"২০১৪ সালে মডেল ও অভিনেত্রী জাহানের সঙ্গে বিয়ে করেন শামী। ২০১৫ সালে জন্ম হয় তাদের কন্যাসন্তান, আর ২০১৮ সালে জাহান দায়ের করেন শামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ।"
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী, মডেল ও অভিনেত্রী হাসিন জাহানের মধ্যকার আইনি লড়াই নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। জাহান অভিযোগ করেছেন যে, শামি প্রতি মাসে যে খোরপোশ দিচ্ছেন, তাতে তাঁর এবং কন্যাসন্তানের খরচ চলাচ্ছে না। এই কারণেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে শামি প্রতি মাসে মেয়ের দেখভালের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা এবং নিজস্ব খরচের জন্য দেড় লক্ষ টাকা খোরপোশ দেন। জাহান আরও বলেছেন, বর্তমান পরিমাণ যথেষ্ট নয় এবং তিনি নিজে মাসে ৭ লাখ এবং কন্যার জন্য ৩ লাখ টাকা চাইছেন।
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে শামি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। মামলার শুনানি তখন অনুষ্ঠিত হবে। এই লড়াই ২০১৪ সালে শামি ও জাহানের বিবাহ এবং ২০১৫ সালে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকেই চলছে। ২০১৮ সালে জাহান শামি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে যাদবপুর থানায় গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থেকে জাহান বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫ অনুযায়ী মামলা করেছেন।
প্রথমে নিম্ন আদালত জাহানের আবেদন খারিজ করে কেবল সন্তানকে প্রতি মাসে ৮০,০০০ টাকা এবং জাহানকে মাসে ৫০,০০০ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে কলকাতা হাই কোর্ট সেই নির্দেশ সংশোধন করে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শামিকে মাসে ৪ লাখ টাকা অন্তর্বর্তিকালীন খোরপোশ দিতে বলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার জাহান সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন, যার ভিত্তিতে শামি এবং রাজ্য সরকারের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এই মামলা শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক দাবির বিষয় নয়; এটি ভারতীয় আদালতের নারীর অধিকার, খোরপোশ এবং গার্হস্থ্য হিংসার মামলার ব্যবস্থাপনার দিকে নজর আকর্ষণ করেছে।