Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্ক্রিনেই বড়দিনের উৎসব: কেক-ওয়াইন আর ক্রিসমাস ট্রির আবহে পাঁচটি ছবি-সিরিজ়

বড়দিন মানেই আলো, উষ্ণতা আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ। এই উৎসবের আবহকে আরও জমিয়ে তুলতে সিরিজ় বিঞ্জ ওয়াচিংয়ের জুড়ি নেই। ঠিক সেই কারণেই এই বড়দিনে কিছু বিশেষ সিরিজ় আলাদা করে নজর কেড়েছে, যেগুলো অ্যাকশন, আবেগ, হাসি আর নস্টালজিয়ার নিখুঁত মিশেল তৈরি করে।নেটফ্লিক্সের ব্ল্যাক ডাভস লন্ডনের বড়দিনের পটভূমিতে সাজানো এক স্টাইলিশ স্পাই থ্রিলার, যেখানে রহস্য, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প একসঙ্গে এগিয়ে চলে। মার্ভেল ভক্তদের জন্য হকআই একটি আদর্শ ক্রিসমাস সিরিজ়, যেখানে সুপারহিরো অ্যাকশনের সঙ্গে রয়েছে হালকা কমেডি আর হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্কের গল্প। ডিজ়নি প্লাসের দ্য স্যান্টা ক্লজ়েস বড়দিনের ম্যাজিক আর পারিবারিক আবেগকে ফিরিয়ে আনে নস্টালজিয়ার মোড়কে। ব্রিটিশ কমেডি গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসির বহু প্রতীক্ষিত ফাইনাল এপিসোড বড়দিনকে আরও বিশেষ করে তুলবে হাসি আর আবেগে ভরিয়ে দিয়ে। আর রোমান্টিক বড়দিনের জন্য ড্যাশ অ্যান্ড লিলি নিয়ে আসে তরুণ প্রেম আর উৎসবের সরল আনন্দ।

বড়দিন এসে গেছে দোরগোড়ায়। ঝকমকে লাইট, সাজানো ক্রিসমাস ট্রি, কেক আর ওয়াইনের সুগন্ধ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আমেজ। এই সময়টা শুধু উৎসবের নয়, পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে বসে প্রিয় সিরিজ় বিঞ্জ ওয়াচিং করার সময়ও। আরামদায়ক সোফায় বসে, কম্বলের তলায় গা এলিয়ে দিয়ে যখন পছন্দের সিরিজ় চলতে থাকে স্ক্রিনে, সেই মুহূর্তগুলোই তো বড়দিনের আসল মজা। কিন্তু এত সিরিজ়ের ভিড়ে কোনগুলো দেখবেন? কোন সিরিজ়গুলো এই বড়দিনে আপনার সময় কাটানোর জন্য একদম পারফেক্ট হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বড়দিনে দেখার মতো পাঁচটি অসাধারণ সিরিজ় সম্পর্কে, যেগুলো আপনার ছুটির দিনগুলোকে করে তুলবে আরও বিশেষ।নেটফ্লিক্স এবার বড়দিনের উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছে একটি স্টাইলিশ স্পাই থ্রিলার, যার নাম ব্ল্যাক ডাভস। পাঁচ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজ়টি মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। কিয়ারা নাইটলি, বেন উইশ এবং সারা ল্যাঙ্কাশায়ারের মতো তারকা অভিনেতাদের এক মঞ্চে দেখা যাচ্ছে এই সিরিজ়ে। লন্ডনের বড়দিনের পটভূমিতে সাজানো এই সিরিজ়টি একই সঙ্গে অ্যাকশন, থ্রিলার, রহস্য এবং আবেগের এক অপূর্ব মিশ্রণ।গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে হেলেন ওয়েব নামের একজন নারী, যিনি বাইরে থেকে দেখতে একজন সাধারণ রাজনীতিবিদের স্ত্রী, নিবেদিত মা এবং গৃহিণী। কিন্তু এই স্বাভাবিক জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গোপন পরিচয়। গত দশ বছর ধরে হেলেন কাজ করে আসছেন ব্ল্যাক ডাভস নামের এক ছায়াময় গুপ্তচর সংস্থার হয়ে। তিনি তার স্বামীর রাজনৈতিক গোপনীয়তার তথ্য সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন এই সংস্থার কাছে। কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎ করেই জটিল হয়ে ওঠে যখন তার গোপন প্রেমিক জেসনকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর হেলেনের নিজের জীবনও বিপদের মুখে পড়ে যায়।হেলেনের রহস্যময় স্পাইমাস্টার রিড তখন তার পুরনো বন্ধু স্যামকে ডেকে পাঠান হেলেনকে রক্ষা করার জন্য। হেলেন এবং স্যাম একসাথে মিশনে নামেন খুঁজে বের করতে কে জেসনকে হত্যা করেছে এবং কেনই বা করেছে। তাদের তদন্ত তাদের নিয়ে যায় এক বিশাল ষড়যন্ত্রের জালে, যেখানে জড়িয়ে আছে লন্ডনের আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং একটি আসন্ন ভূরাজনৈতিক সংকট। ছয় পর্বের এই সিরিজ়টি পরিচালনা করেছেন অ্যালেক্স গাবাসি এবং লিসা গানিং। লেখক এবং নির্মাতা জো বার্টন আগেও গিরি-হাজি এবং দ্য লাজারাস প্রজেক্টের মতো প্রশংসিত কাজ করেছেন।সমালোচকদের কাছ থেকে সিরিজ়টি পেয়েছে অসাধারণ সাড়া। রটেন টমেটোজ়ে এর রেটিং ৯৪ শতাংশ, যা প্রমাণ করে দর্শকরা কতটা ভালোবেসেছেন এই সিরিজ়টি। কিয়ারা নাইটলি এবং বেন উইশ-এর মধ্যে কেমিস্ট্রি, স্টাইলিশ অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং মুহূর্মুহূ মোড় পরিবর্তন সিরিজ়টিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। বড়দিনের পটভূমিতে সাজানো লন্ডনের রাস্তাঘাট, ক্রিসমাস লাইট আর উৎসবের আমেজের মধ্যে চলতে থাকে রক্তাক্ত লড়াই আর গুপ্তচরবৃত্তির খেলা। ব্ল্যাক ডাভস শুধু একটি স্পাই থ্রিলার নয়, এটি বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ এবং নৈতিকতার প্রশ্নও তুলে ধরে। সিরিজ়টি দেখতে দেখতে আপনি ভুলেই যাবেন যে আপনি আসলে বড়দিনের ছুটিতে আছেন, কারণ গল্পের টান আপনাকে বেঁধে রাখবে স্ক্রিনের সামনে। নেটফ্লিক্স ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় সিজ়নের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে, যা প্রমাণ করে সিরিজ়টি কতটা সফল হয়েছে।মার্ভেল সিনেমেটিক ইউনিভার্সের ভক্তদের জন্য বড়দিন মানেই হকআই সিরিজ়। ডিজ়নি প্লাস-এ উপলব্ধ এই মিনিসিরিজ়টি বড়দিনের পটভূমিতে তৈরি এক অসাধারণ সুপারহিরো গল্প। জেরেমি রেনার আবার ফিরে এসেছেন ক্লিন্ট বার্টন বা হকআই চরিত্রে, আর তার সঙ্গে রয়েছেন হেইলি স্টেইনফেল্ড কেট বিশপের ভূমিকায়। অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেমের ঘটনার পর গল্পটি শুরু হয়, যেখানে ক্লিন্ট তার পরিবারের সঙ্গে বড়দিন কাটাতে নিউ ইয়র্ক শহরে এসেছেন।কিন্তু বড়দিনের শান্তিপূর্ণ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন ক্লিন্টের অতীতের শত্রুরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কেট বিশপ, একজন তরুণ এবং উৎসাহী তীরন্দাজ, যিনি ক্লিন্টকে তার আইডল মনে করেন, হঠাৎ করে জড়িয়ে পড়েন এক বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রে। ক্লিন্ট বাধ্য হন কেটকে সাহায্য করতে এবং একসঙ্গে তারা মোকাবিলা করেন ট্র্যাকস্যুট মাফিয়া এবং ঘাতক ইয়েলেনা বেলোভার মতো শত্রুদের। ছয় পর্বের এই সিরিজ়টি কেবলমাত্র অ্যাকশনেই ভরপুর নয়, এতে রয়েছে মজার কমেডি, আবেগঘন মুহূর্ত এবং দুই প্রজন্মের সুপারহিরোদের মধ্যে গভীর বন্ধন গড়ে ওঠার গল্প।হকআই সিরিজ়ের বিশেষত্ব হলো এর ক্রিসমাসের আবহ। নিউ ইয়র্ক শহর সাজানো ক্রিসমাস লাইট, তুষারপাত, সাজানো দোকান এবং উৎসবমুখর মানুষের ভিড় সিরিজ়টিকে একটি বিশেষ ফিল দিয়েছে। অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো হয় বড়দিনের বাজারে, ক্রিসমাস পার্টিতে বা তুষার ঢাকা রাস্তায়। এটি যেন ডাই হার্ড মুভির সুপারহিরো ভার্সন। ক্লিন্ট এবং কেটের মধ্যে মেন্টর-স্টুডেন্ট সম্পর্কের বিকাশ দেখতে খুবই মজার। ক্লিন্ট, যিনি ক্লান্ত এবং পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান, তাকে তরুণ এবং উৎসাহী কেটের সঙ্গে কাজ করতে হয়, যিনি এভেঞ্জার হতে চান।সিরিজ়টির আরেকটি হাইলাইট হলো রজার্স দ্য মিউজ়িক্যাল, যা ক্যাপ্টেন আমেরিকার জীবনের ওপর তৈরি একটি ব্রডওয়ে শো। এছাড়াও রয়েছে পিজ়া ডগ নামের একটি আদুরে কুকুর, যে দর্শকদের মন জিতে নিয়েছে। ফ্লোরেন্স পুগ ইয়েলেনা বেলোভার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন, যার সঙ্গে ক্লিন্টের শেষ মোকাবিলা সিরিজ়টির অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। হকআই শুধু মার্ভেল ফ্যানদের জন্যই নয়, যে কেউ বড়দিনের একটি মজাদার এবং রোমাঞ্চকর সিরিজ় খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। সিরিজ়টি প্রমাণ করে যে সুপারহিরো গল্পও বড়দিনের আমেজে সাজানো যায়। পরিবারের সবাই মিলে বসে দেখার জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ।টিম অ্যালেন আবার ফিরে এসেছেন স্যান্টা ক্লজের পোশাকে, এবারে ডিজ়নি প্লাসের মিনিসিরিজ় দ্য স্যান্টা ক্লজ়েস-এ। ১৯৯৪ সালের ক্লাসিক মুভি দ্য স্যান্টা ক্লজের প্রায় তিন দশক পর এই সিরিজ়টি দর্শকদের নিয়ে যায় স্কট কেলভিনের জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে। স্কট, যিনি একসময় একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলেন, দুর্ঘটনাবশত স্যান্টা ক্লজ হয়ে গিয়েছিলেন। এখন, বছরের পর বছর নর্থ পোলে থেকে বিশ্বজুড়ে শিশুদের উপহার পৌঁছে দেওয়ার পর, স্কট অনুভব করছেন যে তিনি ক্লান্ত এবং তার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যান্টা হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে উঠছে, এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এখন সময় এসেছে অবসর নেওয়ার এবং একজন উত্তরসূরি খুঁজে বের করার। কিন্তু স্যান্টা ক্লজের পদ ছেড়ে দেওয়া কি এতটাই সহজ? নর্থ পোলে শুরু হয় নতুন স্যান্টা খোঁজার প্রতিযোগিতা, কিন্তু একই সঙ্গে দেখা দেয় নানা জটিলতা। স্কটের পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ক্যারল এবং সন্তানেরা, এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করে। তার ছেলে চার্লি, যে এখন বড় হয়ে গেছে, তার নিজের সমস্যা নিয়ে মোকাবিলা করছে।দ্য স্যান্টা ক্লজ়েস সিরিজ়টি আসল মুভি ট্রিলজির ফ্যানদের জন্য একটি নস্টালজিক ট্রিট। টিম অ্যালেন ছাড়াও ফিরে এসেছেন এলিজ়াবেথ মিচেল ক্যারল চরিত্রে, এরিক লয়েড চার্লি চরিত্রে এবং ডেভিড ক্রামহোল্টজ় বার্নার্ড দ্য এল্ফ চরিত্রে। নতুন চরিত্রও যুক্ত হয়েছে, যারা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সিরিজ়টি বড়দিনের ম্যাজিক, পারিবারিক বন্ধন, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মকে দায়িত্ব হস্তান্তর করার থিম নিয়ে কাজ করে। সমালোচকদের মতামত মিশ্র হলেও, দর্শকরা সিরিজ়টিকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন। টিম অ্যালেনের অভিনয়, বড়দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ এবং নর্থ পোলের কল্পনাময় জগৎ সিরিজ়টিকে পরিবারের সবার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার আসল স্যান্টা ক্লজ মুভিগুলো দেখে বড় হয়েছে, তাদের জন্য এই সিরিজ় একটি আবেগময় পুনর্মিলন। শিশুরা স্যান্টা ক্লজের অ্যাডভেঞ্চার দেখে মজা পাবে, আর বড়রা উপভোগ করবেন নস্টালজিয়া এবং পরিবারকেন্দ্রিক গল্প। দ্য স্যান্টা ক্লজ়েস প্রমাণ করে যে বড়দিনের ম্যাজিক কখনো পুরনো হয় না, এবং স্যান্টা ক্লজের গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে আনন্দ দিতে পারে।ব্রিটিশ কমেডি সিরিজ় গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসির ফ্যানদের জন্য এই বড়দিন একদম বিশেষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্রিসমাস ডে-তে বিবিসি-তে সম্প্রচারিত হবে সিরিজ়টির ফাইনাল এপিসোড। ২০১৯ সালে ক্রিসমাস স্পেশাল এপিসোডে নেসা স্মিথিকে প্রপোজ় করেছিল এবং পাঁচ বছর ধরে ফ্যানরা অপেক্ষা করে আছে জানতে যে স্মিথি কী উত্তর দিয়েছিল। এবার অবশেষে সেই উত্তর পাওয়া যাবে। জেমস কর্ডেন, রুথ জোনস, ম্যাথিউ হর্ন, জোয়ানা পেজ, রব ব্রাইডন, অ্যালিসন স্টেডম্যান এবং ল্যারি ল্যাম্ব সবাই ফিরে আসছেন তাদের প্রিয় চরিত্রে। গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসি একটি হার্টওয়ার্মিং কমেডি সিরিজ়, যা দুটি পরিবারের গল্প বলে। গ্যাভিন ইংল্যান্ডের এসেক্সের একজন সাধারণ যুবক এবং স্টেসি ওয়েলসের বেরি আইল্যান্ডের একজন মেয়ে। ফোনে কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে প্রেম হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। সিরিজ়টি তাদের জীবন, তাদের পরিবারের সদস্যদের খামখেয়ালিপনা এবং বন্ধুদের অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে। নেসা এবং স্মিথির প্রেমের গল্প সিরিজ়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। দুজনেই একদম আলাদা ধরনের চরিত্র, কিন্তু তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত কেমিস্ট্রি কাজ করে। এই ফাইনাল এপিসোডে দর্শকরা আশা করছেন অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন। নেসার প্রপোজ়ালের পর স্মিথি কী করলো? গ্যাভিন এবং স্টেসির সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো? আর সেই বিখ্যাত ফিশিং ট্রিপে আসলে কী ঘটেছিল, যেটা নিয়ে পুরো সিরিজ় জুড়ে রহস্য তৈরি করা হয়েছে? ব্রিটিশ সিটকমের ক্লাসিক স্টাইলে তৈরি এই সিরিজ়টি তার সহজ-সরল হাস্যরস, আবেগময় মুহূর্ত এবং স্মরণীয় চরিত্রদের জন্য বিখ্যাত। আঙ্কেল ব্রিনের অনন্য খাবারের রেসিপি, প্যামের একটু বেশি মদ্যপানের অভ্যাস, ডোরিনের মজার মন্তব্য এবং নেসার দুঃসাহসিক জীবনের গল্প সিরিজ়টিকে করেছে অবিস্মরণীয়।গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসি শুধু একটি কমেডি সিরিজ় নয়, এটি পরিবার, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার গল্প। সিরিজ়টি দেখায় যে কীভাবে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবার একসঙ্গে মিলে যায় এবং একে অপরকে মেনে নেয়। বড়দিনের পটভূমিতে এই ফাইনাল এপিসোড হওয়ার কারণে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যের দর্শকরা এই এপিসোডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কারণ এটি তাদের প্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে শেষবারের মতো সময় কাটানোর সুযোগ। বিশ্বজুড়ে যেখানেই সিরিজ়টি উপলব্ধ হবে, ফ্যানরা নিশ্চিত করবেন যে তারা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মিস না করেন। এটি শুধু একটি টিভি শো-এর সমাপ্তি নয়, এটি একটি যুগের শেষ।বড়দিনের রোমান্স খুঁজছেন? তাহলে নেটফ্লিক্সের ড্যাশ অ্যান্ড লিলি আপনার জন্য পারফেক্ট পছন্দ হতে পারে। এই সিরিজ়টি রেচেল কোহান এবং ডেভিড লেভিথানের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি, যেখানদেখানো হয়েছে দুই কিশোর-কিশোরীর অস্বাভাবিক প্রেমের গল্প। নিউ ইয়র্ক শহরের বড়দিনের জাদুকরী পটভূমিতে সাজানো এই সিরিজ়টি এক লাল নোটবুকের মাধ্যমে শুরু হওয়া এক রোমান্টিক অ্যাডভেঞ্চার। ড্যাশ একজন নিরাশাবাদী যুবক, যে ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না এবং বড়দিনের উৎসবকে বাড়াবাড়ি মনে করে। অন্যদিকে লিলি একজন আশাবাদী, আনন্দময় মেয়ে, যে বড়দিনকে ভালোবাসে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চায়।ক্রিসমাসের কিছুদিন আগে লিলি নিউ ইয়র্কের একটি বইয়ের দোকান স্ট্র্যান্ডে একটি লাল নোটবুক রেখে যায়। সেই নোটবুকে সে কিছু ক্লু এবং চ্যালেঞ্জ লিখে রাখে, যা খুঁজে পেলে একজন অপরিচিত ব্যক্তি শহর জুড়ে এক রোমাঞ্চকর স্ক্যাভেঞ্জার হান্টে অংশ নিতে পারবে। ড্যাশ ঘটনাক্রমে সেই নোটবুক খুঁজে পায় এবং কৌতূহলবশত চ্যালেঞ্জগুলো সম্পন্ন করতে শুরু করে। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়, এবং প্রতিবার সে নোটবুকে নতুন বার্তা লিখে রেখে আসে। এভাবেই শুরু হয় দুজনের মধ্যে একটি অনন্য কথোপকথন, যেখানে তারা একে অপরকে চেনার চেষ্টা করে, কিন্তু কখনো মুখোমুখি হয় না।আট পর্বের এই সিরিজ়ে দেখানো হয় কীভাবে ড্যাশ এবং লিলি ধীরে ধীরে একে অপরের সম্পর্কে জানতে থাকে, তাদের ভয়, স্বপ্ন এবং অনুভূতি শেয়ার করে। ড্যাশের নিরাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি লিলির আশাবাদের সংস্পর্শে এসে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। অন্যদিকে লিলিও শেখে যে জীবন সবসময় পারফেক্ট হয় না এবং কখনো কখনো জটিলতা স্বীকার করে নেওয়াটাও জরুরি। তাদের ভার্চুয়াল সম্পর্ক গভীর হতে থাকে, কিন্তু একই সঙ্গে দুজনেই ভয় পায় যে বাস্তবে দেখা হলে হয়তো সবকিছু ভেঙে যাবে। সিরিজ়টির মূল আকর্ষণ হলো নিউ ইয়র্ক শহরের বড়দিনের সাজসজ্জা। রকফেলার সেন্টারের বিশাল ক্রিসমাস ট্রি, বরফে ঢাকা সেন্ট্রাল পার্ক, উৎসবমুখর রাস্তাঘাট এবং ক্রিসমাস লাইটের ঝলমলানি সিরিজ়টিকে একটি ভিজ়ুয়াল ট্রিট করে তুলেছে।অস্টিন আব্রামস এবং মিডোরি ফ্রান্সিস যথাক্রমে ড্যাশ এবং লিলির চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করেছেন। তাদের কেমিস্ট্রি, যদিও বেশিরভাগ সময় তারা একসাথে স্ক্রিনে নেই, তবুও খুবই বিশ্বাসযোগ্য এবং হৃদয়স্পর্শী। সিরিজ়টিতে আরও রয়েছে কিছু মজাদার সাইড চরিত্র, যেমন লিলির বড় ভাই ল্যাংস্টন, ড্যাশের বন্ধুরা এবং স্ট্র্যান্ড বুকস্টোরের কর্মচারীরা। সিরিজ়টি শুধু একটি টিনেজ রোমান্স নয়, এটি আত্মবিশ্বাস অর্জন, পরিবার এবং বন্ধুত্বের গুরুত্ব এবং নিজেকে খুলে দেওয়ার সাহস নিয়েও কথা বলে। প্রতিটি এপিসোড প্রায় ত্রিশ মিনিটের, যা সিরিজ়টিকে সহজে দেখার উপযোগী করে তোলে।ড্যাশ অ্যান্ড লিলি একটি আরামদায়ক, উষ্ণ এবং হৃদয়গ্রাহী সিরিজ়, যা বড়দিনের প্রকৃত অর্থ মনে করিয়ে দেয়। এটি পারফেক্ট সেই রাতের জন্য যখন আপনি হট চকলেট নিয়ে সোফায় বসে কিছু মিষ্টি এবং ভালোলাগার দেখতে চান। সিরিজ়টির শেষ পর্যন্ত আপনার মুখে হাসি লেগে থাকবে, এবং আপনিও হয়তো বিশ্বাস করবেন যে বড়দিনের সময় সত্যিই জাদুকরী কিছু ঘটতে পারে। যুবক-যুবতীদের জন্য এটি একটি আদর্শ রোমান্টিক কমেডি, এবং যে কেউ একটি স্বীট এবং সিম্পল প্রেমের গল্প খুঁজছেন, তাদের জন্যও এটি দুর্দান্ত। নেটফ্লিক্সে এই সিরিজ়টি উপলব্ধ, এবং এক বসাতেই দেখে ফেলা সম্ভব।

news image
আরও খবর
Preview image