গত কয়েক বছরে সিচুয়ান প্রদেশে গোপনে বেশ কয়েকটি পরমাণুকেন্দ্রের সম্প্রসারণ করেছে চিন। তার মধ্যে অন্যতম জিটং এবং পিংটন উপত্যকার দু’টি কেন্দ্র। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে বেজিং! চিনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের সিচুয়ান প্রদেশেও তৈরি হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার। কিছু উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এমনটাই দাবি করছে নিউইয়র্ক টাইম্‌স। প্রদেশের দু’টি উপত্যকায় এমন কর্মকাণ্ড চলছে বলে দাবি করছে তারা। একটি জিটং উপত্যকায়, অন্যটি পিংটন উপত্যকায়।
চিনের সিচুয়ান প্রদেশটি ভারত লাগোয়া নয়। তবে অরুণাচল প্রদেশ থেকে খুব বেশি দূরেও নয়। নিউ ইয়র্ক টাইম্স জানাচ্ছে, ২০১৯ সাল থেকেই পারমাণবিক শক্তিধর চিন নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শুরু করে। সিচুয়ান প্রদেশের এই পরমাণুকেন্দ্রগুলিও সেই উদ্যোগের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নেওয়া কিছু উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করা হচ্ছে, জিটং উপত্যকায় নতুন কিছু বাঙ্কার এবং প্রাচীর তৈরি হয়েছে। একটি নতুন ভবনও দেখা গিয়েছে এবং সেটিকে ঘিরে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে পাইপলাইন। বিশ্লেষকদের দাবি, কোনও বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে কাজ করার সময়ে যেমন পরিকাঠামো তৈরি হয়, এ ক্ষেত্রেও তেমনই করা হয়েছে।
পিংটং উপত্যকাতেও একটি নতুন পরিকাঠামো নজরে এসেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি ওই পরিকাঠামোয় দু’জায়গায় সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়েছে। সেখানে মূল ভবনটির মাথায় রয়েছে ৩৬০ ফুট উঁচু চিমনি। ওই ভবনে গত কয়েক বছরে নতুন কিছু ভেন্ট বসানো হয়েছে। তাপ নিরোধক ব্যবস্থাও করা হয়েছে সেখানে। বিশ্লেষকদের দাবি, ওই এলাকায় প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে চিন। ইউরেনিয়ামের মতো প্লুটোনিয়ামও পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে লাগে। প্লুটোনিয়াম-২৩৯ আইসোটোপ ব্যবহার করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা যায়।
উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষজ্ঞ রেনি বাবিয়ার্জের দাবি, যে বাঙ্কারগুলির ছবি ধরা পড়েছে, সেগুলি সম্ভবত বিস্ফোরক পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর দাবি, পিংটন এলাকায় যে ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে বিভিন্ন দেশে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কেন্দ্রের বেশ মিল রয়েছে। বাবিয়ার্জের দেওয়া উপগ্রহচিত্রগুলিকে বিশ্লেষণ করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্টে চিনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণারত পদার্থবিদ হুই ঝাং। এই ধরনের গঠনের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের যে যথেষ্ট মিল রয়েছে, তা মনে করছেন তিনিও।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স জানাচ্ছে, গত কয়েক বছরে সিচুয়ান প্রদেশে গোপনে বেশ কয়েকটি পরমাণুকেন্দ্রের সম্প্রসারণ করেছে চিন। তার মধ্যে অন্যতম হল এই দু’টি। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে চিনের কাছে ৬০০টিরও বেশি পরমাণু অস্ত্র ছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি ১০০০-এ নিয়ে যেতে চাইছে বেজিং। যদিও আমেরিকা এবং রাশিয়ার কাছে মজুত পরমাণু অস্ত্রের তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম বলে দাবি করা হচ্ছে।
চিনের গোপন পরমাণু অবকাঠামো সম্প্রসারণ: উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিসরে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চিনকে ঘিরে যে নতুন উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ সামনে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞ রেনি বাবিয়ার্জ উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণ করে দাবি করেছেন, যে বাঙ্কারসমূহের ছবি ধরা পড়েছে সেগুলি সম্ভবত বিস্ফোরক পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিংটন এলাকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামোর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নকেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে।
এই দাবিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্টে চিনের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে গবেষণারত পদার্থবিদ হুই ঝাং। তিনি উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে মত প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের স্থাপত্য ও নিরাপত্তা বিন্যাস পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে যথেষ্ট মিল বহন করে। ফলে বিষয়টি কেবল অনুমান বা কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে সামরিক নজরদারির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হল স্যাটেলাইট ইমেজারি বা উপগ্রহচিত্র। শীতল যুদ্ধের সময় থেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ প্রতিপক্ষের সামরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে আসছে। আধুনিক যুগে উচ্চ রেজোলিউশনের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র সহজলভ্য হওয়ায় স্বাধীন গবেষক, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও সংবাদমাধ্যমও সামরিক অবকাঠামো বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রেনি বাবিয়ার্জের বিশ্লেষণও এই ধারারই অংশ। তিনি বিভিন্ন সময়ে তোলা উপগ্রহচিত্র তুলনা করে দেখিয়েছেন—
বাঙ্কার সদৃশ ভূগর্ভস্থ স্থাপনা
বিস্ফোরণ সহনশীল পুরু কংক্রিট কাঠামো
বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয়
নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ
বিস্ফোরক পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য উন্মুক্ত ক্ষেত্র
এই বৈশিষ্ট্যগুলি সাধারণ সামরিক ঘাঁটির তুলনায় বিশেষায়িত পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকেই ইঙ্গিত করে।
সিচুয়ান প্রদেশের পিংটন অঞ্চল ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম এই অঞ্চল সামরিক গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত। অতীতে বিভিন্ন দেশ তাদের পারমাণবিক গবেষণা ও পরীক্ষাকেন্দ্র জনবসতি থেকে দূরে, প্রাকৃতিক আড়ালে স্থাপন করেছে—যাতে নজরদারি কঠিন হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকে।
পিংটনে যে ধরনের অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—
গভীর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ
সুরক্ষিত বাঙ্কার নেটওয়ার্ক
ভারী পরিবহন চলাচলের রাস্তা
উচ্চ নিরাপত্তা প্রাচীর
সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ক্ষেত্র
এই বৈশিষ্ট্যগুলি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
হুই ঝাং-এর মতামত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিনের পারমাণবিক নীতি, অস্ত্রভাণ্ডার ও কৌশল নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর মতে, উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়া স্থাপনাগুলির বিন্যাস, দূরত্ব পরিকল্পনা, বিস্ফোরণ প্রতিরোধী নকশা—সবকিছু মিলিয়ে এটি উন্নত অস্ত্র পরীক্ষার অবকাঠামোর ইঙ্গিত বহন করে।
তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, কেবল বাহ্যিক চিত্র বিশ্লেষণ করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবুও পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক উদাহরণ—যেমন বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের স্থাপত্য বিন্যাস—এর সঙ্গে মিল থাকায় সন্দেহ জোরদার হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে চিন সিচুয়ান প্রদেশে গোপনে একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্র সম্প্রসারণ করেছে। এই সম্প্রসারণের মধ্যে গবেষণা কেন্দ্র, অস্ত্র সংরক্ষণাগার, পরীক্ষাগার এবং সম্ভাব্য উৎপাদন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী—
নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়েছে
বেসামরিক স্যাটেলাইট নজরদারি এড়াতে রাতের কাজ বেড়েছে
সামরিক পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছে
নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারিত হয়েছে
এসব লক্ষণ গোপন সামরিক প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চিনের কাছে ৬০০টিরও বেশি পরমাণু অস্ত্র মজুত ছিল। গত এক দশকে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ঐতিহাসিকভাবে “ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” নীতি অনুসরণ করলেও বর্তমানে তাদের কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।
চিনের পারমাণবিক সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে—
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM)
সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (SLBM)
কৌশলগত বোমারু বিমান
মোবাইল লঞ্চার প্ল্যাটফর্ম
এই “নিউক্লিয়ার ট্রায়াড” সক্ষমতা একটি পূর্ণাঙ্গ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে।
পেন্টাগনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চিন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ১০০০-এ উন্নীত করতে চাইছে। যদি এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়, তবে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এই সম্প্রসারণের সম্ভাব্য কারণ:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বৃদ্ধি
তাইওয়ান ইস্যুতে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার
মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবিলা
বহুমুখী প্রতিশোধ সক্ষমতা (Second Strike Capability) নিশ্চিত করা
যদিও চিন তাদের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়াচ্ছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও কম। শীতল যুদ্ধের উত্তরাধিকার হিসেবে এই দুই দেশের কাছেই হাজার হাজার পরমাণু ওয়ারহেড মজুত রয়েছে।
আনুমানিক তুলনামূলক চিত্র:
রাশিয়া: ~৫,০০০+
যুক্তরাষ্ট্র: ~৫,০০০+
চিন: ~৬০০+ (বৃদ্ধির পথে)
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সংখ্যা নয়—ডেলিভারি সিস্টেম, প্রযুক্তি, নির্ভুলতা ও মোতায়েন কৌশলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চিনের পরমাণু অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব গভীর:
১. অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া—সবাই তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
২. যুক্তরাষ্ট্র-চিন উত্তেজনা
ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা জোট, কোয়াড, অকাস—এসব জোট আরও সক্রিয় হতে পারে।
৩. পরমাণু নীতি পরিবর্তন
চিন ঐতিহ্যগতভাবে “No First Use” নীতি অনুসরণ করলেও অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধি সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
৪. কৌশলগত স্থিতাবস্থা নড়বড়ে হওয়া
বহুপাক্ষিক প্রতিরোধ ভারসাম্য (Mutually Assured Destruction) নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
পারমাণবিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে কিছু গুরুতর ঝুঁকিও জড়িত:
দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ
বিকিরণ ছড়িয়ে পড়া
সাইবার হামলা
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হওয়া
ভুল সংকেত থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি অস্ত্র, তত বেশি কমান্ড-কন্ট্রোল জটিলতা।
বর্তমানে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে, যেমন:
নিউ START
NPT (Non-Proliferation Treaty)
CTBT (Comprehensive Test Ban Treaty – কার্যকর নয়)
চিন NPT-এর স্বাক্ষরকারী হলেও অস্ত্রভাণ্ডার সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মতো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে আবদ্ধ নয়। ফলে তাদের সম্প্রসারণ আইনি দিক থেকে সীমাবদ্ধ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে আগামী দশকে কয়েকটি প্রবণতা দেখা যেতে পারে:
হাইপারসনিক নিউক্লিয়ার ডেলিভারি সিস্টেম বৃদ্ধি
মোবাইল সাইলো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
সাবমেরিনভিত্তিক প্রতিরোধ জোরদার
মহাকাশ নজরদারি ও প্রতিরক্ষা একীভূতকরণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কমান্ড সিস্টেম
পিংটন এলাকায় সন্দেহভাজন বাঙ্কার ও পরীক্ষামূলক অবকাঠামোর উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক পরমাণু রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রেনি বাবিয়ার্জের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং হুই ঝাং-এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ মিলিয়ে বিষয়টি এখন আর কেবল অনুমান পর্যায়ে নেই; বরং তা কৌশলগত বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন, পেন্টাগনের তথ্য এবং সামরিক উপগ্রহচিত্র—সব মিলিয়ে একটি বৃহত্তর চিত্র স্পষ্ট হয়: চিন ধীরে ধীরে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা পরিমাণগত ও গুণগত—উভয় দিক থেকেই বাড়াচ্ছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় তাদের অস্ত্রসংখ্যা এখনও কম, তবুও দ্রুত সম্প্রসারণ ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সমীকরণ নতুনভাবে রচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অতএব, এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়—কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হল—অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখা।
পরমাণু শক্তি যেমন প্রতিরোধের প্রতীক, তেমনই তা মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য চূড়ান্ত ঝুঁকির উৎস। তাই স্বচ্ছতা, সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই হতে পারে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার একমাত্র কার্যকর পথ।