Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“ভাবিইনি সুযোগ আসবে”— IPL ২০২৬-এ LSG-তে খেলা নিয়ে মুখ খুললেন ৮.৬ কোটির তারকা জশ ইংলিস

আইপিএল ২০২৬ এর নিলামে বড় চমক হয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটার জশ ইংলিস। লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) তাঁকে ৮.৬ কোটি টাকায় দলে নেওয়ার পর ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তবে এই বড় অঙ্কের চুক্তি নিয়ে নিজেই বেশ অবাক ইংলিস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইপিএলে খেলার সুযোগ তিনি পাবেন এমন প্রত্যাশাই তাঁর ছিল না। বরং নিজের পারফরম্যান্সে মন দিয়েই এগোচ্ছিলেন তিনি। ইংলিস বলেন, আইপিএলের মতো মঞ্চে খেলা যে কোনও ক্রিকেটারের স্বপ্ন হলেও, নিলামে এত বড় দামে দল পাওয়া তাঁর কল্পনারও বাইরে ছিল। লখনউ সুপার জায়ান্টস তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছে, তার মূল্য মাঠে প্রমাণ করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, ভারতের কন্ডিশনে খেলা তাঁর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও, সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি মুখিয়ে আছেন। দলের পরিবেশ, সতীর্থদের সমর্থন এবং কোচিং স্টাফের নির্দেশনায় নিজের সেরাটা দেওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জশ ইংলিস। আইপিএল ২০২৬-এ তাঁর আগমন যে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যাটিং বিভাগে নতুন শক্তি যোগ করবে, সে বিষয়ে আশাবাদী ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও।

“ভাবিইনি সুযোগ আসবে”— আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে জশ ইংলিস, ৮.৬ কোটির নিলামে নতুন অধ্যায় অস্ট্রেলীয় তারকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা/মুম্বাই

আইপিএল মানেই চমক, আইপিএল মানেই রাতারাতি ভাগ্য বদলের এক রোমাঞ্চকর মঞ্চ। প্রতি বছরই এই টুর্নামেন্টের নিলাম এমন কিছু গল্পের জন্ম দেয়, যা রূপকথাকেও হার মানায়। ২০২৬ সালের মেগা নিলামও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এবারের নিলামের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে যে নামটি উঠে এসেছে, তিনি হলেন অস্ট্রেলিয়ার টপ-অর্ডার উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিস।

প্রাক-নিলাম আলোচনায় অনেক বড় বড় নাম থাকলেও, মেগা নিলামের মঞ্চে আলোচনার সব আলো কেড়ে নিলেন এই অজি তারকা। তাকে দলে নিতে লড়াই শুরু হয়েছিল একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ৮.৬ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে তাকে নিজেদের তাঁবুতে ভিড়িয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG)। এই আকাশছোঁয়া দাম এবং আইপিএলে খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে ইংলিস নিজেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, “আমি সত্যিই ভাবিনি যে এবারের আইপিএলে এমন একটি সুযোগ আসবে।”


১. নিলামের মঞ্চে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রে জশ ইংলিস

আইপিএল নিলামে সাধারণত ভারতীয় সুপারস্টার বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তিদের নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে। কিন্তু ২০২৬-এর নিলামের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। লখনউ সুপার জায়ান্টসের টেবিল থেকে যখন জশ ইংলিসের নাম প্রস্তাব করা হলো, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো সাধারণ কোনো দামে তিনি বিক্রি হবেন। কিন্তু নিলামের হাতুড়ির ঘা যত বেড়েছে, ইংলিসের দাম তত আকাশচুম্বী হয়েছে।

লখনউয়ের মেন্টর ও কোচিং স্টাফরা কেন ইংলিসের ওপর এত বড় বাজি ধরলেন, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ৮.৬ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ স্পষ্ট করে দেয় যে, লখনউ তাদের ব্যাটিং লাইন-আপের মেরুদণ্ড হিসেবে একজন আগ্রাসী বিদেশি ব্যাটার খুঁজছিল, যিনি একইসাথে গ্লাভস হাতেও নির্ভরযোগ্য।


২. “আমি সত্যিই ভাবিনি সুযোগ পাব”— ইংলিসের অকপট স্বীকারোক্তি

নিলামের পর এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে জশ ইংলিস তার মনের কথা খুলে বলেন। তার মতে, আইপিএলের মতো বিশ্বের সেরা লিগে সুযোগ পাওয়াটা অনেক ক্রিকেটারের কাছেই স্বপ্নের মতো। ইংলিস বলেন:

“আমি আসলে নিজের ক্রিকেট এবং পারফরম্যান্স নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। সত্যি বলতে, আইপিএলের মেগা নিলামে আমার নাম নিয়ে এত মাতামাতি হবে বা আমি সুযোগ পাব, সেটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। নিলামে যখন দেখলাম একের পর এক বিড আসছে এবং দাম বাড়ছে, তখন আমি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিশাল অঙ্কের চুক্তি তাকে যেমন আনন্দিত করেছে, তেমনি দায়িত্ববোধও বাড়িয়ে দিয়েছে। লখনউ তার ওপর যে বিপুল আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান তিনি মাঠে দিতে চান।


৩. অস্ট্রেলিয়ার জার্সি থেকে আইপিএলের মঞ্চ: এক দীর্ঘ লড়াই

জশ ইংলিসের ক্যারিয়ার রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বছরের পর বছর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে দিয়েছিল। শুরুতে টিম পেইন বা ম্যাথু ওয়েডের ছায়ায় ঢাকা থাকলেও, সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং শৈলী দিয়ে তিনি নির্বাচকদের মন জয় করেন।

বিশেষ করে পাওয়ার-প্লেতে দ্রুত রান তোলা এবং মিডল অর্ডারে স্পিনারদের বিপক্ষে রিভার্স সুইপ বা ল্যাপ শট খেলার দক্ষতা তাকে একজন ‘ভার্সাটাইল’ ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার কিছু ক্যামিও ইনিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের নজর কেড়েছিল।


৪. কেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের জন্য অপরিহার্য জশ ইংলিস?

লখনউয়ের টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে ইংলিস কেন ৮.৬ কোটির সম্পদ? এর পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে:

  • ব্যাটিং নমনীয়তা: ইংলিস ওপেনিং থেকে শুরু করে ৫ নম্বর পজিশন পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে পারেন।

  • স্পিনের বিপক্ষে দক্ষতা: ভারতীয় পিচে সফল হতে হলে স্পিন ভালো খেলা জরুরি। ইংলিস সুইপ ও রিভার্স সুইপে পারদর্শী, যা ভারতের টার্নিং পিচে বড় অস্ত্র হতে পারে।

  • উইকেটকিপিং অপশন: কুইন্টন ডি কক পরবর্তী যুগে লখনউয়ের একজন বিশ্বমানের উইকেটকিপার প্রয়োজন ছিল, যিনি একইসাথে বিধ্বংসী ব্যাটার।

  • ফিনিশিং রোল: প্রয়োজনে ইনিংসের শেষে ঝড় তুলে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তার আছে।


৫. ভারতের কন্ডিশন ও নতুন চ্যালেঞ্জ

আইপিএল মানেই ভারতের বৈচিত্র্যময় পিচ এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকের আকাশছোঁয়া উন্মাদনা। অনেক বড় বড় বিদেশি তারকা এখানে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন। ইংলিস এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন। তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটের তুলনায় ভারতের মন্থর পিচ তার জন্য বড় পরীক্ষা হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, লখনউয়ের কোচিং প্যানেলে থাকা অভিজ্ঞদের পরামর্শে তিনি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন।


৬. আইপিএল ২০২৬: ক্যারিয়ারের নতুন মোড়?

অনেকেই মনে করছেন, এই আইপিএল জশ ইংলিসকে বিশ্ব ক্রিকেটের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ৮.৬ কোটি টাকার চাপ যেমন আছে, তেমনি নিজেকে প্রমাণের বিশাল সুযোগও আছে। যদি তিনি লখনউয়ের হয়ে একটি সফল মরসুম কাটাতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সার্কিটে তার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, লখনউ সুপার জায়ান্টস এবার যে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে, তাতে ইংলিস হতে পারেন তাদের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।


৭. দল ও সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ

বিশাল দামের সাথে আসে বিশাল প্রত্যাশা। লখনউয়ের সমর্থকরা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইংলিসকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে এই চাপের মুখেও ইংলিস বেশ শান্ত। তিনি মনে করেন, “চাপ প্রতিটি পেশাদার ক্রিকেটারের জীবনের অংশ। আমি শুধু মাঠে নেমে আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। দল জেতাই আমার কাছে আসল লক্ষ্য।”


উপসংহার

আইপিএল ২০২৬ জশ ইংলিসের জীবনে শুধুই আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যে ক্রিকেটার কয়েক বছর আগেও ব্রিসবেন বা পার্থের মাঠে লড়ে যাচ্ছিলেন স্বীকৃতির জন্য, আজ তিনি আইপিএলের মেগা নিলামের অন্যতম সফল নাম। লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সি গায়ে তিনি যখন মাঠে নামবেন, তখন কোটি কোটি চোখের নজর থাকবে তাঁর ওপর। জশ ইংলিস কি পারবেন আইপিএলের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতে? সময় এবং তাঁর ব্যাটই সেই উত্তর দেবে। তবে এ কথা নিশ্চিত, আইপিএল ২০২৬-এ লখনউয়ের নীল জার্সিতে এই অস্ট্রেলীয় তারকার লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

আইপিএল মানেই চমক, উত্তেজনা এবং অপ্রত্যাশিত গল্প। প্রতি বছরই এমন কিছু নাম উঠে আসে, যাদের নিয়ে আগে খুব বেশি আলোচনা না থাকলেও নিলামের মঞ্চে তারা হয়ে ওঠেন কেন্দ্রবিন্দু। আইপিএল ২০২৬-এর নিলামেও ঠিক তেমনই এক বিস্ময়ের নাম অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিস। লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) তাঁকে ৮.৬ কোটি টাকায় দলে নেওয়ার পর ক্রিকেটবিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। আর এই বড় সুযোগ পেয়ে নিজেই অবাক ইংলিস—তাঁর ভাষায়, “আমি সত্যিই আশা করিনি যে আইপিএলে খেলার সুযোগ পাব।”

news image
আরও খবর

নিলামের মঞ্চে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রে জশ ইংলিস

আইপিএল নিলামে প্রতিবারই চোখ থাকে বড় তারকাদের দিকে—ভারতীয় সুপারস্টার হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত নাম। কিন্তু এবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলির একটি হয়ে ওঠে জশ ইংলিসকে নেওয়া। ৮.৬ কোটি টাকার দর ওঠা মানেই দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—এই ক্রিকেটারের উপর তারা দীর্ঘমেয়াদি ভরসা রাখতে চায়।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলে নিয়মিত মুখ হলেও, আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ইংলিসের নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয়নি আগে। তাই নিলামে তাঁর নাম উঠতেই অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো মাঝারি দামে কোনও দল তাঁকে নিতে পারে। কিন্তু দর বাড়তে বাড়তে যখন কোটি ছুঁল, তখন অনেকেই চমকে ওঠেন।

“আমি সত্যিই ভাবিনি সুযোগ পাব”— ইংলিসের অকপট স্বীকারোক্তি

নিলামের পর এক সাক্ষাৎকারে জশ ইংলিস নিজেই জানিয়েছেন, আইপিএলে খেলার বিষয়টি তাঁর কাছে ছিল অনেকটাই অনিশ্চিত। তিনি বলেন,
“আমি নিজের খেলার দিকেই বেশি মন দিচ্ছিলাম। আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে ডাক পাব—এটা নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবিনি। নিলামে যখন নাম উঠল এবং দর বাড়তে শুরু করল, তখন সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।”

ইংলিস আরও জানান, এত বড় অঙ্কের চুক্তি তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও একই সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বেশি। লখনউ সুপার জায়ান্টস যে বিশ্বাস তাঁর উপর রেখেছে, তার পূর্ণ মর্যাদা দিতে চান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ

জশ ইংলিসের ক্রিকেটীয় যাত্রাপথ খুব একটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না শুরুতে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নজর কাড়েন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলে সুযোগ পাওয়ার পর উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন।

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং স্টাইল, দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং মিডল অর্ডারে ইনিংস গড়ার দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার হিসেবেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ইংলিস।

কেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইংলিস?

লখনউ সুপার জায়ান্টস বিগত কয়েক মরসুমে শক্তিশালী দল গড়লেও মাঝেমধ্যেই ব্যাটিং গভীরতা ও ফিনিশিংয়ের অভাব অনুভব করেছে। জশ ইংলিস সেই জায়গাতেই বড় ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

  • তিনি ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার—একাধিক জায়গায় খেলতে পারেন

  • উইকেটকিপিং দক্ষতা দলের কম্বিনেশনে বাড়তি সুবিধা দেবে

  • বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন

এই সব কারণেই ৮.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাঁকে দলে নেওয়া লখনউয়ের কাছে কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

ভারতের কন্ডিশনে খেলার নতুন চ্যালেঞ্জ

আইপিএল মানেই শুধু বড় মঞ্চ নয়, বরং ভারতের বৈচিত্র্যময় কন্ডিশনে খেলার পরীক্ষা। পিচ, আবহাওয়া, দর্শকদের চাপ—সব মিলিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এটি আলাদা অভিজ্ঞতা। ইংলিস নিজেও তা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন,
“ভারতে খেলা সবসময়ই আলাদা চ্যালেঞ্জ। স্পিন, ভিন্ন পিচ এবং দর্শকদের প্রত্যাশা—সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তবে এই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে উত্তেজিত করছে।”

তিনি আরও জানান, দলের সিনিয়র খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সাহায্যে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

আইপিএল ২০২৬: ক্যারিয়ারের নতুন মোড়?

অনেক ক্রিকেটারের কেরিয়ারে আইপিএল বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। ভালো পারফরম্যান্স মানেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বেড়ে যাওয়া, নতুন লিগের দরজা খোলা এবং আর্থিক নিরাপত্তা। জশ ইংলিসের ক্ষেত্রেও আইপিএল ২০২৬ হতে পারে তেমনই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসী খেলাটা মাঠে দেখাতে পারেন, তাহলে খুব দ্রুতই লখনউয়ের ফ্যান ফেভারিট হয়ে উঠবেন ইংলিস।

দল, সমর্থক ও প্রত্যাশার চাপ

৮.৬ কোটি টাকার দাম মানেই সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। প্রতিটি ম্যাচেই নজর থাকবে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে। এই চাপ সামলানো সহজ নয়, তবে ইংলিস জানিয়েছেন, তিনি চাপকে ইতিবাচকভাবে নিতে চান।

“চাপ থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমি এটাকে অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখি। দল জিতলে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,”—বলেছেন ইংলিস।

লখনউ শিবিরে আশাবাদ

লখনউ সুপার জায়ান্টসের কোচিং স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্ট ইংলিসকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তাঁদের মতে, এই অস্ট্রেলীয় তারকা শুধু রানই করবেন না, বরং দলের ভারসাম্যও বাড়াবেন।

দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জশ ইংলিস এমন একজন খেলোয়াড়, যে চাপের মুখেও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে এই গুণটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

উপসংহার

আইপিএল ২০২৬ জশ ইংলিসের জীবনে শুধুই আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যে ক্রিকেটার নিজেই ভাবেননি আইপিএলের ডাক পাবেন, আজ তিনি ৮.৬ কোটি টাকার চুক্তিতে লখনউ সুপার জায়ান্টসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মাঠে তাঁর ব্যাট থেকে কী বেরোয়, সেটাই এখন দেখার। তবে একথা নিশ্চিত—আইপিএল ২০২৬-এ জশ ইংলিসের দিকে নজর রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

Preview image