Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

এক ম্যাচে অফস্পিন কিপিং স্টাম্পিং বুমরাহর অজানা কীর্তি ফাঁস করলেন অন্য ম্যাচের গল্প

বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁর জোরে বোলিংয়ের কদর আলাদা। নতুন বল হোক বা পুরনো—ব্যাটারদের ত্রাস জসপ্রীত বুমরাহ এবার শোনালেন এক পুরনো ম্যাচের চমকপ্রদ গল্প।

বিশ্ব ক্রিকেটে জোরে বোলিংয়ের জগতে যে নামটি উচ্চারিত হলেই ব্যাটারদের মনে অজান্তেই ভয় ঢুকে পড়ে, তিনি জসপ্রীত বুমরাহ। নতুন বল হাতে নিলেই হোক বা পুরনো বল নিয়ে ডেথ ওভারে—দু’ক্ষেত্রেই সমান ভয়ংকর তাঁর উপস্থিতি। নিখুঁত লাইন ও লেন্থ, গতির নিপুণ পরিবর্তন এবং আচমকা ছোড়া ইয়র্কার তাঁকে আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে। বিশ্বের সেরা ব্যাটাররাও বারবার তাঁর সামনে অসহায় হয়েছেন। ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠা বুমরাহ আজ বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য নাম।

তবে সম্প্রতি বুমরাহ যে গল্প শোনালেন, তা শুনে অবাক হয়েছেন অনেকেই। কারণ এই গল্পে শুধু পেস বোলিংয়ের কথা নেই, নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের কথাও। বরং সেই গল্প ফিরে যায় তাঁর কলেজ জীবনের এক স্মরণীয় ম্যাচে, যেখানে বুমরাহকে দেখা গিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। সেই ম্যাচে তিনি শুধুই জোরে বল করেননি, বরং ক্রিকেটের প্রায় সব ভূমিকাতেই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন।

বুমরাহ নিজেই জানিয়েছেন, কলেজে পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে দলের প্রয়োজনে তাঁকে একাধিক দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। কখনও অফস্পিন বল করতে হয়েছে, কখনও আবার উইকেটকিপারের গ্লাভস পরে মাঠে নামতে হয়েছে। এমনকি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টাম্পিংও করেছিলেন তিনি, যা ম্যাচে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। আজ যাঁকে শুধুই একজন স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে চেনা হয়, সেই বুমরাহ এক সময় মাঠে ‘সব কাজের মানুষ’ হিসেবেই খেলেছেন—এই তথ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

সম্প্রতি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মজার ভিডিয়ো পোস্ট করে। সেই ভিডিয়োতেই উঠে আসে বুমরাহর এই অজানা অধ্যায়। সেখানে দেখা যায়, বুমরাহ হাতে উইকেটকিপিংয়ের গ্লাভস পরে কল্পনায় স্টাম্পিং করার ভঙ্গি করছেন। নিজেকে সেই ভূমিকায় দেখে তিনি নিজেই হেসে ফেলেন। হাসতে হাসতে বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে আমি যেন বিস্কুট তৈরি করি।” তাঁর এই হালকা রসিকতা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এরপরই বুমরাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, এক ম্যাচে অফস্পিন বোলিং করা, উইকেটকিপিং করা এবং একটি স্টাম্পিং করার পাশাপাশি তিনি ছ’নম্বরে ব্যাটও করেছিলেন। শুধু ব্যাট করতে নেমে দায়িত্ব পালনই নয়, রানও করেছিলেন প্রয়োজন অনুযায়ী। নিজের কথায়, “সেদিন সব কিছুই করেছিলাম।” এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, ক্রিকেট জীবনের শুরুর দিকে কতটা বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল তাঁকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলেজ পর্যায়ের ক্রিকেটে এমন বহুমুখী অভিজ্ঞতা একজন ক্রিকেটারকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে। বুমরাহর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উইকেটকিপিং করার ফলে তিনি খেলাটাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখেছিলেন। একজন কিপার যেমন প্রতিটি বলের সূক্ষ্ম দিক লক্ষ্য করে, তেমনই এই অভিজ্ঞতা তাঁর বোলিং চিন্তাধারাকেও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অনেকে।

আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বুমরাহ মানেই ভরসা। আইপিএল হোক বা বিশ্বমঞ্চ—যেখানেই তিনি খেলুন, দল জানে তাঁর কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সই পাওয়া যাবে। তবে এত বড় তারকা হয়ে ওঠার পিছনে যে কলেজ জীবনের এমন ছোট ছোট গল্প লুকিয়ে আছে, তা অনেকেরই অজানা ছিল। সেই গল্প সামনে এনে বুমরাহ যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন—ক্রিকেট শুধুই গতি আর শক্তির খেলা নয়, বরং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এক শিল্প।

এই স্মৃতিচারণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বুমরাহর ব্যক্তিত্বের আর এক দিক। মাঠে তিনি যতটা ভয়ংকর, মাঠের বাইরে ঠিক ততটাই সহজ, প্রাণবন্ত ও রসবোধসম্পন্ন। কলেজ জীবনের সেই ম্যাচের গল্প তাই শুধু অতীতচারণ নয়, বরং তাঁর ক্রিকেট যাত্রার ভিত্তির কথাই বলে যায়।

বুমরাহ নিজেই জানিয়েছেন, নিজের কলেজ জীবনের একটি ম্যাচের কথা, যেখানে জোরে বোলিং ছাড়া বাকি সব দায়িত্বই তিনি পালন করেছিলেন—এবং তাতেও ছিলেন সফল। সেই ম্যাচে তিনি ছিলেন একেবারে ‘অলরাউন্ডার’ রূপে। অফস্পিন বোলিং থেকে শুরু করে উইকেটকিপিং, এমনকি স্টাম্পিংও করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সেই ম্যাচে।

সম্প্রতি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি মজার ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সেই ভিডিয়োতেই উঠে এসেছে বুমরাহর এই পুরনো স্মৃতির কথা। ভিডিয়োতে দেখা যায়, বুমরাহ হাতে তুলে নিয়েছেন উইকেটকিপিংয়ের গ্লাভস। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কল্পনায় স্টাম্পিং করার ভঙ্গি করেন তিনি। নিজের সেই অপ্রত্যাশিত রূপ দেখে নিজেই হেসে ফেলেন ভারতীয় পেসার। হাসতে হাসতে মজার মন্তব্য করেন, “দেখে মনে হচ্ছে আমি যেন বিস্কুট তৈরি করি।” এই হালকা মেজাজই যেন ফুটিয়ে তোলে তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্য এক দিক—মাঠের বাইরে নির্ভার, সহজ-সরল মানুষটি।

news image
আরও খবর

এরপরই বুমরাহ বিস্তারিতভাবে বলেন সেই ম্যাচের কথা। কলেজে পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে নানা দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। কখনও অফস্পিন বল করতে হয়েছে, কখনও আবার উইকেটকিপারের গ্লাভস পরে দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। এমনকি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টাম্পিংও করেন তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বলে জানান বুমরাহ নিজেই।

সেই ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারেও ছিল তাঁর আলাদা ভূমিকা। ছ’নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। সাধারণত যিনি এখন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটার হিসেবে নামেন বা অনেক সময় ব্যাটিংই করতে হয় না, সেই বুমরাহ তখন দলের প্রয়োজনে মাঝের সারিতে ব্যাট করেছেন এবং ভালো রানও করেছিলেন। তাঁর কথায়, “সেদিন সব কিছুই করেছিলাম।” এই এক লাইনের মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর ক্রিকেট জীবনের এক অনন্য অধ্যায়।

আজকের বুমরাহকে দেখলে কেউই ভাবতে পারবেন না যে এক সময় তিনি অফস্পিন বোলিং বা উইকেটকিপিংও করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি মূলত একজন স্পেশালিস্ট পেস বোলার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু কলেজ পর্যায়ের ক্রিকেটে যে বহুমুখী প্রতিভার ঝলক তিনি দেখিয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো তাঁকে আরও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

এই স্মৃতিচারণ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আইপিএলের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বুমরাহ। তবে আইপিএলের আগে তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় রয়েছে তাঁর সামনে। সেই সিরিজ়ে ভারতের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবেই দেখা হবে তাঁকে। পাশাপাশি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হবেন বুমরাহ।

গত কয়েক বছরে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে তাকালেই বোঝা যায় কেন তাঁকে নিয়ে এত প্রত্যাশা। ২০২৫ সালে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২১টি ম্যাচে ৪৫টি উইকেট নিয়েছিলেন বুমরাহ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তাঁর ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা। শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলগত সাফল্যেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। এশিয়া কাপ জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পিছনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুমরাহর সাফল্যের অন্যতম কারণ তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। কলেজ জীবনে নানা ভূমিকায় খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা দিয়েছে। একজন উইকেটকিপার যেমন সব সময় খেলাটাকে সামনে থেকে দেখে, তেমনই একজন বোলার বা ব্যাটার হিসেবে মাঠে কী ঘটছে, তা গভীরভাবে অনুধাবন করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এই অভিজ্ঞতাই হয়তো তাঁকে আজকের বুমরাহ বানিয়েছে।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সেই ভিডিয়োটি তাই শুধুই একটি মজার ক্লিপ নয়। সেটি আসলে বুমরাহর ক্রিকেট জীবনের শিকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে শিকড় থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ভয়ংকর পেস বোলার। মাঠে যখন তিনি রান-আপ নেন, তখন ব্যাটারদের মনে ভয় ঢুকে পড়ে। কিন্তু মাঠের বাইরে সেই মানুষটিই হাসতে হাসতে নিজের পুরনো দিনের গল্প শোনান, নিজেকে নিয়ে মজা করতে পারেন।

এই গল্প প্রমাণ করে, বড় তারকারাও একদিন ছোট মঞ্চ থেকেই উঠে আসেন। কলেজ ক্রিকেটের সেই ম্যাচে অফস্পিন, উইকেটকিপিং, স্টাম্পিং আর ব্যাটিং—সব কিছু করার অভিজ্ঞতা আজও বুমরাহর মনে গেঁথে আছে। আর সেই স্মৃতিই তিনি ভাগ করে নিলেন ভক্তদের সঙ্গে।

আইপিএল, আন্তর্জাতিক সিরিজ় কিংবা বিশ্বকাপ—আগামী দিনগুলোতে বুমরাহর কাঁধেই থাকবে বড় দায়িত্ব। তবে যত বড় মঞ্চেই খেলুন না কেন, কলেজ জীবনের সেই ম্যাচের গল্প হয়তো তাঁকে সব সময় মনে করিয়ে দেবে—ক্রিকেট শুধুই জোরে বল করার খেলা নয়, বরং নানা ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এক সুন্দর শিল্প

Preview image