মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় এক তরুণী ডাক্তার আত্মহত্যা করেছেন — কিন্তু মৃত্যুর আগে রেখে গেছেন এমন এক চিঠি, যা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সেই হাতে লেখা চিঠিতে লেখা — “আমাকে চারবার ধর্ষণ করেছে আমার আত্মীয়, যে একজন পুলিশ অফিসার।”
? ঘটনার বিবরণ:
ফল্টান এলাকার একটি হোটেল ঘর থেকে উদ্ধার হয় ২৯ বছর বয়সী ডাক্তারের ঝুলন্ত দেহ। মৃতার পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও জানা গেছে, তিনি সরকারি হাসপাতালে কনট্রাক্ট ভিত্তিক চিকিৎসক ছিলেন। আত্মহত্যার ঠিক আগে তিনি নিজের হাতে একটি চিঠি লিখে গিয়েছিলেন — যেখানে তিনি দুইজনের নাম উল্লেখ করেছেন।
প্রথমজন — গোপাল বাদানে, এক সাব-ইনস্পেক্টর, যিনি নাকি তাঁর আত্মীয় এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন।
দ্বিতীয়জন — প্রশান্ত ব্যাংকার, হোটেল মালিকের ছেলে, যিনি নাকি তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করতেন।
এই দুই নাম প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক সংগঠন পর্যন্ত সবাই প্রশ্ন তুলছে —
? “একজন সরকারি ডাক্তার যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ নারীরা কোথায় নিরাপত্তা পাবেন?”
? “পুলিশের ভেতরেই যদি এমন অপরাধ ঘটে, তাহলে বিচার কে দেবে?”
? রাজ্যজুড়ে তোলপাড়:
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। ‘#JusticeForDoctor’ হ্যাশট্যাগে হাজারো মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশন ইতিমধ্যে কড়া তদন্তের দাবি তুলেছে।
ডাক্তারদের সংগঠন MARD (Maharashtra Association of Resident Doctors) এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে — “এটা কেবল আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতা।”
? বিতর্কের মূল কারণ:
অভিযুক্তদের একজন পুলিশ অফিসার — যিনি আইন রক্ষার দায়িত্বে।
ভুক্তভোগী ছিলেন একজন সরকারি ডাক্তার — যিনি নিজে অন্যদের জীবন বাঁচাতেন।
কিন্তু রাষ্ট্র ও সিস্টেম কেউই তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি।
? বর্তমান অবস্থা:
হোটেল মালিকের ছেলে প্রশান্ত ব্যাংকার গ্রেপ্তার হয়েছে।
অন্যদিকে সাব-ইনস্পেক্টর গোপাল বাদানে পলাতক।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
? জনমত এখন একটাই:
“এই ঘটনা শুধু একজন নারীর মৃত্যু নয়, এটি ন্যায়ের অপমান।”