বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে মানুষের একাংশের সমর্থন ও আস্থা অর্জন করেছে বিজেপি। বিভিন্ন ইস্যুতে জনসংযোগ সংগঠনের বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে বাংলার মানুষের মনে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করার দাবি তুলছে গেরুয়া শিবির
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং আবেগপ্রবণ। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও পতনের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। দীর্ঘ বাম শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান যেমন রাজ্যের রাজনীতিকে নতুন মোড় দিয়েছিল ঠিক তেমনই গত কয়েক বছরে বিজেপির দ্রুত উত্থান বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণের দিকে নিয়ে গিয়েছে। এক সময় যে বিজেপিকে বাংলায় খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হত না আজ সেই দলই রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিজেপির সংগঠন ক্রমশ বিস্তার লাভ করেছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর সর্বত্র দলীয় কর্মসূচি রাজনৈতিক সভা এবং প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং সাংগঠনিক শক্তিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। এর ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলায় বিজেপির উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং বিরোধী রাজনীতির কৌশল এই উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা দুর্নীতি কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক হিংসার মতো ইস্যুতে সরব হয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বিজেপি। বাংলায় বিজেপির বিস্তার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে নির্বাচনী রাজনীতিতে। গত কয়েকটি লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভোট শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু এলাকায় যেখানে আগে বিজেপির সংগঠন ছিল দুর্বল সেখানে এখন শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের বিজেপিতে যোগদানও এই পরিবর্তনের একটি বড় দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিজেপির এই উত্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। বিরোধীরা দাবি করছে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলায় নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য তারা উন্নয়ন জাতীয়তাবাদ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের প্রশ্নকে সামনে রেখেই রাজনীতির ময়দানে এগোচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত এবং পাল্টা অভিযোগের পরিবেশ বাংলার রাজনীতিতে আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক সভা সমাবেশ এবং কর্মসূচিতে বিজেপির জনসমাগম এখন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিভিন্ন জেলায় দলের বড় বড় সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং সেই কারণেই সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমশ তাদের দিকে বাড়ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে বলছে বাংলার মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এবং জনমুখী রাজনীতির উপর আস্থা রাখে। বাংলার সংস্কৃতি ভাষা এবং আবেগকে কেন্দ্র করেও বিজেপি এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হয়েছে। বিজেপি একদিকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বার্তা তুলে ধরছে অন্যদিকে বাংলা সংস্কৃতি ও বাঙালি পরিচয়ের প্রশ্নেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বিজেপির প্রচার কৌশলও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেসবুক ইউটিউব ইনস্টাগ্রাম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে দলের বার্তা। বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রচার যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করা এবং কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা বিজেপির রাজনৈতিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির উত্থান শুধুমাত্র একটি দলের বৃদ্ধি নয় বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকেও বদলে দিয়েছে। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক লড়াই তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে বাম এবং কংগ্রেসের মতো পুরনো রাজনৈতিক শক্তিগুলিও নিজেদের নতুনভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এখন অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। মানুষের একাংশের সমর্থন আদায় করে দলটি যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এবং বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বরাবরই দেশজুড়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এসেছে। একসময় দীর্ঘদিনের বাম শাসন, তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান এবং বর্তমানে বিজেপির দ্রুত রাজনৈতিক বিস্তার—এই প্রতিটি অধ্যায় বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। গত কয়েক বছরে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব। এক সময় রাজ্যে সীমিত উপস্থিতি থাকা এই দল আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির সংগঠন যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, সর্বত্র দলীয় কর্মসূচি, সভা, মিছিল এবং জনসংযোগের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে ডিজিটাল প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং নতুন রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে দলটি। এর ফলে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বিজেপির উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে দলের শক্তিশালী অবস্থান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচার এবং বিরোধী রাজনীতির কৌশল সব মিলিয়ে বাংলায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়ে মানুষের একাংশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে দলটি।
নির্বাচনী ফলাফলেও বিজেপির এই উত্থানের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। গত কয়েকটি লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভোট শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু এলাকায় যেখানে আগে বিজেপির সংগঠন কার্যত ছিল না, সেখানে এখন শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিজেপিতে যোগদানও এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে বাংলার রাজনীতিতে দ্বিমুখী লড়াই আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের মত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন প্রধান লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে উঠছে। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের মতো একসময়ের শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা চালালেও ভোট রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াইই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বিজেপির এই উত্থানকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং আবেগের রাজনীতি ব্যবহার করে বাংলায় নিজেদের ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তারা উন্নয়ন, জাতীয়তাবাদ এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে রাজনীতি করছে। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলার রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা এবং বাঙালি পরিচয়ের প্রশ্নও বর্তমানে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিজেপি যেমন জাতীয় রাজনীতির বার্তা তুলে ধরছে, তেমনই বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সংযোগ স্থাপনের চেষ্টাও করছে। ফলে রাজনৈতিক প্রচারে নতুন কৌশল এবং নতুন ভাষার ব্যবহার স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক সভা সমাবেশে বিজেপির জনসমাগমও এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে