Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মিটিং শেষে হরে কৃষ্ণ গান গাইলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

দলীয় বৈঠক শেষ হওয়ার পর ভক্তিমূলক পরিবেশে “হরে কৃষ্ণ” নামসংকীর্তনে অংশ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর গান গাওয়ার ভিডিও ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক মাধ্যম।

রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও ভক্তিমূলক পরিবেশে এক অন্যরকম রূপে ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ দলীয় বৈঠক শেষ হওয়ার পর হঠাৎই “হরে কৃষ্ণ, হরে রাম” নামসংকীর্তনে অংশ নিতে দেখা গেল তাঁকে। শুধু অংশ নেওয়াই নয়, নিজেও ভক্তদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গাইলেন তিনি। আর সেই মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারীর এই ভক্তিমূলক রূপ ঘিরে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

সূত্রের খবর, এদিন কলকাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নেতাদের নিয়ে চলছিল দীর্ঘ আলোচনা। সংগঠন, উন্নয়নমূলক কাজ, আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে সেই বৈঠক। বৈঠক শেষ হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নিজের গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যাবেন। কিন্তু ঠিক তখনই সভাস্থলের বাইরে ভেসে আসে খোল-করতালের শব্দ।

জানা যায়, কাছেই চলছিল একটি ভক্তিমূলক নামসংকীর্তনের অনুষ্ঠান। কয়েকজন ভক্ত “হরে কৃষ্ণ, হরে রাম” মহামন্ত্র গাইছিলেন। সেই সুর শুনেই কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান শুভেন্দু অধিকারী। পরে হাসিমুখে ভক্তদের কাছে এগিয়ে যান এবং তাঁদের সঙ্গে নামসংকীর্তনে অংশ নেন। উপস্থিত মানুষ প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে হাততালিতে ফেটে পড়েন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে একেবারে সাধারণ মানুষের মতো ভক্তদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কখনও হাততালি দিচ্ছেন, কখনও আবার “হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে” কণ্ঠ মিলিয়ে গাইছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো পরিবেশ ভক্তিমূলক আবহে ভরে ওঠে। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত রেকর্ড করতে শুরু করেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনের বাইরে শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক ও সাংস্কৃতিক দিক সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে আরও কাছের করে তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতিতে কীর্তন ও নামসংকীর্তনের ঐতিহ্য বহু পুরনো। একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন, তাহলে তা ইতিবাচক বার্তাই বহন করে।

এক বিজেপি নেতা বলেন, “শুভেন্দুবাবু সবসময় ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা বলেন। তিনি শুধু রাজনীতি করেন না, বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলোকেও গুরুত্ব দেন। আজকের ঘটনাই তার প্রমাণ।”

অন্যদিকে বিরোধীরা অবশ্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই দেখছে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপি শিবিরের পাল্টা বক্তব্য, ভক্তিমূলক গানে অংশ নেওয়া কোনও অপরাধ নয়। বরং এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বহু মানুষ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “রাজনীতির বাইরে এই সরল মানুষটাকেই দেখতে চায় বাংলা।”

কিছু মানুষ আবার শুভেন্দু অধিকারীর কণ্ঠে হরে কৃষ্ণ নামসংকীর্তন শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক বৃদ্ধ ভক্ত বলেন, “আজকের দিনে নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে চান না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে আমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নামগান গাইতে দেখে খুব ভালো লাগল।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক নেতারা এখন শুধু বক্তৃতা বা সভা নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই অংশগ্রহণও সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র শুধুমাত্র ধর্মীয় গান নয়, এটি ভক্তি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলায় চৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে নামসংকীর্তনের ঐতিহ্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাই কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন, তাহলে তা মানুষের মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন ভক্ত জানান, মুখ্যমন্ত্রী কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাঁদের মধ্যে এসে দাঁড়ান। তিনি কারও সঙ্গে বিশেষ দূরত্ব বজায় রাখেননি। বরং সাধারণ মানুষের মতো করেই গান গেয়েছেন এবং সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। এই আচরণ অনেককেই মুগ্ধ করেছে।

এদিনের ঘটনায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর স্বতঃস্ফূর্ততা। রাজনৈতিক কর্মসূচির চাপের মাঝেও কয়েক মিনিটের জন্য তিনি যেন সম্পূর্ণ অন্য এক পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। তাঁর মুখে হাসি, হাততালি এবং নামসংকীর্তনের সুর—সব মিলিয়ে ঘটনাটি অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা। আবার কেউ বলছেন, এটি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে মানুষের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ তৈরি করা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাষণ নয়, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইছেন।

এদিনের ঘটনার পর “হরে কৃষ্ণ”, “শুভেন্দু অধিকারী”, “নামসংকীর্তন”, “বেঙ্গল পলিটিক্স” ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ড করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ ভিডিওটি দেখে ফেলেন।

অনেকেই মন্তব্য করেন, বাংলার সংস্কৃতি মানেই কীর্তন, বাউল, নামসংকীর্তন ও আধ্যাত্মিক সঙ্গীত। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে থাকে। সংবাদমাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অনেক চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রীর নামসংকীর্তনের ভিডিও বারবার দেখানো হয়।

সবমিলিয়ে, মিটিং শেষে শুভেন্দু অধিকারীর “হরে কৃষ্ণ” গান গাওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র একটি সাধারণ মুহূর্ত হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কেউ একে ভক্তি ও সংস্কৃতির প্রকাশ বলছেন, কেউ রাজনৈতিক বার্তা। তবে এটুকু স্পষ্ট যে এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং আগামী কয়েকদিন ধরেই এটি নিয়ে আলোচনা চলবে।
 

এই দৃশ্য ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে হাজার হাজার মানুষ সেই ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন। কেউ লেখেন, “এটাই বাংলার সংস্কৃতি।” কেউ আবার মন্তব্য করেন, “ক্ষমতার চেয়ারে বসেও মাটির টান ভোলেননি শুভেন্দু অধিকারী।” আবার কেউ বলেন, “রাজনীতির বাইরে এই মানবিক ও আধ্যাত্মিক রূপটাই মানুষ দেখতে চায়।”

news image
আরও খবর

সূত্রের খবর, এদিন কলকাতায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নেতা, কর্মী ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছিল। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। স্বাভাবিকভাবেই সকলেই ভেবেছিলেন বৈঠক শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত বেরিয়ে যাবেন। কিন্তু বাইরে নামসংকীর্তনের সুর শোনার পর আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি।

উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “প্রথমে আমরা ভাবিনি উনি দাঁড়াবেন। কিন্তু উনি হঠাৎই থেমে যান, কিছুক্ষণ গান শোনেন, তারপর হাসিমুখে এগিয়ে এসে ভক্তদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়েন। কোনও রাজনৈতিক ভঙ্গি ছিল না। একেবারে স্বাভাবিকভাবে গান গাইলেন।”

আরও এক ভক্ত বলেন, “আমরা নামসংকীর্তন করছিলাম। হঠাৎ দেখি মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দিকে আসছেন। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। পরে উনি নিজেই হাততালি দিয়ে গান ধরলেন। পুরো পরিবেশটাই বদলে গেল।”

ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, নামসংকীর্তন এবং সাংস্কৃতিক আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তাই এদিনের ঘটনাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক চশমায় দেখা উচিত নয়।

এক বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “বাংলার মাটি চৈতন্য মহাপ্রভুর মাটি। এখানে নামসংকীর্তন, কীর্তন, ভক্তি আন্দোলন বহু শতাব্দীর ঐতিহ্য। একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন, তাহলে সেটা গর্বের বিষয়।”

তবে বিরোধীরা এই ঘটনাকে ঘিরে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কোনও অপরাধ নয়। বরং এটি বাংলার ঐতিহ্যের অংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে মানুষের মন জয় করা কঠিন। সাধারণ মানুষ এখন নেতাদের মানবিক ও ব্যক্তিগত দিকও দেখতে চান। ফলে রাজনৈতিক নেতারা সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও মানুষের সঙ্গে আবেগগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই অংশগ্রহণও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারই অংশ।

এদিকে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র শুধুমাত্র ধর্মীয় গান নয়, এটি ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অংশ। বাংলায় চৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে নামসংকীর্তনের ঐতিহ্য মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। গ্রামের অলিতে-গলিতে, মন্দিরে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখনও নামসংকীর্তনের জনপ্রিয়তা অপরিসীম। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ বহু মানুষের আবেগকে স্পর্শ করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন যুবক জানান, তাঁরা কখনও ভাবেননি একজন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কীর্তন গাইবেন। একজন বলেন, “আজকের দিনে নেতারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু উনি একেবারে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে গান গাইলেন। এটা আলাদা অনুভূতি।”

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারী মাঝে মাঝে ভক্তদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন, তাল মিলিয়ে হাততালি দিচ্ছেন এবং পুরো পরিবেশ উপভোগ করছেন। তাঁর চারপাশে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও কিছুটা অবাক হয়ে যান। কয়েক মিনিটের জন্য পুরো রাজনৈতিক পরিবেশ যেন ভক্তিমূলক আবহে বদলে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। কেউ একে বাংলার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক বলছেন, কেউ আবার বলছেন এটি রাজনৈতিক কৌশল। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের মধ্যে ঘটনাটি ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।

এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি মানেই কীর্তন, বাউল, রবীন্দ্রসঙ্গীত, শ্যামাসঙ্গীত। রাজনীতিবিদদেরও সেই সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত। এতে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।”

এক কলেজ ছাত্রীর মতে, “আজকের দিনে রাজনীতির মধ্যে এত বিভাজন, এত উত্তেজনা। সেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ভক্তিগান গাইছেন—এটা আলাদা বার্তা দেয়।”

এদিকে অনেকেই শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আধ্যাত্মিক পরিবেশ পছন্দ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই অংশ নেন। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও তিনি মাঝে মাঝে মন্দিরে যান এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সময় কাটান।

ঘটনার পর “Hare Krishna”, “Suvendu Adhikari”, “Kirtan”, “Bengal CM”, “Hare Rama” ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ দ্রুত ট্রেন্ড করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিডিওটি দেখে ফেলেন। অনেক ইউটিউব চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যম এই ভিডিও নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক প্রতীকের গুরুত্ব আগামী দিনে আরও বাড়বে। কারণ সাধারণ মানুষের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে এই বিষয়গুলি গভীরভাবে জড়িত। ফলে রাজনৈতিক নেতারাও এখন সেই আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিনের ঘটনায় আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে—শুভেন্দু অধিকারীর আচরণে কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তিনি বক্তৃতা দেননি, রাজনৈতিক বার্তা দেননি, বরং কয়েক মিনিটের জন্য একেবারে সাধারণ ভক্তের মতো নামসংকীর্তনে অংশ নিয়েছেন। আর সেই স্বাভাবিক আচরণই বহু মানুষের মন জয় করেছে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। কেউ ভিডিওর সঙ্গে ভক্তিমূলক সঙ্গীত যোগ করে নতুন রিল তৈরি করেন, কেউ আবার রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। কিন্তু সব বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মিটিং শেষে শুভেন্দু অধিকারীর “হরে কৃষ্ণ” গান গাওয়ার এই মুহূর্ত বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে আলাদা ছাপ ফেলেছে।

অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের মুহূর্তই একজন রাজনৈতিক নেতাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও মানবিক করে তোলে। কারণ রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরে মানুষ নেতাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি, সংস্কৃতি ও আবেগের দিকটিও দেখতে চান।

সবমিলিয়ে, মিটিং শেষে ভক্তদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে “হরে কৃষ্ণ” নামসংকীর্তনে অংশ নেওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ভাইরাল ভিডিও হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেউ একে ভক্তির প্রকাশ বলছেন, কেউ সাংস্কৃতিক সংযোগ, কেউ রাজনৈতিক কৌশল। তবে এটুকু নিশ্চিত, শুভেন্দু অধিকারীর এই ভক্তিমূলক মুহূর্ত আগামী কয়েকদিন ধরে বাংলার আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেই।

Preview image