৩১ বছর পর আবার একসঙ্গে পর্দায় অঞ্জন ও রূপা। পুরনো জুটির রসায়ন এখনও কি আগের মতোই অটুট? এই প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক জানালেন, সময় বদলালেও তাঁদের অভিনয়ের গভীরতা ও আবেগ এখনও একই রকম শক্তিশালী, যা নতুন ছবিতে দর্শকদের আবার মুগ্ধ করবে।
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু জুটি থাকে, যাদের উপস্থিতি শুধু পর্দায় নয়—স্মৃতিতে, আবেগে আর দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে যায়। ঠিক তেমনই এক জুটি অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নব্বইয়ের দশকে যাঁদের অভিনয় বাংলা সিনেমার দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তিন দশকের বেশি সময় পর আবার তাঁরা ফিরছেন একসঙ্গে। শুধু অভিনয় নয়—এই প্রত্যাবর্তন যেন সময়, স্মৃতি ও সম্পর্কের এক আবেগঘন পুনর্মিলন।
সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। বাংলা সিনেমা তখন নতুন ধারার সন্ধানে। ঠিক সেই সময় অপর্ণা সেনের পরিচালনায় বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন জুটি—অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। অভিনয়ের গভীরতা, স্বাভাবিক সংলাপ আর চরিত্রের আবেগে তাঁরা আলাদা করে নজর কাড়লেন দর্শকদের।
সেই ছবির পর একাধিক ছোট ছবি ও নাট্যধর্মী কাজে তাঁদের সহযোগিতা আরও গভীর হয়। অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয় বারবার দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে সময়ের নিয়মে দু’জনের পথ আলাদা হয়েছে, কাজের জগৎ বদলেছে, বদলেছে বাংলা সিনেমার ভাষা।
কিন্তু স্মৃতি তো মুছে যায় না। ঠিক সেই স্মৃতিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনছেন নব্য পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত। তাঁর নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’—যেখানে ৩১ বছর পর আবার একসঙ্গে দেখা যাবে অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে।
পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আজও ধরা পড়ে আবেগ আর হাসির মিশেল। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন শুটিংয়ের নানা মজার মুহূর্ত।
‘‘জানেন, অঞ্জন গাড়ি চালাতে জানত না। আমি জানতাম। শুটে ওর হাত স্টিয়ারিংয়ে। আমি ব্রেক, গিয়ার, একসেলিরেটর সামলাতাম। ছবিতে দেখে মনে হয়েছিল, অঞ্জন কী ভাল গাড়ি চালায়!’’
এই ছোট্ট গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দুই অভিনেতার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। সিনেমার পর্দায় যে সাবলীল অভিনয় দর্শক দেখেন, তার পিছনে থাকে এমনই অদেখা গল্প।
রূপার কথায় স্পষ্ট, অঞ্জনের সঙ্গে কাজ মানেই শুধু অভিনয় নয়—এক ধরনের বন্ধুত্ব, এক ধরনের বিশ্বাস।
সমর্পণ সেনগুপ্তের ‘প্রত্যাবর্তন’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এ যেন আধুনিক সমাজের এক আয়না। যন্ত্রনির্ভর জীবনে মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক আর পারিবারিক বন্ধন কীভাবে ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যাচ্ছে—এই প্রশ্নই ছবির মূল উপজীব্য।
আজকের সমাজে মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্ক অনেক সময় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। এক ছাদের নিচে থেকেও মানুষ যেন দূরে সরে যাচ্ছে একে অপরের থেকে। এই বাস্তবতাকেই গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন পরিচালক।
ছবিতে অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অভিনয় করছেন এক প্রবীণ দম্পতির ভূমিকায়। তাঁদের জীবনে হঠাৎ ফিরে আসে নাতি, ছেলে ও বৌমা। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে পরিবার আবার একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করে। এই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে সম্পর্কের গভীরতা, অভিমান, ভালোবাসা আর সময়ের পরিবর্তন।
শুটিং হয়েছে পুরুলিয়া ও কলকাতায়—দুটি ভিন্ন পরিবেশ, দুটি ভিন্ন জীবনের প্রতিচ্ছবি। পুরুলিয়ার প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ আর কলকাতার শহুরে ব্যস্ততা—এই বৈপরীত্য ছবির গল্পকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
৩১ বছর পর একসঙ্গে কাজ—স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পুরনো জুটির রসায়ন কি এখনও আগের মতোই অটুট?
পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের দাবি, সময় বদলালেও অঞ্জন ও রূপার অভিনয়ের গভীরতা আজও অটুট। তাঁদের মধ্যে যে বোঝাপড়া, যে আবেগ, তা নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছেও বিরল।
সমর্পণের মতে,
“ওঁদের অভিনয়ে একটা স্বাভাবিকতা আছে। ক্যামেরার সামনে ওঁরা চরিত্রে ঢুকে যান, অভিনয় করতে হয় না। এই ধরনের শিল্পী পাওয়া আজকের দিনে খুব কঠিন।”
ছবিতে তাঁদের সম্পর্ক শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয়—এ যেন দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম আর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির আর এক বড় চমক—প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে অঞ্জন দত্ত ও শিলাজিৎকে। ছবিতে তাঁরা অভিনয় করছেন বাবা-ছেলের চরিত্রে।
এই দুই শিল্পীর একসঙ্গে উপস্থিতি দর্শকদের কাছে নিঃসন্দেহে এক বড় আকর্ষণ। শুধু অভিনয় নয়—তাঁরা গানও গাইবেন কি না, সেই প্রশ্নে পরিচালক এখনও রহস্য বজায় রেখেছেন।
সমর্পণের কথায়,
“কিছু চমক আছে, যা এখনই প্রকাশ করতে চাই না। দর্শক হলে গিয়ে দেখুক।”
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, আধুনিক সমাজে মানুষ ক্রমশ সমাজমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তিনি নিজেই বলেন,
“আমি সমাজমাধ্যমে ন’মাসে-ছ’মাসে আসি।”
অন্যদিকে পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের মত, সমাজমাধ্যম অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু তার ফলে যদি সম্পর্কের শিকড় আলগা হয়ে যায়, তাহলে সেটাই সবচেয়ে বড় বিপদ।
এই দ্বন্দ্বই ছবির অন্যতম মূল থিম।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু সেই সঙ্গে কি আমরা হারিয়ে ফেলছি মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা?
‘প্রত্যাবর্তন’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চায়।
এখন প্রশ্ন ওঠে—এত বছর পর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে পর্দায় ফেরানোর ভাবনা কার?
রূপার স্পষ্ট বক্তব্য,
“আমায় যে পর্দায় ফেরানো যায়, সে কথা প্রথম ভেবেছে দেব। বেচারাকে তার জন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। বাকিরা ওকে দেখে ভাবছেন।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলা সিনেমার নতুন প্রজন্মের অভিনেতা দেবের উদ্যোগেই রূপার প্রত্যাবর্তনের ভাবনা প্রথম উঠে আসে। যদিও সেই পথে নানা বাধা এসেছে, তবুও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে সেই স্বপ্ন।
এতেই বোঝা যায়, বাংলা সিনেমার প্রজন্মগত সেতুবন্ধন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো শিল্পীদের প্রতি নতুন প্রজন্মের সম্মান ও ভালোবাসাই বাংলা সিনেমার শক্তি।
‘প্রত্যাবর্তন’ ছবিতে শুধু অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় নয়, রয়েছে শক্তিশালী অভিনেতাদের একটি দল।
অভিনয়ে রয়েছেন—
অপরাজিতা আঢ্য
খরাজ মুখোপাধ্যায়
কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
রূপা ভট্টাচার্য
সহ আরও অনেকে।
এই অভিজ্ঞ শিল্পীদের উপস্থিতি ছবির অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ছবির গানের দায়িত্বে রয়েছেন বনি চক্রবর্তী। তাঁর সুরে ছবির আবেগ আরও গভীর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা সিনেমায় গান শুধু বিনোদন নয়—গান অনেক সময় গল্পের আবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ‘প্রত্যাবর্তন’-এও তেমনই ভূমিকা রাখবে সংগীত।
অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সিনেমার ঘটনা নয়। এটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের এক সেতুবন্ধন।
আজকের দর্শক হয়তো তাঁদের নব্বইয়ের দশকের কাজ দেখেনি। কিন্তু ‘প্রত্যাবর্তন’-এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম আবার চিনবে সেই পুরনো শিল্পীদের।
একদিকে স্মৃতি, অন্যদিকে আধুনিকতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই ছবির মূল শক্তি।
বাংলা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়—এ এক সামাজিক দলিল, সময়ের সাক্ষী, মানুষের অনুভূতির আয়না। কিছু ছবি আসে, কিছু ছবি হারিয়ে যায়, আবার কিছু ছবি থাকে মানুষের স্মৃতিতে গেঁথে। আর কিছু জুটি থাকে, যাদের নাম শুনলেই ফিরে আসে এক সময়ের আবেগ, স্মৃতি আর নস্টালজিয়া। অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জুটি ঠিক তেমনই এক আবেগের নাম।
তিন দশকেরও বেশি সময় পরে আবার তাঁরা ফিরছেন একসঙ্গে—নব্য পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’-এ। এই প্রত্যাবর্তন শুধু দু’জন অভিনেতার পুনর্মিলন নয়, এটি যেন সময়ের সঙ্গে এক আবেগঘন সংলাপ, সম্পর্কের সঙ্গে এক নীরব প্রশ্ন, আর বাংলা সিনেমার সঙ্গে এক নতুন অধ্যায়।
নব্বইয়ের দশক ছিল বাংলা সিনেমার জন্য এক বিশেষ সময়। তখন নতুন ধারার গল্প, নতুন ধরনের চরিত্র, আর বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত সিনেমা ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছিল। সেই সময়েই অপর্ণা সেনের পরিচালনায় বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিল অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জুটি।
তাঁদের অভিনয়ে ছিল এক ধরনের স্বাভাবিকতা—যেখানে অভিনয় আর বাস্তবতার সীমারেখা প্রায় মুছে যেত। দর্শক মনে করত, পর্দায় যা দেখা যাচ্ছে তা যেন জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।
১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিতে তাঁদের অভিনয় শুধু প্রশংসা কুড়োয়নি, বরং বাংলা সিনেমায় এক নতুন জুটির জন্ম দিয়েছিল।
অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক শুধু সহ-অভিনেতার নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পরিণত হয়েছে বন্ধুত্বে, সহযাত্রায়, আর পারস্পরিক শ্রদ্ধায়।
রূপা আজও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন,
“অঞ্জন তখন গাড়ি চালাতে জানত না। আমি জানতাম। শুটিংয়ের সময় ওর হাত স্টিয়ারিংয়ে থাকত, আর আমি ব্রেক, গিয়ার, একসেলিরেটর সামলাতাম। ছবিতে দেখে মনে হয়েছিল, অঞ্জন কী সুন্দর গাড়ি চালায়!”
এই গল্প শুধু মজার নয়—এ গল্পে লুকিয়ে আছে দুই শিল্পীর আন্তরিকতা, সহযোগিতা আর পেশাদারিত্ব।
৩১ বছরে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। বদলেছে বাংলা সিনেমা, বদলেছে দর্শকের রুচি, বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে সমাজের কাঠামো।
নব্বইয়ের দশকে যেখানে সিনেমা ছিল মানুষের প্রধান বিনোদন, সেখানে আজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ওটিটি, সমাজমাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
আজ মানুষ সময়ের অভাবে ভুগছে, সম্পর্কের গভীরতা কমছে, অনুভূতির জায়গা দখল করছে প্রযুক্তি।
এই পরিবর্তনের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’ যেন এক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—
আমরা কি সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি কোথাও কিছু হারিয়ে ফেলছি?
‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির গল্প এক প্রবীণ দম্পতির জীবনকে কেন্দ্র করে। অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অভিনয় করছেন সেই প্রবীণ দম্পতির চরিত্রে।
শহরের যন্ত্রনির্ভর জীবনে তাঁদের সন্তান ও নাতি যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে। পরিবার আছে, কিন্তু সম্পর্ক নেই। এক ছাদের নিচে থেকেও সবাই যেন আলাদা পৃথিবীতে বাস করছে।
হঠাৎই একদিন ফিরে আসে তাঁদের নাতি, ছেলে ও বৌমা। শহরের কোলাহল ছেড়ে তাঁরা আসে পুরুলিয়ার শান্ত পরিবেশে। সেই ফেরার মধ্য দিয়েই শুরু হয় সম্পর্কের পুনর্গঠন।
পুরুলিয়ার প্রকৃতি, মাটির গন্ধ, গ্রামীণ জীবনের সরলতা—সব মিলিয়ে ছবির গল্প যেন এক মানবিক কবিতা।
ছবির শুটিং হয়েছে পুরুলিয়া ও কলকাতায়। এই দুটি জায়গা শুধু লোকেশন নয়—এরা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কলকাতা এখানে প্রতিনিধিত্ব করছে আধুনিক শহুরে জীবনের—যেখানে মানুষ ব্যস্ত, সময় কম, সম্পর্কের গভীরতা কম।
অন্যদিকে পুরুলিয়া প্রতিনিধিত্ব করছে প্রকৃতি, শান্তি, পরিবার, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতা।
এই দুই জীবনের সংঘাতই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
৩১ বছর পর আবার একসঙ্গে কাজ—স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের রসায়ন কি এখনও আগের মতোই আছে?
পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের দাবি,
“ওঁদের অভিনয়ের মধ্যে এমন একটা স্বাভাবিকতা আছে, যা কৃত্রিম নয়। ক্যামেরার সামনে ওঁরা চরিত্র হয়ে ওঠেন। এই ধরনের শিল্পী পাওয়া আজকের দিনে বিরল।”
সমর্পণের মতে, বয়স তাঁদের অভিনয়কে দুর্বল করেনি, বরং আরও গভীর করেছে।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, তাঁকে আবার পর্দায় ফেরানোর ভাবনা প্রথম করেছিলেন দেব।
তিনি বলেন,
“আমায় যে আবার পর্দায় ফেরানো যায়, সে কথা প্রথম ভেবেছে দেব। বেচারাকে তার জন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। বাকিরা ওকে দেখে ভাবছেন।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলা সিনেমায় নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
দেবের উদ্যোগ শুধু একজন অভিনেতার প্রত্যাবর্তন নয়—এ যেন প্রজন্মের মধ্যে এক সেতুবন্ধন।
আজকের বাংলা সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা অনেক বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু পুরনো শিল্পীদের অভিজ্ঞতা, অভিনয়ের গভীরতা আর জীবনবোধ আজও অমূল্য।
‘প্রত্যাবর্তন’ যেন এই দুই প্রজন্মের মিলন।
এ ছবি দেখিয়ে দিতে চায়, সময় বদলালেও শিল্পের মূল্য বদলায় না।
ছবির আর এক বড় আকর্ষণ—অঞ্জন দত্ত ও শিলাজিতের একসঙ্গে উপস্থিতি।
ছবিতে তাঁরা বাবা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছেন। দুই শক্তিশালী শিল্পীর অভিনয় নিঃসন্দেহে ছবিকে অন্য মাত্রা দেবে।
পরিচালক ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও থাকতে পারে চমক। তবে সে রহস্য এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
ছবিতে আরও অভিনয় করছেন—
অপরাজিতা আঢ্য
খরাজ মুখোপাধ্যায়
কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
রূপা ভট্টাচার্য
অন্যান্য অভিজ্ঞ শিল্পীরা
এই শক্তিশালী অভিনেতা দল ছবির গল্পকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে।
ছবির গানের দায়িত্বে রয়েছেন বনি চক্রবর্তী।
বাংলা সিনেমায় গান শুধু বিনোদন নয়—গান অনেক সময় গল্পের আবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
‘প্রত্যাবর্তন’-এর গানও তেমনই আবেগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজকের সমাজে মানুষ সমাজমাধ্যমে অনেক বেশি সক্রিয়। কিন্তু বাস্তব জীবনের সম্পর্ক কি ততটাই শক্তিশালী?
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে,
“আমি সমাজমাধ্যমে ন’মাসে-ছ’মাসে আসি।”
পরিচালকের মতে, সমাজমাধ্যম প্রয়োজনীয় হলেও সম্পর্কের শিকড় যেন আলগা না হয়ে যায়।
এই দ্বন্দ্বই ছবির অন্যতম বার্তা।
‘প্রত্যাবর্তন’ শুধু একটি পারিবারিক গল্প নয়। এটি আধুনিক সমাজের এক গভীর বিশ্লেষণ।
এ ছবি প্রশ্ন তোলে—
প্রযুক্তি কি মানুষকে কাছাকাছি এনেছে, নাকি দূরে সরিয়েছে?
পরিবার কি এখনও মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু?
স্মৃতি কি এখনও আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই ‘প্রত্যাবর্তন’।
বাংলা সিনেমায় পুরনো জুটির প্রত্যাবর্তন খুব বিরল ঘটনা নয়, কিন্তু ‘প্রত্যাবর্তন’-এর বিশেষত্ব অন্য জায়গায়।
এ ছবি প্রমাণ করে, বাংলা সিনেমা শুধু নতুন মুখের ওপর নির্ভর করে না। অভিজ্ঞ শিল্পীরাও এখনও দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন।
সময় বদলায়, সমাজ বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়।
কিন্তু মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক আর স্মৃতি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে।
৩১ বছর পর অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের একসঙ্গে ফিরে আসা যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
পুরনো জুটির রসায়ন কি এখনও অটুট?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তির দিন পর্যন্ত।
তবে এক কথা নিশ্চিত—বাংলা সিনেমার পর্দায় এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে এক আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।