Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্যানেসার বলেন, ইংল্যান্ডকে স্টিভ স্মিথকে স্যান্ডপেপার গেট মনে করিয়ে দিতে হবে, অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ড ইন ক্যাপ্টেন পূর্ববর্তী স্পিনারের সাধারণ জ্ঞান নিয়ে কুইজ শোতে তিরস্কার

মণ্টি প্যানেসার সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে স্টিভ স্মিথকে স্যান্ডপেপার গেট নিয়ে মনে করিয়ে দিতে হবে। প্যানেসারের মতে, স্মিথের ভূমিকা ২০১৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট স্ক্যান্ডালে ছিল এবং এই ঘটনা স্মরণ করানো উচিত। প্যানেসার এই বিতর্কিত ঘটনাটি সামনে এনে ইংল্যান্ড দলের প্রতি একটি বার্তা পাঠানোর পক্ষে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান দলের স্ট্যান্ড ইন ক্যাপ্টেন লালচাঁদ প্যাট কামিন্স প্যানেসারের সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে একটি কুইজ শোতে মন্তব্য করেছেন। কামিন্স প্যানেসারের প্রতি একটু তিরস্কার করে বলেন, তিনি কুইজ শোতে কিছু সাধারণ তথ্য ভুলে গেছেন, যা বেশ কিছু হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে, এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে নতুন এক আক্রমণপ্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এটি নিঃসন্দেহে ফর্মুলা ১ বা অন্যান্য স্পোর্টসের মতো উত্তেজনাপূর্ণ কিছু নয়, তবে ক্রিকেটের বিশ্বে এই ধরনের খোলামেলা আলোচনা ও সমালোচনা অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

প্যানেসার বলেন, ইংল্যান্ডকে স্টিভ স্মিথকে স্যান্ডপেপারগেট মনে করিয়ে দিতে হবে: কামিন্সের পাল্টা তিরস্কার

ভূমিকা: ক্রিকেটের মানসিক যুদ্ধ

ক্রিকেট শুধুমাত্র ব্যাট এবং বলের খেলা নয়, এটি একটি গভীর মানসিক যুদ্ধও। মাঠে এবং মাঠের বাইরে যে মানসিক চাপ এবং কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক খেলা চলে, তা প্রায়ই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি, ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্পিন বোলিং কিংবদন্তি মণ্টি প্যানেসার একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের উচিত অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথকে ২০১৮ সালের কুখ্যাত স্যান্ডপেপারগেট কেলেঙ্কারি মনে করিয়ে দিয়ে তার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।

এই মন্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স একটি চতুর পাল্টা আক্রমণ করেছেন, যেখানে তিনি প্যানেসারের একটি কুইজ শোতে সাধারণ জ্ঞানের ভুল নিয়ে হাস্যরসাত্মক তিরস্কার করেছেন। এই দুই ঘটনা মিলে ক্রিকেট বিশ্বে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক এবং মানসিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

স্যান্ডপেপারগেট: ক্রিকেট ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়

স্যান্ডপেপারগেট অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক এবং বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে গভীর আঘাত হানে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

২০১ৈ সালের ২৪ মার্চ, নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে, টেলিভিশন ক্যামেরা ধরে ফেলে যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার কেমেরন ব্যানক্রফট তার পকেট থেকে হলুদ রঙের কিছু একটা বের করে বলে ঘষছেন। যখন আম্পায়াররা তার কাছে যান, তখন ব্যানক্রফট দ্রুত সেই বস্তুটি তার ট্রাউজারের ভেতরে লুকিয়ে ফেলেন। পরে প্রকাশিত হয় যে এটি ছিল স্যান্ডপেপার, যা বল সিঁড়তে এবং কৃত্রিমভাবে রিভার্স সুইং তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ম্যাচের পরে, তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ একটি সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে তিনি এবং দলের "লিডারশিপ গ্রুপ" এই পরিকল্পনা জানতো এবং অনুমোদন করেছিল। এই স্বীকারোক্তি ক্রিকেট বিশ্বে শক ওয়েভ পাঠায় এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে তার সবচেয়ে গভীর সংকটের মুখোমুখি করে।

শাস্তি এবং পরিণতি

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়। স্টিভ স্মিথ এবং তার ডেপুটি ডেভিড ওয়ার্নারকে তাদের নেতৃত্ব পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ১২ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। কেমেরন ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়াও, কোচ ডারেন লেহম্যান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এই শাস্তি শুধুমাত্র তিন খেলোয়াড়কে প্রভাবিত করেনি, বরং পুরো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সম্প্রদায়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট, যা সবসময় "হার্ড বাট ফেয়ার" খেলার জন্য পরিচিত ছিল, হঠাৎ করে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। জাতীয় গর্ব আহত হয় এবং অস্ট্রেলিয়ান জনগণ তাদের ক্রিকেট হিরোদের প্রতি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়।

স্টিভ স্মিথের উপর প্রভাব

স্টিভ স্মিথের জন্য, স্যান্ডপেপারগেট একটি ব্যক্তিগত এবং পেশাগত ট্র্যাজেডি ছিল। তিনি শুধুমাত্র অধিনায়কত্ব হারাননি, বরং তার সুনাম এবং উত্তরাধিকারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন খেলোয়াড় যিনি তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতেন, তিনি হঠাৎ করে একজন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হন।

নিষেধাজ্ঞার সময়কালে, স্মিথ গভীর অনুতাপ এবং লজ্জার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তার পরিবার এবং বন্ধুরা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিন্তিত ছিলেন। এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি।

পুনর্বাসন এবং প্রত্যাবর্তন

২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর, স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ফিরে আসেন এবং তার ব্যাট দিয়ে কথা বলা শুরু করেন। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স - যেখানে তিনি ৭৭৪ রান করেন এবং ইংল্যান্ডকে প্রায় একাই পরাজিত করেন - প্রমাণ করে যে তিনি এখনও বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন।

কিন্তু স্যান্ডপেপারগেটের ছায়া তার উপর রয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ দলের ভক্তরা প্রায়ই তাকে এই ঘটনা নিয়ে টিটকারি দেয়। স্টেডিয়ামে "চিটার" (প্রতারক) বলে চিৎকার শোনা যায়। এই মানসিক চাপ সামলানো স্মিথের জন্য একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।

মণ্টি প্যানেসারের বিতর্কিত পরামর্শ

এই প্রেক্ষাপটেই মণ্টি প্যানেসার তার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের উচিত স্টিভ স্মিথের এই বেদনাদায়ক অতীত মনে করিয়ে দিয়ে তার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা। এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল যা মানসিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্যানেসারের যুক্তি

মণ্টি প্যানেসার, যিনি নিজে একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, যুক্তি দেন যে ক্রিকেট শুধুমাত্র শারীরিক দক্ষতার খেলা নয়। মানসিক শক্তি এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, যদি ইংল্যান্ড স্মিথকে তার সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে, তাহলে এটি তার একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্যানেসার উল্লেখ করেন যে স্মিথ যখন অ্যাশেজে খেলতে আসেন, তখন ইংল্যান্ডের ভক্তরা তাকে স্যান্ডপেপারগেট নিয়ে চিৎকার করে। এই ভক্তদের টিটকারি স্মিথকে প্রভাবিত করে কিনা তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু প্যানেসার বিশ্বাস করেন যে যদি খেলোয়াড়রা মাঠেও এই মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে এটি আরও কার্যকর হতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন যে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা স্মিথের কাছে যাওয়ার সময়, তাকে সূক্ষ্মভাবে স্যান্ডপেপারগেট মনে করিয়ে দিতে পারে। এটি সরাসরি অশ্লীলতা বা অপমান নয়, বরং একটি কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক চাল যা স্মিথের মনোযোগ বিচলিত করতে পারে।

নৈতিকতা এবং খেলার মানদণ্ড

প্যানেসারের এই পরামর্শ একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে - ক্রিকেটে মানসিক যুদ্ধ কতদূর গ্রহণযোগ্য? স্লেজিং (মাঠে মৌখিক আক্রমণ) ক্রিকেটের একটি দীর্ঘস্থায়ী অংশ, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক এবং লজ্জাজনক মুহূর্ত ইচ্ছাকৃতভাবে মনে করিয়ে দেওয়া কি ন্যায্য?

news image
আরও খবর

কিছু বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন খেলোয়াড় প্যানেসারের পরামর্শকে সমর্থন করেছেন, যুক্তি দিয়ে যে ক্রিকেট একটি প্রতিযোগিতামূলক খেলা এবং সমস্ত ন্যায্য কৌশল ব্যবহার করা উচিত। তারা বলেন যে স্মিথ একটি ভুল করেছিলেন এবং তার পরিণতি তাকে মেনে নিতে হবে, এমনকি যদি তা মাঠে মানসিক চাপ হিসেবে আসে।

অন্যদিকে, অনেকে মনে করেন যে এটি খেলার মানদণ্ডের লঙ্ঘন। তারা যুক্তি দেন যে স্মিথ তার শাস্তি ভোগ করেছেন এবং তার পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। ক্রমাগত তার সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত মনে করিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুর এবং অপেশাদার। ক্রিকেট একটি ভদ্রলোকদের খেলা হিসেবে পরিচিত, এবং এই ধরনের কৌশল সেই পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্যাট কামিন্সের চতুর পাল্টা আক্রমণ

মণ্টি প্যানেসারের মন্তব্যের পর, অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স একটি চতুর এবং হাস্যরসপূর্ণ পাল্টা আক্রমণ করেছেন। কামিন্স প্যানেসারের একটি কুইজ শোতে পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যেখানে প্যানেসার কিছু সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের ভুল উত্তর দিয়েছিলেন।

কুইজ শোর ঘটনা

মণ্টি প্যানেসার সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় ব্রিটিশ কুইজ শোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন যেখানে তিনি কিছু মৌলিক সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নে ভুল উত্তর দিয়েছিলেন। এই ভুলগুলো টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। অনেকে প্যানেসারের এই পারফরম্যান্স নিয়ে মজা করেছিলেন।

প্যাট কামিন্স এই সুযোগটি কাজে লাগান। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে প্যানেসারের উচিত নিজের সাধারণ জ্ঞান নিয়ে চিন্তা করা, অন্যদের মানসিক যুদ্ধের পরামর্শ দেওয়ার আগে। এই মন্তব্যটি হাস্যরসাত্মক ছিল কিন্তু একই সাথে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠায় - অস্ট্রেলিয়া মানসিক যুদ্ধে পিছিয়ে নেই এবং তারা যে কোনো আক্রমণের উপযুক্ত পাল্টা দিতে প্রস্তুত।

কামিন্সের কৌশল

প্যাট কামিন্স একজন বুদ্ধিমান এবং পরিপক্ক অধিনায়ক। তার পাল্টা আক্রমণ সরাসরি আক্রমণাত্মক বা রুক্ষ ছিল না, বরং এটি ছিল সূক্ষ্ম এবং হাস্যরসপূর্ণ। এই পদ্ধতি বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য পূরণ করে:

১. প্যানেসারের মন্তব্যের গুরুত্ব হ্রাস: হাস্যরসের মাধ্যমে পাল্টা দিয়ে, কামিন্স দেখান যে অস্ট্রেলিয়া প্যানেসারের পরামর্শকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। এটি প্যানেসারের মন্তব্যকে দুর্বল করে দেয়।

২. মিডিয়া মনোযোগ পরিবর্তন: কুইজ শোর ভুল নিয়ে কথা বলে, কামিন্স মিডিয়া আলোচনার ফোকাস পরিবর্তন করেন। এখন আলোচনা শুধুমাত্র স্মিথ এবং স্যান্ডপেপারগেট নিয়ে নয়, বরং প্যানেসারের নিজের ভুল নিয়েও।

৩. দলের মনোবল রক্ষা: কামিন্সের পাল্টা আক্রমণ স্মিথ এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ান দলকে দেখায় যে তাদের অধিনায়ক তাদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। এটি দলের মনোবল বৃদ্ধি করে।

৪. হাস্যরস দিয়ে টেনশন কমানো: গুরুতর একটি বিষয়কে হাস্যরসের সাথে মোকাবেলা করে, কামিন্স পরিস্থিতির টেনশন কমান এবং এটিকে একটি হালকা বিতর্কে পরিণত করেন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মানসিক দৃঢ়তা

কামিন্সের পাল্টা আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের একটি মূল শক্তি প্রদর্শন করে - তাদের মানসিক দৃঢ়তা এবং মানসিক যুদ্ধে দক্ষতা। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সবসময়ই মানসিক যুদ্ধ এবং স্লেজিংয়ে পারদর্শী। তারা জানে কীভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হয় এবং একই সাথে নিজেদের চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হয়।

স্যান্ডপেপারগেট অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য একটি অন্ধকার অধ্যায় ছিল, কিন্তু তারা সেই সংকট থেকে শিখেছে এবং শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। কামিন্সের মতো নেতারা দেখিয়েছেন যে অস্ট্রেলিয়া এখনো মানসিক যুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া: চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা

এই পুরো বিতর্ক ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ঘটছে। অ্যাশেজ সিরিজ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই দুই দলের মধ্যে প্রতিটি ম্যাচ শুধুমাত্র ক্রিকেট নয়, বরং জাতীয় গর্ব এবং ঐতিহ্যের যুদ্ধ।

অ্যাশেজের ইতিহাস

অ্যাশেজ সিরিজের সূচনা হয় ১৮৮২ সালে, যখন অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে ইংল্যান্ডের মাটিতে পরাজিত করে। একটি ইংরেজি সংবাদপত্র রসিকতা করে লেখে যে "ইংরেজ ক্রিকেট মারা গেছে এবং তার ছাই অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।" তারপর থেকে, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে টেস্ট সিরিজকে "অ্যাশেজ" বলা হয়।

প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে, এই দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করেছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, বিতর্ক, এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের উত্থান ঘটেছে।

Preview image