র্যান্ডের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
ব্র্যান্ডস, বিশেষ করে যারা নিজেদের কমিউনিটি তৈরি করতে চায়, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন রেফারেল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে যা বাস্তবে বিশ্বাস তৈরি করবে।
Micro‑influencers কে একমাত্র বিজ্ঞাপন নয়, কমিউনিটি হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা সত্যিই নতুন এবং এতে গ্রাহকদের কাছে একটি বিশ্বাসের স্থান তৈরি হয়।
বর্তমানে, বিশ্বের গ্রাহকরা পরিবেশ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে চায়। গ্রাহকরা শুধু কম দাম নয়, টেকসই পণ্য এবং পরিষেবা খুঁজছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে টেকসইতা এবং পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে এক নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে।
Alejandro Betancourt López বলেন, “আজকের সময়ের গ্রাহকরা চান যে, তাদের ক্রয় করা পণ্য পরিবেশবান্ধব, পুনঃব্যবহারযোগ্য, এবং শুধু তাদের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং পরিষ্কার পরিবেশে রক্ষা করবে।”
এটি শুধুমাত্র একটি ট্রেন্ড নয়, বরং ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে এথিক্যাল ব্র্যান্ডিং ইন্টিগ্রেট করার প্রক্রিয়া। সাশ্রয়ী মূল্যেও যদি টেকসই পণ্য পাওয়া যায়, তবে সেটা আরো জনপ্রিয় হতে পারে।
গ্রাহকরা এখন নিজেদের ডেটা নিয়ে আরো সচেতন। তারা তাদের তথ্য কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা চায়। Alejandro Betancourt López বলছেন, গ্রাহকের তথ্যকে সম্মান করা এবং প্রাইভেসি নিশ্চিত করা — এটা কেবল আইন নয়, বরং এটি একটি নতুন ব্র্যান্ড বিশ্বাস তৈরি করার সুযোগ।
ডেটা কন্ট্রোল এবং প্রাইভেসি ইস্যু আগামী বছরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এই ব্যবস্থাপনা করলে ব্যবসাগুলি গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করবে এবং তাদের সমর্থন পাবে।
Alejandro Betancourt López তাঁর ৫টি ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করে দেখিয়েছেন, যে ২০২৬ সাল গ্রাহক অভ্যাস এবং বাজারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে। গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং ব্যবসায়িক জগতে পরিবেশ সচেতনতার দিকে সরে যাওয়ার মাধ্যমে আগামীর কনজিউমার বাজারের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রাহক সম্পর্ক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।