Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রুপির উন্মেষ: ডলার-প্রতি ৯ পয়সায় বাড়ল Indian Rupee — প্রথম বাণিজ্যিক লেনদেনে আদায় ৮৭.৭৯

আজ, শুক্রবার সকালে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ৯ পয়সা বেড়ে ₹৮৭.৭৯-এ পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক তেলের দামে পতন ও ডলারের দুর্বলতার কারণে রুপির মান শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, RBI-এর হস্তক্ষেপে রুপি স্থিতিশীল থাকলেও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এর গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

আজ, শুক্রবার সকালে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ভারতীয় রুপির মান সামান্য বেড়ে ৯ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ডলারের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে ₹৮৭.৭৯ এ। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই ঊর্ধ্বগতি বাজারে এক ধরনের ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক তেলের দামে সামান্য পতন ও ডলারের দুর্বলতা রুপির এই স্বস্তি এনে দিয়েছে।

প্রাথমিক লেনদেনের সময় রুপি ৮৭.৮৮ থেকে ৮৭.৭৯ এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রুপি বন্ধ হয়েছিল ₹৮৭.৮৮ এ। অর্থাৎ আজকের বাণিজ্যিক সেশনে রুপির মান সামান্য হলেও পুনরুদ্ধার হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে —
1️⃣ তেলের দামের পতন: আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ১% এর বেশি হ্রাস পাওয়ায় আমদানি ব্যয় কিছুটা কমেছে, ফলে রুপির ওপর চাপ কমেছে।
2️⃣ ডলারের দুর্বলতা: মার্কিন ডলারের ইনডেক্স কিছুটা দুর্বল হওয়ায় বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে ভারসাম্য ফিরেছে।
3️⃣ RBI-এর হস্তক্ষেপ: রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া নিয়মিত বাজারে ডলার বিক্রি করে রুপিকে স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।

তবে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির (FII) অর্থ উত্তোলন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা রুপির উন্নতির গতি সীমিত করতে পারে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তও রুপির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

news image
আরও খবর

একই সঙ্গে, দেশের শেয়ার বাজারও আজ ইতিবাচক প্রবণতায় শুরু করেছে — Sensex ও Nifty দুই সূচকেই সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে রুপির এই উন্নতি বাজারের সামগ্রিক মনোভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রুপির বর্তমান অবস্থান আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা প্রতিকূল হতে পারে। রুপির মান বেড়ে গেলে রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে, তাই কোম্পানিগুলিকে এখনই উপযুক্ত হেজিং কৌশল (hedging strategy) গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ভারতীয় রুপির এই স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। যদিও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে রুপির গতি মূলত নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, ডলারের ইনডেক্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর।

Preview image