Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিটকয়েনে আতঙ্ক, ট্রেডাররা দরে ৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত পতনের বাজি দিচ্ছেন

বিটকয়েনের বর্তমান পরিস্থিতি: ট্রেডারদের আতঙ্ক, দরে ৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত পতন হতে পারে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন বর্তমানে একটি গুরুতর সংকটের মধ্যে রয়েছে। একসময় যেটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিপ্টোকারেন্সি, বর্তমানে তার দাম এক ভয়ানক পতনের দিকে যাচ্ছে। বিটকয়েনের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং এর পতন নিয়ে ট্রেডারদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিটকয়েনের দাম $৮০,০০০ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যা এর আগের উচ্চতার থেকে অনেক কম। এই পরিস্থিতি ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেকেই এখন তাদের বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন। গত বছর, বিটকয়েনের দাম ছিল প্রায় $৬৯,০০০, যা ছিল এর সর্বোচ্চ মূল্য। কিন্তু বর্তমানে এর দাম প্রায় ৩০%-৫০% কমে গেছে, এবং বাজারে পতনের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এটি কেবল বিটকয়েনের জন্যই নয়, বরং পুরো ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিটকয়েনে আতঙ্ক: ট্রেডাররা দরে ৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত পতনের বাজি দিচ্ছেন

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার, বিশেষত বিটকয়েন, যা কিছু সময় আগেও বাজারে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিত্র দেখাচ্ছিল, বর্তমানে একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। বিটকয়েনের দাম গত কয়েক সপ্তাহে এতটা কমে গেছে যে, এটি আগের অবস্থানে ফিরতে বা তার সাম্প্রতিক উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে যারা বিটকয়েনের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে, বাজারে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনগুলিতে বিটকয়েনের দাম আরও পতিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন, এক সময় অনেকের কাছে ‘ডিজিটাল গোল্ড’ বা ডিজিটাল সোনার সমার্থক ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর দামের পতন এবং বাজারে উত্থান-পতনের কারণে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিটকয়েনের ট্রেডাররা এখন ভয় পাচ্ছেন যে এর দাম $৮০,০০০ বা তার নিচে চলে যেতে পারে, যা এর গত কয়েক মাসের দাম থেকে প্রায় ৫০% কম।

বিটকয়েনের মূল পরিস্থিতি: কেন এতটা পতন?

বিটকয়েনের দাম এক সময় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং অনেক বিনিয়োগকারী ধারণা করেছিলেন যে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় হবে। বিশেষ করে ২০২১ সালের শেষের দিকে বিটকয়েন তার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য $৬৯,০০০–এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তারপর থেকেই এর দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে, বিটকয়েনের দাম ৩৫%-এরও বেশি পতন দেখেছে, যা বাজারে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

এই পতনের পেছনে কিছু বড় কারণ রয়েছে:

বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি আগ্রহ কমেছে। বিটকয়েনের মতো সম্পদ সাধারণত বাজারে উত্থান-পতনের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষত যখন বিশ্ব অর্থনীতি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে থাকে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ঝুঁকি কমাতে সরকারি বন্ড বা অন্যান্য নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করছেন।

টেকনিক্যাল ফ্যাক্টর এবং বাজারের অস্থিরতা

বিটকয়েনের দাম পতনের আরও একটি বড় কারণ হলো বাজারের অস্থিরতা এবং টেকনিক্যাল সিগন্যাল। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছে যে বিটকয়েন তার গত মাসের কিছু সাপোর্ট লেভেল ভেঙে ফেলেছে, যার কারণে আরো বড় পতনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী হোল্ডাররা যখন চিন্তিত হন, তখন ছোটখাটো বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করে। প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে, বিটকয়েন বর্তমানে একটি বড় সাপোর্ট লেভেল ভেঙে ফেলেছে, যা এই পতনকে আরও গভীর করতে পারে।

লিকুইডেশন এবং স্টপ-লস ট্রেডিং

অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে একটি বড় লিকুইডেশন ঘটেছে। প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পত্তি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিটকয়েনের দাম পতনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ট্রেডার তাদের স্টপ-লস অর্ডার চালু করেছেন, যা এই পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। স্টপ-লস ট্রেডিং হল একটি কৌশল যেখানে ট্রেডাররা একটি নির্দিষ্ট দাম পর্যন্ত শেয়ার বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হন। এই কৌশলটি ব্যবহার করার ফলে, বিটকয়েনের আরও দাম কমে যেতে পারে।

বাজারে আতঙ্ক এবং ট্রেডারদের মনোভাব

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ। কিছু ট্রেডার এবং বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিটকয়েনের দাম $৮০,০০০-এর নিচে নেমে যেতে পারে, এবং যদি এটি নেমে যায়, তবে এটি আরও বড় পতন ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বিটকয়েনের জন্য নতুন সমর্থন স্তর তৈরি হতে পারে, যা আগের চেয়ে কম দামে হতে পারে।

বাজারের এই অনিশ্চয়তা ট্রেডারদের মাঝে আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিটকয়েনের দাম যদি আরও কমে যায়, তাহলে আরও অনেক ট্রেডার তাদের পজিশন বিক্রি করতে বাধ্য হবে, যা বাজারের অস্থিরতা বাড়াবে। এই ধরনের পরিস্থিতি একাধিকবার ঘটেছে, এবং এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের জন্য একটি সাধারণ প্রবণতা।

পাশাপাশি অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির অবস্থা

বিটকয়েনের মতো, অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির অবস্থাও বেশ অস্থির। যেমন, ইথেরিয়াম, রিপল, এবং লাইটকয়েন সহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও কমেছে। তবে বিটকয়েনের মতো এত বড় পতন হয়নি, কিন্তু অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে এই ধরনের সংকট বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্যও বিপদজনক হতে পারে, যারা বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।

news image
আরও খবর

এখন কী হবে?

বিটকয়েনের দাম পুনরায় উর্ধ্বমুখী হবে কিনা, তা এখন পুরোপুরি বাজারের পরিবেশের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বিটকয়েন তার বর্তমান দামের নিচে চলে যায়, তবে এটি নতুন সমর্থন স্তর খুঁজে বের করবে। অনেক বিনিয়োগকারী বিটকয়েনের দাম বাড়ার আশায় আছেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের অস্থিরতা মিলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে, বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কয়েকবার বড় ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসেছে এবং তাদের আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। তাই এটি বলা যাবে না যে, বিটকয়েন আবার নতুন উচ্চতায় ফিরে আসবে না। কিন্তু এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি অস্থির পরিস্থিতি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ

যারা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি কঠিন সময়। তবে কিছু পরামর্শ রয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের জন্য উপকারী হতে পারে:

  1. ঝুঁকি সহনশীলতা যাচাই করুন: যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী হোল্ডার হয়ে থাকেন, তবে এই পতন ততটা চিন্তার বিষয় নাও হতে পারে। তবে যদি আপনি স্বল্পমেয়াদী ট্রেডার হন, তবে সতর্ক থাকা উচিত।

  2. স্টপ-লস ব্যবহার করুন: যাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করা হয়নি, তারা এটি ব্যবহার করতে পারেন, যাতে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়।

  3. বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ করুন: একে একে সব টাকা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ না করে, বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ করা নিরাপদ হতে পারে।

    বিটকয়েনের দাম কমার কারণ

    বিটকয়েনের দাম পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানত রয়েছে:

  4. বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি বিটকয়েনের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন সুদের হার বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি আগ্রহ কমে গেছে।

  5. বাজারের অস্থিরতা এবং টেকনিক্যাল সিগন্যাল: বিটকয়েনের দামের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে। বাজার বিশ্লেষকরা দেখেছেন যে বিটকয়েন তার কিছু সাপোর্ট লেভেল ভেঙে ফেলেছে, যার ফলে আরও পতনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  6. লিকুইডেশন ও স্টপ-লস ট্রেডিং: বিটকয়েনের দাম কমে যাওয়ার ফলে অনেক ট্রেডার তাদের স্টপ-লস অর্ডার চালু করেছেন, যাতে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হন। এই স্টপ-লস অর্ডারের ফলে বাজারে আরও বিক্রি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দামের পতন বাড়িয়েছে।

  7. বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি কম আগ্রহ: যখনই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ সম্পদের দিকে চলে যান। এই সময়ে বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অনেক বিনিয়োগকারীর চোখে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  8. এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন? অনেক বিনিয়োগকারী এখন আতঙ্কিত, এবং তারা দ্রুত তাদের পজিশন বিক্রি করতে চাইছেন। এদিকে, বেশ কিছু ট্রেডাররা আবার মনে করছেন, এই পতন সাময়িক এবং ভবিষ্যতে বিটকয়েন তার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে।

  9. বিটকয়েনের দাম আরও কমতে পারে?

    বিটকয়েনের বর্তমান পতন এবং বাজারের সংকটের মধ্যে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বিটকয়েনের দাম আরও কমে যেতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন যে, বিটকয়েনের দাম $৮০,০০০ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যা তার বর্তমান দামের প্রায় অর্ধেক। বাজারে এই পতনের কারণ হলো ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নতুন সমর্থন স্তর তৈরি না হওয়া এবং বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়া।

Preview image