উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় ঘটেছে এক আজব চুরির ঘটনা। বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা, গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির পাশাপাশি চোরেরা খেয়ে ফেলেছে টেবিলে রাখা মাছ-ভাত! ঘটনাটি ঘটেছে কাঁটাডাঙা এলাকায়, যখন বাড়ির মালিক ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে বাইরে ছিলেন। ফেরার পর দেখা যায় ঘর ভাঙা, জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁটাডাঙা এলাকায় ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা শুনে অনেকেই হতবাক। চোরেরা শুধু চুরি করেই থামেনি, বরং বাড়ির ভেতরে ঢুকে নিশ্চিন্তে বসে মাছ-ভাত খেয়ে গেছে, তারপর আরাম করে পালিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এরকম ঘটনা আগে কেউ দেখেননি — একদিকে চুরির আতঙ্ক, অন্যদিকে চোরের অদ্ভুত স্বভাব দেখে হাস্যরসের মিশেল ঘটেছে গোটা এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। এলাকাবাসী প্রদীপকুমার ঘোষ, যিনি স্থানীয়ভাবে একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, ভাইফোঁটার দিন আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাড়িতে তখন কেউ ছিলেন না। ফেরার সময় রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ। বাড়িতে ঢুকেই তাঁর চোখে পড়ে অস্বাভাবিক দৃশ্য — সামনের দরজার তালা ভাঙা, ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে জামাকাপড়, ড্রয়ার খোলা, এবং আলমারির দরজা ভাঙা।
কিন্তু এরপর যা দেখলেন, তাতে তিনি হতবাক! টেবিলে রাখা মাছ-ভাতের থালা খালি। পাশেই ছড়িয়ে আছে ভাতের দানা, মাছের কাঁটা, এমনকি গ্লাসে থাকা জলও শেষ। অর্থাৎ চোরেরা শুধু চুরি করেনি, পুরো খাবার খেয়ে গিয়েছে!
প্রদীপবাবু জানান, তাঁর আলমারি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ, সোনা-রুপোর গয়না, এবং কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী উধাও হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, চোরেরা দামি গ্যাজেট যেমন ল্যাপটপ বা মোবাইল রেখে গেছে, কিন্তু নগদ ও ছোট গয়নাগুলি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন,“চোরেরা ঘরে ঢুকে আগে হয়তো চুরি করেছে, তারপর নিশ্চিন্তে বসে খেয়ে নিয়েছে মাছ-ভাত। মনে হয় বেশ সময় নিয়ে কাজ করেছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে ভাটপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তারা ঘরের বিভিন্ন অংশ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে এই চুরিতে। কারণ ঘরে ঢোকার পর অনেক জিনিস নাড়াচাড়া করা হয়েছে এবং খাবার খাওয়ার পর থালা-বাসন পর্যন্ত সিঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “এটা সাধারণ চুরি নয়। এমন ঘটনা খুবই বিরল। মনে হচ্ছে, চোরেরা অভ্যস্ত অপরাধী নয়। হয়তো ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা চুরি করতে এসে খাবার দেখে খেয়ে ফেলেছে।”
ঘটনাটি জানাজানি হতেই কাঁটাডাঙা এলাকায় শুরু হয় চাঞ্চল্য। অনেকে হাসি-ঠাট্টা করলেও, বেশিরভাগ মানুষই বলছেন — এটি আসলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আজকে মাছ-ভাত খেয়ে গেছে, কাল হয়তো পুরো ফ্রিজই নিয়ে যাবে! রাতে পুলিশ টহল না থাকলে এসব আরও বাড়বে।”
আরেকজন বলেন, “চোরেরা যে এমন নিশ্চিন্তে খেয়ে যেতে পারে, এটা প্রমাণ করে তারা জানত বাড়িতে কেউ নেই। এখন সবার ঘরে সিসিটিভি লাগানো জরুরি।”
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই মজার ছলে লিখেছেন, “চোরেরা শুধু চুরি নয়, রেস্টুরেন্ট সার্ভিসও নিচ্ছে এখন!”
অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন,
“ভাটপাড়ার মাছ-ভাত এতই বিখ্যাত, চোররাও লোভ সামলাতে পারেনি!”
তবে পুলিশের মতে, ঘটনাটি যতই হাস্যকর মনে হোক না কেন, এটি এক গুরুতর অপরাধ। ঘরে ঢুকে চুরি করা এবং ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দেওয়া ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় গুরুতর অপরাধ। তাই তাঁরা এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।