দূষণে দম বন্ধ রাজধানী রাজধানী দিল্লি আজ যেন ধোঁয়ার শহর! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাতাসে ঝুলছে বিষের স্তর— মানুষের চোখ জ্বালছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, আর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে লক্ষাধিক নাগরিকের। বায়ুর মান এতটাই ভয়ঙ্কর যে শহরের বহু হাসপাতাল এখন ভর্তি শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীতে।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর খ্যাতনামা পালমোনোলজিস্ট ড. গোপীচাঁদ খিলনানি বলেছেন,
“যাদের ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের জন্য দিল্লি এখন ‘ডেথ জোন’। যদি সম্ভব হয়— অন্তত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য দিল্লি ছেড়ে যান!”
তিনি আরও বলেন, “এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন, দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন, শিশু ও বৃদ্ধদের বাইরে যেতে দেবেন না। দিল্লির বাতাস এখন ধূমপানের থেকেও বেশি ক্ষতিকর!”
? এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪০০-এর গণ্ডি পেরিয়ে “Severe” অবস্থায় পৌঁছেছে।
? বাতাসে PM2.5 ও PM10 কণিকার পরিমাণ WHO-র অনুমোদিত মাত্রার কয়েকগুণ বেশি।
? হাসপাতালগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০% বেশি রোগী আসছেন শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসে জ্বালাপোড়া নিয়ে।
দিল্লির স্থানীয় বাসিন্দা রোহিনী দত্ত জানিয়েছেন,
“আমাদের ছোট ছেলেটা এখন মাস্ক পরে ঘুমোয়! জানালা খুললে ধোঁয়ার গন্ধ আসে। শহরটা যেন গ্যাস চেম্বার হয়ে গেছে।”
![]()
আরও খবরদূষণের ভয়াবহ প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে,
দূষিত কণা সরাসরি ফুসফুসের alveoli পর্যন্ত পৌঁছে রক্তে প্রবেশ করছে।
ক্রমাগত এই বায়ু গ্রহণ করলে হতে পারে COPD, অ্যাজমা, এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারও।
পূর্বে COPD-এর ৯০% কারণ ছিল ধূমপান, এখন তার অর্ধেকই বায়ুদূষণের কারণে!
এটাশুধুই দিল্লির সমস্যা নয়”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— এই অবস্থা শুধু দিল্লিতে নয়, শীতের আগমনে উত্তর ভারতের বহু শহরে একই বিপদ ঘনাচ্ছে। যদি এখনই সরকার এবং নাগরিকরা একসঙ্গে পদক্ষেপ না নেন, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো পরিষ্কার বাতাসকেও ‘লাক্সারি’ বলে ভাববে!