২০২৫ যেন সম্পূর্ণ শুভশ্রীময়! একের পর এক নতুন চরিত্রে পর্দা কাঁপাচ্ছেন তিনি। কাজ, সংসার আর সন্তানের দায়িত্ব—সব দিক সামলে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন এই ব্যস্ত নায়িকা?
২০২৫ সাল যেন এক কথায় ‘শুভশ্রীময়’! একের পর এক চরিত্রে দর্শকের মন জয় করছেন অভিনেত্রী। কাজ, সংসার আর সন্তান—সব সামলে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়েই তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি।
প্রশ্ন: এখন তো শুধু ‘অনুমিতা সেন’-এর চর্চা। বাস্তবের শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে কোন প্রশ্ন না করলেই তিনি খুশি হন?
শুভশ্রী: সাংবাদিকদের কাজই প্রশ্ন করা। তাঁরা যা খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। তবে সংবেদনশীলভাবে করলে উত্তর দিতে ভালো লাগে।
প্রশ্ন: আজকাল অনেকেই সাক্ষাৎকারে ‘এটা বলা যাবে না’ ধরনের এমবার্গো তৈরি করছেন। এটা কি জরুরি?
শুভশ্রী: সব কিছুরই একটা সীমারেখা থাকা উচিত। যাঁরা সচেতন, তাঁরা কখনও সেই সীমা অতিক্রম করেন না। কিন্তু কিছু মানুষ বোঝেন না, কতটা বলা ঠিক—তাঁদের বোঝানো দরকার।
প্রশ্ন: শুটিং সেটে শুভশ্রী কখনও ব্যক্তিগত আবেগ নিয়ে যান না—এটা কি সত্যি?
শুভশ্রী: একদমই না। সেটে যায় শুধু চরিত্র—‘মেহুল’, ‘তিতলি’, ‘অনুমিতা’। আগে চরিত্র থেকে বেরোতে সময় লাগত, এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে। মা হওয়ার পর সেটা আরও সহজ হয়েছে।
প্রশ্ন: দীপিকা পাড়ুকোন দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার দাবি তুলেছিলেন। আপনি দুই সন্তানের মা, অসুবিধা হয় না?
শুভশ্রী: আমি দীপিকার অনেক আগে মা হয়েছি। এখানে কাজের পরিবেশ আলাদা—বাজেট, সময়, সব কিছু সীমিত। তবুও আমার শর্ত অনুযায়ী পরিচালকরা কাজ করেছেন। দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি আমি কাজ করি না, আর কেউ কোনওদিন আপত্তি তোলেননি বা শিরোনামও লেখেননি।
প্রশ্ন: রাজ চক্রবর্তী আপনার স্বামী ও পরিচালক—তবু তাঁর কাজে আপনাকে খুব একটা দেখা যায় না কেন?
শুভশ্রী: বেশির ভাগ সময় উল্টোটা শুনি! আসলে দু’জনেই একে অপরকে নিজের জায়গা দিতে জানি। কোনও কৌশল নেই। কখনও আমিই রাজকে বলি, “একটা প্রেমের ছবি করো”, ও তখন বলে—“পরে হবে”!
প্রশ্ন: রাজনীতিক রাজ, পরিচালক রাজ, স্বামী রাজ—এই তিন সত্তাকে আলাদা করতে পারেন?
শুভশ্রী: একদম পারি। ব্যারাকপুরে রাজ শুধু জননেতা, সেটে সে পরিচালক। আমি ওর সব সত্তাকেই সম্মান করি।
প্রশ্ন: ‘অনুসন্ধান’-এ রাজনীতির ছায়া দেখা যাচ্ছে। রাজনীতিককে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় না?
শুভশ্রী: একদমই না। রাজনীতি নিয়ে আমার সে ভাবে আগ্রহ বা জ্ঞান কোনওটাই নেই। সিরিজ়ে অনুমিতা যা করেছে, করেছে। কিন্তু ব্যক্তি শুভশ্রীর কোনও প্রশ্ন নেই কোনও রাজনীতিকের কাছে।
প্রশ্ন: পাঁচ বছর পর নিজেকে রাজনীতিতে দেখবেন?
শুভশ্রী: এখনই তেমন ইচ্ছে নেই। তবে কোনও কিছুতে ‘না’ বলার আগে ভাবা উচিত—জীবনে সব সময় উল্টোও হতে পারে। আপাতত কাজ ও পরিবার নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।
প্রশ্ন: এখন সমাজমাধ্যমে আপনি খুবই সক্রিয়। সেটা কতটা জরুরি বলে মনে করেন?
শুভশ্রী: একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ উপভোগ করেন, কেউ করেন না। আমি করি, কারণ এতে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ থাকে।
প্রশ্ন: সমাজমাধ্যমে সমালোচনাও তো হয়, এমনকি সন্তানদের নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আপনি কীভাবে নেন?
শুভশ্রী: আমার সন্তানরা ইতিবাচক পরিবেশে বড় হচ্ছে। নেতিবাচকতা ওদের ছুঁতে পারবে না। তাই এসব নিয়ে আমি একেবারেই চিন্তিত নই।
প্রশ্ন: আপনাকে ‘লেডি সুপারস্টার’ বলা হচ্ছে। নিজেকে কি তাই মনে করেন?
শুভশ্রী: এটা দর্শকদের ভালোবাসা। কিন্তু আমি কোনও তকমায় বিশ্বাসী নই। সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী—কাজই আসল পরিচয়।
প্রশ্ন: শুভশ্রী, মিমি, শ্রাবন্তীদের পর নতুন নায়িকা কেন দেখা যাচ্ছে না?
শুভশ্রী: কৌশানী আছে, কিন্তু তার পর খুব কম। আমরা তো সব সময় ‘ব্যাট’ করতে চাই! তবে সুযোগের বিষয়টা পরিচালকেরাই ভালো বলতে পারবেন।