Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মিত্তির বাড়ি—আদৃত-পারিজাতের অফস্ক্রিন কেমিস্ট্রির গল্প

আদৃত-পারিজাতের পর্দার জুটি জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে দূরত্ব ছিল, তবুও অফস্ক্রিন বন্ধুত্ব আজও মজবুত; সম্প্রতি এক উৎসবে একসাথে ধরা পড়ে, আদৃতের নতুন প্রোজেক্ট রহস্যময়, আর পারিজাতের নতুন ছবি ইতিমধ্যেই কিফ নির্বাচনে স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ছোটপর্দার জগত বহুবার চমক সৃষ্টি করেছে। তারকা জুটিরা প্রায়শই দর্শকের মন জয় করে। কিন্তু মাঝে মাঝে পর্দার কেমিস্ট্রি বাস্তব জীবনের সম্পর্কের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। এমনই একটি জুটি হলো আদৃত ও সৌমিতৃষা, যারা ‘মিঠাই’ সিরিয়ালে জোনাকি ও সিদ্ধার্থের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিরিয়ালে দর্শকরা তাদের প্রেমের গল্পে মুগ্ধ হলেও, বাস্তবে দুজনের সম্পর্কের গল্পটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

‘মিঠাই’ সিরিয়াল টেলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক। জোনাকি ও সিদ্ধার্থের চরিত্র দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। পর্দায় তাদের কেমিস্ট্রি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, দর্শকরা প্রায়শই প্রশ্ন করতেন, “এরা কি বাস্তবেও একসাথে?” কিন্তু শ্যুটিংয়ের সময় নানা কারণে আদৃত ও সৌমিতৃষার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। রসায়ন যেমন পর্দায় চমক দেখিয়েছে, বাস্তবে সম্পর্কটি ছিল ঠান্ডা—একধরনের ফ্রিজ। শ্যুটিং চলাকালীনই নাকি তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং সিরিয়াল শেষ হওয়ার আগেই সেই মনোমালিন্য প্রকাশ্যে আসে।

যদিও তারা পর্দায় ভালো জুটি ছিলেন, কিন্তু বাস্তবের বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক নিয়ে দর্শকরা বেশি কিছু জানতে পারেননি। দীর্ঘদিন দেখা হয়নি, মুখে মুখে কথাও ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। সৌমিতৃষা ছোটপর্দা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। অন্যদিকে আদৃত ফিরে এসেছেন মিত্তির বাড়ি ধারাবাহিকের ধ্রুব মিত্তির চরিত্রে। তবে নতুন জুটিতে আগের রসায়ন দেখা যায়নি—জোনাকি আর ধ্রুবের কেমিস্ট্রিতে সেই আগের জাদু আর নেই।

সিরিয়াল শেষ হলেও তাদের ভক্তরা কখনও তাদের সম্পর্কের খবর ভোলা যায়নি। সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে এক উৎসবে উপস্থিত ছিলেন দুজনেই। পারিজাত পিওর সিল্ক শাড়িতে ঝলমল করছিলেন, আর আদৃত কালো শার্টে অত্যন্ত স্মার্ট দেখাচ্ছিলেন। ঐন্দ্রিলা, মানালি, অভিমন্যুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন তারা। এমন মুহূর্তে, এক ফ্রেমে ধরা পড়তেই আবারো গুঞ্জন শুরু হলো—অফস্ক্রিনে আদৃত-পারিজাতের কেমিস্ট্রি সত্যিই বিশেষ।

এখানেই দেখা যায়, পার্থক্য পর্দার এবং বাস্তব জীবনের। দর্শকরা যতই কল্পনা করেন না কেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময় পর্দার মতো হয় না। তবে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে তারা টিকিয়ে রেখেছেন। এমন সম্পর্ক টেলিপাড়ার জন্যও একটা দৃষ্টান্ত।

আদৃতের নতুন প্রোজেক্ট এখনও রহস্যে ঢাকা। দর্শকরা মুখিয়ে রয়েছেন, কিন্তু খবরে প্রকাশ পায়নি তিনি কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে পারিজাত নতুন ছবিতে দেখা যাবে—রাজা চন্দের ‘হালুম’ ছবিতে। ছবিটি ইতিমধ্যেই কিফ নির্বাচনে স্থান পেয়েছে এবং পারিজাতের অভিনয় নিয়ে দর্শকরা উৎসাহিত।

news image
আরও খবর

যদিও নতুন ধারাবাহিক ও ছবিতে তাদের জুটি নেই, তবুও তাদের অভিনয় এবং বন্ধুত্বের গল্প দর্শকদের মনে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভালো অভিনয় শুধু পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকে না, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বও তা সমৃদ্ধ করতে পারে।

সিরিয়াল শেষ হওয়ার পর থেকেই দর্শকরা তাদের সম্পর্কের খবর জানতে আগ্রহী ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুবার আলোচনা হয়েছে—“মিঠাই-এর আদৃত-পারিজাত জুটি কি আবার একসাথে কাজ করবে?” এই প্রশ্ন আজও ফ্যানদের মনে রয়ে গেছে। একাধিক অনলাইন পোর্টাল এবং বিনোদন সংবাদ পত্রিকায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের রিপোর্ট এসেছে। যদিও তারা পর্দায় একসাথে নয়, অফস্ক্রিন বন্ধুত্বের দৃশ্য ফ্যানদের মনে আশা জাগায়।

টেলিভিশন জগতের এমন ঘটনা সাধারণ। দর্শকরা প্রায়শই ধরে নেন, পর্দার কেমিস্ট্রি বাস্তব সম্পর্কের প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। আদৃত-পারিজাতের সম্পর্ক এটিই প্রমাণ। পর্দায় প্রেম, বাস্তবে ঠান্ডা যুদ্ধ—তার পরও বন্ধুত্ব টিকে থাকে। এই দৃষ্টান্ত টেলিপাড়ার নতুন অভিনেতাদেরও শেখায়, যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পেশাদার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

আদৃত ও পারিজাতের সম্পর্ক দর্শক এবং মিডিয়ার জন্য একটি রহস্যের মতো ছিল। যদিও ‘মিঠাই’-এর পর্দায় তাদের রসায়ন বন্ধ হয়ে যায়, তবে বাস্তব জীবনে তারা বন্ধুত্ব বজায় রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, পর্দার কেমিস্ট্রি সবসময় বাস্তব জীবনের প্রতিফলন নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা তাদের বড় অর্জন।

ভবিষ্যতে হয়তো তারা আবার নতুন প্রোজেক্টে একসাথে কাজ করবেন, তবে দর্শকরা জানেন, তাদের অফস্ক্রিন বন্ধুত্বই সবচেয়ে বিশেষ। এটি প্রমাণ করে যে, টেলিভিশনের জগতে সম্পর্ক সবসময় সহজ নয়, তবে ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব সময়ের সাথে শক্তিশালী হয়।

Preview image