Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বর্ধমানে বাইকের ধাক্কায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধের মৃত্যু, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বর্ধমান শহরের উদয়পল্লী-কাঞ্চননগর এলাকায় ৭০ বছর বয়সী হরি দেবনাথ বাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন, যখন দ্রুতগামী একটি বাইক তাকে ধাক্কা মারে। ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং বেপরোয়া চালকদের মনোভাবের প্রতিফলন। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনদিন পর তিনি মারা যান। হরি দেবনাথের মৃত্যু তার পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। এই দুর্ঘটনা শহরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

বর্ধমানে বাইকের ধাক্কায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা বর্ধমান শহরের উদয়পল্লী-কাঞ্চননগর এলাকার রাজপথে ঘটা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রবীণ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং এটি বর্ধমান মহানগরীর অভ্যন্তরে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আইন লঙ্ঘনকারী চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের এক কঠিন চিত্র তুলে ধরেছে। গত সপ্তাহের এই দুর্ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী হরি দেবনাথের মৃত্যু কেবল তার পরিবারকেই নয়, সমগ্র শহরবাসীকে স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত করেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর ঘটনাটি প্রমাণ করে দিল, পথচারী হিসাবে এই শহরে জীবন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।  বৃদ্ধ হরি দেবনাথ তার প্রাত্যহিক কাজ সেরে শান্ত বিকেলে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। উদয়পল্লী-কাঞ্চননগর এলাকার যে রাস্তাটি ধরে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতেন, সেই পথটি ছিল পরিচিত এবং সাধারণত নিরাপদ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু নিয়তির ফেরে সেদিন সন্ধ্যায় সেই চেনা পথই হয়ে উঠল মারণফাঁদ। স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সন্ধ্যা নামার মুখে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসছিল। বাইক চালকের সম্ভবত গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো মনোযোগ ছিল না, অথবা সে আইন ও সড়কের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ দেখায়নি। হরি দেবনাথ যখন সাবধানে রাস্তা অতিক্রম করছিলেন বা রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন, ঠিক তখনই ওই বাইকটি সজোরে এসে তাকে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এত তীব্র ছিল যে, প্রবীণ লোকটি মুহূর্তেই ছিটকে রাস্তার পিচে লুটিয়ে পড়েন। তার শরীরের একাধিক অংশে গভীর আঘাত লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরই লোকটির জ্ঞান ছিল না এবং মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এই তীব্রতা প্রমাণ করে, বাইকটির গতি নির্ধারিত সীমার বহু ঊর্ধ্বে ছিল। মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশে থাকা মানুষের চিৎকারে এলাকার স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়।  আহত হরি দেবনাথকে তৎক্ষণাৎ স্থানীয়দের সহায়তায় এবং পুলিশের উদ্যোগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে দ্রুত জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয় এবং চিকিৎসকরা জীবন রক্ষার জন্য যুদ্ধ শুরু করেন। জানা গেছে, মাথায় গুরুতর আঘাত  এবং শরীরের একাধিক অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে তার অবস্থা প্রথম থেকেই ছিল সঙ্কটজনক। হাসপাতালের সূত্র মারফত জানা যায়, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী কয়েকদিন ধরে তিনি ছিলেন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে। প্রবীণ ব্যক্তির বয়স এবং আঘাতের গভীরতার কারণে তার শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। টানা তিন দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে অসম লড়াই চালানোর পর, অবশেষে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে দিল, সড়ক দুর্ঘটনার প্রাথমিক আঘাত অনেক সময়ই দীর্ঘমেয়াদী এবং মারাত্মক ফল বয়ে আনে।  হরি দেবনাথের মৃত্যু তার পরিবারে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। ৭০ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন পরিবারের চালিকাশক্তি। তার স্ত্রী, সন্তান, এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভরা সংসার ছিল তার। এলাকার মানুষজন তাকে একজন সদালাপী এবং সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা মানুষ হিসেবে চিনতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন, "বাবা ছিলেন আমাদের বটগাছের মতো। এই বয়সেও তিনি সব কাজে আমাদের ভরসা দিতেন। যে বাইক চালক শুধু তার গতির নেশার জন্য আমাদের এত বড় ক্ষতি করল, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ট্র্যাফিকের সামান্য নিয়ম মানলে হয়তো আজ এই দিন দেখতে হতো না।" এই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মানসিক পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবীণদের হারানোর বেদনা একটি পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দেয়, যা এই পরিবারটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে।   বর্ধমানে এই দুর্ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তি এবং সংগঠন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের শহরের সড়ক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। শহরের সড়কগুলিতে গতি নিয়ন্ত্রণের অভাব, সড়ক সংকেতের অনুপস্থিতি এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা বড় ধরনের সমস্যা। দুর্ঘটনাটি মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য সঠিক গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রয়োজন। শহরের সড়কে রোড সাইন, রাস্তার সীমানা এবং পথচারীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা খুবই জরুরি। রাস্তা পারাপারে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে পথচারীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন। অতএব, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচার চালানো, সরকারী এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো, এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে, এমন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। 

news image
আরও খবর

হরি দেবনাথের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হরি দেবনাথ একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন, যিনি তাঁর পরিবারের প্রতি বিশেষ দায়িত্বশীল ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যু তাদের জীবনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা জানালেন যে, হরি দেবনাথের মৃত্যু একটি গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি একজন সদয়, সহানুভূতিশীল এবং পরিবারের প্রতি আস্থাশীল ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা এই দুর্ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন। তারা আশা করছেন যে, সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে এবং এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।  এই দুর্ঘটনা শহরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সর্বপ্রথম, শহরের প্রধান রাস্তা এবং সড়কগুলিতে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিড ব্রেকার, সাইনবোর্ড এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সড়ক সংক্রান্ত চিহ্ন রাখতে হবে। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন যদি সড়ক নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব না দেয়, তবে এই ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু বাইক চালকদের নয়, সকল পরিবহনকারীদের সঠিক নিয়মে চলাচল করার জন্য সচেতন করা প্রয়োজন।  হরি দেবনাথের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা শুধুমাত্র তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো শহরের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। শহরের সড়ক নিরাপত্তা এবং সচেতনতা নিয়ে এই দুর্ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারের সদস্য এই ধরনের দুর্ঘটনায় মারা না যান। অবশেষে, আমরা হরি দেবনাথের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি এবং আশা করি, সরকারের সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।মৃত্যুর পর মামলাটি ধারা ৩০৪A-এর অধীনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। পুলিশকে দ্রুত বাইক চালককে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করতে হবে, এবং প্রমাণ করতে হবে যে দুর্ঘটনাটি চালকের "ঘোর অবহেলা" এবং বেপরোয়া মনোভাবের"  ফলেই ঘটেছে। বাইক চালকের লাইসেন্স বাতিল এবং কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে জনমহলে। বর্ধমান শহরের উদয়পল্লী-কাঞ্চননগর এলাকায় ৭০ বছর বয়সী হরি দেবনাথ বাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন, যখন দ্রুতগামী একটি বাইক তাকে ধাক্কা মারে। ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং বেপরোয়া চালকদের মনোভাবের প্রতিফলন। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনদিন পর তিনি মারা যান। হরি দেবনাথের মৃত্যু তার পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। এই দুর্ঘটনা শহরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

Preview image