Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“জয়ী দলে বদলের সুর? শুভমনের রান-দুর্ভিক্ষে গম্ভীরের সিদ্ধান্তে নজর”

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০১ রানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার চণ্ডীগড়ে দ্বিতীয় ম্যাচে নামার আগে প্রশ্ন জয়ী দলে কি বদল আনবেন গৌতম গম্ভীর? সুযোগ পাবেন কি সঞ্জু, বদল হবে কি শুভমন-সূর্যদের ব্যাটিং অর্ডারে

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। কটকের সেই ম্যাচে দলের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিন বিভাগের পারফরম্যান্সই ছিল চোখে পড়ার মতো। তবু ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে ‘জয়ী দলে বদল হয় না’ এই প্রচলিত কথাটি অনেক সময়ই খাটে না। কারণ গৌতম গম্ভীর এমন কোচ, যিনি ম্যাচ-পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ, পিচের চরিত্র এবং টুর্নামেন্টের আগাম প্রস্তুতির ভিত্তিতে দল সাজান। কাগজে কলমে জয় এলেও তিনি সবসময় আরও ভালো করার জায়গা খোঁজেন। ফলে বৃহস্পতিবার চণ্ডীগড়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দলবদলের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

গম্ভীরের দল নির্বাচন: মনস্তত্ত্ব বনাম ঐতিহ্য

ভারতীয় ক্রিকেটে সাধারণত একবার জেতার পর পরের ম্যাচেও সেই বিজয়ী একাদশকেই নামানো হয়। কিন্তু গম্ভীর ভিন্ন ধাঁচের কোচ। নাইট রাইডার্সে তাঁর সময় থেকে শুরু করে জাতীয় দলে দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যন্ত, তিনি সবসময় চোখ রাখেন পরবর্তী টুর্নামেন্টে। বর্তমান পারফরম্যান্সের সাথে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে মিলিয়ে দেখেন। তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই মুখ্য।

এই কারণেই দেখা গিয়েছে, তিনি দলে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতেও পিছপা হন না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যদি মনে হয় কোনও খেলোয়াড় জায়গায় আরও ভাল বিকল্প আছে, তাহলে গম্ভীর সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন না—তা সে সিদ্ধান্ত যত কঠিনই হোক না কেন। তাই চণ্ডীগড়ের দ্বিতীয় ম্যাচে ‘জয়ী দল’ থেকে পরিবর্তন হওয়া একেবারেই অসম্ভব নয়।

শুভমন গিল: ফর্মহীন, কিন্তু সহ-অধিনায়ক—এখন কী?

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে শুভমন গিলের প্রত্যাবর্তন হয়েছিল এশিয়া কাপ থেকেই। তাঁকে সহ-অধিনায়কও করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই তিনি এখন দলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সমস্যা একটাই—ব্যাট হাতে তিনি একেবারেই ছন্দে নেই। ওপেনিংয়ে সুযোগ পেলেও কোনও ম্যাচেই নিজের ছন্দে ফিরতে পারেননি।

ভারতের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় ওপেনিংয়ে গতি তোলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক শর্মা বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার এবং তাঁর খেলার স্টাইলই এমন যে পাওয়ার প্লে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেন। শুভমন তুলনায় অনেক ধীরগতির। ফলে ভারতকে বারবার ধীর সূচনা করতে হচ্ছে।

কিন্তু তাঁকে বাদ দেওয়া কি এত সহজ?
সহ-অধিনায়ক হওয়ায় তা সম্ভব নয়। গম্ভীরও তাঁকে পছন্দ করেন বলেই ধারণা। এমনকী ক্রিকেটমহলে গুঞ্জন উঠেছে যে, ফর্মে না থাকা সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে শুভমনকেই বিশ্বকাপের আগেই অধিনায়ক করা হতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটে সাধারণত তিন ফরম্যাটে একই অধিনায়ক রাখার চেষ্টা হয়—এই প্রেক্ষিতেও শুভমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন।

কিন্তু অধিনায়ক হোক বা সহ-অধিনায়ক—যদি ব্যাট হাতে ফর্ম না থাকে, তাহলে দলের সমস্যাই বাড়বে। তাই চণ্ডীগড়ে শুভমনকে রাখা হবে কিনা, বা রাখা হলেও কোন পজিশনে রাখা হবে—সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

সঞ্জু স্যামসন: ওপেন করে তিনশো, তবু বেঞ্চে

গম্ভীরের কোচিংয়ে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলির একটি হলো সঞ্জু স্যামসনকে ওপেনার বানানোর সিদ্ধান্ত। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র চার ম্যাচে তিনটি শতরান করে তিনি নজর কাড়েন। পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তোলায় তিনি পারদর্শী এবং তাঁর খেলার ধরনও আক্রমণাত্মক।

তা সত্ত্বেও এখন তিনি বেঞ্চে।
কারণ?
শুভমন ওপেন করছেন। এবং শুভমন দলের বর্তমান নেতৃত্ব-পরিকল্পনার অংশ।

সঞ্জুকে মিডল অর্ডারে নামানো হয়েছিল, যা তাঁর উপযুক্ত জায়গা নয়। এশিয়া কাপে তাঁকে কখনও কখনও আট নম্বরেও ব্যাট করতে দেখা গিয়েছে—যা একজন ওপেনারের জন্য স্বাভাবিক অবস্থান নয়। মিডল অর্ডারে সঞ্জুর ব্যাটে ঝলক দেখা যায়নি। ফলে জিতেশ শর্মা যেমন প্রকৃত ফিনিশার, তাঁকে রাখা হয়েছে।

তাহলে কি চণ্ডীগড়ে সঞ্জুকে ফেরানো হবে?
বিশ্বকাপের আগে ভারতের হাতে মোট ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। একটিতে খেলা হয়েছে। বাকি ম্যাচগুলিতে কিছু বিকল্প তৈরি করতে চাইবেন গম্ভীর। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘বিকল্প’ হচ্ছে শুভমন বনাম সঞ্জু ওপেনিং পরীক্ষাটি। তাই এই ম্যাচে সঞ্জুকে খেলানো হতে পারে।

অভিষেক শর্মা: অটোমেটিক চয়েস

এই মুহূর্তে ভারতের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় শক্তি অভিষেক শর্মা। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং, পাওয়ার প্লে-তে অসাধারণ স্ট্রাইক রেট এবং নিয়মিত রান তোলার ক্ষমতা তাঁকে অপরিবর্তনীয় করে তুলেছে। তাই ওপেনিংয়ের একটি জায়গা এককভাবে তাঁর দখলে।

এখন লড়াই চলছে ওপেনিং-এর দ্বিতীয় জায়গা নিয়ে—শুভমন বনাম সঞ্জু।

শুভমন বাদ না দিলে কী হতে পারে?

গম্ভীর যদি শুভমনকে বাদ দিতে না চান, তাহলে তাঁকে তিন নম্বরে নামানো যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে—

  • তিলক বর্মা ৪ নম্বরে

  • সূর্যকুমার ৫ নম্বরে

  • হার্দিক পাণ্ড্য ৬ নম্বরে

এভাবে ব্যাটিং অর্ডার সরে যেতে পারে।
তবে এতে সূর্যকুমার যাদবের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, কারণ তিনি সাধারণত তিন নম্বর পজিশনেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ।

সূর্যকুমারের ফর্ম: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

হার্দিকের দুর্দান্ত ফর্মের মধ্যেও সূর্যকুমারের ব্যাট কিন্তু এখনো দুশ্চিন্তার কারণ। তিনি বলছেন, ব্যাটিং অর্ডারে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁর নিজের পারফরম্যান্সই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফর্ম ফিরে পাওয়া জরুরি।
যদি তিনি ফর্মে না ফিরেন, তাহলে শুভমনকে অধিনায়ক করার ভাবনাও সামনে এসেছে—এমন খবরও ছড়িয়েছে।

স্পিনারদের ভবিষ্যৎ: কুলদীপ কি বেঞ্চেই?

news image
আরও খবর

ভারতীয় দলের বর্তমান গঠনে স্পিনারদের জায়গা কমে আসছে। কারণ ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বকাপ, আর সেই সময় শিশির পড়বে। শিশির পড়লে স্পিনারদের বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়, টার্ন কমে যায়। এর বিপরীতে পেসাররা রিভার্স সুইং ও হার্ড লেংথ ব্যবহার করে কার্যকর হতে পারেন। তাই দু’জনের বেশি স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা কম।

অভিষেক শর্মা নিজেই কিছু স্পিন করাতে পারেন। হার্দিক ও শিবম দু’জনেই পেসার-অলরাউন্ডার। তাই কুলদীপ যাদবকে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

জিতেশ শর্মা: ফিনিশারের নির্ভরতা

জিতেশ শর্মা হলেন ভারতের সবচেয়ে কার্যকর টি-টোয়েন্টি ফিনিশারদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর থাকা ভারতের ডেথ ওভারে ব্যাটিং শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
যদি তাঁকে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়, তখনই সঞ্জুর সুযোগ বাড়বে।
কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ফিনিশারদের নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাইবেন না গম্ভীর।

দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা: কোথায় কোথায়?

চণ্ডীগড়ের পিচ সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে শিশির নামলে বোলারদের জন্য সমস্যা হয়। এমন পরিস্থিতিতে—

  • জিতেশ শর্মা স্থির

  • শিবম ও হার্দিক খেলবেন

  • বেশি স্পিনার নেওয়ার যুক্তি নেই

তাই পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রধানত ওপেনিং পজিশনেই।

ভারত কি পরীক্ষার পথে হাঁটবে?

ভারতের সামনে এখন মাত্র ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাকি। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের সেরা কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। তাই পুরো দল বদল হবে না। তবে ২–৩টি পজিশনে রোটেশন হবে—এমন ধারণা পরিষ্কার।

সেই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো:

  1. শুভমন গিল বনাম সঞ্জু স্যামসনের ওপেনিং প্রতিযোগিতা

  2. সূর্যকুমারের ফর্ম

  3. ফিনিশিং দায়িত্বে জিতেশের ভূমিকা

  4. বিশ্বকাপের আগে সঠিক ব্যাকআপ তৈরি

চণ্ডীগড়ে পরীক্ষা শুরু হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গম্ভীরের সিদ্ধান্ত—অপ্রিয়ও হতে পারে

যদি গম্ভীর মনে করেন শুভমনকে বসানো প্রয়োজন, তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিতেও পারেন। কিন্তু শুভমন সহ-অধিনায়ক হওয়ায় সেটি কঠিন। তাই সম্ভবত তাঁকে তিন নম্বরে নামিয়ে ওপেনিং-এ সঞ্জুকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

দলের বাকি অংশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

বোলিং ইউনিট—আর্শদীপ, সাইরাজ, শিবম, হার্দিক—এই কম্বিনেশন পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
স্পিন বিভাগেও অভিষেক + তিলক = বাড়তি স্পিন আছে। তাই তৃতীয় স্পিনার নেওয়ার প্রয়োজন কম।

শেষ কথা: চণ্ডীগড়ের ম্যাচ ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে

কাগজে কলমে ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হলেও, আসলে এটি ভারতের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে সঠিক কম্বিনেশন, সঠিক ওপেনিং জুটি, সঠিক ব্যাটিং অর্ডার—সবকিছুই পরীক্ষা করতে হবে।
গম্ভীর সবসময় নিজের জায়গা পরিষ্কার রাখেন—তিনি দেশের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত। তাই বৃহস্পতিবার ভারত দলে একাধিক জায়গায় বদল হতেই পারে।

বিশ্বকাপের আগে ভারতকে নিখুঁত দল হয়ে উঠতে হলে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—শুভমন নাকি সঞ্জু? ওপেনিংয়ে গতি বাড়ানো কি জরুরি? সূর্যকুমারের জায়গা কতটা নিরাপদ?
চণ্ডীগড়ের ম্যাচ তাই কাগজে-কলমে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হলেও, বাস্তবে এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের রাত।

Preview image