উত্তর প্রদেশের বহরাইচ জেলার কৌদিয়ালা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবি ঘটে। প্রায় ২৮ জন যাত্রী বহনকারী নৌকাটি মাঝনদীতে উল্টে যায়। এখনো আটজন নিখোঁজ রয়েছেন, এক মহিলা মারা গেছেন এবং ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয়রা নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।
উত্তর প্রদেশের বহরাইচ জেলায় কৌদিয়ালা নদীতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ নৌকাডুবি দুর্ঘটনা। বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় ২৮ জন যাত্রী বহনকারী একটি ছোট নৌকা নদীর মাঝপথে হঠাৎ করেই ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জলে তলিয়ে যান যাত্রীরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কমপক্ষে আটজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সবার আগে এগিয়ে আসেন। তারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বেশ কয়েকজন যাত্রীকে নদীর জল থেকে তুলে নিরাপদে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এরপর খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ–এর বিশেষ দল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এখনো পর্যন্ত ১৩ জন যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে একজন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আটজন যাত্রীর খোঁজে রাতভর তীব্র তল্লাশি অভিযান চলছে।জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার নিজেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো উদ্ধার অভিযানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান করছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক এসডিআরএফ কর্মী জানান, নদীর প্রবল স্রোত এবং অতিরিক্ত গভীরতার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, তারা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে প্রতিটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা যায় এবং যদি সম্ভব হয় কাউকে বাঁচানো যায়।প্রাথমিক তদন্তে যা জানা গেছে তাতে অনুমান করা হচ্ছে যে নৌকাটিতে তার ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক যাত্রী উঠেছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল কৌদিয়ালা নদীর প্রবল স্রোত। এই দুই কারণ মিলে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন পাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা প্রতিদিনের মতোই কাজ বা অন্য প্রয়োজনে নদী পার হচ্ছিলেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছেন যেন দ্রুততম সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হয় এবং আহত যাত্রীদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণাও করা হয়েছে।এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তীব্র অভিযোগ তুলেছেন যে কৌদিয়ালা নদীতে মানুষের নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন এলাকার মানুষ ছোট ছোট অনিরাপদ নৌকায় করেই নদী পার হতে বাধ্য হন। এই দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করছেন দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক।উদ্ধারকারী দলগুলির পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশও এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নৌকার মালিক এবং চালকের দায়িত্ব সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে যদি তাদের কোনো অবহেলা বা দায় প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই নৌকাডুবির ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে যে গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত সেতু এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কীভাবে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য নদী পারাপারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।