Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

Tata Trusts থেকে বিদায় নিলেন মেহলি মিস্ত্রি | রতন টাটার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সরে দাঁড়ানোয় নতুন অধ্যায় |

Tata Trusts থেকে বিদায় নিলেন মেহলি মিস্ত্রি — বিতর্ক এড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অটুট রাখলেন রতন টাটার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রখ্যাত শিল্পপতি প্রয়াত রতন টাটা-র দীর্ঘদিনের সহযোগী ও Tata Trusts-এর প্রভাবশালী ট্রাস্টি মেহলি মিস্ত্রি (Mehli Mistry) অবশেষে সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, “Nobody is bigger than the institution it serves” — অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় নয়। এই বক্তব্যই তাঁর সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি স্পষ্ট করে দেয়। গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ট্রাস্ট বোর্ড মিটিংয়ে মেহলি মিস্ত্রির জীবনকালীন ট্রাস্টি পদ নবায়নের প্রস্তাব উঠলেও, তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য — নোয়েল টাটা, ভেনু শ্রীনিবাসন ও বিজয় সিংহ — এর বিরোধিতা করেন। ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তে মিস্ত্রির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রথমে তিনি ক্যাভিয়াট দায়ের করে শুনানির দাবি জানালেও পরে আদালতের পথে না গিয়ে নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি লেখেন — “It has been my privilege to serve as a Trustee. I wish the Board continued success.” Tata Trusts, যা Tata Sons-এর প্রায় ৬৬% শেয়ারের মালিক, গ্রুপের কার্যত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। তাই মেহলি মিস্ত্রির প্রস্থান শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি গভর্ন্যান্স ও নেতৃত্বে পরিবর্তনের সূচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নোয়েল টাটার নেতৃত্বে এখন বোর্ড আরও সুসংগঠিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে Tata Group এখন ‘ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক প্রশাসন’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মেহলি মিস্ত্রি তাঁর চিঠিতে রতন টাটার নীতি ও দর্শনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, “Institutional integrity is more important than personal pride.” সব মিলিয়ে, তাঁর এই পদত্যাগ Tata Trusts-এর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে — যেখানে প্রতিষ্ঠানই সর্বোচ্চ, ব্যক্তি নয়।

Tata Trusts থেকে বিদায় নিলেন মেহলি মিস্ত্রি — রতন টাটার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সরে দাঁড়ানোয় নতুন অধ্যায় শুরু গ্রুপে

ভারতের শিল্পজগতের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির একটি — Tata Trusts। আর সেই সংস্থার অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মেহলি মিস্ত্রি (Mehli Mistry) এখন সরে দাঁড়াচ্ছেন। এক চিঠির মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, “Nobody is bigger than the institution it serves” — অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় নয়।

এই একটি লাইনেই তিনি নিজের সিদ্ধান্তের সারমর্ম স্পষ্ট করেছেন — বিতর্ক, অভিমান নয়, বরং নীতি ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার জন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।


কে এই মেহলি মিস্ত্রি?

মেহলি মিস্ত্রি ছিলেন প্রয়াত রতন টাটার দীর্ঘদিনের বন্ধু, সহযোগী ও আস্থাভাজন। তিনি বহু বছর ধরে Tata Trusts-এর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেছেন। ট্রাস্টের বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম থেকে শুরু করে Tata Group-এর কর্পোরেট গভর্ন্যান্সে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি Tata Sons, Tata IndustriesTata Trusts-এর সঙ্গে বহু প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং রতন টাটার নীতি ও মূল্যবোধকে অনুসরণ করেছেন বলেই পরিচিত ছিলেন।


বিতর্কের সূত্র ও সিদ্ধান্তের পটভূমি

গত কয়েক মাস ধরে Tata Trusts-এর অভ্যন্তরে কিছু মতভেদ দেখা যায়। মেহলি মিস্ত্রির মেয়াদ জীবনকালীন ট্রাস্টি (Lifetime Trustee) হিসেবে নবায়নের প্রস্তাব ওঠে অক্টোবর ২০২৫-এ। কিন্তু সেই বৈঠকে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাস্টি — নোয়েল টাটা (Noel Tata), ভেনু শ্রীনিবাসন (Venu Srinivasan)বিজয় সিংহ (Vijay Singh) — এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

ফলে বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মিস্ত্রির পুনঃনিয়োগ বাতিল করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও, মিস্ত্রি আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে বরং সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন —

“আমি রতন টাটার আদর্শে বিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠান ও নীতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই আমি আর কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না।”


Tata Trusts কীভাবে প্রভাবিত হবে

Tata Trusts হচ্ছে Tata Group-এর মূল ভিত্তি। এই ট্রাস্ট সংস্থার হাতে Tata Sons-এর প্রায় ৬৬% শেয়ার রয়েছে।
অর্থাৎ, এটি শুধু দাতব্য সংস্থা নয়, বরং পুরো গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে।

মেহলি মিস্ত্রির পদত্যাগ তাই শুধুমাত্র এক ব্যক্তির প্রস্থান নয় — এটি গভর্ন্যান্স ও নেতৃত্বের পুনর্গঠনের সংকেত।

বোর্ডের নতুন ভারসাম্য এখন নোয়েল টাটার নেতৃত্বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নোয়েল টাটার প্রভাব এখন আরও মজবুত হচ্ছে, এবং Tata Trusts-এর মধ্যে প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

একজন শিল্প বিশেষজ্ঞের মতে —

news image
আরও খবর

“এই পরিবর্তনটি প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে, Tata Group এখন আরও সংগঠিত ও নীতিনিষ্ঠ পথে এগোচ্ছে।”


বিতর্ক ও মীমাংসার পথ

ঘটনার পর মেহলি মিস্ত্রি একটি ক্যাভিয়াট (Caveat) দায়ের করেছিলেন, যাতে তাঁকে ট্রাস্টি হিসেবে অপসারণের আগে ন্যায্য শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, তিনি এই বিতর্কে আর অংশ নিতে চান না।

তিনি তাঁর চিঠিতে লেখেন —

“It has been my privilege to serve as a Trustee. I wish the Board continued success.”

এই বিবৃতিই দেখিয়েছে, তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল নৈতিকতা ও সংযমের প্রতীক।


রূপান্তরের বার্তা

মেহলি মিস্ত্রির পদত্যাগকে শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি Tata Trusts-এর ভিতরে এক বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক।

গত কয়েক বছর ধরে গ্রুপটি নেতৃত্বের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে — রতন টাটা-পরবর্তী যুগে নোয়েল টাটার নেতৃত্বে একটি নতুন কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
এই পরিবর্তন ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজনেস বিশ্লেষক অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত বলেন,

“Mehli Mistry-র সরে দাঁড়ানো দেখায় যে Tata Trusts এখন ‘individual-driven’ থেকে ‘system-driven’ মডেলে পরিণত হচ্ছে।”


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ট্রাস্টের দিশা

বর্তমানে Tata Trusts-এর প্রধান লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা, সামাজিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর দাতব্য কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা।
নোয়েল টাটা ও নতুন বোর্ডের অধীনে সংস্থাটি এখন CSR, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্পে বড় মাপের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেহলি মিস্ত্রির প্রস্থান সাময়িক আলোচনার বিষয় হলেও এটি Tata Trusts-এর প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে আরও শক্তিশালী করবে।

Preview image